মতামত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
মতামত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২

Future of Energy: Reuse-Recycle (শক্তির ভবিষ্যত: পুনঃচক্রায়ন, পুনঃব্যবহার) Part 01

বাথরুমের পানি ট্রিটমেন্ট করে কেন খেতে হচ্ছে?

ডিরেক্ট বাথরুমের পানি কে খাবে! জোক্স এপার্ট, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যেতে থাকায় ও বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকটে পানি ট্রিটমেন্ট করে রিইউজ করা হচ্ছে। বিভিন্ন বর্জ্য পানি পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে।

এই ধারাটাই আসতে পারে (খুব সম্ভবত আসবে) এনার্জির ক্ষেত্রে। মানুষ যতই পরিবেশের প্রতি সংবেদনশীল হবে, ততই চেষ্টা করবে পরিবেশ-প্রকৃতি ডিস্টার্ব না করতে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি সীমিত রাখতে চেষ্টা করবে।

আমাদের জীবনযাপনে ব্যয়িত বিভিন্ন শক্তির খাত থেকে ওয়েস্টেড এনার্জি যেমনঃ চায়ের পানি গরম করার সময় কেটলি, পানি উত্তপ্ত হয়। অর্থাৎ পানি গরম করতে চুলার তাপ ব্যয় করা একমুখী ব্যবহার। এর বহুমুখী ব্যবহার আসবে সামনে। 

 চায়ের পানি গরম করার এই ব্যবস্থায় যুক্ত হতে পারে স্টারলিং ইঞ্জিনের মতো ঐতিহাসিকভাবে সিম্পল মেকানিজমে তৈরি কিছু ডিভাইস। স্টারলিং ইঞ্জিনের বেজ হচ্ছে টেম্পারেচার ডিফারেন্স কাজে লাগিয়ে মেকানিক্যাল রোটেশন বের করে আনা।

আসতে পারে ফ্রিজ ও হিটার একসাথে ইন্টিগ্রেটেড হয়ে। কারণ ফ্রিজ থেকে তাপ উৎপন্ন হচ্ছে, এটা নষ্ট করবো কেন?

মজার ব্যাপার হচ্ছে এই ধরনেরই একটা প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছিলেন আমাদের আমাদের কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের অন্তর্গত Department of Farm Power & Machinery বিভাগের শিক্ষক শামীম আহমেদ, তাও ২০১৮ সালে। আমি তখন প্রথমবারের মতো দ্বিতীয় বর্ষে (!!!)। Engineering Mechanics ক্লাস নিতেন তিনি। কোন একটা আইডিয়া নিয়ে (খুব সম্ভবত ফ্রিজ আর হিটার কম্বাইন করলে কেমন হয় প্রশ্নের উত্তর জানতে চেয়েছিলাম) তাঁর কাছে যাওয়ার পর কি নিয়ে কাজ করছেন জিজ্ঞাসার উত্তরে খুব সম্ভবত বলেছিলেন “ওয়েস্টেড হিট রিউজ করার প্রযুক্তি”-টার কথা। এখন কি অগ্রগতি জানা নাই অবশ্য।

যাইহোক, সিমিলার কনসেপ্ট (ওয়েস্ট এনার্জি রিইউজ) এর প্রচলিত ব্যবহার বলতে গেলে আধুনিক রিজেনারেটিভ ব্রেকিং সিস্টেমের কথা বলা যায়। যেটা দেখা যায় কিছু আধুনিক ই-বাইকে। যখন ই-বাইক পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নামে, তখন ঘুরন্ত চাকা থেকে শক্তি/বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।

বিজ্ঞানের অনুরাগী হলে অবাক হয়ে যাবেন না, কারণ বস্তুত মোটর আর জেনারেটর একই। জেনারেটরকে ঘোরালে বিদ্যুৎ দেয়, মোটরকে বিদ্যুৎ দিলে ঘোরে। সেই আধুনিক ই-বাইকগুলোতে সাধারণত থাকে রিজেনারেটিভ হাব মোটর বা চাকার ভেতরে সংযুক্ত মোটর। যেগুলোতে বিদ্যুৎ দিলে ঘোরে, আবার ঘোরালে বিদ্যুৎ দেয়।

খুবই অল্প বিদ্যুৎ পাওয়া যায়, তাও ক্ষেত্রবিশেষ।

কিছুদিন আগে PV Magazine-এর একটা লেখা শেয়ার করেছিলাম। যেখানে দেখা যায়, বিজ্ঞানীরা ট্রান্সপারেন্ট ফটোভোল্টাইক প্যানেল নিয়ে কাজে সাফল্য পাচ্ছেন। যেগুলো ব্যবহার করা যাবে জানালার মতো বহুল ব্যবহৃত জায়াগায়। লক্ষ্য ফ্রি সূর্যশক্তির যতটা শুষে নেয়া যায়। পাশাপাশি ঘরে আলো জ্বলে, সেই আলো থেকে বিচ্ছুরিত শক্তিও পুনঃব্যবহার করা যাবে এই প্রযুক্তি দিয়ে।

তাছাড়া যেসব ক্ষেত্রে গ্লাস ব্যবহার করি, অনেকগুলোতেই এই ট্রান্সপারেন্ট PV Module ব্যবহার করে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। হ্যাঁ, কম হবে। কিন্তু কোটি কোটি ক্ষেত্র থেকে অল্প অল্প বিদ্যুৎ পাওয়া গেলেও অনেক বড় একটা এমাউন্ট হবে।

প্রাথমিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে থাকছে সহজলভ্য কাঁচামাল দিয়ে সেই প্রযুক্তিগুলো ডেভেলপ করা। এবং সেগুলো স্বল্পমূল্যে সবার জন্য এভেইলেবল করতে পারা। যার জন্য এসব খাতগুলোতে গবেষণা, প্রণোদনার প্রচুর প্রচুর দরকার।

অদূরভবিষ্যতে আমাদের এই চিন্তাগুলো আরো বিকশিত হবে। আরো অনেক অনেক ক্ষেত্র বের হবে যেখানে এখন শক্তি, তাপ হারিয়ে যাচ্ছে। যেগুলো আবার পুনঃব্যবহার করা যাবে।

এখনকার তাপীয় ইঞ্জিনগুলোর গড়পড়তা ৩০-৫০% এফিশিয়েন্সি উপরোক্ত রিইউজ, রিসাইকেলের মাধ্যমে হয়তো ৭০-৮০-৯০%+ এফিশিয়েন্ট হয়ে যাবে। কাজ চলছে সেসব লক্ষ্যে, চলবে।

আমরা বরঞ্চ খেলাধুলায় টাকা ঢালি, গেম ডেভেলপমেন্টের চেয়ে গেম খেলার ইন্ডাস্ট্রির দিকে মনযোগ দিই। সোশ্যাল মিডিয়ার মতো সিস্টেম বানিয়ে বাইরে থেকে টাকা আনার চেয়ে টিকটকে কারেন্সি কিনে খ্যামটা নাচুনেদের ভিডিওতে গিফট করি। নড়বড়ে গার্মেন্টসকে মাথায় তুলে রাখি।

শিক্ষা-গবেষনায় অযথা খরচের কি দরকার?

শনিবার, ২০ আগস্ট, ২০২২

স্বদেশী বাজারের রাজু ঘোষের লাড্ডু

ময়মনসিংহ শহরে সিংগারা নিমকির নাম নিলে প্রথমেই যে নামটি মাথায় আসে সেটা রাজু ঘোষ। স্বদেশী বাজারের রাজু ঘোষ আলাদা একটা জায়গা করে নিয়েছে হালকা নাস্তায়।

যখন জন্মদিনের মতো অনুষ্ঠান গুলো ঘরোয়াভাবে আয়োজন করা হতো সাদামাটাভাবে, এই রাজু ঘোষের সিংগারা নিমকি মেহমান আপ্যায়নের নাস্তার তালিকায় উপরের দিকে থাকতো। এখন অনেকেই রেস্টুরেন্টে ঝকঝকে ক্যামেরায় ছবি ভালো আসা উচ্চমূল্যের ফরেইন ফুডস প্রেফার করেন। তবুও ভাজাপোড়ার আবদার কমে গেছে অমনটা বলা যাবে না।

স্বদেশী বাজারে কাছাকাছি দুইটা রাজু ঘোষ পাবেন। রাজু ঘোষ আর আদি রাজু ঘোষ। পার্সোনালি আদি রাজু ঘোষ প্রেফার করি আমি, কিন্তু আদি রাজু ঘোষের ভেতরের বসার এরেঞ্জমেন্টটা জরাজীর্ণ। যেটা অনেকেই অপছন্দ করবেন। কিন্তু খাবারের স্বাদ অসাধারণ, সুযোগ করে আরেকদিন বলবো।

রাজু ঘোষ-এ সিংগারা নিমকির সাথে একটা ঝোল ঝোল চাটনির মতো টক দেয়। পাওয়া যায় দই আর লাড্ডুও।

লাড্ডু জিনিসটা খুবই কাছের লাগে, গরিবের ডেজার্ট। সাধারণ মিষ্টির মূল উপকরণ দুধের ছানা হলেও এই লাড্ডুতে বেসন বা ছোলার গুড়া ব্যবহার করা হয়। চিনি তো কমন। তো যারা দুধের তৈরি খাবার খেতে পারেননা তাদের যদি চিনিতে সমস্যা না থাকে, লাড্ডু ইজ অ্যা গুড চয়েজ অ্যাজ ডেজার্ট।

রাজু ঘোষের লাড্ডু
রাজু ঘোষের লাড্ডু

লাড্ডু জাস্টিফাই করা কঠিন লাগে। তবে কিছু লাড্ডুতে রঙ দেয় যেগুলো আমার অপছন্দ। রঙ বিহীন লাড্ডুর মধ্যে ভাগ করলে কতক লাড্ডুতে শুকনো ফল, মোরব্বা থাকে। ফল টল ছাড়া বা সহ লাড্ডুগুলোকে আরো ভাগ করলে কিছু লাড্ডু একটু ভেজা ভেজা, আবার কিছু শুকনো। একেকটার একেক আবেদন। তবে শুকনো লাড্ডু ওজনের হিসেবে লাভজনক, টেকে ভালো। সেজন্য আমার প্রেফারেন্স শুকনোটাই, যদিও একটু ভেজাটা খেতে বেশি মজা। শুকনো লাড্ডুর মধ্যে কিছুতে চিনির আধিক্য থাকে, অন্যটায় কম। এই পর্যায়ে শেষ কথা বললে সাদামাটা শুকনো লাড্ডু যেটায় চিনি কম সেটার দাম হাতের নাগালে থাকায় ও টেকসই হওয়ায় আমার পছন্দের তালিকায় এটা থাকে।

আদি রাজু ঘোষের লাড্ডু আকারে ছোট। আদি রাজু ঘোষ নিয়ে আরেকদিন বলবো। তবে এটা নিশ্চিত থাকুন আপনি স্বদেশী বাজারের রাজু ঘোষ বা আদি রাজু ঘোষ যেটাতেই যান স্বাদে মানে হতাশ হবেন না। ভালো ও তকতকে বসার জায়গা চাইলে রাজু ঘোষ। বসার জায়গা কেয়ার না করে কেবল টেস্ট প্রেফার করলে আদি রাজু ঘোষের পুরনো চেয়ার আপনার পশ্চাতদেশের ছোয়া পাওয়ার দাবি রাখে।

রাজু ঘোষের লাড্ডু সাইজে বড়, চিনি একেবারে কম না, শুকনো। কেজি ২০০ টাকা। পিস খুব সম্ভবত ১০ টাকা। নিচের ছবি দেখে স্বাদ বোঝা না গেলেও টেক্সচার আর আকার সম্পর্কে আইডিয়া পাবেন একটা। বেশি চিনি আর কম চিনির লাড্ডু পাশাপাশি রাখলে ক্লিয়ার আইডিয়া পেতেন উচ্চ মধ্যম পরিমাণে চিনিওয়ালা লাড্ডু কেন বলছি।

লাড্ডু
এই লাড্ডুটা শুকনো


শনিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২২

গ্রীনহাউজ ইফেক্ট ও সুইস ব্যাংকের টাকা

গ্রীনহাউজ বলতে কাগজে কলমে শীতপ্রধান দেশে কাচ ঘেরা ঘর বোঝায়। যেটার বেসিক সাইন্সটা হচ্ছে সূর্যের তাপ তথা স্বল্প দৈর্ঘ্যের তরংগ কাচের ভেতর প্রবেশ করতে পারলেও ভেতরে শোষিত হওয়ার পর বাকি তাপ প্রতিফলিত হয়। কিন্তু সেটার তরংগ দৈর্ঘ্য অপেক্ষাকৃত বেশি হওয়ায় কাচ ভেদ করে বাইরে যেতে পারে না, যার কারনে ভেতরটা উষ্ণ থাকে।

গ্রীনহাউজ ইফেক্টটা মূলত ওই গরম থাকার প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করে যেখানে কাচের কাজ করে গ্রীনহাউজ গ্যাসগুলোর বলয়। যার ভেতরে উষ্ণ থাকে পৃথিবী।

পৃথিবী উষ্ণ থাকারও দরকার আছে, কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত সবকিছুই খারাপ। গ্রীনহাউজ গ্যাসগুলোর অন্যতম হচ্ছে কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন, সি এফ সি প্রভৃতি। এরমধ্যে কার্বন ডাই অক্সাইড উষ্ণতা ধরে রাখে অন্যদিকে সি এফ সি ওজোন স্তরের ক্ষতি করে উষ্ণতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ক্ষতিকর অতিবেগুনী রশ্মির সামনে উন্মুক্ত করে দেয় ভূস্তরকে।

বিশ্ব নেতাদের একাত্ম ও একান্ত প্রচেষ্টায় ওজোন স্তরের জন্য ক্ষতিকর সি এফ সি নির্গমন (শীতাতপ যন্ত্রগুলোতে এর বহুল ব্যবহার ছিল) রোধ করা গেছে বলেই বিশেষজ্ঞগন মত দিয়েছেন।

এখন ভূপৃষ্ঠের উষ্ণতা বৃদ্ধিকারি কার্বন ডাই-অক্সাইড ও মিথেনের মধ্যে দৃশ্যত কার্বন ডাই-অক্সাইডের নিঃসরণ সবচেয়ে বেশি। কিন্তু মিথেনের তাপ ধারণ ক্ষমতা কার্বন ডাই-অক্সাইডের চেয়ে বহুগুনে বেশি। নাম্বার দিয়ে বলতে গেলে পঁচিশ গুন বেশি। এই তথ্যটা মনে রাখবেন, পরবর্তীতে আলোচনায় লাগবে।

সব দেশেই জলবায়ু পরিবর্তন, বিশেষ করে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাব কমানোর জন্য কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণের উপর জোর দেয়া হচ্ছে। ফসিল ফুয়েল তথা কয়লা, তেল, গ্যাস প্রভৃতির উপর নির্ভরতা কমিয়ে সৌর, জল ও বায়ুশক্তির পরিবেশ বান্ধব নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে ঝুকছে বিশ্ব। বিভিন্ন প্রযুক্তি আবিষ্কার হচ্ছে কার্বন ডাইঅক্সাইড ট্র‍্যাপিং এর জন্য। একে বিভিন্ন শক্তির কাচামাল হিসেবেও ব্যবহারের আয়োজন চলছে।

কিন্তু অজনপ্রিয় কিছু গবেষণায় দেখা গেছে গ্যাসফিল্ড, শিল্পকারখানার চিমনী দিয়েও গ্যাস লিকেজ, অপরিশোধিত বায়ু বর্জ্য হিসেবে প্রতিদন বিপুল পরিমানে মিথেন নিঃসরণ হচ্ছে। যেগুলো অনকক্ষেত্রেই বড় বড় কোম্পানিগুলো আড়াল করে রাখছে। এর মধ্যে কিছু কোম্পানির ন্যুনতম মেইনটেনেন্স না থাকার কারনে (যেমনঃ দুটি পাইপের জয়েন্টের নাট ঢিলে হওয়া বা পাইপে ক্ষুদ্র ফুটো) এসব নিঃসরণ হচ্ছে। আবার পাইপের জ্বালামুখেও অতিরিক্ত চাপে আগুন না জ্বলা গ্যাসও মুক্ত হচ্ছে প্রকৃতিতে! অথচ এগুলো যেন দেখার কেও নেই, পঁচিশ গুন বেশি সক্ষমতার উষ্ণকারী গ্যাস বহুল পরিমানে বেড়েই যাচ্ছে।

এমন ব্যবস্থাপনা হীনতা চলতে থাকলে হয়তো দেখা যাবে আমরা একসময় কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমানোর লক্ষমাত্রায় পৌছালেও আদতে তাপমাত্রা কমিয়ে রাখার লক্ষ্যে পৌছাতে পারবো না! কারন সিস্টেমটা হয়ে যাবে তলাবিহীন ঝুড়ি।

এখন আসা যাক সাম্প্রতিক বিতর্কিত ও আলোচিত বিষয় সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশীদের টাকার ব্যাপারে। প্রতিবছর আশংকাজনক হারে বাংলাদেশিদের টাকা বাড়ছে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে। সেসব টাকার উৎস নিয়ে তিন ধরনের মতবাদ শোনা যায়।

-বৈধ

-অবৈধ (প্রধানত হুন্ডির মতো মাধ্যমে পাচার করা, অবৈধ পন্থায় আয় করা)

-উভয়

এরমধ্যে অবৈধ আয় থাকার সম্ভাবনা বেশি, এমনই দাবি বেশিরভাগের। সুইস ব্যাংকগুলো দুনিয়ার অন্য ব্যাংকগুলো থেকে আলাদা বলেই জানি সবাই। সেখানে টাকা রাখলে আয়ের উৎস নিয়ে কোন জিজ্ঞাসা করা হয় না। কয়েক বছর আগেও কার টাকা বা কোন দেশের টাকা এতোটুকুও প্রকাশ করা হতো না। আন্তর্জাতিক মহলের চাপে দেশ ও সঞ্চিত টাকার পরিমানের ব্যাপার ডিসক্লোজ করলেও সঞ্চয়কারীর পরিচয় পাব্লিক করা হয় না।

অনেক বছর ধরেই বিদেশে টাকা পাচার নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন উঠে এসেছে। একেক পক্ষ একেকভাবে ব্যাখা করেছেন। বৈশ্বিক অস্থিতিশীল অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় যখন আমাদের মতো মতো দেশের অর্থনীতি টালমাটাল অবস্থা, ক্ষমতাসীন দলের উপর সব দিক থেকে চাপ আসছে অর্থ পাচারে জড়িতদের বিচারের সম্মুখীন করে পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়ার জন্য।

এমতাবস্থায় কেও বলছেন টাকা পাচার হওয়ার তথ্য ভুল হতে পারে। সুইজারল্যান্ড মিথ্যা বলে থাকতে পারে বা বলেছে তাদের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশীদের টাকার পরিমান নিয়ে।

ওসব নিয়ে গুরুগম্ভীর আলোচনায় না গিয়ে আলোচনা সহজবোধ্য রাখার স্বার্থে ধরে নিন আমির খানের পিকে মুভির বুদ্ধিমান এলিয়েন পিকে তার ফ্লায়িং সসার বাংলাদেশের হালদা নদীর পাশে ল্যান্ড করিয়েছে। সেখানে নেমে নদীর পোনা ধরে জীবিকা নির্বাহ করা এক কিশোরের হাত ধরে বাংলা শিখে নিয়েছে। এরপর নোরা ফাতেহি বাংলাদেশে আসার খবর আগাম দিয়ে তার সাথে সখ্যতা গড়ে। সেই কিশোরের সাথে পিকে হালদার খোলা হাওয়া খাচ্ছিল (পিকে হালদারের কথা বলছি না, এলিয়েন পিকে দেশের হালদা নদীর পাশে বসে হাওয়া খাচ্ছিল বুঝিয়েছি শুধু)। হঠাৎই কিশোর মহিউদ্দিন জানতে চাইলো,

-আচ্ছা পিকে, তুমিতো বুদ্ধিমান। আবার শর্টকাটে অনেক কিছু করে ফেলো। এই যে অত টাকা পাচার করে ধরা খায়, কেনো? টাকার ক্ষমতা দিয়ে বেচে যেতে পারে না?

-হুম। পুকুরে বড়শি দিয়ে মাছ ধরেছো কখনো?

-হ্যাঁ ধরেছি। কিশোর মহিউদ্দিন জবাব দেয়।

-টোপ দিয়ে বড়শি ফেললে কয়টা ধরতে পারো? সবগুলো?

-নাহ।

-বুঝলে কিছু!

মহিউদ্দিন চোখ বড় করে তাকায়। এভাবে ভাবে নি সে কোনদিন। আবার মহিউদ্দিন জানতে চায়।

-দুটো প্রশ্ন করি আপনার কাছে। আপনি টাকা পাচার করলে কিভাবে ম্যানেজ করতেন আর পুকুরের কোন মাছটা রাক্ষুসে যেটা নিয়ন্ত্রণ করা দরকার, কিভাবে করবো নিয়ন্ত্রণ?

-প্রথমত উদাহরণ স্পষ্টই আছে প্রথমটার। দেশে অবৈধ টাকায় কেও নিজের নামে সম্পত্তি করে না। বউয়ের নামে করতো, এখন শ্যালিকা-শ্বশুর-শ্বাশুরির নামেও করে শুনেছি। তার মানে অবৈধ আয় যে করে তার সম্পত্তি না থাকলেও আত্মীয়ের নামে থাকতে পারে। কিছুদিন আগে তোমাদের পুলিশ অফিসার প্রদিপের ক্ষেত্রে যেমনটা হয়েছে। তার স্ত্রীর বৈধ উপার্জনের উৎস না থাকায় তাকেও আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তারা এখন ম্যাচ মেড ইন হেভেন থেকে ম্যাচ মেড ফর জেল! হা হা হা।

মহিউদ্দিন আর পিকে হালদার শীতল বাতাসে অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে কিছুক্ষণের জন্য। পিকে আবার শুরু করে।

দেশে যদি অন্যের নামে সম্পত্তি রাখে বিদেশেও রাখবে এটায় অবাক হওয়ার কিছু নেই। বিদেশে বরঞ্চ বিদেশি পরিচিত বন্ধু বান্ধবীর নামে থাকতে পারে। তাতে পাচারকারীকে ধরা কঠিন আরো।

আর গ্রীনহাউজ গ্যাসগুলোর কথা খেয়াল আছে না? কার্বন ডাইঅক্সাইড আর মিথেন! কিভাবে কার্বন ডাইঅক্সাইডকে ধরার প্ল্যান করতে করতে মিথেনের মতো গ্যাস তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে? সেদিকে কারোর খেয়ালই নেই!

সবাই সুইস ব্যাংক সুইস ব্যাংক করতে করতে যখন সুইস ব্যাংকের হিসেব পাওয়া যাবে (কখনো পাওয়া গেলে) তখন আদতে সেখানে টাকা না থাকলেও যে পাচারই হয় নি এমনটা ভাবাও বোকামি হবে। এতো লম্বা সময় বা অন্য সময়ে নিশ্চয়ি অন্য কোথাও সরিয়ে ফেলবে। সেক্ষেত্রে কারেন্ট ইনফোর চেয়ে ট্রেস ইনফো যেমন আগে কারোর টাকা ছিল কিনা, অন্য কোথাও ট্রান্সফার হয়েছে কি না এমন তথ্য না পেলে কোন লাভ নাও হতে পারে। বুঝলে?

-হুম বুঝেছি।

সায় দিলেও পিকে তাকে ছুয়েই তার মনের কথা বুঝতে পারে, মহিউদ্দিন বোঝেনি। তারপরও তার আগ্রহ আর চেষ্টার জন্য দ্বিতীয় প্রশ্নে এগুলো।

এখন আসি মাছ কোনটা রাক্ষুসে কিভাবে বুঝবে। পুর্নিমার আলোয় স্বচ্ছ নদীর পানিতে তাকিয়ে দেখেছো কখনো?

-হ্যাঁ দেখেছি। একদম পরিষ্কার পানি থাকলে নদীর তলা দেখা যায়। মাছ, পোকামাকড়ের দৌড়াদৌড়িও দেখা যায়।

-একদম ঠিক বলেছ। পানিটা স্বাচ্ছ হলেই রাক্ষুসে মাছ না কি মাছ বোঝা যাবে। এটা পুকুরের ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত না। পুকুরের পানি অমন থাকবে না। তাই, ১)রাক্ষুসে মাছ যাতে পুকুরে না আসতে পারে, ২) কেও যেন রাক্ষুসে মাছ না ছাড়ে, ৩) কখনো অমন মাছ ধরা পড়লে নিধন করতে হবে।

রাক্ষুসে মাছে অন্য সব মাছ, মাছের খাবার খেয়ে ফেলছে এজন্য পুকুরে বিষ ঢেলে সব মাছ মরে যাবে ভাবলেও দেখবে পুকুরের কোটর গলে রাক্ষুসে মাছ বেচে বেড়িয়ে যাবে। মারা পড়বে অবলা সাধারণ মাছগুলো।

গপ্পো করতে করতে রাত দশটা বেজে যায়। মহিউদ্দিন বিদায় নেবে। বাড়ি যেতে হবে। এদিকে বিদায় নিয়ে পিকে হালদার পাড় ধরে অন্ধকারে মিলিয়ে গেলো।


বুধবার, ৩ আগস্ট, ২০২২

ময়মনসিংহের দানাদার মিষ্টি

ময়মনসিংহের অন্যতম সাদামাটা মিষ্টির একটা দানাদার। কোন বাড়তি চাকচিক্য বা রংচংয়ের জৌলুশ নেই। কিন্তু খেতে ভালো।

সিলেটে একবার চকচকে এক মিষ্টির দোকানে গিয়ে ফুলের মতো সুন্দর, কয়েক জাতের রঙিন মিষ্টি চেখেছিলাম। এককথায় অখাদ্য না হলেও মিষ্টি নামের কলংক। তখনি উপলব্ধি হয়েছিল ময়মনসিংহের মিষ্টি ওইসব মিষ্টির সাথে তুলনা করলে ঐশ্বরিক।

আগে “দর্শনদারি” কথাটা খুব সম্ভবত মিষ্টির জন্য নয়। যেমন এই দানাদার মিষ্টি। খাওয়ার সময় মুখে দানা দানা (ভাজা ছানা) লাগে, দানাদার নাম এজন্যেই খুব সম্ভবত। রসের আধিক্য নাই রসগোল্লার মতো। উপরে মাওয়া দেয়া হয়। আকারে মোটামুটি ছোট হওয়ায় কেজিতে অনেকগুলো ধরে।

স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী সব মিষ্টির দোকানেই সুস্বাদু ও ভালমানের "দানাদার" মিষ্টি পাওয়া যায়। যেমনঃ কৃষ্ণা কেবিন, সুধীর ঘোষ, দয়াময়, মিষ্টি কানন ইত্যাদি।

কৃষ্ণা কেবিনের "দানাদার" মিষ্টি

বৃহস্পতিবার, ২১ জুলাই, ২০২২

কেউরালি/কেচইর সম্পর্কে কতটুকু জানেন আপনি?

বদরুল, হোস্ট, DAWN TALES|| কেওরালি বা কেচইর নামের জলজ উদ্ভিদ পাওয়া যায় সিলেট, নেত্রকোনার মতো হাওরাঞ্চলের জলাশয়গুলোতে। স্থানীয় লোকজন এটা সবজি হিসেবে মাছ, চিংড়ির তরকারিতে খান।

কেওরালি যাদের স্মৃতির সাথে জড়িত বিশেষ করে যারা ছোটবেলায় হাওরাঞ্চলে থেকেছেন বা জীবনের একটা সময় সেদিকে থেকেছেন তাদের অনেক আবেগ কাজ করে। কেওরালি নিয়ে ইন্টারনেট ঘেটেও খুব বেশি তথ্য পাওয়া যায় নি। সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট, পোস্টের মন্ত্যব্যের ঘর থেকেই টুকটাক তথ্য পাওয়া গেছে।

কেওরালি স্থানীয় কবি লেখকদেরও লেখার অনুসংগ। বিভিন্ন জায়গায় লেখার মাধ্যমে কেওরালি প্রীতি ফুটিয়ে তুলেছেন। কেওরালির বিভিন্ন রেসিপি শেয়ার করেন কেও কেও।

কেওরালির খাদ্য গুন ছাড়াও ভেষজ গুন আছে বলেও বলছিলেন কেও। পেট ফাপার সময় মুরুব্বিরা কেওরালির তরকারি খাওয়াতেন পথ্য হিসেবে।

দেখতে ছোট শাপলার মতো কেওরালি শাপলার চেয়ে অধিক পানি সহনশীল। গাছ পানিতে সম্পূর্ণ ডুবে গেলেও মারা যায় না। ১-১.৫ মিটারের মতো হতে দেখা যায় সাধারণত। কেওরালির সবজির সিজন মূলত বর্ষাকাল। ফুল ফুটে যখন স্তিমিত হয়ে যায় তখন গর্ভাশয় খাদ্যউপযোগি হয়। কিছুটা কামরাংগার মতো দেখতে গর্ভাশয় চেছে-ছিলে খাঁজগুলো সমান করে রান্না করা হয়। গৃহিণীরা লতার তরকারির মতোই মশলাপাতি ব্যবহার করেন রান্নার ক্ষেত্রে। তরকারি খেতে খুবই সুস্বাদু।

এর কান্ড দেখতে কিছুটা নাইটকুইনের পাতার মতো। পানির উপরে শাপলার মতো গোল পাতাও থাকে।

একইসাথে আশা এবং হতাশার কথা হলো সবজি হিসেবে খাওয়া জলজ উদ্ভিদের পুষ্টিমান নিয়ে কোন তথ্য খুঁজে পাওয়া যায় নি। তাছাড়া এটি চাষের সম্ভাবনা, মিশ্র চাষের উপযোগিতা/সম্ভাবনা, মাছের সাথে চাষ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সম্ভাব্য অবদান, পানির গুনাগুন হ্রাস/বৃদ্ধিতে অবদান ইত্যাদি নিয়ে কাজ হওয়ার দাবি রাখে। তাছাড়া ইন্ডিজেনাস স্পিসিস কি না এই বিষয়েও গবেষনার দাবি রাখে।

কেওরালি চাষ হয় এমন কোন তথ্য না থাকায় হলপ করে বলা যায় এখনো পর্যন্ত যে কেওরালি গুলো দেখি আমরা সবই ১০০% অর্গানিক ও বিষমুক্ত (যদি না উত্তোলনের পরে ভেজাল করা হয়)। এই বুনো সুস্বাদু উদ্ভিদ যেন আমাদের ক্ষুধা মেটাতে গিয়ে অতি আহরিত হয়ে বিলুপ্ত না হয়ে যায় সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। সবাইকে সচেতন থাকতে হবে আমাদের আদি জীববৈচিত্র্যের উপাদানগুলোর সংরক্ষন সম্পর্কে।

হাওর এলাকার স্থানীয় বাজারগুলোতে কেওরালি পাওয়া যায় এখনো। নদীমাতৃক গ্রামবাংলার বিস্ময়কর উদ্ভিদ কেওরালি বেচে থাকুক যুগ যুগ ধরে। দেখতে পারেন আমাদের ভিডিও প্রতিবেদন।


সোমবার, ১৮ জুলাই, ২০২২

গ্রাহক পর্যায়ে ভারতের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনাঃ পর্ব ০২

 ইলেক্ট্রিসিটি ক্রাইসিসের সম্ভাব্য বিকল্প পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুৎঃ পর্ব ০১ এর পরবর্তী আলোচনা।

পুরো বিশ্ব ঢাক-ঢোল পিটিয়ে নবায়নযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব শক্তির দিকে ঝুকছে। ঢাক-ঢোল পিটিয়ে কথাটা ক্ষোভ থেকে বললাম। কারন উন্নত বিশ্ব পরিবেশ ও জলবায়ুর যথেচ্ছ ক্ষতি করার পর নিজেরা অর্থনৈতিকভাবে একটা ভালো অবস্থানে পৌঁছেছে। তাদের জনগনের জীবনমানের উন্নয়ন করেছে।

তার মানে এই না, যে আমাদেরও পরিবেশের ক্ষতি করতেই হবে বাধ্যতামূলক ভাবে। এই দিক দিয়ে দেখলে আমাদের মতো দেশগুলোর অপেক্ষাকৃত অধিক পরিবেশ দূষনকারী প্রকল্পগুলো থেকে তাদের (উন্নত দেশগুলোর) সহযোগিতার আশ্বাস সরিয়ে নেয়া যৌক্তিক।

কিন্তু তাদের অসাধারণ অর্থনৈতিক সামর্থ্য থাকার পরও তারা যখন নিজেদের গাফিলতিতে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব শক্তি উৎপাদন করে বিদ্যুৎ চাহিদা পূরনে ব্যার্থ হয়ে কয়লার মতো পরিবেশ দূষনকারী বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালুর সিদ্ধান্ত নেয়, তা প্রমাণ করে তারা শুধু অন্যের উপর ছড়ি ঘোরাতে পছন্দ করে। ডলারকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় পশ্চিমাদের একরকম হাতের মুঠোয় আমাদের মতো দেশগুলো। নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য বৈশ্বিক সমস্যা বৃদ্ধিতেও তারা দুবার ভাবে না।

আফসোস করে লাভ হলে হয়তো আফসোস করতে থাকতাম আরো। কিন্তু অভ্যন্তরীণভাবে আমরা অনেক কিছুই করতে পারতাম, আমাদের নৈতিক স্খলন ও দূর্নীতির জন্য যেটা হয়ে উঠে না।

সাম্প্রতিক লোড শেডিং ইস্যুতে সরব সবাই। উৎপাদন ও শক্তি খাতের মূল চালিকাশক্তি বা কাঁচামাল হলো জ্বালানী। আমাদের জ্বালানী নীতি নিয়ে নানামুখী আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে, আগুনে ঘি না ঢেলে অবস্থা থেকে কিভাবে উত্তরন করা যায় ও এমন অবস্থায় ভবিষ্যতে না পড়ার জন্য কিরকম ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে তুলে ধরবো অল্প অল্প করে।

সৌরবিদ্যুত নিয়ে ইতোমধ্যে একটা পরিচিতিমূলক আলোচনা করেছি। আজকের মূল প্রসঙ্গ প্রতিবেশী দেশ ভারতে প্রচলিত সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা।

ভারতে সোলার সিস্টেমের তিনটা ধরন দেখা যায়।

০১) অনগ্রিড

০২) অফগ্রিড

০৩) হাইব্রিড

এর মধ্যে, অনগ্রিড সিস্টেম সহজলভ্য, স্বল্পমূল্যের। অনগ্রিড সিস্টেমের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা শব্দ "নেট মিটারিং" মাথায় রাখবেন।

অনগ্রিড সিস্টেম হচ্ছে ন্যাশনাল গ্রিডের সাথে সংযুক্ত ব্যক্তিগত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা। এ ব্যবস্থায় গ্রাহক তার নিজস্ব খরচে সোলার সিস্টেম স্থাপন করে। যাতে, তার বাড়ি বা প্রতিষ্ঠানে স্থাপিত সোলার প্যানেল যে বিদ্যুৎ উতপন্ন করে সেটা তার ইনভার্টার হয়ে AC তে রুপান্তরিত হয়ে মডিফাইড মিটার দিয়ে গ্রিডে যুক্ত হয়।

এক্ষেত্রে, বলে রাখি আমাদের সাধারণ যে মিটারগুলো আছে সেগুলো শুধু আমাদের বিদ্যুৎ খরচ (কত ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যয় হচ্ছে সেটা দেখায়)। কারণ আমরা শুধু বিদ্যুৎ নিই।

কিন্তু অনগ্রিড সিস্টেমে গ্রাহকরা যেমন গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ নেন তেমনি সোলারে উৎপাদিত বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত করেন। এক্ষেত্রে একটা উভমুখী মিটারের প্রয়োজন হয় (ক্ষেত্রবিশেষে দুইটা মিটারও হতে পারে। একটা খরচের হিসাব করবে অন্যটা সোলার থেকে গ্রিডে যাওয়া বিদ্যুতের হিসাব রাখবে)।

এখন প্রশ্ন হলো একজন গ্রাহক কেন ন্যাশনাল গ্রিডে নিজের টাকায় উতপন্ন বিদ্যুৎ দিবে?

এখানেই আসে নেট মিটারিং এর ব্যাপার। সাধারণত অনগ্রিড সিস্টেম স্থাপনের আগে কিছু কাগজপত্র জমা দিতে হয়। বিশেষ করে একবছরের বিদ্যুৎ বিলের কাগজ। যেটা দিয়ে অনগ্রিড সিস্টেম স্থাপনের অনুমতি দেয়ার বিবেচনা করা হয়। সাধারণত গ্রাহকের খরচ করা বিদ্যুতের গড় হিসেব করা হয়। এবং গড় ইউনিটের ৭০% ক্ষমতা পর্যন্ত সোলার পাওয়ার স্থাপনের অনুমতি দেয়া হয় অনগ্রিড সিস্টেমের ক্ষেত্রে।

এক্ষেত্রে প্রশ্ন আসতে পারে কেন ৭০% বা এটা বিবেচনায় আনার দরকারটাই বা কি?

এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ বিপনন কেন্দ্রের যন্ত্রপাতির জটিলতা আছে। সেগুলোর বিদ্যুৎ পরিবহন করার একটা সীমা আছে। সেই সীমার অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদিত হলে গোলযোগ হয়ে বিকল (এমনকি আগুন ধরে যাওয়ার) হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

নেট মিটারিং সিস্টেম যেটা করে, গ্রাহকের চলতি মাসের বিদ্যুৎ খরচ (ইউনিট) থেকে সোলারে উৎপাদিত বিদ্যুৎ (ইউনিট) বিয়োগ করা হয়। সেটা অনুযায়ী ফাইনাল বিল করা হয়।

উদাহরণস্বরুপঃ

বিবাহিত মাসুদ সাহেবের পরিবারের জুলাই মাসের বিদ্যুৎ খরচ ১০০ ইউনিট (কিলোওয়াট/ঘন্টা)। অন্যদিকে তার স্থাপিত সোলার সিস্টেম থেকে গ্রিডে যুক্ত হওয়া বিদ্যুতের পরিমান ৮০ ইউনিট।

তাহলে তার সংশোধিত বিল হবে ১০০-৮০= ২০ ইউনিটের মূল্য। এক্ষেত্রে ১ ইউনিটের মূল্য ১০ টাকা হলে বিল আসবে ২০*১০=২০০ টাকা + অন্যান্য প্রযোজ্য চার্জ।

এখানেও প্রশ্ন আসতে পারে, যদি কোন মাসে খরচের চেয়ে বেশি উতপাদন হয়?

উদাহরণস্বরুপঃ

অবিবাহিত শাওনের পরিবারের সদস্যরা সবাই বাসায় থাকলে বিদ্যুৎ বেশি খরচ হয়৷ না থাকলে কম। এক্ষেত্রে জুলাই মাসে তার বিদ্যুৎ খরচ ৬০ ইউনিট ও তার সোলার থেকে গ্রিডে যুক্ত বিদ্যুৎ ৮০ ইউনিট হলে তার নেট বিল ওইমাসে ০। সাথে কেবল অন্যান্য চার্জ বাবদ খরচ দিতে হবে।

এখানে ৬০-৮০=-২০ অর্থাৎ যে ২০ ইউনিট অতিরিক্ত ছিল এটা পরের মাসের বিলে যেয়ে এডযাস্ট হবে। মানে পরের মাসেও গ্রিডে যদি ৮০ ইউনিট বিদ্যুৎ যোগ করে সোলার সিস্টেম সেটার সাথে অতিরিক্ত ২০ ইউনিট যুক্ত হবে।

অর্থনৈতিক বছর শেষে (জুন মাস শেষে) যদি এই অতিরিক্ত থেকে যায় সেটার একটা নামমাত্র মূল্য নির্ধারন করে পরিশোধ করা হয় (২ থেকে ৩ টাকা ইউনিট)। যেকারণে অতিরিক্ত ক্ষমতার সোলার প্যানেল স্থাপনে নিরুৎসাহিত করা হয় বলে জানা যায় (ইন্ডিয়ায়), কারন গ্রাহকের জন্য লাভজনক হয় না।

একটি হিসাবে দেখা যায়, সোলার সিস্টেম স্থাপনে যে খরচ হয় তা ৪ থেকে ৬ বছরে উঠে আসে নেট মিটারিং সিস্টেমে বিল এডযাস্ট করার মাধ্যমে। সোলার সিস্টেমের জীবনাকালের বাকি সময়টা মূলত গ্রাহকের লাভ হতে থাকে। গড়পড়তা ৩০ বছর প্যানেলের লাইফ সাইকেল হলে সেই লাভের পরিমাণ বিপুল হয়। মূল্যস্ফীতি হিসাবে নিলে আরো বেশি মুনাফা হয়।

এগুলোতো সব অনগ্রিড সিস্টেমের সুবিধা। অসুবিধা?

একটা অসুবিধা হচ্ছে লোডশেডিং এর সময় বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকা। কারণ, গ্রিডে যুক্ত থাকায় যতক্ষন বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু থাকে ততক্ষণই বিদ্যুৎ থাকে সিস্টেমে।

এখানে আসে অফগ্রিড সিস্টেমের মাহাত্ম্য। অফগ্রিড সিস্টেমে গ্রাহকের সোলার সিস্টেম গ্রিডের সাথে যুক্ত থাকে না, যুক্ত থাকে গ্রাহকের অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎ লাইনের সাথে। সাধারণত অফগ্রিড সিস্টেমে ব্যাটারি ব্যাকাপ থাকে। যাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে তো বটেই, রাতেও যেনো সঞ্চিত বিদ্যুৎ শক্তি ব্যবহার করা যায়!

গ্রামীণ সোলার হোম সিস্টেমগুলো মূলত অফগ্রিড। বিশেষত প্রত্যন্ত অঞ্চল, যেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই।

অফগ্রিডের অসুবিধা নেই?

আছে৷ এতে ব্যাটারি লাগায় সিস্টেমের খরচ তূলনামূলক অত্যধিক। সেইসাথে রক্ষনাবেক্ষনও অধিক সময়সাপেক্ষ। আর নেট মিটারিং এর সুবিধা না পাওয়াও একটা অসুবিধা বটে।

লোডশেডিং এর সময় বিদ্যুৎ থাকবে আবার নেট মিটারিং সুবিধা আছে এমন সিস্টেম করা যায় না?

অবশ্যই যায়। যেটাকে হাইব্রিড সিস্টেম বলে। এই সিস্টেমটা পূর্বে আলোচিত দুইটা সিস্টেমের মিশেলে তৈরি। যেখানে ব্যাকাপ সিস্টেমও থাকে, থাকে নেট মিটারিং সিস্টেমের সংযুক্তিও। অসুবিধার যায়গায় এর প্রাথমিক স্থাপনার খরচ আর ঝক্কিঝামেলা।

এই ছিল ভারতের সৌরশক্তি ব্যবহারের একটা দিকের আলোচনা। সোলার প্ল্যান্টও স্থাপিত করতে পারছে তারা প্রচুর পরিমানে। কারণ তাদের যথেষ্ট জায়গা আছে, যেগুলো অব্যবহৃত ও পতিত।

আমার দেশ কি অমন ব্যবস্থায় ভালো করবে? সৌরবিদ্যুতের চ্যালেঞ্জ গুলো কি কি? আমাদের বর্তমান অবস্তা কি? ভবিষ্যতের পরিকল্পনা কেমন হতে পারে? এগুলো নিয়ে ইনশাআল্লাহ আগামী পর্বে কথা বলবো।

(আজকের আলোচনার ক্রেডিট যাবে Labour Law Adviser নামের ইউটিউব চ্যানেলের কাছে। তাদের কন্টেন্ট থেকেই ভারতের সোলার সিস্টেম রিলেটেড খুটিনাটি তথ্যের মূল রসদের যোগান এসেছে। ছবি কৃতিত্ব ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ডটকম)

বুধবার, ১৩ জুলাই, ২০২২

ময়মনসিংহের মাদকাসক্তি, ছিনতাই, অটোচালনা ও অপরচুনিটি কস্ট

চোখের সামনে সেদিন টাউনহল মোড়ে এক অটো আরেক অটোকে ওভারটেক করতে গিয়ে বেকায়দায় উলটে যায় ধাক্কা দিতে যাওয়া অটোই! ড্রাইভার তেড়ে যায় নিজের দোষ ভুলে অন্য ড্রাইভারকে মারতে।

উপস্থিত জনতা প্রথম অটোচালকের উপর ক্ষেপে যায়। চোখ আর চালচলন দেখে বোঝা গেলো নেশাগ্রস্ত ছিলেন প্রথম অটোচালক, যিনি মূলত সংঘর্ষের হোতা।

পাব্লিকরে বোকা আর ইরেস্পন্সিভ বলার যে ব্যাপারটা কাজ করতো সেটা একটু কমেছে এই ঘটনা দেখার পর। অবশ্য দোষীর হাতে কোন দেশীয় অস্ত্র বা আগ্নেয়াস্ত্র থাকলে আমি বা অন্য কেও এগিয়ে যেতাম কি না সন্দেহ আছে। নিজের জান আগে।


ছবিটা সেই স্পটের যেখানে ঘটনা ঘটেছিল, গুগল স্ট্রিট ভিউ থেকে নেয়া হলেও ঘটনার সময়ে তোলা না


যাইহোক, আপনার আমার শহর ময়মনসিংহের একটা বদনাম বেশি ছিল ছিনতাইকারী সংশ্লিষ্ট। যত্রতত্র ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা অহরহই শোনা যেতো একসময়। এখন নেই এমন না, অনেকটা কম।

মূল আলোচনার আগে একটা কল্পিত সন্তানপ্রীতির ঘটনা বলি।

শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সন্ধ্যার পর এক নারীর মোবাইল রাখার হাতব্যাগ ছিনতাই করে এক কিশোর। নারীর চিতকারে আশেপাশের লোকের সহযোগিতায় পুলিশের হাতে ধরা পরে সে কিশোর। থানায় নেয়া হয়। অভিভাবকদের ডাকা হয়। মা আসেন। কান্না শুরু করেন,

-আমার পোলাডার কোন দোষ নাই। আমার পোলা এরুম করতোই ফারে না। কেও না কেও ফাসানির লাইজ্ঞা ধরা খাওয়া দিছে।

-আপনার ছেলে ছিনতাই করেছে। সবাই দেখেছে, হাতেনাতে ধরেছে। এমনকি সে নেশাগ্রস্ত ছিল, তার ডোপ টেস্ট করা হয়েছে।

-আমি কইছিলাম না, আমার পোলা এরুম না। এরে কেও নেশার বড়ি খাওয়ায়া এরুম করাইছে। পরে ফাসায়া দিছে।

অযৌক্তিক হাস্যকর হলেও অনেক অপরাধের ক্ষেত্রেই হয় পরিবার জানে না, নাহয় প্রশ্রয় দেয়। জনপ্রিয় উদাহরণ হতে পারে ঘুষের টাকা, সিন্ডিকেট করে মূল্যবৃদ্ধি করে তুলে নেয়া টাকা। কোন সেক্টরে এই ঘটনা ঘটে না! আমি, আপনি, আমাদের আত্মীয় স্বজনেরাই তো কোন না কোন ভাবে এগুলোতে জড়িত।

প্রসংগে ফেরা যাক।

আগের তূলনায় এখন ছিনতাইয়ের কথা শোনা যায় না। বিশেষ করে অটোর বৃদ্ধির সাথে ছিনতাই কমার হারের একটা মিল দেখা যায়।

এর পেছনে যুক্তি হিসেবে দাড় করানো যায় বৈধ উপার্জন থেকে নেশার টাকার যোগান। ব্যাপারটা ইন্টারেস্টিং না!

একসময় নেশার টাকা যোগানোর জন্য মোড়ে-গলিতে ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটতো। ধরা খেলে অপরাধীই স্বীকার করতো এসব কারন (নেশার জন্যে ছিনতাই করেছে) আবার কিছুক্ষেত্রে এলাকার মানুষ সাক্ষ্য দিতো।

খুব সম্ভবত আধুনিক নেশাগ্রস্তদের কিঞ্চিৎ বোধোদয় হয়েছে। আপনি কোন ভাবে নেশারত কারোর সামনে পরে গেলে যদি তাকে জিজ্ঞেস করেন,

-কেন এগুলা করে টাকা নষ্ট করতেছিস বোন?

-নিজের পরিশ্রমের টাকায় নেশা করি। কারোর বাপের টাকায় না।

উদাহরণে "বোন" বলার অন্যতম কারণ পুরুষের পাশাপাশি অথবা পুরুষ থেকে দূরে বিভিন্ন সেক্টরে নারীর উপস্থিতি, বিচরনে সফলতার কথা তুলে ধরা।

মাদক জগতে নারীদের বিচরন বিকৃত নারীবাদের ফসল (বিকৃত নারীবাদ বলতে সেই বিশ্বাসকে বোঝাচ্ছি, যে বিশ্বাসীরা মনে করে পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও সিগারেট, নেশার অধিকার আছে। ছোট কাপড়, অশালীনতা, উশৃংখলতা মানেই স্বাধীনতা বা পুরুষের সমান হওয়ার হাতিয়ার। যারা ভুলেই যায় এইরকম বিষয়গুলোর কোনটিই পুরুষের জন্য বা সমাজের জন্য মঙ্গলজনক হয়নি)। আলোচিত ঐশী কান্ড নিশ্চয়ই ভুলে যাওয়ার মতো না। যেখানে পুলিশের এক কর্মকর্তার মেয়ে ঐশী তার বাবা মাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে তার ছেলেবন্ধুর সহায়তায়। তাদের অবাধ বিচরণ ছিল নেশার জগতে। ওই ছেলের অপরাধ জাস্টিফাই করার কোন যৌক্তিকতা নেই এটা অকাট্য। কিন্তু এমন সমঅধিকার বা এমন বিশৃঙ্খলার দিকে ধাবিত করবে এমন কোন অধিকারই থাকা উচিত না।

পত্রিকায় হরহামেশাই অপরাধী দম্পতি অথবা যুগল (বৈধ দম্পতি না) ধরা পড়ার খবর দেখা যায়।

আমরা মানুষেরা অদ্ভুত মেন্টালিটির! না মানে চিন্তা করুন, একসাথে বিয়ে ছাড়া থাকা যাদের কাছে অবৈধ বা নীতিবিরোধী মনে হয়েছে তাদেরও কেও কেও ছিনতাই, মাদক, খুনের মতো গর্হিত অপরাধে যুক্ত হচ্ছি।

এক্ষেত্রে অবস্থান স্পষ্ট করা জরুরী যে, ব্যক্তি হিসেবে আমি পশ্চিমা অবাধ মেলামেশার বৈধকরণ বিরোধী। বিয়ে করে বৈধ সম্পর্ক স্থাপনের গুরুত্ব সম্পর্কে অবহিত। শুধু অবাক লাগে এটা ভেবে যে একদিকে এমন নৈতিক সচেতন মানুষেরা কিভাবে অন্য ঘৃন্য অপরাধে জড়িয়ে যায়!

সমাজের নিম্ন আয়ের লোকেদের ক্ষেত্রে হালাল আয়ে নেশা করার গর্ব দেখা যায় বেশি। উচ্চস্তরের কিছুক্ষেত্রে এর ভিন্নতা দেখেছি। বিশেষত আপনি যদি কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রর কাছ থেকে শোনেন, যাকে হয়তো নেশাগ্রস্ত বলা উচিত হবে না (তাদের মতে) তাদের কেও কেও বলবে

-আমি আমার লিমিট জানি

অথবা

-আমি অনেক ছোটবেলা থেকেই এগুলায় আছি। আমার কাছে এগুলো নরমাল, কোন ইম্প্যাক্ট পরে না

অথবা

-তুই ক্ষ্যাত, আমি স্মার্ট

অথবা

-টেনশন, ডিপ্রেশন, ফ্যামিলি প্রেশার ইত্যাদি।

আরেক গ্রুপ পাবেন যারা কিছু কিছু নেশাদ্রব্যকে "নেশাদ্রব্য" বলতেই নারাজ। যেমনঃ গাজা খেলে তো নেশা হয় না, পানীয়কে (মদ বা অমন তরল) কেন মানুষ নেশাদ্রব্য বলে বুঝিই না।

সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং ধূমপায়ীদের যুক্তি। ক্লিয়ার করি, ধূমপায়ীদের নেশাখোর বা মাদকসেবির কাতারে ফেলছি না। কারন, টিপিক্যাল নেশাখোর বা মাদকসেবিদের আলাদা একটা চিত্র/ছাচ আমাদের সমাজে চিত্রিত যেখানে অবশ্যই ধূমপায়ীরা পড়েন না। ইয়াবা বা হেরোইনের মতো মাদক সেবনে ঘটা সরাসরি ক্রম মানসিক বিকারের ভয়াবহতার মতো প্রভাব সিগারেটের ক্ষেত্রে দেখা যায় না। সোজা কথায় শুধু সিগারেট খেয়ে মানুষ মাতাল হয়না বলে সিগারেট হচ্ছে কানামামা। শকুনি মামা (মানসিক বিকারে ভূমিকা রাখা মাদক) থেকে কানামামা ভালো (অপরচুনিটি কস্ট হিসেবে)।

তো, ধূমপায়ীরা দেশ সেবা করেন ধূমপানের মাধ্যমে উচ্চহারে ট্যাক্স দিয়ে। দেশের জিডিপি গ্রোথে তাদের অবদান সবচেয়ে বেশি, তারাই সত্যিকারের দেশপ্রেমিক!

অথচ এই পরিমান মনযোগ অন্য জরুরী খাতে দিলে সেগুলোর উন্নয়ন সম্ভব হতে পারতো।

অবশ্য ধূমপায়ীদের দেশ সেবা তথা অর্থনীতির চাকা সচলে ভূমিকা রাখার ব্যাপারটা ইকোনমিক দিক থেকে অগ্রাহ্যও করা যায় না।

প্রথম স্তরের নেশাগ্রস্ত ধূমপায়ীদের উদাহরণ দিয়ে বলি।

তারা দৈনিক ৩০ থেকে ২০০+ টাকা খরচ করে (অনুমানে ধরে নিন)। যেই টাকার বেশির ভাগ অংশ এখন করের মাধ্যমে সরকার পায়। যেই বিক্রেতা বিক্রি করলো সে পেল (সাধারণত খুব অল্প পান পার আইটেম হিসেব করলে, মারাত্নক পরিমানে বিক্রি হওয়ায় লাভের পরিমান বাড়ে। কাস্টমার ধরে রাখার জন্য আর টাকার ফ্লো মেইন্টেইন করার জন্যও কেও কেও দোকানে সিগারেট রাখেন বলেছেন), কোম্পানি পেল, কর্মচারী পেল, শ্রমিক পেল, দেশে উৎপাদিত হলে চাষি পেল। চাষীদের উপকার, এর চেয়ে বড় দেশপ্রেম আর কি হতে পারে!

ওগুলো ডিরেক্ট ইমপ্যাক্ট।

ইন্ডিরেক্ট ইমপ্যাক্ট তো আরো বেশি। লুকিয়ে সিগারেট খাওয়া ব্যাক্তিদের খাত বিবেচনা করা যাক।

মুখের গন্ধ নিবারনের জন্য মাউথ ফ্রেশনার, পান, সেন্টার ফ্রেস ইত্যাদি।

কাপরের গন্ধের জন্য স্প্রে, অতিরিক্ত ডিটারজেন্ট।

মাঝে মাঝে সিগারেটের আগুনে কাপড় বাজেয়াপ্ত হয়ে গেলে সদ্য কেনা কাপর রেখেই নতুন কাপর কিনতে হয় বা ঠিকঠাক করে নিতে হয়।

ম্যাচ ইন্ডাস্ট্রি, লাইটার ইন্ডাস্ট্রি, পায়কেজিং, এস্ট্রে, সিগারেট হোলডার।

সিগারেট খেয়ে ফুসফুসের রোগ বানিয়ে ডাক্তারের কাছে যাওয়ায় ভিজিট, চেকাপ, ঔষধ।

ক্যান্সার হসপিটাল, বক্ষব্যাধী হসপিটাল কাশতে কাশতে মারা যাওয়ার পর কবরস্থান বা শ্মশানের কর্মচারীদের পকেটও ভারী করেন তারা।

সেইসাথে সংসারের একমাত্র উপার্জনকারীর দ্বারা জীবিত অবস্থায় পরোক্ষ ধূমপানে ক্ষতি করে, উপার্জনের একটা অংশ সিগারেটের মতো খাতে ব্যয় করে জীবনাবসানের পর মাঝে মাঝেই পরিবারকে অভাবে ফেলে যান অথবা বেকায়দায় ফেলেন।

সাইকোলজি বর্তমানে যেকোন ব্যবসার সাফল্যের গোপন সূত্র।

এমন নেশা দ্রব্য বা ড্রাগ বানিজ্যের পেছনে বড় বড় মানুষ প্রতিষ্ঠান ও সুক্ষ সাইকোলজির খেলা থাকে। মাদক ব্যবসার টাকাগুলোও কালো টাকা। তাই বৈধতা নাই সে টাকার। দেশের অবৈধ সম্পদ, বাইরের দেশে পাচার হওয়া অর্থের একটা অংশ নিশ্চিতভাবেই এই খাতের কালো টাকা। যেটা জনসাধারণের চোখে ধরা পরে না বা পরেও লাভ নেই।

কোথায় ছিলাম, ছিনতাই।

হ্যাঁ, ছিনতাইয়ের মতো ঘৃণ্য কাজ ছেড়ে অনেক নেশগ্রস্তরাই এখন অটো চালনায় এসেছে।

এক্ষেত্রে একটা ইকোনমিক ফ্যাক্টর মাথায় রাখবেন, অপরচুনিটি কস্ট।

অপরচুনিটি কস্ট হলো দুইটা একই (বা ভিন্ন) ধরনের কাজ একই সময়ে করার অবস্থায় পড়লে একটা কাজ ছেড়ে দেয়ার জন্যে যেই লস বা খরচ গুনতে হয় সেটা।

উদাহরণ হিসেবে প্রচলিত গল্পের কুকুরের কথা বলা যায়। যে মাংস নিয়ে স্বচ্ছ স্রোতস্বিনী জলাধারের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় নিজের প্রতিচ্ছবি পানিতে দেখতে পায়। খুব সম্ভবত কুকুরটি পদার্থ বিজ্ঞান বই পড়েনি যার কারনে সে বুঝতে পারেনি যে জলে যে কুকুরটিকে মাংসের টুকরা মুখে দেখা যাচ্ছে তা আদতে তার প্রতিবিম্ব, সে প্রতিফলক পৃষ্ঠ পানি থেকে দূরে থাকায় তার চেয়ে ছোট (ছোট জন্তুর কাছ থেকে অপেক্ষাকৃত সহজে খাবার ছিনিয়ে নেয়া যায়) মনে হয়েছিল।

মূর্খ কুকুর জলের কুকুরের মুখ থেকে মাংস ছিনিয়ে নেয়ার জন্য যেই কামড় বসায় পানিতে, তার মুখের মাংসের টুকরা পানিতে পরে স্রোতের টানে ভেসে যায়।

মূর্খ কুকুর সাইন্সের ফিজিক্স বই না পড়ে কমার্সের বই পড়লেও অপরচুনিটি কস্ট সম্পর্কে জানতে পারতো। যেটা জানলে সে নিজের ভাগের মাংস থাকার পরও অন্য কুকুরের কাছ থেকে ছিনিয়ে মাংসের ভাগ বড় করা আদতে কতটুকু ইকোনমিক তা কমপেয়ার করতে পারতো।

নেশাকারীরা ছিনতাই ছেড়ে অটোচালনা, বিদেশ গমন, স্ট্রিট বিজনেসের মতো দৃশ্যত গ্রহনযোগ্য কাজে যুক্ত হচ্ছে। ইনকাম সোর্স চয়েস করার মেন্টালিটির এই শিফটিং পজিটিভ।

কিন্তু এখনো অনেকের নেশার রাজ্যে অবাধ বিচরণ, নেশাদ্রব্যের মোটামুটি অবাধ প্রাপ্তির অপরচুনিটি কস্ট কি হিসাব করা হয়েছে?

উল্লেখ্য সব অটোচালক নেশাগ্রস্ত এমনটা বলছি না, সবাই ছিনতাইকারী থেকে অটোচালক হয়েছেন এমনটাও বলছি না। বহু সাধারনের কর্মসংস্থান হয়েছে। পূর্বে রিক্সা পদচালিত রিক্সা চালাতেন এমন অনেকেই ইলেকট্রিক অটোরিকশা চালান, এমন লোকও কম না।

কিন্তু যারা নেশাগ্রস্ত তাদের ক্ষেত্রে? লেখার শুরতে বলা আমার চোখের সামনে ঘটা ঘটনাটাতো একটা উদাহরণ মাত্র। ক্ষেত্রবিশেষ যাত্রী হয়রানি, নারী যাত্রীদের ইভটিজিং, তুচ্ছ কারনে ঝগড়া, কিছু ক্ষেত্রে এখনো ছিনতাই বা ছিনতাইয়ের জন্য খুনের মতো ঘটনাগুলোর দিকে নজর দিলে মাদকের একটা যোগসূত্র পাওয়া যায়।

লিখে উদ্ধার করে ফেলার চেষ্টা বৃথা যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কখনো যদি মনে হয়,

আমি তো সাধারণ যাত্রী। আমার সাথে এমন দূর্ব্যবহার করলো কেন? আমার জানের তোয়াক্কা না করে বাস ট্রাক চলা রাস্তায় অন্য জনের সাথে পাল্লা দিচ্ছে কেন? সাই করে অন্য অটো ঘেষে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে চাচ্ছে কেন?

ইত্যাদি বিভিন্ন ঘটনার পেছনে অন্যতম একটা কারন মাদক। দূর্ঘটনায় পড়ার পর আফসোস যাতে না হয় একথা ভেবে,

"কি কারনে দূর্ঘটনায় পড়লাম বুঝলাম না?"

অথবা

"কি কারনে মরে গেলাম বুঝলাম না!"

অন্যতম কারন স্পষ্টকরনের জন্যেই লেখাটি।

আমি মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে শহীদ হওয়ার পক্ষপাতী না। এমনিতেই একটা গ্লোবাল বা লোকাল প্রব্লেম সলভ করার আগে মরতে যাওয়া বা চাওয়া আমার পেছনে পরিবারের ও দেশের খরচ ও স্যাক্রিফাইসের অপচয়ের শামিল। আমি অমন অপচয়ের পক্ষপাতী না। ওই যুদ্ধের উপযোগী সেনা বা সেনাপতি না। তাছাড়া যুদ্ধের আওয়াজ তোলা অনেকেই মাদকে জড়িত থাকায় তথাকথিত যৌক্তিকতা নিয়ে সন্দিহান এই বিষয়ে যে আমি শহীদ বিপক্ষের হাতে হবো নাকি পক্ষের বিশ্বাসঘাতকের হাতে এই ব্যাপারটা তো আছেই!

আমি ছাপোষা মানুষ কৃষির সাথে থেকে বাকি জীবন কাটাতে চাই। আমাকে নিয়ে মাদকসেবিদের দুশ্চিন্তার কিছু নেই, আক্রোশ থেকে আক্রমনের তালিকা থেকে আমাকে সরিয়ে রাখলে ভবিষ্যতে আপনার নিজের দেশের বহুত উপকার হবে কথা দিলাম।

আরে ধুর, কারে কি বলতেছি! আপনি তো মাদক নেননা বা মাদকের পক্ষের লোকও না, আপনাকে বলে কি হবে!


মঙ্গলবার, ১২ জুলাই, ২০২২

ইলেক্ট্রিসিটি ক্রাইসিসের সম্ভাব্য বিকল্প পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুৎঃ পর্ব ০১

সূর্যালোক শক্তি কাজে লাগিয়ে উৎপাদিত বিদ্যুতই সৌরবিদ্যুৎ নামে চিনি। ফটোভোলটাইক প্লেটে সূর্যরশ্মি পরে কিভাবে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয় সেই সাইন্সে না যেয়ে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কিছু বিষয়ে কথা বলি।

সোলার প্যানেল স্থাপনে কোন বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হয়?

১)স্থান

স্বভাবিকভাবেই যেখানে রোদ পড়ে না বা বেশিরভাগ সময়ে রোদ থাকে না সেখানে সোলার প্যানেল স্থাপনে কাংখিত আউটপুট পাওয়া যাভে না।

২)প্যানেলের দিক

প্যানেল কোন দিকে স্থাপন করা হচ্ছে এটাও গুরুত্বপূর্ণ। যেমন ধরুন শীতকালে সূর্যের দক্ষিনায়ন হয়, এটা চিরন্তন। আপনার বাসার দক্ষিণে বড় গাছ বা স্থাপনা থাকলে প্যানেলের ব্যবস্থাপনা একরকম হবে, না থাকলে অন্য।

৩)প্যানেলের এংগেল

প্যানেলের এংগেলের উপর কার্যকারিতা অনেকাংশে নির্ভর করে।

কার্যকর জীবনকাল

সোলার সিস্টেমগুলোর জীবনকাল সাধারনত ২০ থেকে ৩৫ বছর হয়ে থাকে। প্রতিবছর গড়পড়তা ০.৭% এফিশিয়েন্সি কমে জীবনকালের শেষভাগের দিকে ৭০-৮০% এফিশিয়েন্সি থাকে।

ইনফাস্ট্রাকচার ও ইকুইপমেন্ট

সোলার সিস্টেমের প্রধান পাঁচটি ফিজিক্যাল ইউনিট হচ্ছে ১) সোলার প্যানেল (যেটা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হবে), ২) ইনভার্টার/কন্ট্রোলার (ইনভার্টার দেখা যায় যেই সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে সরাসরি AC সংযোগে চলা এপ্লায়েন্স চালানো হয়। অন্যদিকে কন্ট্রোলার বেশি দেখা যায় গ্রামের সোলার হোম সিস্টেমগুলোতে। সাধারনত সৌরবিদ্যুৎ তথা উৎপন্ন DC শক্তি দিয়ে সরাসরি চলে এমন এপ্লায়েন্স ব্যবহারের ক্ষেত্রে কন্ট্রোলার প্যানেল দেখা যায়। এর আরেকটি সংশ্লিষ্ট বিষয় হচ্ছে ব্যাটারি ব্যাকাপ সিস্টেম থাকে সাধারণত), ৩) ওয়ারিং (সংযোগ তার, যেগুলোর মাধ্যমে প্যানেলের সাথে অন্যান্য সিস্টেম সংযুক্ত থাকে), ৪) প্যানেল সাপোর্টিং স্ট্রাকচার, ৫) ব্যাকাপ ব্যাটারি (দিনের বেলা উৎপন্ন শক্তি সঞ্চয় করে রাখতে ব্যবহার করা হয়। রাতে ব্যাকাপ দেয়)

এরমধ্যে সোলার প্যানেল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলাই বাহুল্য। সোলার প্যানেলের কোয়ালিটির উপর নির্ভর করবে কতটুকু জায়গায় কতটা বিদ্যুৎ পাবেন।

যেমন ধরুনঃ একটা প্যানেল সৌরশক্তিকে ৩০% এফিশিয়েন্টলি বিদ্যুৎ শক্তিতে রুপান্তর করতে পারে অন্যটি ২৫% এ। স্বাভাবিকভাবে প্রথমটার কার্যকারিতা বেশি হওয়ায় প্রথম পছন্দ সেটি হওয়াই স্বাভাবিক। যদিও দামের পার্থ্যক্য একটা ফ্যাক্টর।

আবার এক কোম্পানি প্যানেল গ্যারান্টি দিল ২০ বছর, অন্যটি ৩০ বছর। দুটি কোম্পানিরই বিশ্বস্ততা, বিশ্বাসযোগ্যতা কাছাকাছি হলে অবশ্যই ৩০ বছরের গ্যারান্টির প্যানেল উপযোগী। বিশ্বস্ততা জরুরি কারন একটা কোম্পানি ৩০ বছর গ্যারান্টি দিলো, কিন্তু কোম্পানির অবস্থা যদি ১০ বছর টেকার মতো না হয় তাহলে প্যানেল লাইফটাইমে নষ্ট হলে গ্রাহক কাংখিত বিক্রয়োত্তর সেবা পাবে না।

অপেক্ষাকৃত আধুনিক প্রযুক্তির প্যানেলগুলোর সৌরশক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রুপান্তরের সক্ষমতা অধিক।

ডিগ্রেডেশন রেট জানা থাকলে ভালো। যেই প্যানেলের এফিশিয়েন্সি ডিগ্রেডেশন রেট কম সেটা অধিক উপযোগী।

মেইন্টেনেন্স

নন-ফিজিক্যাল পার্টের মধ্যে আফটার সেলস সার্ভিস গুরুত্বপূর্ণ দিক সৌরবিদ্যুতের ক্ষেত্রে। কেনার আগে, সিস্টেম স্থাপনের আগে এই বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

সৌরবিদ্যুতের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মেইন্টেনেন্স। বলা হয়ে থাকে সোলার প্যানেল যদি ছয় মাস অযত্নে থাকে, তাতে জমা ধুলাবালির কারনেই ৩০% এর মতো কার্যক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে। আবার যথোপযুক্ত ভাবে প্যানেল পরিষ্কারের পদ্ধতি জানা না থাকলেও স্ক্র‍্যাচ পরে বা ভেংগে গিয়ে ক্ষতি সাধনের সম্ভাবনা আছে।

তাছাড়া যেই স্ট্রাকচারের উপর সোলার প্যানেল বসানো হয় সেটা যদি মরিচ রোধী না হয় তাহলে প্যানেলের ক্ষতি হওয়া ছাড়াও স্ট্রাকচার বাবদ ব্যয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকে।

ব্যবহৃত তারের গুনগত মানের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। সোলার পাওয়ার সিস্টেমের লাইফটাইমে যদি সংযোগ তার নিম্নমানের হওয়ায় নষ্ট হয়ে যায় তাহলেও ঝামেলার পাশাপাশি অহেতুক খরচ বৃদ্ধির সম্ভাবনা আছে।

......................................................................................................চলবে

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন, ২০২২

অপ্রচলিত ও বুনো কিন্তু সম্ভাবনাময় ফল

বঁইচি নামে পরিচিত যে ফলটা, বহুদিন ধরে খুজতেছি। "পেলা গুডা" নামে পরিচিত আমাদের গ্রামে।

পক্ব শক্ত "পেলা গুডা" বা বঁইচি ফল ছোটবেলায় দুই হাতের তালুতে বুলি আউরে কচলাতে কচলাতে নরম করতাম।

"আম পাকে জাম পাকে,

মামার বাড়ির পেলা পাকে"

শহরে এক জায়গায় খেলতে যেয়ে বঁইচি সদৃশ একটা গাছ দেখতে পেয়ে বাসায় এনে লাগিয়েছিলাম ৮-৯ বছর হলো। ফল, ফুল কিছুই আসে না। আমার হতাশাও কমে না গাছটাকে নিয়ে।

বেতফল এবছর দক্ষিনাঞ্চলে যাওয়ার আগে কোথাও দেখেছি মনে পরে না। বন্ধুরা সাজেক থেকে কিনেছিল যতদুর মনে পড়ে। এতো সুন্দর দেখতে! একদম মেয়েদের গয়নার ডিজাইন করা গোল গোল পুতির মতো।

সত্য বলতে খেতে সুস্বাদু মনে হয়নি আমার কাছে। আপনার নস্টালজিয়া হলে, আশেপাশে খাওয়ার কিসসু না থাকলে, টাইম পাসের ইচ্ছা হলে, অতিরিক্ত সুস্বাদু খাবার খাওয়ার পর মুখের স্বাদ স্বাভাবিক করতে চাইলে খেতে চাইবেন এমন মনে হয়েছে। বন্ধুদের কেও কেও পছন্দ করেছে।

যাইহোক, ইদানীং "চাম কাঠাল" বা চাপালিশ গাছের কাঠাল সদৃশ  ফল চোখে পড়ে শহড়ে। একটা ছোটখাটো প্রতিবেদন দাড় করানোর চেষ্টায় আছি।

চাপালিশ নিয়ে সম্ভাবনার বিষয় হলো, এটা বেশ পরিচিত একটা কাঠ। মধুপুরের বনে পাওয়া যায় বললেন চাপালিশ ফল তথা চাম কাঠাল বিক্রেতারা।

ধরুন, আপনি গাছ লাগিয়ে রাখবেন। কাষ্ঠল গাছ। চাপালিশ সেই চাহিদা পূরনের পাশাপাশি পুষ্টিও দেবে (চাম কাঠালের পুষ্টিমান পাই নাই কোথাও, কেন কোথাও নাই এটা একটা প্রশ্ন হতে পারে)। বেশ কয়েক জাতের ভিটামিন পাওয়া যাবে এটুকু নিশ্চিত। যেহেতু গাছগুলো অপ্রতুল, ফলের চাহিদা ভালোই থাকবে।

আরেকটা ক্ষেত্র হতে পারে গ্রাফটিং!

এই চাপালিশ আমাদের জাতীয় ফল কাঠাল পরিবারের সদস্য। চাম কাঠালের শেকড়ের বিশেষত্ব, বুনো পরিবেশে বেচে থাকার বৈশিষ্ট্য ইত্যাদি বিভিন্ন দিক বিবেচনায় চাপালিশে কাঠালের গ্রাফটিং করে কাঠালের বিস্তৃতি বাড়ানো যেতে পারে।

এমন আরেকটি উদাহরণ হচ্ছে ডেওয়া। যেটা কাঠালের চেয়ে অধিক লবনাক্ততা সহিষ্ণু। যেকারণে ডেওয়া গাছে কাঠালের গ্রাফটিং করে উপকুলীয় অঞ্চলে কাঠাল চাষ বা ভবিষ্যতের লবনাক্ততার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা যেতে পারে বলে পড়েছিলাম কোথাও।

থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়ার দিকে পাওয়া ডুরিয়ানের গন্ধ নাকি বিকট তীব্র! কিন্তু কি দাম বাপ্রে বাপ! তারপরও আন্তর্জাতিক বাজার, পর্যটকদের কাছে ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে।

আমাদের দেশের অপ্রচলিত অনেক ফল আছে যেগুলো আমাদের নজর পাওয়ার দাবি রাখে।

লোকাল ব্র‍্যান্ডিং এর পাশাপাশি কান্ট্রি ব্র‍্যান্ডিং করে (বলতে লজ্জা লাগতেছে, মাধ্যম হতে পারে টিকটকও! যতদিন আছে, ভালো কিছুতে কাজে লাগুক) এগুলোকে সামনে আনা যায়। পাঠ্যবইয়ে, গবেষনায় অল্প অল্প করে এগুলোকে ফুটিয়ে তোলা যায়। কে জানে বঙ্গের ডুরিয়ান হয়ে যাবে হয়তো বঁইচি, কাগজি লেবু, ডেউয়ার মতো কোন ফল!

টেপা রুটি, অভ্যাস-আসক্তি পরিবর্তনে দূরত্বের গুরুত্বঃ ০২

টেপা রুটি নাম শুনেছেন কখনো?

হাতে টিপে টিপে যে রুটি বানায়, সেটাই টেপা রুটি।

ছোটবেলায় একবার আত্মীয়ের নতুন বাসায় যেয়ে প্রথম খাওয়া হয়েছিল। সেটা উদ্ভুত পরিস্থিতির কারনে ছিল। নতুন বাসায় খুবেকটা তৈজসপত্র আনেননি সেই আত্মীয়। তাছাড়া কয়েকমাস থাকার প্ল্যান করে তিনি বাসা নেয়ায় বাসায় জিনিসপত্র রাখেননি সবধরনের। যেকারণে রুটি বানানোর বেলন-পিড়িও ছিল না। তাওয়াও ছিল না রুটি স্যাকার।

কিন্তু রুটি বেশ সহজে খাওয়া যায়। ঝুট ঝামেলা কম। তার উপর ছোট বেলার বায়না রুটিই খাবো!

"প্রয়োজন উদ্ভাবনের জননী"

ছোট পাত্রে আটা গুলে হাতে টিপে তৈরি করে ফেলা হলো রুটি! অবশ্যই গোল হয় নি। কিন্তু, অনেক কষ্টে বানানো সে রুটি খুব তৃপ্তি সহকারে খেয়েছিলাম আমরা।

টেপা রুটির ইতিহাস ঘাটলে হয়তো বহুকাল আগে চলে যেতে হবে। ওদিকে না যাই।

সাম্প্রতিক ঘটনায় ফিরি।

রাত জেগে থাকার পর যখন ক্ষুধা চাপে, ঘরে খাওয়ার মতো চাবি-চুবি (চর্বনযোগ্য খাবার) না থাকে তখন খুব অসহায় অসহায় লাগে মাঝে মাঝে। মাঝে মাঝেই অমন পরিস্থিতিতে পড়ে বিভিন্ন ধরনের খাবার তৈরি করা হয়।

একদিনের তালিকায় এই "টেপা রুটি" ছিল। এমন না যে বেলন পিড়ি ছিল না! সেগুলো নামিয়ে ধুয়ে ব্যাবহার করে আবার পরিষ্কার করে রাখা খুবই ঝামেলা জনক ঠাহর হচ্ছিল সেদিন। তাই টেপা রুটি।

যারা রুটি নিয়ে একদমই জানেন না তাদের জন্য বলছি, গরম পানিতে আটা গুলিয়ে যে রুটি হয় সেটা নরম হয় ও নরম থাকে। অন্যদিকে, ঠান্ডা পানি দিয়ে গোলানো রুটি শক্ত হয় একটু আর নামানোর সাথে সাথে না খেয়ে ঠান্ডা হতে দিলে রাবারের মতো হয়ে যায়।

কিন্তু, ঠান্ডা পানির রুটি মুচমুচে করা সহজ। ঠান্ডা পানির রুটিই করি সেদিন, পানি গরম করার ঝামেলা থেকেও বাচা যায় তাতে।

বানানোর পর কি দিয়ে খাবো?

রান্নাঘর, ফ্রিজ খুজে তেমন কিছুই পাই না। ফ্রিজের কোনায় ঘি-এর কৌটায় চোখ যায়।

ঘি দিয়ে রুটি! কেন নয়!

সাথে একটু চিনি নিয়ে গরম গরম রুটি দিয়ে সেই রাতে ক্ষুধা নিবারন করি।

ঘি দিয়ে রুটি! কেন নয়!

যাইহোক, সে রাতে যদি ঘরে কৌটায় বিস্কুট থাকতো তাহলে কি রুটি বানাতাম? খুব সম্ভবত না।

এখান থেকে তিনটি উপলব্ধি পাওয়া যায়।

এক.

কোন বস্তু (বৃহদার্থে ব্যাক্তি) অপ্রতিস্থাপনযোগ্য নয়, কথাটি অনেকাংশে সত্য। উপোরোক্ত ক্ষেত্রে কৌটায় নিয়মিত থাকা বিস্কুট যদি মনে মনে ভাবে যে, আমি না থাকলে তোমার কি হবে ক্ষুধার্ত মানব! ক্ষুধা মিটাবে কি করে। বহু উত্তরের একটি হচ্ছে টেপা রুটির সাথে ঘি-চিনি।

দুই.

সৃজনশীলতার সাথে অভাবের একটা যোগসূত্র আছে, বলাই যায়। প্রয়োজন উদ্ভাবনের জননী কথাটিই এক্ষেত্রে বেশ মানানসই।

তিন.

পদার্থ বিজ্ঞান বলে একই সাথে একই সময়ে একই স্থানে দুটি বস্ত থাকতে পারে না। পদার্থবিজ্ঞানে দৌড় কম থাকায় অন্য দৃষ্টিকোণ থেকে এই ধারনা ব্যাখা করবো। বিস্কুটের প্রসংগে আসি…

যতদিন বিস্কুট বা অন্য খাবার ছিল কৌটায় ততদিন কি আমি টেপা রুটির কথা ভাবতাম! হয়তোবা না।

একটা শুন্যস্থান তৈরি হয়েছিল কৌটায়। যেটার অভাব পূরণ করতে টেপা রুটির দ্বারস্থ হতে হয়েছিল।

একই জিনিস যদি আমাদের দিনের ২৪ ঘন্টা সময়ের দিকে তাকাই! ২৪ ঘন্টাই আমরা কিছু না কিছুতে ব্যাস্ত। একসময় আমরা অলস সময় কাটাতে অভ্যস্ত থাকলেও এখন অনেকেই (অন্তত একটা বয়স পর্যন্ত) সারাদিন ব্যস্ত থাকি কিছুতে। ব্যস্ততাটা যে কাগুজে কাজকর্ম, তা নয়।

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটা সোশ্যাল মিডিয়া বা গেমস বা ইন্টারনেট ব্রাউজিং।

এই আধুনিক ভার্চুয়াল জগতগুলোর বেশিরভাগের এক্সেস আপাতদৃষ্টিতে ফ্রি মনে হলেও এগুলোতে আপনি আমি আমাদের এটেনশনের বিনিময়ে এগুলোকে এক্সেস করি। আমাদের এটেনশন তথা এনগেজমেন্ট যত বেশি, সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলোরও সেগুলো ব্যবহার করে লাভ করার সম্ভাবনা তত বেশি।

আমরা কিভাবে কোম্পানিগুলোর ফাদে পড়ে সময় ব্যয় করে ফেলি?

মানবশরীরের বিস্ময়কর কেমিক্যাল ডোপামিন নিঃসরণের কারনে। ডোপামিনকে রিওয়ার্ড হরমোনও বলা হয়। আমাদের সুখ পাওয়ার সাথে এই হরমোন নিঃসরণের যোগসূত্র আছে। সেটা শারীরিক চাহিদা থেকে লব্ধও হতে পারে, প্রতিযোগিতা জয়ের আনন্দেও হতে পারে।

কিন্তু, সাইকোলজির উপর ভিত্তি করে পরিচালিত সোশ্যাল মিডিয়াগুলো আরো সহজে এই ভালোলাগা, পুরষ্কার প্রাপ্তির ঘটনা তৈরি করে ফেলে মনের মধ্যে।

যেমনঃ আমার ভিডিওতে লাভ রিয়েক্ট আসলো পরিচিতজনের কাছ থেকে, আমি খুশি। স্বল্প পরিচিত জনের লাভ রিয়েক্ট, আরো খুশি!

আমরা যতক্ষন ব্যাবহার করতে থাকবো, বিভিন্নভাবে এই কৃত্রিম সুখ দিয়ে আমাদের ভুলিয়ে রাখবে।

এখন আমরা এই ডোপামিনের নিঃসরণ ছাড়া কোন কিছুতে যুক্ত থাকতে পারি না। পড়াশোনাতে আমাদের বিনোদন দরকার হচ্ছে (বিরোধিতা করছি না), চাকরিতে বিনোদন দরকার হচ্ছে, রাজনীতিতে বিনোদন দরকার হচ্ছে, দক্ষিনের বহু আকাঙ্ক্ষার ফসল অতিসাম্প্রতিক পদ্মা সেতুতেও বিনোদন দরকার হচ্ছে!

আমরা যেন বিরতই থাকি না কখনো! ক্লাসে গেম খেলা, ক্লাস শেষে রুমে ফেরার পথে ফেসবুক ব্রাউজ করা, বাসে চড়ার সময় গান শোনা, খাওয়ার সময় গান শোনা! আমাদের যেভাবে কোম্পানি গুলো গ্রাস করতে চাচ্ছে আমরাও সেভাবে গ্রাস হয়ে যাচ্ছি।

এতো লম্বা বিবরনের কারণ, আমরা যেই সময়টা স্ক্রলিং করে অপচয় করি সেই সময়টার মধ্যে কিছুটা হলেও সময় এসব ডোপামিন বুস্ট থেকে দূরে থাকা উচিত। এর ফাঁকে, সময় চিপে বের করে সৃজনশীল কাজ বা অর্থবহ কাজে ব্যয় করা উচিত।

নিজের উপর এক্সপেরিমেন্ট করেছেন কখনো?

সচেতন ভাবে আমি করেছি।

একবার আধা কিলোমিটার রাস্তা ছোট একটা কাজ করার জন্যে বের হই। পকেটে যাতায়ত ভাড়া বাদেও টাকা ছিল। কিন্তু ফিচারফোন, স্মার্টফোন কিচ্ছু নিই নি।

সেই জায়গায় যাওয়ার পর যার কাছে কাজের জন্য গিয়েছিলাম উনাকে না পাওয়ায় দশ মিনিট এদিক সেদিক করে কাটানোর সিদ্ধান্ত নিই। কিন্তু বিধি বাম!

কি যেন নেই? আমি কি করবো! আমার হাত তো খালি!

এতো অসহায় শেষ কবে মনে হয়েছিল নিজেকে মনে পড়ে না। দম আটকে আসছিল সাধারণ মোবাইলফোন ছাড়া সময় কাটানোর কথা ভাবতে ভাবতেই!

এই সময়টাকে আবার ডাইভার্ট করে কাজেও লাগানো যায়। বিভিন্ন বক্তারা অনলাইন আসক্তি, ফোন টেপার অভ্যাস কাটাতে এমন অবস্থা তৈরির পরামর্শ দিয়ে থাকেন। পুরনো অভ্যাসের সাথে দূরত্ব সৃষ্টি করে অভ্যাস পরিবর্তন করার কথা বলেন তারা।

লক্ষ করবেন, আপনার কাছে যখন প্রথম অডিও মিউজিক সাপোর্টেড ডিভাইস এসেছিল তখন সেটাই এক্সাইটিং ছিল!

একইরকম ভাবে আপনার কাছে যদি এখন অডিও মিউজিক সাপোর্ট করা ফোন ছাড়া অন্য কোন ডিভাইস না থাকে তখন?

আপনি রগচটা না হলে খুব সম্ভবত এই ফোনেই থাকা গান বাজিয়ে শুনবেন। বাস্তবসম্মত করার জন্য ধরে নিন আপনি একটা নির্জন দ্বীপে গেছেন। সেখানে যাওয়ার পর আপনার স্মার্টফোন নষ্ট হয়ে যায়, নতুন স্মার্টফোন বা অমন ডিভাইস আনার সুযোগ নেই। অগত্যা আপনি আপনার ফিচার ফোনের সর্বাত্মক ব্যবহার করবেন। সেই ফোনের গানগুলোই আপনার নিত্যসঙ্গী হয়ে যাবে। হয়তোবা আপনি গান শুনতে শুনতে বিরক্ত হয়ে নিজেই পছন্দের গান গলা ছেড়ে গেয়ে রেকর্ড করে আবার শুনবেন!

অতএব, মাঝে মাঝে ঘরের বিস্কুটের কৌটায় বিস্কুট না থাকা ভাল। তখন টেপা রুটির মতো জৌলুশহীন কিন্তু কার্যকর খাদ্যের দ্বারস্থ হবো আমরা।

শনিবার, ২১ মে, ২০২২

রিয়েল লাইফ লটারি, প্রস্তুত ভাইরালিটি ও অপ্রস্তুত ভাইরালিটি

সোশ্যাল মিডিয়ার সুবাদে ভাইরাল কথাটার সাথে আমরা পরিচিত। অল্প সময়ে কোন একটা তথ্য, লেখা, ছবি, ভিডিও ইত্যাদি দিয়ে কারোর (বা কোন বিষয়, বস্তু) রাতারাতি পরিচিতি পাওয়াটাকেই ভাইরাল হওয়া বলা যায়।


লটারি অন্যদিকে একটা টোকেন যেটা খুবই অল্প দামের হলেও সাধারণত এর পুরস্কার অনেক মূল্যবান হয়। দেশের জনসাধারণের কাছে লটারি জিনিসটা খুবই পরিচিত। অনেকেই লটারি কিনে আশায় বসে থাকেন, যদি লাইগা যায়!


নাহ অপরাধবোধ জাগাইতে চাইতেছি না। আজকে বরঞ্চ কিছু মানুষের বাস্তব জীবনের লটারির মতো ঘটনা, সেগুলো জিতে তাদের কি প্রাপ্তি হয়েছে সেটা বলবো। আর লটারি জেতার সম্ভাবনা কিভাবে বাড়ানো যায় তা বলবো।


ঘটনা ০১ঃ

ভারতের জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো “কৌন বনেগা কারোরপাতি” বা কে হবে কোটিপতির ২০১১ সিজনে সুশিল কুমার নামের একজন সাধারণ লোক ৫ কোটি রুপি জিতে। সেই সময়ে তুমুল জনপ্রিয় ও আলোচিত হয়। মিডিয়া, সামাজিক অনুষ্ঠান (সোশ্যাল মিডিয়া তখনো সেভাবে এভেইলেবল ছিল না সবার কাছে) ও অন্যান্য শোতে ডাক পেতে থাকেন। যা থেকে ট্যাক্স ও আনুসাংগিকতা চুকিয়ে সাড়ে তিন কোটি টাকার মতো হাতে পায়! কি ভাবছেন? লাইফ সেট?


হ্যাঁ, কোটি টাকা পেলে আর কি লাগে জীবনে। উড়িয়েও তো শেষ করা যাবে না। তাই আমরা অনেকেই যেমন করতাম, তিনিও করেছিলেন। টাকা লাগামহীনভাবে খরচ করতে থাকলেন। অবশ্য অনেক দানও করেছিলেন।


এদিকে তার পড়াশোনায়ও সময় দিতে পারছিলেন না বাইরের জীবনের জনপ্রিয়তায় সময় দিতে দিতে। “খ্যাতির বিড়ম্বনা” কবিতা যারা পরেছেন, তারা সহজেই যোগসূত্র করে ফেলতে পারবেন দুটো ঘটনা। একসময় খ্যাতি তার বিড়ম্বনা হয়ে দাঁড়ালো। এদিকে আকাশসম মনে হওয়া কোটি টাকাও শেষ হয়ে আসতে থাকলো। অবশ্য তিনি ক্যাব ব্যাবসা, সিমেয়ও ইনভেস্ট করেছিলেন। কিন্তু সবই ফেল হয়। এমনকি শোনা যায় যে দানগুলো করেছিলেন সেগুলোও ভুল যায়গায় গিয়েছিল। মানে কিছু সুবিধাবাদীরা সেগুলো নিয়ে নিয়েছিল। অতঃপর তার সব টাকাই এক একে শেষ হয়ে যায়।


ঘটনা ০২ঃ

রানু মণ্ডলের নাম শোনেননি কেউ আছেন! সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল জনপ্রিয়তা পাওয়া রানু মন্ডল রাতারাতি ভাইরাল হয়ে গিয়েছিলেন ২০১৯ সালে। স্টেশনে গাওয়া একটি গান সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হলে তারকা খ্যাতি পেয়ে যান। রিয়্যালিটি শোতে ডাক পান অতিথি হিসেবে, হিমেশ রেশমিয়ার সাথে ডুয়েট গান করেন। একদম জিরো থেকে হিরো যাকে বলে হয়ে যান।


কিন্তু তার জনপ্রিয়তা কমতে থাকে ভক্তদের সাথে তার নাক সিটকানো আচরণের জন্য। যেই নেটজেনরা মাথায় তুলেছিল, তারাই ধীক্কার জানাতে থাকে। যেভাবে প্রশংসা করেছিল “ষ্টেশনে গান গেয়ে টাকা কামানো কারোর গলা এতো সুমধুর!” সেই নেটিজেনদেরই অনেকে একইভাবে ধিক্কার দিতে থাকেন “ষ্টেশনের ভিখারির কাছে এর চেয়ে বেশি কি আশা করা যায়! একটু জনপ্রিয়তা পেতেই অহংকার চেপেছে!”


ঘটনা ০৩ঃ

গত বছর শ্রীলঙ্কান ভাষার একটি গান তুমুল জনপ্রিয়তা পায়। গানটির নাম ছিল “মানিকে মাগে হিতে।” প্রথমে টিকটকে ভাইরাল হলেও আস্তে আস্তে অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল জনপ্রিয়তা পায় গানটি ও গানটির গায়েন “ইয়োহানি দিলোকা ডি’সিলভা” ডাকনাম ইয়োহানি। স্বাভাবিকভাবেই দেশ বিদেশের বহু ইন্টার্ভিউ, শো তে ডাক পেতে থাকেন ইয়োহানি।


তারপর? তারপর আরকি। কদিন যেতেই ফিকে হয়ে যায় সব! এমন ভাবছিলেন? তা হয়নি। আদতে এখনো তার জনপ্রিয়তা বিদ্যমান। সম্প্রতি শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে ইয়োহানি ভারতে এসে কনসার্ট করে তার দেশের জন্য সহযোগিতা চেয়েছিল। শ্রীলঙ্কার অবস্থা ভাল না হলেও অনুমান করা যাচ্ছে তার জনপ্রিয়তা বিদ্যমান এখনো।


প্রথম ঘটনায় টাকা আর জনপ্রিয়তা একসাথে ধরা দিয়েছিল সুশিল কুমারের কাছে। মনে মনে হয়তো তিনিও ভেবেছেন কোটি টাকা জেতার কথা। কিন্তু অনুমান করা যায় এই জনপ্রিয়তা আর টাকা একসাথে সামলানোর মতো দক্ষতা, বা নতুন এই জনপ্রিয় অবস্থায় সামলিয়ে নেয়ার অবস্থায় তিনি ছিলেন না। যার কারণে সেগুলো তিনি ধরে রাখতে পারেননি। অবশ্য পরে তিনি পড়ালেখা চালিয়ে যান। খুব সম্ভবত তিনি এরপর আঠারো হাজার টাকা (রুপির) চাকরি শুরু করেন। সাধারণ জীবন যাপন করছেন।


দ্বিতীয় ঘটনায় রানু মণ্ডলের কাছে জনপ্রিয়তা ধরা দিয়েছিল ভাইরালিটির মাধ্যমে। এই সময়ে যেটাকে একরকম টাকাই বলা যায়। যে যত জনপ্রিয় সে তার ফেসভ্যালু তত বেশি। তার পেছনে টাকা খরচ করতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠান ও বিজ্ঞাপন দাতারা। কিন্তু রানু মণ্ডলের সেই শিক্ষা, অভিজ্ঞতা বা গ্রুমিং কিছুই ছিল না। যার কারণে আমিও অবশ্য তাকে দোষারোপ করতে রাজি না। আদতে তার পরিবেশ বা পরিজন কেউই অমন ছিল না যাতে নতুন জনপ্রিয় অবস্থার সাথে মানিয়ে নিতে পারতেন তিনি। তার এটা বোঝার সক্ষমতা ছিল না যে দর্শক বা ভক্তরাই তাঁকে জনপ্রিয়তা দিয়েছিল যাদের প্রতি তাদের আন্তরিক হওয়া উচিৎ ছিল।


তৃতীয় ঘটনায় ইয়োহানিকে দেখতে শিশুসুলভ মনে হলেও আদতে সে মাস্টার্স করা শিক্ষিত এক তরুণী। এই গানের পূর্বেই তার ক্যারিয়ারে সংগীত সংক্রান্ত অর্জন ছিল। এমনকি তার স্থানীয় বাদ্যযন্ত্র এক্সপোর্টের বিজনেসও রয়েছে। মোদ্দাকথা জনপ্রিয়তা তার কাছে বাড়তি চাপ বা অভিশাপ হিসেবে না এসে তার ক্যারিয়ারে নতুন পালকের মতো কাজ করেছে।


ইয়োহানি একটা দৃষ্টান্ত যে লটারি বাস্তব জীবনে লটারি পাওয়ার সুযোগ কিভাবে তৈরি করে রাখতে পারেন। এক্ষেত্রে “মানিকে মাগে হিতে” তার লটারি ছিল। কিন্তু সে প্রস্তুত ছিল। জনপ্রিয়তা পেয়ে ধরে রাখতে পারার কাতারে দেশের জনপ্রিয় ইউটিউবার “কিটো ভাই” এর কথা বলা যায় অথবা “ভাইসাব” এর কথা। যাদের জনপ্রিয়তা পরবর্তী কার্যকলাপে তাদের যথেষ্ট উপযুক্ত মনে হয়। এছাড়াও তাদের ব্যাকাপ ক্যারিয়ার আছে। জনপ্রিয়তা দুর্ঘটনাবসত জনরোষ না হলে ওই জনপ্রিয়তা ছাড়াই তাদের জীবন চালিয়ে নিতে পারবেন তারা।


আপনার আমার অনেকের সেই গায়কী বা অভিনয় প্রতিভা হয়তো নেই! আমরা কি তাহলে বাস্তব জীবনে লটারি জিততে পারবো না?


আসলে বেশীরভাগ ক্ষেত্রে জেতার দরকারও হয় না। কারণ লক্ষ্য করলে দেখবেন কতজন মানুষ জনপ্রিয়? বেশীরভাগ মানুষই সাধারণ। অনেকক্ষেত্রেই জনপ্রিয়দের থেকেও তারাই ভালো থাকেন, সুখে থাকেন।


তারপরও আপনার সুযোগ আছে এমনি এমনি ভাইরাল হয়ে যাওয়ার বা এখনকার ফেসভ্যালুর যুগের লটারি লেগে যাওয়ার। এর বাইরেও সম্ভাবনা বাড়াতে চাইলে আপনি বিনিয়োগ করতে পারেন। এখন শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করবেন না ব্যাবসায় বিনিয়োগ করবেন সেটা আমি বলে দিচ্ছি না।


আদতে আঙ্গুল দিয়ে উপযুক্ত বিনিয়োগের ক্ষেত্র দেখিয়ে দেয়ার মতো ফাইন্যান্স এক্সপারটিজও আমার নেই। বা হলেও আমার কথাই শুনতে হবে তাও জরুরি না।


এক্ষেত্রে আরো কম ঝুঁকির ক্ষেত্র হতে পারে মিউচুয়াল ফান্ডের মতো ক্ষেত্রে সঞ্চয়, এক্ষেত্রে অবশ্যই বিশ্বস্ত ব্যাংকে জেনেবুঝে কাজটি করতে হবে। অনেক টাকা একসাথে থাকলে নির্ভেজাল জমি একটা ভালো ক্ষেত্র। আপনার জমি থাকলে সেখানে আপনি কৃষি বাণিজ্য করতে পারেন। গাছ লাগিয়ে রাখতে পারেন।


বিনিয়োগ ও সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে একটি সহজ হিসাব হচ্ছে অল্প বয়সে শুরু করে দেয়া। যেমন আপনি বিশ বছর বয়সে প্রতিমাসে দুই হাজার টাকা সঞ্চয় করলেন ( একরকম বলতে গেলে প্রতিমাসে দুই হাজার টাকার লটারির টিকেট কেনেন, যেই টিকিটে প্রায় নিশ্চিত আপনি একটা পুরস্কার পাবেন), আমি ত্রিশ বছর বয়সে প্রতিমাসে দুই হাজার টাকা সঞ্চয় করতে থাকলাম। আমারা উভয়েই পঞ্চাশ বছর পর্যন্ত বাঁচলেও একই বয়সে আপনার প্রাপ্ত নিশ্চিত পুরস্কার গিয়ে দাঁড়াবে অন্তত ৭ লক্ষ বিশ হাজার টাকায়, আমার হবে ৪ লক্ষ আশি হাজার টাকা। অন্তত বললাম কারণ হিসেবটায় কোনরকম ইন্টারেস্ট নেই (টাকাপয়সা সংক্রান্ত ইন্টারেস্ট)। প্রফিট ও ইন্টারেস্টের অনেক ক্ষেত্র আছে, যেগুলোর কোনটি আধুনিক সমাজে আইনত বৈধ হলেও ধর্মীয় অনুভূতি জড়িত। এই লেখায় জটিল সেই বিষয়গুলোতে আর আলোকপাত করলাম না।


ইন্টারেস্ট বা প্রফিটেবল কোন জায়গায় না রেখে টাকার নোট জমাতে থাকলে অবশ্য টাকার মুল্যমান কমবে ইনফ্লেশনের কারণে। ইন্টারেস্ট বা গ্রাম্য ভাষায় সুদ নেয়ায় অনাগ্রহীদের জন্য বিনিয়োগের ক্ষেত্র রয়েছে।


ইন্টারেস্ট, ইনভেস্টমেন্ট রিটার্ন, পয়সা বাচানো, ব্যাবসায়ীক স্কোপ, প্রতারণা থেকে বাচার সম্ভাব্য উপায় এসব বিষয়গুলো অবশ্য DAWN TALES এ ধীরে ধীরে তুলে ধরবো। অনলাইনে যাতে এমনি এমনি সময় নষ্ট না হয়, আপনাদের সময়ের ভ্যালু এড করতে এই ধরনের বিষয়ের উপর কন্টেন্ট পাবেন। আপনাদের সহযোগিতা পেলে অনুপ্রেরণা পাবো এমন ভ্যালু এডিং কন্টেন্ট তৈরি করতে। কমেন্টে চ্যানেল লিংক দেয়া থাকবে, সাবস্ক্রাইব করলে মিউচুয়াল বেনিফট হবে কথা দিলাম। শেয়ার করতে পারেন পছন্দ হলে। Hope you create scopes and win a lottery in real life!

সোমবার, ১৬ মে, ২০২২

সার্কুলার ইকোনমির অ, আ, ক, খ ও কিপ্টার গল্প

সাস্টেইনেবল ডেভেলপমেন্ট বা টেকসই উন্নয়নের সাথে আমরা অল্প বিস্তর সবাই পরিচিত। উন্নয়ন করা যতটা কঠিন, ধরে রাখা তার চেয়ে কঠিন।

প্রচলিত "স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষা কঠিন" কথাটি এক্ষেত্রে যথার্থ। ধরুন কোন এলাকায় অনেক পরিমাণে কর্মক্ষম মানুষ রয়েছে যারা কাজ পাচ্ছে না।

সেখানে একটি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠা করা হলো সরকারি/বেসরকারি উদ্যোগে। স্বাভাবিকভাবেই অর্থনীতিতে প্রানসঞ্চার হবে ওই এলাকায়। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে, জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন হবে। গার্মেন্টস কেন্দ্র করে আরো অনেক ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে, একটা ক্ষুদ্রাকায় অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে উঠবে শ্রমিক, কর্মকর্তা, কর্মচারি, খাবারের দোকান, পরিবহন ব্যবস্থা, কাচামাল সরবরাহকারী সহ বৈচিত্র্যময় পেশার আবির্ভাব হবে।

একমুখী কথা বলে গেলাম। মুদ্রার আরেকটি পিঠ আছে। সেই গার্মেন্টস শিল্প যদি পরিকল্পিত না হয়? সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকে? উৎপন্ন বিষাক্ত বর্জ্য যদি উন্মুক্ত জলাশয়ে ছেড়ে দেয়া হয়! আপাতদৃষ্টিতে প্রথম কয়েক বছর টের পাওয়া না গেলেও ধীরে ধীরে এর প্রকোপ প্রকট হবে।

তুরাগতীরের ট্যানারি শিল্প ছিল এর অন্যতম একটা দৃষ্টান্ত। ট্যানারির বিষাক্ত বর্জ্য কিভাবে একটি নদী ও আশেপাশের পরিবেশ, ইকোলজিতে প্রভাব ফেলতে পারে তা দেখেছি আমরা।

নদীর উপর অনেকের জীবিকা নির্ভর করে। তাছাড়া প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য, ক্ষেত্রবিশেষ পরিবহন, বিনোদন অনেক কিছুই জড়িয়ে থাকে এর সাথে।

তার মানে শুধু উপার্জনের ক্ষেত্র তৈরির দিক চিন্তা করে পার পাওয়া যাবে না। পরিকল্পিত ক্ষেত্র হতে হবে।

আধুনিক গার্মেন্টসগুলো এক্ষেত্রে অনেকটাই সচেতন। রানা প্লাজা ধ্বস, তাজরীন ফ্যাশনে আগুন ইত্যাদির মতো ঘটনায় শ্রমিক নিরাপত্তাও অনেক বড় ইস্যু এখন। পাশাপাশি সচেতন বিদেশি ক্রেতারা এখন প্রোডাক্ট উৎপাদনে গ্রীন ইকোসিস্টেম, পরিবেশ বান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা ইত্যাদি খেয়াল করেন।

আগে "ভার্জিন ম্যাটারিয়েল" ট্যাগের পণ্যগুলো চাহিদায় উপরের দিকে থাকলেও এখন "রিসাইকেল্ড" ট্যাগলাইন অনেকটাই সচেতন হচ্ছে।

এখন আসি সার্কুলার ইকোনমি কি সে প্রসংগে।

সহজ চিত্রে সার্কুলার ইকোনোমি
সহজ চিত্রে সার্কুলার ইকোনোমি

আমরা সাধারণভাবে যে ব্যবস্থার সাথে পরিচিত সেখানে একটা কাচামালের রুপ পরিবর্তন করে উপযোগিতা বাড়ানো হয়। যেমন বনের কাঠ কেটে আসবাব পত্র বানিয়ে কয়েক বছর ব্যাবহার করে সেটা ভাগারে ফেলে দেয়া হয় বা পুড়িয়ে ফেলা হয়। একটা স্মার্টফোনে হরেক যায়গার উপাদান ব্যবহার করে তার জীবনকাল শেষ হলে ফেলে দিই ভেংগে বা ফেলে রাখি। যেটা একটা একমুখী ইকনোমিক ব্যবস্থা।

কিন্তু প্রকৃতির দিকে খেয়াল করলে দেখা যায় প্রকৃতিতে প্রায় সবকিছুই (প্রায় বলে গা বাচালাম, তা নাহলে পদার্থ বিজ্ঞান পড়ে আসা ভাইয়েরা এন্ট্রপির উদাহরণ টেনে আনবেন) একটা চক্র মেনে চলে।

সবচেয়ে সহজ উদাহরণ হচ্ছে পানিচক্র। নদী-নালার পানি শুকিয়ে বাষ্পীভূত হয়ে আকাশে মেঘ জমে, মেঘ থেকে বৃষ্টি হয়, আবার নদীনালায় পানি হয়।

সার্কুলার ইকোনমি ব্যবস্থায় পন্যের জীবনচক্রকেও অমনভাবেই ডিজাইন করা হয়। যাতে কাচামাল হতে পন্য উৎপাদন থেকে শুরু করে গ্রাহকের কাছে ব্যবহৃত হয়ে আবার সবগুলো উপাদান ব্যবহারযোগ্য নতুন কাচামাল, ব্যাবহারযোগ্য পন্য বা পরিবেশ বান্ধব কোন রুপ দেয়া যায়। আদর্শ গ্যাসের মতো শতভাগ সার্কুলার লাইফসাইকেলের পন্য বাস্তবে সম্ভব নাও হতে পারে। কিন্তু চেষ্টা করা হয় পন্য থেকে নিংড়ে সবটুকু উপযোগ নিয়ে নেয়ার।

যেমনঃ একটা ফোনকে পন্য হিসেবে না বেচে সার্ভিস হিসেবে বিক্রি করা। কিভাবে? বাস্তবে ভিত্তি আছে?

হ্যাঁ, আছে। রেন্ট-এ-কার বা বাইসাইকেল ভাড়ার ব্যাপারটা বলা যেতে পারে। আপনি একটা সময়ের জন্য পণ্যের (উক্ত ক্ষেত্রে ফোনের) সেবা ভাড়ায় নিলেন!

ইতোমধ্যে খেয়াল করেছেন নিশ্চয়িই, বিভিন্ন কোম্পানি পুরনো ইলেকট্রনিকস পন্য অদলবদলের সুবিধা রাখে। বা পুরোনো পন্য দিলে একটা ছাড় দেয় নতুন পন্যে! এটা সার্কুলার ইকোনোমির দিকে অগ্রসর হওয়ার একটা ধাপ।

পণ্য এক্সচেঞ্জ সুবিধা দেয় অনেক ব্র্যান্ড
পণ্য এক্সচেঞ্জ সুবিধা দেয় অনেক ব্র্যান্ড

(কোম্পানির নাম ভুলে গেছি) একটা মডিউলার হেডফোন কোম্পানি তাদের হেডফোন গুলো পার্টস আকারে ক্রেতার কাছে পাঠায় যেগুলো সংযোজন করে নিতে হয়। কোন একটা পার্টস নষ্ট হলে সেটা পাল্টাতে পারেন ক্রেতারা। একরকম হেডফোন রেন্টাল বলা যায়। যাতে নতুন নতুন মডেল আসলে পরিবর্তন করতে হয় বিশেষ বিশেষ অংশ। এর ব্যাবসায়ীক সুবিধা হিসেবে উদ্যোক্তারা বলেন, এতে তাদের প্রিমিয়াম সেগমেন্টের (সবচেয়ে দামী) হেডফোন গুলোও সাধারনেরা নিতে পারছেন। কারন একবারে দাম দিয়ে নিতে হয় না। ধরুন এক হাজার দুইশত টাকা দাম হলে প্রতি মাসে এক শত করে দিলেই হচ্ছে! আবার এরই মধ্যে অন্য মডেল পছন্দ হলে সেটাও নেয়ার সুযোগ থাকে। তারা ফেরত নেয়া পণ্যগুলো রিসাইকেল, রিফারবিশ করে পুনরায় বাজারজাত করেন।

সম্প্রতি ইউ এস এ-তে আইফোনের বিরুদ্ধে "রাইট টু রিপেয়ার" আন্দোলনের ডাক দেয়া হয়। আন্দোলনকারীদের দাবী ছিল আইফোনগুলো নষ্ট হলে মেরামতের অযোগ্য হয়ে যাচ্ছে অথবা তাদের (এপলের) বিজনেস মডেলের ফাদে নতুন ফোন কেনায় বাধ্য করা হচ্ছে কাস্টমারদের। অবশ্য আইনের খরগ পরার আগেই এপল আইফোন সেল্ফ রিপেয়ার কিট লঞ্চ করেছে (যেটা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে)।

ইলেকট্রনিকস পন্যগুলোতে অনেক রেয়ার আর্থ মেটাল (মূল্যবান ও দূর্লভ খনিজ ধাতু) ব্যবহৃত হয়। এটা শুনে অবাক হওয়ার কিছুই নেই যে একসময় সেই খনিজগুলোর উত্তোলন ও সরবরাহ শূন্যে নেমে আসবে। তখন?

এর জন্য প্রস্তুতি হিসেবে আমাদের রিসাইকেলিং করতে হবে। তাতে বেশ কয়েকটি চাক্ষুষ উপকার আছে। খনিজের উপর নির্ভরতা কমানো, বর্জ্য পদার্থের সঠিক ব্যবস্থাপনা, দূরদর্শী অর্থনৈতিক চিন্তার সুফল তো থাকবেই!

বাংলাদেশে বিক্রয় ডট কম, সোয়াপ ডটকম 

পণ্য অদল বদল করা যায় এই ই-কমার্স প্লাটফর্মে
পণ্য অদল বদল করা যায় এই ই-কমার্স প্লাটফর্মে

বা ফেসবুকে মিলিয়ন সদস্যের গ্রুপ "রিসাইকেল বিন" পুরনো পন্য কেনাবেচা/আদানপ্রদানের সুযোগ করে দিয়ে বিদ্যমান সম্পদের অধিক উপযোগিতা বের করে আনায় অবদান রাখছে।
ফেসবুক গ্রুপ রিসাইকেল বিন
ফেসবুক গ্রুপ রিসাইকেল বিন

"এলেন ম্যাকার্থার ফাউন্ডেশন" ওয়েবসাইটে ও ইউটিউব চ্যানেলে সার্কুলার ইকোনমি নিয়ে আরো অনেক তথ্য পাবেন।
Ellen MacArthur
Ellen MacArthur


কিপ্টার গল্প শুনেছিলেন কখনো?

এক কিপটা দুইশত টাকায় পাঞ্জাবি কিনে পাঁচ বছর পরার পর সেটা কেটে ফতুয়া বানিয়ে আরো দুই বছর পরে। তারপর সেটাও নষ্ট হতে শুরু করলে সেন্ডো গ্যাঞ্জি বানায় ফতোয়া দিয়ে। আরো এক বছর পরার পর সেটা কেটে রুমাল বানায়। রুমাল ছয় মাস ব্যবহার করে যখন আর ব্যবহার করা যাচ্ছে না রুমাল পুড়ে ছাই দিয়ে দাঁত মাজে পুকুরপাড়ের ঘাটে। দাঁত মাজার সময় বলে, "হায়রে আমার দুইশো টাকাই জলে গেলো!"

গল্পের ওই কিপটা বেচে থাকলে আজকে সার্কুলার ইকোনমির রোল মডেল হতেন নিঃসন্দেহে! শুনতে হাস্যকর মনে হলেও কিপ্টার কাজই ছিল পরিবেশের জন্য সবচেয়ে কম ক্ষতিকর।





শনিবার, ১৪ মে, ২০২২

ই-কমার্স প্রশিক্ষণের সেকেন্ডারি ইমপ্যাক্ট

১১ অক্টোবর ২০১৮ তে প্রথম “TRANSFORMING BUSINESS TO e-BUSINESS” FOR e-COMMERCE ENTREPRENEURS শিরোনামে অফিশিয়ালি সরকারিভাবে ই-কমার্সের ট্রেনিং শুরু হয় ঢাকায়।

ই-কমার্স ট্রেনিংয়ের ব্যানার
ই-কমার্স ট্রেনিংয়ের ব্যানার


এরপর চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, রাজশাহীর মত গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে ট্রেনিংটি দেয়া হয় “ই বানিজ্য করবো, নিজের ব্যাবসা গড়বো” নামে।

বানিজ্য মন্ত্রণালয়, বাপেক্স, ইক্যাব সহ অনেক পৃষ্ঠপোষকের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় চলে ট্রেনিংটি। কতজন সুবিধাভোগী সরাসরি এর থেকে উপকার পেয়েছেন বা সরাসরি ই-বানিজ্য শুরু করেছেন সে হিসাবে যাবো না।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে আসা পড়ুয়ারাসহ জনসাধারণেরও জানা যে সাবান উৎপাদনের সময় সহ উৎপাদ হিসেবে গ্লিসারিন পাওয়া যায়। যা আরেকটি নিত্য ব্যবহার্য কসমেটিক পণ্য। তেমনিভাবে শুরুতে বলা ট্রেনিংয়ের কিছু সহ উৎপাদ নিয়েই আজকের লেখা।

করোনার সময় ই কমার্স তার বিস্তার বাড়িয়েছে, উপযোগিতা বুঝিয়েছে। তবুও অনেকেই অনলাইনে কেনাকাটায় অভ্যস্ত নন এখনো। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ট্রাস্ট ইস্যু ও পুরনো অভ্যাস থেকে যাওয়াটাই মুখ্য। অবশ্য অনেকক্ষেত্রে অনলাইন কেনাকাটার চেয়ে অফলাইনে দেখেশুনে কেনাকাটা করাটাই উত্তম সেই হিসাবটা তো আছেই।

অবিশ্বাস সৃষ্টির ক্ষেত্রে আরেকটি উপকরণ বৈধ ব্যবসায়িক ভিত্তি। অনলাইনে বৈধ ব্যবসা পরিচালিত হতে পারে এমন ধারণাই অনেকের ছিল না। তাছাড়া মিডিয়ায় বেশিরভাগ খবর অনলাইন প্রতারণা সংক্রান্ত হওয়ায় অথবা ওই খবরগুলোতে আমাদের দৃষ্টিপাত বেশি হওয়ায় অনলাইন ব্যবসা বা ই কমার্সে মানুষের আস্থায় ব্যাপক ঘাটতি থাকে সাধারণত। যেখানে কাস্টমার, সেলারদের ট্রেইন বা শিক্ষিত করাটা অনেক কাজে দিয়েছে।

কিভাবে? বলছি।

ই কমার্স বা অনলাইনে ব্যবসার আইডিয়া অতটাও নতুন না বৈশ্বিক বিবেচনায়। সে হিসেবে এ সংক্রান্ত ট্রেনিং ও শিখন কার্যক্রমও একদম ছিল না বলা যাবে না। কিন্তু বিশ্বাসযোগ্যতায় ঘাটতি ছিল।

মজার ব্যাপার হলো আমরা যতই সরকার বিরোধী বা ক্ষমতায় থাকা সরকারকে অপছন্দ করি না কেন, সরকারি সেবা বা সংগঠনগুলো এখনো আমাদের আস্থার অনেকটা জায়গা জুড়েই আছে। যেমন বিটিভির কথাই ধরুন। যেটাকে আমরা বাতাবী লেবু টিভি নামে বলি বা চলমান অনেক ইস্যুর দিকে দৃষ্টিপাত না করার জন্য সমালোচনা করি। কিন্তু আমাদের পরিবারের কারোর যদি সেখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ হয় তখন?

তখন আমরা খুবই খুশি হই তা আমরা সরকার পক্ষের অনুসারী হই বা বিরোধীপক্ষের। কারণ সেটা সরকারি। একই ঘটনা ঘটে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রেও। এখনো পর্যন্ত বেশীরভাগ চাকরি প্রত্যাশীর প্রথম পছন্দ সরকারি চাকরি। রেলসেবা, ভাতা, টিসিবি ইত্যাদি সরকারি সেবাগুলো একইরকম আরো উদাহরণ।

তার মানে যে কোন কাজে সরকারি সংশ্লিষ্টতা একটা আস্থার জায়গা তৈরি করে (অনেকক্ষেত্রেই। ব্যাতিক্রম আছে, থাকবে)। এই বিবেচনায় ইকমার্সের মতো অনাস্থায় ভোগা সেক্টরে পৃষ্ঠপোষকতায় ট্রেনিং করানোটা আমাদের আস্থায় একটা ইতিবাচক প্রভাব এনেছে। যেটার বাস্তব প্রতিফলন তুলে ধরবো।

ই কমার্সের ট্রেনিংটি ময়মনসিংহে মার্চ ২০২১ এর দিকে শুরু হয় “ই-বাণিজ্য করবো নিজের ব্যবসা গড়বো” শিরোনামে। প্রতি ক্লাসে (ব্যাচে) ২৫ জন করে একাধিক শ্রেণীকক্ষ নিয়ে প্রশিক্ষণ শুরু হয়। নিয়মিত আড্ডায় বসা বন্ধুদের মধ্যে প্রথমদিকেই আমি ট্রেনিংটি করা শুরু করেছিলাম।

ট্রেনিং সংক্রান্ত বিভিন্ন টুকিটাকি তথ্য-উপাত্ত আড্ডায় যোগ করতাম। কিন্তু অনেকের তখনও সেই অনাস্থা থেকে গিয়েছিল। অনলাইন মানেই ভুয়া এমন একটা বিশ্বাস যেন যাচ্ছিলই না।

একসময় ট্রেনিংয়ের সুযোগ সুবিধা ও সম্ভাবনা দেখে তাদের কেও কেও আবেদন করে ও গৃহীত হয় তাদের আবেদন। এরপর দৃশ্যপটে কিছুটা পরিবর্তন আসে।

ধীরে ধীরে আলোচনার বিষয় হতে থাকে ট্রেনিংয়ের বিভিন্ন ঘটনাবলি। বলিউডের সালমান খান শাহরুখ খানের পাশাপাশি আলোচনায় আসতে থাকেন জ্যাক মা, মার্ক জাকারবারগেরা। যেটাও ঘটে অল্প কদিনের মধ্যেই!

এর পরবর্তী ধারাবাহিকতা অনুমেয়। ব্যাবসায়ি তৈরির ট্রেনিং হলেও এর মাধ্যমে ভবিষ্যতের ই কমার্সের ক্রেতাও তৈরি হচ্ছেন। সাধারণ ক্রেতার পাশাপাশি “বিক্রেতা” ক্রেতা। যাকে ব্যাবসায়িক ভাষায় বি টু বি বিজনেসের ক্রেতা বলা যায়।

অনেক বিক্রেতাই জানতেন না তারা অনলাইনে পাইকারি জিনিস ক্রয় করতে পারেন চাইলেই! ব্যাবসায়িক কেন্দ্রর অন্যতম ঢাকা থেকে অনেকেই এখন ফেসবুক গ্রুপ-পেজ, ইমো, হোয়াটসেপ, ইউটিউব, নিজস্ব ওয়েবসাইট ইত্যাদি মাধ্যমের কোন একটি বা একাধিকটির সহায়তায় পণ্য বিকিকিনি করছেন।

এই শুরুটা একটা ডমিনো ইফেক্টের সূচনাকারী বলাই বাহুল্য। ওয়ার্ড অফ মাউথ বা মুখে মুখে যার ব্যাপ্তি ঘটবে।

এরকম সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় আরো যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ দেয়া সময়ের দাবি।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায় স্বনির্ভর অর্থনীতির দিকে উৎসাহিত করা। যাতে একমুখী উৎপাদন ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকে একান্ত বৈদেশিক আমদানি নির্ভর না হয়ে যথেষ্ট পরিমাণে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির প্রবাহ নিশ্চিত করা।

যেমন আমাদের ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতার জন্যে রপ্তানিকারক দেশের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয় বৈশ্বিক বাজারের টালমাটাল অবস্থা চলার সময়। একটু অস্থিতিশীল হলেই বাড়তি দামের চাপ মেটাতে হাত দিতে হয় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে।

ইতোপূর্বে ভারত নির্ভর পেঁয়াজ, গরু ইত্যাদি ক্ষেত্রে সংকট দেখা গিয়েছে। স্থানীয় বা দেশজ উৎপাদন বৃদ্ধি দিয়ে যেগুলো আগেরচেয়ে অনেকটাই স্থিতিশীল এখন।

যাইহোক, ই বানিজ্য করবো নিজের ব্যবসা গড়বো প্রকল্পে প্রশিক্ষণ নেয়া অনেকের একজনের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ হয়। যিনি প্রশিক্ষণের সুবিধাভোগী ও নিজের ব্যবসায় আধুনিক বিপনন ব্যাবস্থা চালু করেছেন। অনলাইনে কচুর চারা বিক্রি দিয়ে শুরু করে তিনি ধীরে ধীরে অন্যান্য মূল্যবান কৃষিজ পণ্য চাষের পরিকল্পনা করছেন।

বিভিন্ন জাতের ও সাইজের চারা বিক্রি করেন তিনি
বিভিন্ন জাতের ও সাইজের চারা বিক্রি করেন তিনি


ময়মনসিংহের সুপরিচিত দাপুনিয়া বাজারের পাশের গ্রামের একজন কৃষি উদ্যোক্তা জুয়েল আহামেদ। দেশের বিভিন্ন জায়গায় কচুর চারা সরবরাহ করছেন অনলাইনে অর্ডার নিয়ে। স্থানীয় কৃষি সেবা কেন্দ্র থেকে আশানুরূপ সেবা ও সুবিধা না পেলেও তিনি নিজ উদ্যোগে শিখছেন ও এগিয়ে চলছেন।

কুরিয়ার ডেলিভারির জন্য প্রস্তত বস্তা ভর্তি কচুর চারা
কুরিয়ার ডেলিভারির জন্য প্রস্তত বস্তা ভর্তি কচুর চারা

বুধবার, ১১ মে, ২০২২

রুম নাম্বার ৪৬৩ ও কাকতালীয় ঘটনার ব্যাখ্যা

কাকতালীয় ঘটনাগুলোর কয়েকটির ব্যাখ্যা দাড় করানো যায় বায়াস দিয়ে। যেমনঃ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হলের ডিজাইনটা এমন যাতে প্রতিটা তলায় দুইপাশেই একইরকম গোসলখানা ও শৌচাগার আছে। কাগজে কলমে একইরকম সুবিধা দুই পাশেই।

দুইপাশেই একইরকম গোসলখানা ও শৌচাগার
দুইপাশেই একইরকম গোসলখানা ও শৌচাগার


স্বাভাবিকভাবেই যেই রুমগুলো থেকে যেদিকের গোসলখানা ও শৌচাগার কাছে, রুমের সব বাসিন্দা সেদিকেরটাই ব্যাবহার করেন। ফাউ খাটা খাটনি করে দূরেরটা কেও ব্যাবহার করবে কেন?


সব রুম দেখেই বলে দেয়া যাবে রুমের বাসিন্দারা কোনদিকের শৌচাগার ব্যবহার করে।


কিন্তু একটু জটিল হয় আরেকটি ক্ষেত্রে। প্রতিটি তলার মাঝামাঝি সিড়ি অবস্থিত। যেখান থেকে দুটি শৌচাগার প্রায় সমান দূরে (দু তিন ফিট পার্থ্যক্য থাকতে পারে)। এক্ষেত্রে কেউ যদি সিড়ি দিয়ে উঠে তাড়াহুড়ো করে হাতমুখ ধুতে যায় বা শৌচকার্য সম্পন্ন করতে চায় তাহলে কোন দিকেরটায় যাবে?


এক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবে ব্যাক্তিটি ওই তলার বাসিন্দা হলে রুম থেকে যেটা কাছে হয় সেটাতেই যাবেন বলাই বাহুল্য। যদি অন্য তালার বাসিন্দা বা বাইরের কেও হয় তাহলে ইতোপূর্বে এসে কোন দিকেরটায় গিয়ে থাকলে সেদিকে আজকেও যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কারন পরিচিত জায়গায় আমরা কমফোর্ট ফিল করি।


যদি একদমই নতুন হন কোন কারণে তখন কি হবে? কয়েকটা সম্ভাবনা বলি।

-ডানহাতি হয়ে থাকলে ডান দিকেরটায় যেতে পারেন

-কোন এক দিকে মানুষ দাঁড়িয়ে থাকলে অন্যদিকেরটায় যেতে পারেন


এখন আরেকটা ঘটনা বলি। ওই হলে প্রতিটি সিড়ির সামনেই একটা করে রুম আছে যেটা একদম মাঝামাঝি দূরত্বে অবস্থিত। যেমনঃ চারতলার ৪৬৩ নাম্বার রুম। সেক্ষেত্রে সাধারণ সম্ভাবনা কি হতে পারে?

রুম নাম্বার ৪৬৩
রুম নাম্বার ৪৬৩

-পূর্বধারাঃ রুমের আগের বাসিন্দারা যেদিকেরটা যেতেন সেদিকেই যেতে পারেন

-ডান হাতি হলে ডানদিকেরটাতেই যাওয়া

-বন্ধুর রুমঃ যদি কোন দিকে বন্ধুর রুম থাকে সেক্ষেত্রে ওই দিকেরটায় যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে


এক্ষেত্রে খুব সম্ভবত মানুষের সামাজিক বৈশিষ্ট্যটা প্রকট হয়। রুমের পূর্বেকার বাসিন্দারা যেদিকেরটায় যায় সেদিকেই অন্যরাও যান একে একে। তাত্ত্বিকভাবে কি বলে মনে পড়ছে না, একধরনের বায়াস ধরে নিতে পারেন এটাকে।


তার মানে ওই চার তলা ওই হলের প্রতিটি সিড়ির সামনের রুমের বাসিন্দারা গড়পড়তা ডানদিকের গোসলখানা ও শৌচাগার ব্যাবহার করবে এটা কাকতালীয় নয়।


এইরকম সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে খেলা দেখান অনেক ম্যাজিশিয়ানরা। বিজনেসের মার্কেটিং, সেলসেও আমাদের বিভিন্ন বায়াস কাজে লাগায় বলাই বাহুল্য।


যেমনঃ "চায় সুট্টা বার" নামের ভারতের একটা উদ্যোগের কথা বলা যায়। কয়েক বন্ধু মিলে ওই নামে একটা দোকান খুলে। মার্কেটিংয়ের এর অনেক স্ট্র‍্যাটেজির মধ্যে একটা ছিল ভিড়ের মধ্যে যেয়ে নিজেদের দোকানের চায়ের প্রশংসা করা! তাও আড্ডার ছলে।


"দৃশ্যম" সিনেমার কথা নিশ্চয়িই মনে আছে! কিভাবে বার বার এক কথা বলে অনেক মানুষের মনে গেঁথে দিয়েছিল মিথ্যাকে!


মনে পড়েছে। "সোশ্যাল এপ্রুভাল" বলে ঘটনাটাকে। বহু মানুষ যেটা করে, মনের অজান্তেই আমরা সেটাকে ঠিক ধরে নিই। এটা আদি মানুষের টিকে থাকার লড়াইয়ে, বর্তমানের ব্যাস্ততার সময়ে সময় বাচানোয়, সামাজিক বন্ধন টিকিয়ে রাখায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ।


কিন্তু এটাকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে অনেকেই অসাধু কাজ করে আত্মস্বার্থ হাসিল করেন। এর বড় একটা বাজে রুপ গুজব। না জেনে কোন তথ্য ছড়িয়ে দেয়া, কোন ঘটনায় কেও দোষী প্রমাণিত হওয়ার আগেই সামাজিক ও গণমাধ্যমে শাস্তির দাবী তোলা (মিডিয়া ট্রায়াল)। এক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ অনেকটাই অসচেতন ও মূলধারার গনমাধ্যম যার দায় এড়াতে পারে না। এখন সত্য খবরের বদলে মানুষ ক্লিক করে দেখবে এমন খবর (ভূয়া খবর বললেও ভুল হবে না) দেখা যায় হারহামেশাই!


ক্রসচেকিং এক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ সত্যি তথ্য জানার ক্ষেত্রে। কিছু ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ তথ্য (ভিডিও, লেখা) না জেনে লিখার মাধ্যমে আমরা ভুল তথ্য ছড়িয়ে দিই।


মূলধারার গণমাধ্যমও কিছু ক্ষেত্রে সোর্স যাচাই না করে আগে আগে খবর দেখানোর প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণ হয়ে সাধারণ মানুষদের বিভ্রান্ত করে। যেগুলো নিয়ে আমাদের আরও সচেতন হওয়া দরকার।


NPUC value of food: Affordable nutrient rich foods list (Part 01)

কোন  খাবারে এক টাকায় কতটুকু পুষ্টি উপাদান পাচ্ছেন সেটাকেই বলছি নিউট্রিয়েন্ট পার ইউনিট কস্ট বা Nutrient Per Unit Cost (NPUC value) উদ্দেশ্য ক...