বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২২

NPUC value of food: Affordable nutrient rich foods list (Part 01)

কোন খাবারে এক টাকায় কতটুকু পুষ্টি উপাদান পাচ্ছেন সেটাকেই বলছি নিউট্রিয়েন্ট পার ইউনিট কস্ট বা

Nutrient Per Unit Cost (NPUC value)


উদ্দেশ্য কি NPUC value এর?

টার্গেটেড পপুলেশন যাদের ক্রয়ক্ষমতা কম।


উদাহরণ হিসেবে দুপুরে খাওয়ার জন্য তার বাজেট ২০ টাকা। ৫ জনের পরিবার হিসেব করলে ১০০ টাকা। এখন বাজারের উর্দ্ধমূল্যের সময় সে ১০০ টাকায় এক প্যাকেট বিস্কুট কিনে খেতে পারে অথবা অন্য কিছু। সেই বিস্কুট আর অন্য খাবারের ইন্ডিভিজুয়াল NPUC value থেকে কেও বুঝতে পারবে পুষ্টিমানের দিক থেকে কোনটা ভাল এই মূল্যে।


অন্যতম উদ্দেশ্য টাকা কম থাকলেও যেন কেও ম্যালনারিশড না থাকে। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেমনঃ স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায়। যেখানে ভোক্তা শিক্ষিত, অপেক্ষাকৃত সচেতন।


প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও অন্যান্য বিপর্যয়ের সময় যাতে কম খরচে অধিকতর পুষ্টিমান সম্পন্ন খাবার সরবরাহ করা যায়। যেমনঃ বন্যার সময় ছাতু।


ক্রিটিক্যাল সিচুয়েশনে, দেশের উৎপাদন ব্যহত হলে প্রচলিত খাবারের মধ্যে কোনগুলো আমদানি করলে স্বল্প খরচে ক্রান্তিকাল কাটিয়ে উঠা যাবে তাও লক্ষ্য।


Doi



উদাহরণ হিসেবেঃ

৫০ গ্রাম আটার মূল্য ৩.৫ টাকা

৫০ গ্রাম আটা দিয়ে তৈরি ২ পিস প্যাকেট রুটির মূল্য ১০ টাকা


এখন একই কোয়ালিটির আটা হলে গড়পড়তা ৫০ গ্রাম আটায় 

৪.৫ গ্রাম প্রোটিন ও ১৬৭ কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়।


আটার ক্ষেত্রে

Protein NPUC value: 4.5/3.5=1.28 p/tk

Energy NPUC value: 167/3.5=47.71 kcal/tk


প্যাকেট রুটির ক্ষেত্রে

Protein NPUC value: 4.5/10= 0.45 p/tk

Energy NPUC value: 167/10= 16.7 kcal/tk


(১০০ গ্রামে পুষ্টি

প্রোটিন ৯ গ্রাম

শক্তি ৩৩৫ কিলো ক্যালরি)


 উল্লেখ্য আটার ক্ষেত্রে রুটি বানিয়ে খাওয়ার ক্ষেত্রে এডিশনাল টাইম ও রান্নার খরচ যুক্ত হবে যেটা ড্রব্যাক। কিন্তু স্বাস্থ্যগত দিক থেকে হোমমেড, কেমিক্যাল ফ্রি হওয়ায় বেটার।


অন্যদিকে প্যাকেট রুটির ক্ষেত্রে NPUC value-ই অরিজিনাল ভ্যালু। কিন্তু এডিটিভ হিসেবে কেমিক্যাল স্ট্যাবিলাইজার, ফ্লেভার, কালার প্রভৃতি যোগ করা হয়। যা স্বাস্থ্যের দিক থেকে খারাপ।


উপরোক্ত ক্ষেত্রে আটা না হয়ে যদি গম হয় আর হোলগ্রেইন গমের আটার রুটি হয় তাহলে গম সব দিক থেকে বেটার দাঁড়াবে। ডাইজেস্টিভ ক্যাপাবিলিটি, চিউইং ক্যাপাবিলিটি সবার একই ধরলে।


“যত প্রসেসিং হবে খাবারের সুষম পুষ্টি তত কমবে, সাথে কেমিক্যাল এডিটিভ ও প্রিজারভেটিভ-স্ট্যাবিলাইজার প্রভৃতির ব্যবহার বাড়বে। মূল্য বাড়বে।”


Conditions of listing NPUC value

-Must be edible, conventional, regionally/culturally accepted food

-Availability and not rare

-Not used as drugs



NPUC value বেসিসে অধিকতর ভালো খাবার কোনটা?

প্রথমত কম্পেয়ার করতে হবে মূল উপাদানে মিল রয়েছে এমন খাবার। যেমনঃ গম-আটা-রুটি।

মনে রাখতে হবে এটাই সবশেষ মানদণ্ড নয়। কারোর ক্ষেত্রে এলার্জি প্রবলেম থাকতে পারে, স্টোরিং টাইম, খাবারের টেস্ট, ডায়াবেটিস বা অন্য রোগের কারণে প্রতিবন্ধকতা, গ্লুটিন/ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স ইস্যু হতে পারে। NPUC value একটা ফ্যাক্টর হতে পারে খাদ্য বাছাইয়ের ক্ষেত্রে।



Drawback


-Not scientifically approved (yet)

-Not good for the economy (based on heavy food processing)

-Value may not reflect the actual nutrients of specific food, as those depends on lot of parameters like production culture

-Doesn't show harmful ingredient's presence. So the specimen must be edible, conventional, locally accepted

-Won't work if people don't welcome changed food habit


(This article contains info that requires update)

Nutri bread

বৃহস্পতিবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২২

আমরা কেন আপরাধ করে নিজের সাফাই গাই? - অপরাধ মনঃস্তত্ত্ব

 আমরা কেন আপরাধ করে নিজের সাফাই গাই? - অপরাধ মনঃস্তত্ত্ব


“আমরা মানুষেরা অদ্ভুত মেন্টালিটির! না মানে চিন্তা করুন, একসাথে বিয়ে ছাড়া থাকা যাদের কাছে অবৈধ বা নীতিবিরোধী মনে হয়েছে তাদেরও কেও কেও ছিনতাই, মাদক, খুনের মতো গর্হিত অপরাধে যুক্ত হচ্ছি।”


আমিই বলেছিলাম। কথাগুলোর বিপরীতে কিছু ব্যাখ্যা পেয়েছি। বিয়ের ব্যাপারটার চেয়ে আয়ের ব্যাপারটার পার্থক্য খুব সম্ভবত পেটের দায়ে।


তাছাড়া আমরা সবাই কোন না কোন দিকে ছাড় দিই। আমাদের কৈফিয়ত থাকে। কৈফিয়তগুলো বেশীরভাগ ক্ষেত্রে যৌক্তিকও।


পদার্থবিজ্ঞানের পুরনো সুত্র (একই সময়ে একই স্থানে দুটি বস্তু থাকতে পারে না অথবা একই সময়ে দুটি স্থানে একই বস্তু থাকতে পারে না) ছাড়াও লজিক্যলি ভাবলেই বুঝতে পারি। বর্তমান বিশ্বের বিস্তৃত জ্ঞানের পরিধি যেমন কারোর একার পক্ষে আয়ত্ত্ব করা সম্ভব নয়, তেমনি বিচিত্র ও ব্যাপক পেশার জগতে কেও একাই সব হতে পারবে না।


উদাহরণ দিয়ে বলি। একজন গ্রাম্য চোরের সরদারের কথা ধরুন যে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে, দেরী করে নামাজ পড়লে তার কেমন কেমন লাগে দাবী করেন! অথবা ধরুন একজন পুণ্য প্রার্থীর কথা যে তার অসুস্থ গর্ভধারিণী মাকে দেখতেও যায় না কিন্তু গঙ্গায় ডুব দেয়ার জন্য একশো মাইল পাড়ি দেয়!


তাদের মনে আসলে কি চলে? ধর্ম কর্ম দেখিয়ে আশেপাশের মানুষকে ভুলিয়ে রাখা! নাকি আছেন আমার মোক্তার, আছেন আমার ব্যারিস্টার। শেষ বিচারে তিনিই আমায় করবেন পার।


আমি তো তার আরাধনা করতেছি। মুসলমান হলে ভাবতেছি নামাজ কালাম করি, আল্লাহ্‌ ক্ষমা করবে না আমায়? হিন্দু হলে ভাবি হয়তো


“করেছি পাপ,

তাতে কি?

দিবো ডুব, সব হইবে সাফ!”


মোদ্দাকথা আমদের করা ভুলগুলোর একটা যাস্টিফিকেশন আমরা করে ফেলি। আমাদের নিজেদের কৃতকাজের একটা আলাদা বৈধতা খুঁজে বের করে ফেলি।


এমন পরিস্থিতিতে খুবই দোলাচালে পড়ে যাই সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে।


“দুর্জন বিদ্যান হইলেও পরিত্যাজ্য”


আবার


“মূর্খ বন্ধুর চেয়ে শিক্ষিত শত্রু ভালো”


এর চিপায় পড়ে যাই হরহামেশাই! টাকাকে বিবেচনায় এগিয়ে রাখা বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার কি আমার আদর্শ?


আমি পড়ালেখায় ভালো না হলেও কখনো নেশার কাবু হই নি কিন্তু আমার অত প্রাণীপ্রেম নাই, কুকুর বিড়াল দেখলে কোলে তোলা বা বিস্কুট কিনে দেয়া আমাকে দিয়ে হয় না। আবার আমার বন্ধু নেশায় বুঁদ থাকে, ভালো রেজাল্ট করছে পাশাপাশি আশেপাশে কুকুর বেড়াল থাকলে কিভাবে যেন তার কাছে আসে, কোলে চড়ে বসে। সেও সিগারেটের টাকায় তাদের বনরুটি কিনে দেয়। তাহলে কে ভাল? আমি না আমার বন্ধু?


অবশ্য এক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেয়া সহজ করতে আমার আরেক বন্ধুর ইমোশনাল ইন্টিলিজেন্সের উদাহরণ দেয়া যায়। তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, কোন বিপদে পড়লে প্রথম কোন বন্ধুর কথা মনে পড়বে? কি ভাবছেন! আমার নাম বলেছে, আমি খুশি হয়েছি শুনে? উত্তর তার চেয়ে ভাল ছিল। সে বলেছে, কোন বন্ধুকে মনে করবো বা কাকে বলবো এটা নির্ভর করবে সমস্যার ধরন আর কোন জায়গায় ঘটেছে তার উপর।


সহজ করে বললে পড়াশোনা নিয়ে সমস্যায় পড়লে ক্লাসের রেগুলার পড়া কমপ্লিট করা বন্ধুর কাছে, অসুখ হলে ডাক্তার বন্ধুর কাছে ইত্যাদি। ডাক্তার প্রসঙ্গে মনে পড়লো। আপনার স্ত্রীর অসুখ হলে যদি দুটো অপশন থাকে আপনার কাছে, দুজনই সমান দক্ষ।


আপনি স্ত্রীকে চারিত্রিক স্খলন আছে এমন ডাক্তারের কাছে নিবেন নাকি বেনামাজি ডাক্তারের কাছে নিবেন? এখানে প্রফেশনালিজমের প্রশ্ন চলে আসে। ডাক্তারের রুগির সাথে প্রফেশনাল আচরণ বলতে রোগীকে হয়রানি না করাটা মুখ্য, এক্ষেত্রে ডাক্তার কতটা ধার্মিক এই ব্যাপারটা অনেক ক্ষেত্রেই প্রফেশনালিজমের মুখ্য বিষয়ে অন্তর্ভুক্ত হবে না।


এবার জটিলতায় না গিয়ে সহজ উদাহরণে আসি। মেম্বার সাহেবের পরিবারের মেয়ের বিয়ের ক্ষেত্রে দুটি অপশন থাকলো ঘুষখোর পুলিশ অফিসার অন্যদিকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক!


বাস্তব অভিজ্ঞতা বলে, সেই পুলিশ অফিসারের অন্য অনেক গুন খুঁজে বের করবো আমরা। অথবা তার বাবা দেশের জন্য কি করে গিয়েছিল সেটা বের করে সান্ত্বনা দিবো। যে আমাদের মেয়ে (মেম্বার সাহেবের মেয়ে) বন্ধুদের সাথে দুয়েকবার নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ধরা খেলেও তো অন্যান্য দিক খুবই ভালো ও সংসারী। সে নিশ্চয়ই তার ঘুষখোর বরকে বিয়ের পর সুপথে নিয়ে আসবে!


এখন প্রথম উদাহরণে ফিরি, “আমরা মানুষেরা অদ্ভুত মেন্টালিটির! না মানে চিন্তা করুন, একসাথে বিয়ে ছাড়া থাকা যাদের কাছে অবৈধ বা নীতিবিরোধী মনে হয়েছে তাদেরও কেও কেও ছিনতাই, মাদক, খুনের মতো গর্হিত অপরাধে যুক্ত হচ্ছি।”


গর্হিত অপরাধ করছি কারণ পেটের দায়। অর্থাভাব। অর্থকষ্ট। অর্থ যোগাড় করে ফিন্যানশিয়াল স্ট্যাবিলিটি অর্জন। এর মাধ্যমে অপরাধীদের জন্য জাস্টিফিকেশনের উপায় বের করছি না। তবে এইসব ব্যাপারগুলো চিন্তা করেই খুব সম্ভবত মারাত্নক অপরাধীদের (ছিনতাই করতে খুন করা) আমাদের দাবী করা ফাঁসির বদলে কারাদণ্ডের মতো লঘুদন্ডের বিধান রাখা হয়েছে। হ্যাঁ, হয়তো ফাঁকফোকর আছে সিস্টেমের। তবে কারণ খুব সম্ভবত পেটের দায় এর মতো মৌলিক চাহিদাই।


শিরোনামের সম্প্রসারণের সমাপ্তি এখানেই। এবার প্রচলিত অপরাধ প্রতিরোধ, অনুঘটক নিয়ে কিছু কথা বলা যাক।


অর্থের সংস্থানের পথ সহজ হলে যে ছিনতাই এর মত অন্যের অর্থের উপর অনধিকার চর্চা সংক্রান্ত অপরাধ কমে আসে তা, “ময়মনসিংহের মাদকাসক্তি, ছিনতাই, অটোচালনা ও অপরচুনিটি কস্ট” লেখায় বলেছি।


সহজে উপার্জন করতে পারার একটা খারাপ দিক যে নেই এমন না। উদাহরণ হিসেবে বাকৃবি ক্যাম্পাস সংলগ্ন চাষি ভবনের পেছনের ছোট্ট যে মহল্লা, সেটার একটা পার্সোনাল অবজারভেশন তুলে ধরবো ইনশাআল্লাহ্‌। তবে সামনের কোন লেখায়।


মানুষের জীবন চলতে মৌলিক কিছু চাহিদা পূরন করতে হয়। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ছোটবেলায় পড়ে আসা রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত মৌলিক চাহিদা। এরপরে যুক্ত হয়েছে সুশিলজনেরা যোগ করেছেন বিনোদন, যেটা ব্যাক্তি-সামাজিক-রাষ্ট্রীয় কোন পর্যায় থেকেই কমতি রাখা হয় না ইদানীং।


চাহিদার ক্ষেত্রে মৌলিক চাহিদাগুলো মোটামুটি প্রাকৃতিক হলেও কিছু চাহিদা কৃত্রিম। যেগুলো তৈরি হয় সামাজিক, নৈতিক দায়বদ্ধতার অভাবে অথবা মানসিক দৃড়তার অভাবে। যার সর্বোৎকৃষ্ট উদাহরণ মাদক।


মানবশিশু জন্মের পর থেকে তার খাদ্য বস্ত্র বাসস্থান শিক্ষা প্রভৃতি ধাপে ধাপে প্রয়োজন পড়লেও মাদক কখনোই বাধ্যতামূলক প্রাকৃতিক চাহিদা নয়। মানবমনে এর চাহিদা তৈরি হয় কৃত্রিম সংকটে। কিভাবে এমন কৃত্রিম চাহিদা তৈরি হয়? এর চাহিদায় লাভ কাদের? এটাও ইনশাআল্লাহ্‌ মোটা দাগে বলবো পরবর্তী কোন লেখায়।

সারমর্মঃ

-অনেক অপরাধীর অপরাধের মূল কারণ পেটের দায়

-সহজে উপার্জনের পন্থা পেলে ছিনতাই এর মতো কাজ ছেড়ে দেয়ার নজির আছে

-নিজের দোষকে (অপরাধ) লঘু প্রমাণে সিদ্ধহস্ত আমরা

-মুখে নৈতিক দায়বদ্ধতার কথা বললেও মোটা দাগে টাকার কাছে সবাই (প্রায়) নত

-অপরাধের রসদ যোগানো কার্যকলাপ জেনে বুঝেই বন্ধ করা হয় না, অনেকের স্বার্থ জড়িত

(অর্থনীতি, সমাজবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান ও অপরাধবিজ্ঞান পড়ুয়া এবং বোদ্ধারা গালিগালাজ করতে চাইলে সাক্ষাতে অথবা কমেন্টে আমন্ত্রিত)

শুক্রবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২

Future of Energy: Reuse-Recycle (শক্তির ভবিষ্যত: পুনঃচক্রায়ন, পুনঃব্যবহার) Part 01

বাথরুমের পানি ট্রিটমেন্ট করে কেন খেতে হচ্ছে?

ডিরেক্ট বাথরুমের পানি কে খাবে! জোক্স এপার্ট, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যেতে থাকায় ও বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকটে পানি ট্রিটমেন্ট করে রিইউজ করা হচ্ছে। বিভিন্ন বর্জ্য পানি পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে।

এই ধারাটাই আসতে পারে (খুব সম্ভবত আসবে) এনার্জির ক্ষেত্রে। মানুষ যতই পরিবেশের প্রতি সংবেদনশীল হবে, ততই চেষ্টা করবে পরিবেশ-প্রকৃতি ডিস্টার্ব না করতে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি সীমিত রাখতে চেষ্টা করবে।

আমাদের জীবনযাপনে ব্যয়িত বিভিন্ন শক্তির খাত থেকে ওয়েস্টেড এনার্জি যেমনঃ চায়ের পানি গরম করার সময় কেটলি, পানি উত্তপ্ত হয়। অর্থাৎ পানি গরম করতে চুলার তাপ ব্যয় করা একমুখী ব্যবহার। এর বহুমুখী ব্যবহার আসবে সামনে। 

 চায়ের পানি গরম করার এই ব্যবস্থায় যুক্ত হতে পারে স্টারলিং ইঞ্জিনের মতো ঐতিহাসিকভাবে সিম্পল মেকানিজমে তৈরি কিছু ডিভাইস। স্টারলিং ইঞ্জিনের বেজ হচ্ছে টেম্পারেচার ডিফারেন্স কাজে লাগিয়ে মেকানিক্যাল রোটেশন বের করে আনা।

আসতে পারে ফ্রিজ ও হিটার একসাথে ইন্টিগ্রেটেড হয়ে। কারণ ফ্রিজ থেকে তাপ উৎপন্ন হচ্ছে, এটা নষ্ট করবো কেন?

মজার ব্যাপার হচ্ছে এই ধরনেরই একটা প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছিলেন আমাদের আমাদের কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের অন্তর্গত Department of Farm Power & Machinery বিভাগের শিক্ষক শামীম আহমেদ, তাও ২০১৮ সালে। আমি তখন প্রথমবারের মতো দ্বিতীয় বর্ষে (!!!)। Engineering Mechanics ক্লাস নিতেন তিনি। কোন একটা আইডিয়া নিয়ে (খুব সম্ভবত ফ্রিজ আর হিটার কম্বাইন করলে কেমন হয় প্রশ্নের উত্তর জানতে চেয়েছিলাম) তাঁর কাছে যাওয়ার পর কি নিয়ে কাজ করছেন জিজ্ঞাসার উত্তরে খুব সম্ভবত বলেছিলেন “ওয়েস্টেড হিট রিউজ করার প্রযুক্তি”-টার কথা। এখন কি অগ্রগতি জানা নাই অবশ্য।

যাইহোক, সিমিলার কনসেপ্ট (ওয়েস্ট এনার্জি রিইউজ) এর প্রচলিত ব্যবহার বলতে গেলে আধুনিক রিজেনারেটিভ ব্রেকিং সিস্টেমের কথা বলা যায়। যেটা দেখা যায় কিছু আধুনিক ই-বাইকে। যখন ই-বাইক পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নামে, তখন ঘুরন্ত চাকা থেকে শক্তি/বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।

বিজ্ঞানের অনুরাগী হলে অবাক হয়ে যাবেন না, কারণ বস্তুত মোটর আর জেনারেটর একই। জেনারেটরকে ঘোরালে বিদ্যুৎ দেয়, মোটরকে বিদ্যুৎ দিলে ঘোরে। সেই আধুনিক ই-বাইকগুলোতে সাধারণত থাকে রিজেনারেটিভ হাব মোটর বা চাকার ভেতরে সংযুক্ত মোটর। যেগুলোতে বিদ্যুৎ দিলে ঘোরে, আবার ঘোরালে বিদ্যুৎ দেয়।

খুবই অল্প বিদ্যুৎ পাওয়া যায়, তাও ক্ষেত্রবিশেষ।

কিছুদিন আগে PV Magazine-এর একটা লেখা শেয়ার করেছিলাম। যেখানে দেখা যায়, বিজ্ঞানীরা ট্রান্সপারেন্ট ফটোভোল্টাইক প্যানেল নিয়ে কাজে সাফল্য পাচ্ছেন। যেগুলো ব্যবহার করা যাবে জানালার মতো বহুল ব্যবহৃত জায়াগায়। লক্ষ্য ফ্রি সূর্যশক্তির যতটা শুষে নেয়া যায়। পাশাপাশি ঘরে আলো জ্বলে, সেই আলো থেকে বিচ্ছুরিত শক্তিও পুনঃব্যবহার করা যাবে এই প্রযুক্তি দিয়ে।

তাছাড়া যেসব ক্ষেত্রে গ্লাস ব্যবহার করি, অনেকগুলোতেই এই ট্রান্সপারেন্ট PV Module ব্যবহার করে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। হ্যাঁ, কম হবে। কিন্তু কোটি কোটি ক্ষেত্র থেকে অল্প অল্প বিদ্যুৎ পাওয়া গেলেও অনেক বড় একটা এমাউন্ট হবে।

প্রাথমিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে থাকছে সহজলভ্য কাঁচামাল দিয়ে সেই প্রযুক্তিগুলো ডেভেলপ করা। এবং সেগুলো স্বল্পমূল্যে সবার জন্য এভেইলেবল করতে পারা। যার জন্য এসব খাতগুলোতে গবেষণা, প্রণোদনার প্রচুর প্রচুর দরকার।

অদূরভবিষ্যতে আমাদের এই চিন্তাগুলো আরো বিকশিত হবে। আরো অনেক অনেক ক্ষেত্র বের হবে যেখানে এখন শক্তি, তাপ হারিয়ে যাচ্ছে। যেগুলো আবার পুনঃব্যবহার করা যাবে।

এখনকার তাপীয় ইঞ্জিনগুলোর গড়পড়তা ৩০-৫০% এফিশিয়েন্সি উপরোক্ত রিইউজ, রিসাইকেলের মাধ্যমে হয়তো ৭০-৮০-৯০%+ এফিশিয়েন্ট হয়ে যাবে। কাজ চলছে সেসব লক্ষ্যে, চলবে।

আমরা বরঞ্চ খেলাধুলায় টাকা ঢালি, গেম ডেভেলপমেন্টের চেয়ে গেম খেলার ইন্ডাস্ট্রির দিকে মনযোগ দিই। সোশ্যাল মিডিয়ার মতো সিস্টেম বানিয়ে বাইরে থেকে টাকা আনার চেয়ে টিকটকে কারেন্সি কিনে খ্যামটা নাচুনেদের ভিডিওতে গিফট করি। নড়বড়ে গার্মেন্টসকে মাথায় তুলে রাখি।

শিক্ষা-গবেষনায় অযথা খরচের কি দরকার?

শনিবার, ২০ আগস্ট, ২০২২

স্বদেশী বাজারের রাজু ঘোষের লাড্ডু

ময়মনসিংহ শহরে সিংগারা নিমকির নাম নিলে প্রথমেই যে নামটি মাথায় আসে সেটা রাজু ঘোষ। স্বদেশী বাজারের রাজু ঘোষ আলাদা একটা জায়গা করে নিয়েছে হালকা নাস্তায়।

যখন জন্মদিনের মতো অনুষ্ঠান গুলো ঘরোয়াভাবে আয়োজন করা হতো সাদামাটাভাবে, এই রাজু ঘোষের সিংগারা নিমকি মেহমান আপ্যায়নের নাস্তার তালিকায় উপরের দিকে থাকতো। এখন অনেকেই রেস্টুরেন্টে ঝকঝকে ক্যামেরায় ছবি ভালো আসা উচ্চমূল্যের ফরেইন ফুডস প্রেফার করেন। তবুও ভাজাপোড়ার আবদার কমে গেছে অমনটা বলা যাবে না।

স্বদেশী বাজারে কাছাকাছি দুইটা রাজু ঘোষ পাবেন। রাজু ঘোষ আর আদি রাজু ঘোষ। পার্সোনালি আদি রাজু ঘোষ প্রেফার করি আমি, কিন্তু আদি রাজু ঘোষের ভেতরের বসার এরেঞ্জমেন্টটা জরাজীর্ণ। যেটা অনেকেই অপছন্দ করবেন। কিন্তু খাবারের স্বাদ অসাধারণ, সুযোগ করে আরেকদিন বলবো।

রাজু ঘোষ-এ সিংগারা নিমকির সাথে একটা ঝোল ঝোল চাটনির মতো টক দেয়। পাওয়া যায় দই আর লাড্ডুও।

লাড্ডু জিনিসটা খুবই কাছের লাগে, গরিবের ডেজার্ট। সাধারণ মিষ্টির মূল উপকরণ দুধের ছানা হলেও এই লাড্ডুতে বেসন বা ছোলার গুড়া ব্যবহার করা হয়। চিনি তো কমন। তো যারা দুধের তৈরি খাবার খেতে পারেননা তাদের যদি চিনিতে সমস্যা না থাকে, লাড্ডু ইজ অ্যা গুড চয়েজ অ্যাজ ডেজার্ট।

রাজু ঘোষের লাড্ডু
রাজু ঘোষের লাড্ডু

লাড্ডু জাস্টিফাই করা কঠিন লাগে। তবে কিছু লাড্ডুতে রঙ দেয় যেগুলো আমার অপছন্দ। রঙ বিহীন লাড্ডুর মধ্যে ভাগ করলে কতক লাড্ডুতে শুকনো ফল, মোরব্বা থাকে। ফল টল ছাড়া বা সহ লাড্ডুগুলোকে আরো ভাগ করলে কিছু লাড্ডু একটু ভেজা ভেজা, আবার কিছু শুকনো। একেকটার একেক আবেদন। তবে শুকনো লাড্ডু ওজনের হিসেবে লাভজনক, টেকে ভালো। সেজন্য আমার প্রেফারেন্স শুকনোটাই, যদিও একটু ভেজাটা খেতে বেশি মজা। শুকনো লাড্ডুর মধ্যে কিছুতে চিনির আধিক্য থাকে, অন্যটায় কম। এই পর্যায়ে শেষ কথা বললে সাদামাটা শুকনো লাড্ডু যেটায় চিনি কম সেটার দাম হাতের নাগালে থাকায় ও টেকসই হওয়ায় আমার পছন্দের তালিকায় এটা থাকে।

আদি রাজু ঘোষের লাড্ডু আকারে ছোট। আদি রাজু ঘোষ নিয়ে আরেকদিন বলবো। তবে এটা নিশ্চিত থাকুন আপনি স্বদেশী বাজারের রাজু ঘোষ বা আদি রাজু ঘোষ যেটাতেই যান স্বাদে মানে হতাশ হবেন না। ভালো ও তকতকে বসার জায়গা চাইলে রাজু ঘোষ। বসার জায়গা কেয়ার না করে কেবল টেস্ট প্রেফার করলে আদি রাজু ঘোষের পুরনো চেয়ার আপনার পশ্চাতদেশের ছোয়া পাওয়ার দাবি রাখে।

রাজু ঘোষের লাড্ডু সাইজে বড়, চিনি একেবারে কম না, শুকনো। কেজি ২০০ টাকা। পিস খুব সম্ভবত ১০ টাকা। নিচের ছবি দেখে স্বাদ বোঝা না গেলেও টেক্সচার আর আকার সম্পর্কে আইডিয়া পাবেন একটা। বেশি চিনি আর কম চিনির লাড্ডু পাশাপাশি রাখলে ক্লিয়ার আইডিয়া পেতেন উচ্চ মধ্যম পরিমাণে চিনিওয়ালা লাড্ডু কেন বলছি।

লাড্ডু
এই লাড্ডুটা শুকনো


শনিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২২

গ্রীনহাউজ ইফেক্ট ও সুইস ব্যাংকের টাকা

গ্রীনহাউজ বলতে কাগজে কলমে শীতপ্রধান দেশে কাচ ঘেরা ঘর বোঝায়। যেটার বেসিক সাইন্সটা হচ্ছে সূর্যের তাপ তথা স্বল্প দৈর্ঘ্যের তরংগ কাচের ভেতর প্রবেশ করতে পারলেও ভেতরে শোষিত হওয়ার পর বাকি তাপ প্রতিফলিত হয়। কিন্তু সেটার তরংগ দৈর্ঘ্য অপেক্ষাকৃত বেশি হওয়ায় কাচ ভেদ করে বাইরে যেতে পারে না, যার কারনে ভেতরটা উষ্ণ থাকে।

গ্রীনহাউজ ইফেক্টটা মূলত ওই গরম থাকার প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করে যেখানে কাচের কাজ করে গ্রীনহাউজ গ্যাসগুলোর বলয়। যার ভেতরে উষ্ণ থাকে পৃথিবী।

পৃথিবী উষ্ণ থাকারও দরকার আছে, কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত সবকিছুই খারাপ। গ্রীনহাউজ গ্যাসগুলোর অন্যতম হচ্ছে কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন, সি এফ সি প্রভৃতি। এরমধ্যে কার্বন ডাই অক্সাইড উষ্ণতা ধরে রাখে অন্যদিকে সি এফ সি ওজোন স্তরের ক্ষতি করে উষ্ণতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ক্ষতিকর অতিবেগুনী রশ্মির সামনে উন্মুক্ত করে দেয় ভূস্তরকে।

বিশ্ব নেতাদের একাত্ম ও একান্ত প্রচেষ্টায় ওজোন স্তরের জন্য ক্ষতিকর সি এফ সি নির্গমন (শীতাতপ যন্ত্রগুলোতে এর বহুল ব্যবহার ছিল) রোধ করা গেছে বলেই বিশেষজ্ঞগন মত দিয়েছেন।

এখন ভূপৃষ্ঠের উষ্ণতা বৃদ্ধিকারি কার্বন ডাই-অক্সাইড ও মিথেনের মধ্যে দৃশ্যত কার্বন ডাই-অক্সাইডের নিঃসরণ সবচেয়ে বেশি। কিন্তু মিথেনের তাপ ধারণ ক্ষমতা কার্বন ডাই-অক্সাইডের চেয়ে বহুগুনে বেশি। নাম্বার দিয়ে বলতে গেলে পঁচিশ গুন বেশি। এই তথ্যটা মনে রাখবেন, পরবর্তীতে আলোচনায় লাগবে।

সব দেশেই জলবায়ু পরিবর্তন, বিশেষ করে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাব কমানোর জন্য কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণের উপর জোর দেয়া হচ্ছে। ফসিল ফুয়েল তথা কয়লা, তেল, গ্যাস প্রভৃতির উপর নির্ভরতা কমিয়ে সৌর, জল ও বায়ুশক্তির পরিবেশ বান্ধব নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে ঝুকছে বিশ্ব। বিভিন্ন প্রযুক্তি আবিষ্কার হচ্ছে কার্বন ডাইঅক্সাইড ট্র‍্যাপিং এর জন্য। একে বিভিন্ন শক্তির কাচামাল হিসেবেও ব্যবহারের আয়োজন চলছে।

কিন্তু অজনপ্রিয় কিছু গবেষণায় দেখা গেছে গ্যাসফিল্ড, শিল্পকারখানার চিমনী দিয়েও গ্যাস লিকেজ, অপরিশোধিত বায়ু বর্জ্য হিসেবে প্রতিদন বিপুল পরিমানে মিথেন নিঃসরণ হচ্ছে। যেগুলো অনকক্ষেত্রেই বড় বড় কোম্পানিগুলো আড়াল করে রাখছে। এর মধ্যে কিছু কোম্পানির ন্যুনতম মেইনটেনেন্স না থাকার কারনে (যেমনঃ দুটি পাইপের জয়েন্টের নাট ঢিলে হওয়া বা পাইপে ক্ষুদ্র ফুটো) এসব নিঃসরণ হচ্ছে। আবার পাইপের জ্বালামুখেও অতিরিক্ত চাপে আগুন না জ্বলা গ্যাসও মুক্ত হচ্ছে প্রকৃতিতে! অথচ এগুলো যেন দেখার কেও নেই, পঁচিশ গুন বেশি সক্ষমতার উষ্ণকারী গ্যাস বহুল পরিমানে বেড়েই যাচ্ছে।

এমন ব্যবস্থাপনা হীনতা চলতে থাকলে হয়তো দেখা যাবে আমরা একসময় কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমানোর লক্ষমাত্রায় পৌছালেও আদতে তাপমাত্রা কমিয়ে রাখার লক্ষ্যে পৌছাতে পারবো না! কারন সিস্টেমটা হয়ে যাবে তলাবিহীন ঝুড়ি।

এখন আসা যাক সাম্প্রতিক বিতর্কিত ও আলোচিত বিষয় সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশীদের টাকার ব্যাপারে। প্রতিবছর আশংকাজনক হারে বাংলাদেশিদের টাকা বাড়ছে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে। সেসব টাকার উৎস নিয়ে তিন ধরনের মতবাদ শোনা যায়।

-বৈধ

-অবৈধ (প্রধানত হুন্ডির মতো মাধ্যমে পাচার করা, অবৈধ পন্থায় আয় করা)

-উভয়

এরমধ্যে অবৈধ আয় থাকার সম্ভাবনা বেশি, এমনই দাবি বেশিরভাগের। সুইস ব্যাংকগুলো দুনিয়ার অন্য ব্যাংকগুলো থেকে আলাদা বলেই জানি সবাই। সেখানে টাকা রাখলে আয়ের উৎস নিয়ে কোন জিজ্ঞাসা করা হয় না। কয়েক বছর আগেও কার টাকা বা কোন দেশের টাকা এতোটুকুও প্রকাশ করা হতো না। আন্তর্জাতিক মহলের চাপে দেশ ও সঞ্চিত টাকার পরিমানের ব্যাপার ডিসক্লোজ করলেও সঞ্চয়কারীর পরিচয় পাব্লিক করা হয় না।

অনেক বছর ধরেই বিদেশে টাকা পাচার নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন উঠে এসেছে। একেক পক্ষ একেকভাবে ব্যাখা করেছেন। বৈশ্বিক অস্থিতিশীল অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় যখন আমাদের মতো মতো দেশের অর্থনীতি টালমাটাল অবস্থা, ক্ষমতাসীন দলের উপর সব দিক থেকে চাপ আসছে অর্থ পাচারে জড়িতদের বিচারের সম্মুখীন করে পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়ার জন্য।

এমতাবস্থায় কেও বলছেন টাকা পাচার হওয়ার তথ্য ভুল হতে পারে। সুইজারল্যান্ড মিথ্যা বলে থাকতে পারে বা বলেছে তাদের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশীদের টাকার পরিমান নিয়ে।

ওসব নিয়ে গুরুগম্ভীর আলোচনায় না গিয়ে আলোচনা সহজবোধ্য রাখার স্বার্থে ধরে নিন আমির খানের পিকে মুভির বুদ্ধিমান এলিয়েন পিকে তার ফ্লায়িং সসার বাংলাদেশের হালদা নদীর পাশে ল্যান্ড করিয়েছে। সেখানে নেমে নদীর পোনা ধরে জীবিকা নির্বাহ করা এক কিশোরের হাত ধরে বাংলা শিখে নিয়েছে। এরপর নোরা ফাতেহি বাংলাদেশে আসার খবর আগাম দিয়ে তার সাথে সখ্যতা গড়ে। সেই কিশোরের সাথে পিকে হালদার খোলা হাওয়া খাচ্ছিল (পিকে হালদারের কথা বলছি না, এলিয়েন পিকে দেশের হালদা নদীর পাশে বসে হাওয়া খাচ্ছিল বুঝিয়েছি শুধু)। হঠাৎই কিশোর মহিউদ্দিন জানতে চাইলো,

-আচ্ছা পিকে, তুমিতো বুদ্ধিমান। আবার শর্টকাটে অনেক কিছু করে ফেলো। এই যে অত টাকা পাচার করে ধরা খায়, কেনো? টাকার ক্ষমতা দিয়ে বেচে যেতে পারে না?

-হুম। পুকুরে বড়শি দিয়ে মাছ ধরেছো কখনো?

-হ্যাঁ ধরেছি। কিশোর মহিউদ্দিন জবাব দেয়।

-টোপ দিয়ে বড়শি ফেললে কয়টা ধরতে পারো? সবগুলো?

-নাহ।

-বুঝলে কিছু!

মহিউদ্দিন চোখ বড় করে তাকায়। এভাবে ভাবে নি সে কোনদিন। আবার মহিউদ্দিন জানতে চায়।

-দুটো প্রশ্ন করি আপনার কাছে। আপনি টাকা পাচার করলে কিভাবে ম্যানেজ করতেন আর পুকুরের কোন মাছটা রাক্ষুসে যেটা নিয়ন্ত্রণ করা দরকার, কিভাবে করবো নিয়ন্ত্রণ?

-প্রথমত উদাহরণ স্পষ্টই আছে প্রথমটার। দেশে অবৈধ টাকায় কেও নিজের নামে সম্পত্তি করে না। বউয়ের নামে করতো, এখন শ্যালিকা-শ্বশুর-শ্বাশুরির নামেও করে শুনেছি। তার মানে অবৈধ আয় যে করে তার সম্পত্তি না থাকলেও আত্মীয়ের নামে থাকতে পারে। কিছুদিন আগে তোমাদের পুলিশ অফিসার প্রদিপের ক্ষেত্রে যেমনটা হয়েছে। তার স্ত্রীর বৈধ উপার্জনের উৎস না থাকায় তাকেও আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তারা এখন ম্যাচ মেড ইন হেভেন থেকে ম্যাচ মেড ফর জেল! হা হা হা।

মহিউদ্দিন আর পিকে হালদার শীতল বাতাসে অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে কিছুক্ষণের জন্য। পিকে আবার শুরু করে।

দেশে যদি অন্যের নামে সম্পত্তি রাখে বিদেশেও রাখবে এটায় অবাক হওয়ার কিছু নেই। বিদেশে বরঞ্চ বিদেশি পরিচিত বন্ধু বান্ধবীর নামে থাকতে পারে। তাতে পাচারকারীকে ধরা কঠিন আরো।

আর গ্রীনহাউজ গ্যাসগুলোর কথা খেয়াল আছে না? কার্বন ডাইঅক্সাইড আর মিথেন! কিভাবে কার্বন ডাইঅক্সাইডকে ধরার প্ল্যান করতে করতে মিথেনের মতো গ্যাস তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে? সেদিকে কারোর খেয়ালই নেই!

সবাই সুইস ব্যাংক সুইস ব্যাংক করতে করতে যখন সুইস ব্যাংকের হিসেব পাওয়া যাবে (কখনো পাওয়া গেলে) তখন আদতে সেখানে টাকা না থাকলেও যে পাচারই হয় নি এমনটা ভাবাও বোকামি হবে। এতো লম্বা সময় বা অন্য সময়ে নিশ্চয়ি অন্য কোথাও সরিয়ে ফেলবে। সেক্ষেত্রে কারেন্ট ইনফোর চেয়ে ট্রেস ইনফো যেমন আগে কারোর টাকা ছিল কিনা, অন্য কোথাও ট্রান্সফার হয়েছে কি না এমন তথ্য না পেলে কোন লাভ নাও হতে পারে। বুঝলে?

-হুম বুঝেছি।

সায় দিলেও পিকে তাকে ছুয়েই তার মনের কথা বুঝতে পারে, মহিউদ্দিন বোঝেনি। তারপরও তার আগ্রহ আর চেষ্টার জন্য দ্বিতীয় প্রশ্নে এগুলো।

এখন আসি মাছ কোনটা রাক্ষুসে কিভাবে বুঝবে। পুর্নিমার আলোয় স্বচ্ছ নদীর পানিতে তাকিয়ে দেখেছো কখনো?

-হ্যাঁ দেখেছি। একদম পরিষ্কার পানি থাকলে নদীর তলা দেখা যায়। মাছ, পোকামাকড়ের দৌড়াদৌড়িও দেখা যায়।

-একদম ঠিক বলেছ। পানিটা স্বাচ্ছ হলেই রাক্ষুসে মাছ না কি মাছ বোঝা যাবে। এটা পুকুরের ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত না। পুকুরের পানি অমন থাকবে না। তাই, ১)রাক্ষুসে মাছ যাতে পুকুরে না আসতে পারে, ২) কেও যেন রাক্ষুসে মাছ না ছাড়ে, ৩) কখনো অমন মাছ ধরা পড়লে নিধন করতে হবে।

রাক্ষুসে মাছে অন্য সব মাছ, মাছের খাবার খেয়ে ফেলছে এজন্য পুকুরে বিষ ঢেলে সব মাছ মরে যাবে ভাবলেও দেখবে পুকুরের কোটর গলে রাক্ষুসে মাছ বেচে বেড়িয়ে যাবে। মারা পড়বে অবলা সাধারণ মাছগুলো।

গপ্পো করতে করতে রাত দশটা বেজে যায়। মহিউদ্দিন বিদায় নেবে। বাড়ি যেতে হবে। এদিকে বিদায় নিয়ে পিকে হালদার পাড় ধরে অন্ধকারে মিলিয়ে গেলো।


বুধবার, ৩ আগস্ট, ২০২২

ময়মনসিংহের দানাদার মিষ্টি

ময়মনসিংহের অন্যতম সাদামাটা মিষ্টির একটা দানাদার। কোন বাড়তি চাকচিক্য বা রংচংয়ের জৌলুশ নেই। কিন্তু খেতে ভালো।

সিলেটে একবার চকচকে এক মিষ্টির দোকানে গিয়ে ফুলের মতো সুন্দর, কয়েক জাতের রঙিন মিষ্টি চেখেছিলাম। এককথায় অখাদ্য না হলেও মিষ্টি নামের কলংক। তখনি উপলব্ধি হয়েছিল ময়মনসিংহের মিষ্টি ওইসব মিষ্টির সাথে তুলনা করলে ঐশ্বরিক।

আগে “দর্শনদারি” কথাটা খুব সম্ভবত মিষ্টির জন্য নয়। যেমন এই দানাদার মিষ্টি। খাওয়ার সময় মুখে দানা দানা (ভাজা ছানা) লাগে, দানাদার নাম এজন্যেই খুব সম্ভবত। রসের আধিক্য নাই রসগোল্লার মতো। উপরে মাওয়া দেয়া হয়। আকারে মোটামুটি ছোট হওয়ায় কেজিতে অনেকগুলো ধরে।

স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী সব মিষ্টির দোকানেই সুস্বাদু ও ভালমানের "দানাদার" মিষ্টি পাওয়া যায়। যেমনঃ কৃষ্ণা কেবিন, সুধীর ঘোষ, দয়াময়, মিষ্টি কানন ইত্যাদি।

কৃষ্ণা কেবিনের "দানাদার" মিষ্টি

বৃহস্পতিবার, ২১ জুলাই, ২০২২

কেউরালি/কেচইর সম্পর্কে কতটুকু জানেন আপনি?

বদরুল, হোস্ট, DAWN TALES|| কেওরালি বা কেচইর নামের জলজ উদ্ভিদ পাওয়া যায় সিলেট, নেত্রকোনার মতো হাওরাঞ্চলের জলাশয়গুলোতে। স্থানীয় লোকজন এটা সবজি হিসেবে মাছ, চিংড়ির তরকারিতে খান।

কেওরালি যাদের স্মৃতির সাথে জড়িত বিশেষ করে যারা ছোটবেলায় হাওরাঞ্চলে থেকেছেন বা জীবনের একটা সময় সেদিকে থেকেছেন তাদের অনেক আবেগ কাজ করে। কেওরালি নিয়ে ইন্টারনেট ঘেটেও খুব বেশি তথ্য পাওয়া যায় নি। সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট, পোস্টের মন্ত্যব্যের ঘর থেকেই টুকটাক তথ্য পাওয়া গেছে।

কেওরালি স্থানীয় কবি লেখকদেরও লেখার অনুসংগ। বিভিন্ন জায়গায় লেখার মাধ্যমে কেওরালি প্রীতি ফুটিয়ে তুলেছেন। কেওরালির বিভিন্ন রেসিপি শেয়ার করেন কেও কেও।

কেওরালির খাদ্য গুন ছাড়াও ভেষজ গুন আছে বলেও বলছিলেন কেও। পেট ফাপার সময় মুরুব্বিরা কেওরালির তরকারি খাওয়াতেন পথ্য হিসেবে।

দেখতে ছোট শাপলার মতো কেওরালি শাপলার চেয়ে অধিক পানি সহনশীল। গাছ পানিতে সম্পূর্ণ ডুবে গেলেও মারা যায় না। ১-১.৫ মিটারের মতো হতে দেখা যায় সাধারণত। কেওরালির সবজির সিজন মূলত বর্ষাকাল। ফুল ফুটে যখন স্তিমিত হয়ে যায় তখন গর্ভাশয় খাদ্যউপযোগি হয়। কিছুটা কামরাংগার মতো দেখতে গর্ভাশয় চেছে-ছিলে খাঁজগুলো সমান করে রান্না করা হয়। গৃহিণীরা লতার তরকারির মতোই মশলাপাতি ব্যবহার করেন রান্নার ক্ষেত্রে। তরকারি খেতে খুবই সুস্বাদু।

এর কান্ড দেখতে কিছুটা নাইটকুইনের পাতার মতো। পানির উপরে শাপলার মতো গোল পাতাও থাকে।

একইসাথে আশা এবং হতাশার কথা হলো সবজি হিসেবে খাওয়া জলজ উদ্ভিদের পুষ্টিমান নিয়ে কোন তথ্য খুঁজে পাওয়া যায় নি। তাছাড়া এটি চাষের সম্ভাবনা, মিশ্র চাষের উপযোগিতা/সম্ভাবনা, মাছের সাথে চাষ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সম্ভাব্য অবদান, পানির গুনাগুন হ্রাস/বৃদ্ধিতে অবদান ইত্যাদি নিয়ে কাজ হওয়ার দাবি রাখে। তাছাড়া ইন্ডিজেনাস স্পিসিস কি না এই বিষয়েও গবেষনার দাবি রাখে।

কেওরালি চাষ হয় এমন কোন তথ্য না থাকায় হলপ করে বলা যায় এখনো পর্যন্ত যে কেওরালি গুলো দেখি আমরা সবই ১০০% অর্গানিক ও বিষমুক্ত (যদি না উত্তোলনের পরে ভেজাল করা হয়)। এই বুনো সুস্বাদু উদ্ভিদ যেন আমাদের ক্ষুধা মেটাতে গিয়ে অতি আহরিত হয়ে বিলুপ্ত না হয়ে যায় সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। সবাইকে সচেতন থাকতে হবে আমাদের আদি জীববৈচিত্র্যের উপাদানগুলোর সংরক্ষন সম্পর্কে।

হাওর এলাকার স্থানীয় বাজারগুলোতে কেওরালি পাওয়া যায় এখনো। নদীমাতৃক গ্রামবাংলার বিস্ময়কর উদ্ভিদ কেওরালি বেচে থাকুক যুগ যুগ ধরে। দেখতে পারেন আমাদের ভিডিও প্রতিবেদন।


NPUC value of food: Affordable nutrient rich foods list (Part 01)

কোন  খাবারে এক টাকায় কতটুকু পুষ্টি উপাদান পাচ্ছেন সেটাকেই বলছি নিউট্রিয়েন্ট পার ইউনিট কস্ট বা Nutrient Per Unit Cost (NPUC value) উদ্দেশ্য ক...