উপার্জনের গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
উপার্জনের গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ১৩ জুলাই, ২০২২

ময়মনসিংহের মাদকাসক্তি, ছিনতাই, অটোচালনা ও অপরচুনিটি কস্ট

চোখের সামনে সেদিন টাউনহল মোড়ে এক অটো আরেক অটোকে ওভারটেক করতে গিয়ে বেকায়দায় উলটে যায় ধাক্কা দিতে যাওয়া অটোই! ড্রাইভার তেড়ে যায় নিজের দোষ ভুলে অন্য ড্রাইভারকে মারতে।

উপস্থিত জনতা প্রথম অটোচালকের উপর ক্ষেপে যায়। চোখ আর চালচলন দেখে বোঝা গেলো নেশাগ্রস্ত ছিলেন প্রথম অটোচালক, যিনি মূলত সংঘর্ষের হোতা।

পাব্লিকরে বোকা আর ইরেস্পন্সিভ বলার যে ব্যাপারটা কাজ করতো সেটা একটু কমেছে এই ঘটনা দেখার পর। অবশ্য দোষীর হাতে কোন দেশীয় অস্ত্র বা আগ্নেয়াস্ত্র থাকলে আমি বা অন্য কেও এগিয়ে যেতাম কি না সন্দেহ আছে। নিজের জান আগে।


ছবিটা সেই স্পটের যেখানে ঘটনা ঘটেছিল, গুগল স্ট্রিট ভিউ থেকে নেয়া হলেও ঘটনার সময়ে তোলা না


যাইহোক, আপনার আমার শহর ময়মনসিংহের একটা বদনাম বেশি ছিল ছিনতাইকারী সংশ্লিষ্ট। যত্রতত্র ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা অহরহই শোনা যেতো একসময়। এখন নেই এমন না, অনেকটা কম।

মূল আলোচনার আগে একটা কল্পিত সন্তানপ্রীতির ঘটনা বলি।

শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সন্ধ্যার পর এক নারীর মোবাইল রাখার হাতব্যাগ ছিনতাই করে এক কিশোর। নারীর চিতকারে আশেপাশের লোকের সহযোগিতায় পুলিশের হাতে ধরা পরে সে কিশোর। থানায় নেয়া হয়। অভিভাবকদের ডাকা হয়। মা আসেন। কান্না শুরু করেন,

-আমার পোলাডার কোন দোষ নাই। আমার পোলা এরুম করতোই ফারে না। কেও না কেও ফাসানির লাইজ্ঞা ধরা খাওয়া দিছে।

-আপনার ছেলে ছিনতাই করেছে। সবাই দেখেছে, হাতেনাতে ধরেছে। এমনকি সে নেশাগ্রস্ত ছিল, তার ডোপ টেস্ট করা হয়েছে।

-আমি কইছিলাম না, আমার পোলা এরুম না। এরে কেও নেশার বড়ি খাওয়ায়া এরুম করাইছে। পরে ফাসায়া দিছে।

অযৌক্তিক হাস্যকর হলেও অনেক অপরাধের ক্ষেত্রেই হয় পরিবার জানে না, নাহয় প্রশ্রয় দেয়। জনপ্রিয় উদাহরণ হতে পারে ঘুষের টাকা, সিন্ডিকেট করে মূল্যবৃদ্ধি করে তুলে নেয়া টাকা। কোন সেক্টরে এই ঘটনা ঘটে না! আমি, আপনি, আমাদের আত্মীয় স্বজনেরাই তো কোন না কোন ভাবে এগুলোতে জড়িত।

প্রসংগে ফেরা যাক।

আগের তূলনায় এখন ছিনতাইয়ের কথা শোনা যায় না। বিশেষ করে অটোর বৃদ্ধির সাথে ছিনতাই কমার হারের একটা মিল দেখা যায়।

এর পেছনে যুক্তি হিসেবে দাড় করানো যায় বৈধ উপার্জন থেকে নেশার টাকার যোগান। ব্যাপারটা ইন্টারেস্টিং না!

একসময় নেশার টাকা যোগানোর জন্য মোড়ে-গলিতে ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটতো। ধরা খেলে অপরাধীই স্বীকার করতো এসব কারন (নেশার জন্যে ছিনতাই করেছে) আবার কিছুক্ষেত্রে এলাকার মানুষ সাক্ষ্য দিতো।

খুব সম্ভবত আধুনিক নেশাগ্রস্তদের কিঞ্চিৎ বোধোদয় হয়েছে। আপনি কোন ভাবে নেশারত কারোর সামনে পরে গেলে যদি তাকে জিজ্ঞেস করেন,

-কেন এগুলা করে টাকা নষ্ট করতেছিস বোন?

-নিজের পরিশ্রমের টাকায় নেশা করি। কারোর বাপের টাকায় না।

উদাহরণে "বোন" বলার অন্যতম কারণ পুরুষের পাশাপাশি অথবা পুরুষ থেকে দূরে বিভিন্ন সেক্টরে নারীর উপস্থিতি, বিচরনে সফলতার কথা তুলে ধরা।

মাদক জগতে নারীদের বিচরন বিকৃত নারীবাদের ফসল (বিকৃত নারীবাদ বলতে সেই বিশ্বাসকে বোঝাচ্ছি, যে বিশ্বাসীরা মনে করে পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও সিগারেট, নেশার অধিকার আছে। ছোট কাপড়, অশালীনতা, উশৃংখলতা মানেই স্বাধীনতা বা পুরুষের সমান হওয়ার হাতিয়ার। যারা ভুলেই যায় এইরকম বিষয়গুলোর কোনটিই পুরুষের জন্য বা সমাজের জন্য মঙ্গলজনক হয়নি)। আলোচিত ঐশী কান্ড নিশ্চয়ই ভুলে যাওয়ার মতো না। যেখানে পুলিশের এক কর্মকর্তার মেয়ে ঐশী তার বাবা মাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে তার ছেলেবন্ধুর সহায়তায়। তাদের অবাধ বিচরণ ছিল নেশার জগতে। ওই ছেলের অপরাধ জাস্টিফাই করার কোন যৌক্তিকতা নেই এটা অকাট্য। কিন্তু এমন সমঅধিকার বা এমন বিশৃঙ্খলার দিকে ধাবিত করবে এমন কোন অধিকারই থাকা উচিত না।

পত্রিকায় হরহামেশাই অপরাধী দম্পতি অথবা যুগল (বৈধ দম্পতি না) ধরা পড়ার খবর দেখা যায়।

আমরা মানুষেরা অদ্ভুত মেন্টালিটির! না মানে চিন্তা করুন, একসাথে বিয়ে ছাড়া থাকা যাদের কাছে অবৈধ বা নীতিবিরোধী মনে হয়েছে তাদেরও কেও কেও ছিনতাই, মাদক, খুনের মতো গর্হিত অপরাধে যুক্ত হচ্ছি।

এক্ষেত্রে অবস্থান স্পষ্ট করা জরুরী যে, ব্যক্তি হিসেবে আমি পশ্চিমা অবাধ মেলামেশার বৈধকরণ বিরোধী। বিয়ে করে বৈধ সম্পর্ক স্থাপনের গুরুত্ব সম্পর্কে অবহিত। শুধু অবাক লাগে এটা ভেবে যে একদিকে এমন নৈতিক সচেতন মানুষেরা কিভাবে অন্য ঘৃন্য অপরাধে জড়িয়ে যায়!

সমাজের নিম্ন আয়ের লোকেদের ক্ষেত্রে হালাল আয়ে নেশা করার গর্ব দেখা যায় বেশি। উচ্চস্তরের কিছুক্ষেত্রে এর ভিন্নতা দেখেছি। বিশেষত আপনি যদি কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রর কাছ থেকে শোনেন, যাকে হয়তো নেশাগ্রস্ত বলা উচিত হবে না (তাদের মতে) তাদের কেও কেও বলবে

-আমি আমার লিমিট জানি

অথবা

-আমি অনেক ছোটবেলা থেকেই এগুলায় আছি। আমার কাছে এগুলো নরমাল, কোন ইম্প্যাক্ট পরে না

অথবা

-তুই ক্ষ্যাত, আমি স্মার্ট

অথবা

-টেনশন, ডিপ্রেশন, ফ্যামিলি প্রেশার ইত্যাদি।

আরেক গ্রুপ পাবেন যারা কিছু কিছু নেশাদ্রব্যকে "নেশাদ্রব্য" বলতেই নারাজ। যেমনঃ গাজা খেলে তো নেশা হয় না, পানীয়কে (মদ বা অমন তরল) কেন মানুষ নেশাদ্রব্য বলে বুঝিই না।

সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং ধূমপায়ীদের যুক্তি। ক্লিয়ার করি, ধূমপায়ীদের নেশাখোর বা মাদকসেবির কাতারে ফেলছি না। কারন, টিপিক্যাল নেশাখোর বা মাদকসেবিদের আলাদা একটা চিত্র/ছাচ আমাদের সমাজে চিত্রিত যেখানে অবশ্যই ধূমপায়ীরা পড়েন না। ইয়াবা বা হেরোইনের মতো মাদক সেবনে ঘটা সরাসরি ক্রম মানসিক বিকারের ভয়াবহতার মতো প্রভাব সিগারেটের ক্ষেত্রে দেখা যায় না। সোজা কথায় শুধু সিগারেট খেয়ে মানুষ মাতাল হয়না বলে সিগারেট হচ্ছে কানামামা। শকুনি মামা (মানসিক বিকারে ভূমিকা রাখা মাদক) থেকে কানামামা ভালো (অপরচুনিটি কস্ট হিসেবে)।

তো, ধূমপায়ীরা দেশ সেবা করেন ধূমপানের মাধ্যমে উচ্চহারে ট্যাক্স দিয়ে। দেশের জিডিপি গ্রোথে তাদের অবদান সবচেয়ে বেশি, তারাই সত্যিকারের দেশপ্রেমিক!

অথচ এই পরিমান মনযোগ অন্য জরুরী খাতে দিলে সেগুলোর উন্নয়ন সম্ভব হতে পারতো।

অবশ্য ধূমপায়ীদের দেশ সেবা তথা অর্থনীতির চাকা সচলে ভূমিকা রাখার ব্যাপারটা ইকোনমিক দিক থেকে অগ্রাহ্যও করা যায় না।

প্রথম স্তরের নেশাগ্রস্ত ধূমপায়ীদের উদাহরণ দিয়ে বলি।

তারা দৈনিক ৩০ থেকে ২০০+ টাকা খরচ করে (অনুমানে ধরে নিন)। যেই টাকার বেশির ভাগ অংশ এখন করের মাধ্যমে সরকার পায়। যেই বিক্রেতা বিক্রি করলো সে পেল (সাধারণত খুব অল্প পান পার আইটেম হিসেব করলে, মারাত্নক পরিমানে বিক্রি হওয়ায় লাভের পরিমান বাড়ে। কাস্টমার ধরে রাখার জন্য আর টাকার ফ্লো মেইন্টেইন করার জন্যও কেও কেও দোকানে সিগারেট রাখেন বলেছেন), কোম্পানি পেল, কর্মচারী পেল, শ্রমিক পেল, দেশে উৎপাদিত হলে চাষি পেল। চাষীদের উপকার, এর চেয়ে বড় দেশপ্রেম আর কি হতে পারে!

ওগুলো ডিরেক্ট ইমপ্যাক্ট।

ইন্ডিরেক্ট ইমপ্যাক্ট তো আরো বেশি। লুকিয়ে সিগারেট খাওয়া ব্যাক্তিদের খাত বিবেচনা করা যাক।

মুখের গন্ধ নিবারনের জন্য মাউথ ফ্রেশনার, পান, সেন্টার ফ্রেস ইত্যাদি।

কাপরের গন্ধের জন্য স্প্রে, অতিরিক্ত ডিটারজেন্ট।

মাঝে মাঝে সিগারেটের আগুনে কাপড় বাজেয়াপ্ত হয়ে গেলে সদ্য কেনা কাপর রেখেই নতুন কাপর কিনতে হয় বা ঠিকঠাক করে নিতে হয়।

ম্যাচ ইন্ডাস্ট্রি, লাইটার ইন্ডাস্ট্রি, পায়কেজিং, এস্ট্রে, সিগারেট হোলডার।

সিগারেট খেয়ে ফুসফুসের রোগ বানিয়ে ডাক্তারের কাছে যাওয়ায় ভিজিট, চেকাপ, ঔষধ।

ক্যান্সার হসপিটাল, বক্ষব্যাধী হসপিটাল কাশতে কাশতে মারা যাওয়ার পর কবরস্থান বা শ্মশানের কর্মচারীদের পকেটও ভারী করেন তারা।

সেইসাথে সংসারের একমাত্র উপার্জনকারীর দ্বারা জীবিত অবস্থায় পরোক্ষ ধূমপানে ক্ষতি করে, উপার্জনের একটা অংশ সিগারেটের মতো খাতে ব্যয় করে জীবনাবসানের পর মাঝে মাঝেই পরিবারকে অভাবে ফেলে যান অথবা বেকায়দায় ফেলেন।

সাইকোলজি বর্তমানে যেকোন ব্যবসার সাফল্যের গোপন সূত্র।

এমন নেশা দ্রব্য বা ড্রাগ বানিজ্যের পেছনে বড় বড় মানুষ প্রতিষ্ঠান ও সুক্ষ সাইকোলজির খেলা থাকে। মাদক ব্যবসার টাকাগুলোও কালো টাকা। তাই বৈধতা নাই সে টাকার। দেশের অবৈধ সম্পদ, বাইরের দেশে পাচার হওয়া অর্থের একটা অংশ নিশ্চিতভাবেই এই খাতের কালো টাকা। যেটা জনসাধারণের চোখে ধরা পরে না বা পরেও লাভ নেই।

কোথায় ছিলাম, ছিনতাই।

হ্যাঁ, ছিনতাইয়ের মতো ঘৃণ্য কাজ ছেড়ে অনেক নেশগ্রস্তরাই এখন অটো চালনায় এসেছে।

এক্ষেত্রে একটা ইকোনমিক ফ্যাক্টর মাথায় রাখবেন, অপরচুনিটি কস্ট।

অপরচুনিটি কস্ট হলো দুইটা একই (বা ভিন্ন) ধরনের কাজ একই সময়ে করার অবস্থায় পড়লে একটা কাজ ছেড়ে দেয়ার জন্যে যেই লস বা খরচ গুনতে হয় সেটা।

উদাহরণ হিসেবে প্রচলিত গল্পের কুকুরের কথা বলা যায়। যে মাংস নিয়ে স্বচ্ছ স্রোতস্বিনী জলাধারের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় নিজের প্রতিচ্ছবি পানিতে দেখতে পায়। খুব সম্ভবত কুকুরটি পদার্থ বিজ্ঞান বই পড়েনি যার কারনে সে বুঝতে পারেনি যে জলে যে কুকুরটিকে মাংসের টুকরা মুখে দেখা যাচ্ছে তা আদতে তার প্রতিবিম্ব, সে প্রতিফলক পৃষ্ঠ পানি থেকে দূরে থাকায় তার চেয়ে ছোট (ছোট জন্তুর কাছ থেকে অপেক্ষাকৃত সহজে খাবার ছিনিয়ে নেয়া যায়) মনে হয়েছিল।

মূর্খ কুকুর জলের কুকুরের মুখ থেকে মাংস ছিনিয়ে নেয়ার জন্য যেই কামড় বসায় পানিতে, তার মুখের মাংসের টুকরা পানিতে পরে স্রোতের টানে ভেসে যায়।

মূর্খ কুকুর সাইন্সের ফিজিক্স বই না পড়ে কমার্সের বই পড়লেও অপরচুনিটি কস্ট সম্পর্কে জানতে পারতো। যেটা জানলে সে নিজের ভাগের মাংস থাকার পরও অন্য কুকুরের কাছ থেকে ছিনিয়ে মাংসের ভাগ বড় করা আদতে কতটুকু ইকোনমিক তা কমপেয়ার করতে পারতো।

নেশাকারীরা ছিনতাই ছেড়ে অটোচালনা, বিদেশ গমন, স্ট্রিট বিজনেসের মতো দৃশ্যত গ্রহনযোগ্য কাজে যুক্ত হচ্ছে। ইনকাম সোর্স চয়েস করার মেন্টালিটির এই শিফটিং পজিটিভ।

কিন্তু এখনো অনেকের নেশার রাজ্যে অবাধ বিচরণ, নেশাদ্রব্যের মোটামুটি অবাধ প্রাপ্তির অপরচুনিটি কস্ট কি হিসাব করা হয়েছে?

উল্লেখ্য সব অটোচালক নেশাগ্রস্ত এমনটা বলছি না, সবাই ছিনতাইকারী থেকে অটোচালক হয়েছেন এমনটাও বলছি না। বহু সাধারনের কর্মসংস্থান হয়েছে। পূর্বে রিক্সা পদচালিত রিক্সা চালাতেন এমন অনেকেই ইলেকট্রিক অটোরিকশা চালান, এমন লোকও কম না।

কিন্তু যারা নেশাগ্রস্ত তাদের ক্ষেত্রে? লেখার শুরতে বলা আমার চোখের সামনে ঘটা ঘটনাটাতো একটা উদাহরণ মাত্র। ক্ষেত্রবিশেষ যাত্রী হয়রানি, নারী যাত্রীদের ইভটিজিং, তুচ্ছ কারনে ঝগড়া, কিছু ক্ষেত্রে এখনো ছিনতাই বা ছিনতাইয়ের জন্য খুনের মতো ঘটনাগুলোর দিকে নজর দিলে মাদকের একটা যোগসূত্র পাওয়া যায়।

লিখে উদ্ধার করে ফেলার চেষ্টা বৃথা যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কখনো যদি মনে হয়,

আমি তো সাধারণ যাত্রী। আমার সাথে এমন দূর্ব্যবহার করলো কেন? আমার জানের তোয়াক্কা না করে বাস ট্রাক চলা রাস্তায় অন্য জনের সাথে পাল্লা দিচ্ছে কেন? সাই করে অন্য অটো ঘেষে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে চাচ্ছে কেন?

ইত্যাদি বিভিন্ন ঘটনার পেছনে অন্যতম একটা কারন মাদক। দূর্ঘটনায় পড়ার পর আফসোস যাতে না হয় একথা ভেবে,

"কি কারনে দূর্ঘটনায় পড়লাম বুঝলাম না?"

অথবা

"কি কারনে মরে গেলাম বুঝলাম না!"

অন্যতম কারন স্পষ্টকরনের জন্যেই লেখাটি।

আমি মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে শহীদ হওয়ার পক্ষপাতী না। এমনিতেই একটা গ্লোবাল বা লোকাল প্রব্লেম সলভ করার আগে মরতে যাওয়া বা চাওয়া আমার পেছনে পরিবারের ও দেশের খরচ ও স্যাক্রিফাইসের অপচয়ের শামিল। আমি অমন অপচয়ের পক্ষপাতী না। ওই যুদ্ধের উপযোগী সেনা বা সেনাপতি না। তাছাড়া যুদ্ধের আওয়াজ তোলা অনেকেই মাদকে জড়িত থাকায় তথাকথিত যৌক্তিকতা নিয়ে সন্দিহান এই বিষয়ে যে আমি শহীদ বিপক্ষের হাতে হবো নাকি পক্ষের বিশ্বাসঘাতকের হাতে এই ব্যাপারটা তো আছেই!

আমি ছাপোষা মানুষ কৃষির সাথে থেকে বাকি জীবন কাটাতে চাই। আমাকে নিয়ে মাদকসেবিদের দুশ্চিন্তার কিছু নেই, আক্রোশ থেকে আক্রমনের তালিকা থেকে আমাকে সরিয়ে রাখলে ভবিষ্যতে আপনার নিজের দেশের বহুত উপকার হবে কথা দিলাম।

আরে ধুর, কারে কি বলতেছি! আপনি তো মাদক নেননা বা মাদকের পক্ষের লোকও না, আপনাকে বলে কি হবে!


শনিবার, ২১ মে, ২০২২

রিয়েল লাইফ লটারি, প্রস্তুত ভাইরালিটি ও অপ্রস্তুত ভাইরালিটি

সোশ্যাল মিডিয়ার সুবাদে ভাইরাল কথাটার সাথে আমরা পরিচিত। অল্প সময়ে কোন একটা তথ্য, লেখা, ছবি, ভিডিও ইত্যাদি দিয়ে কারোর (বা কোন বিষয়, বস্তু) রাতারাতি পরিচিতি পাওয়াটাকেই ভাইরাল হওয়া বলা যায়।


লটারি অন্যদিকে একটা টোকেন যেটা খুবই অল্প দামের হলেও সাধারণত এর পুরস্কার অনেক মূল্যবান হয়। দেশের জনসাধারণের কাছে লটারি জিনিসটা খুবই পরিচিত। অনেকেই লটারি কিনে আশায় বসে থাকেন, যদি লাইগা যায়!


নাহ অপরাধবোধ জাগাইতে চাইতেছি না। আজকে বরঞ্চ কিছু মানুষের বাস্তব জীবনের লটারির মতো ঘটনা, সেগুলো জিতে তাদের কি প্রাপ্তি হয়েছে সেটা বলবো। আর লটারি জেতার সম্ভাবনা কিভাবে বাড়ানো যায় তা বলবো।


ঘটনা ০১ঃ

ভারতের জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো “কৌন বনেগা কারোরপাতি” বা কে হবে কোটিপতির ২০১১ সিজনে সুশিল কুমার নামের একজন সাধারণ লোক ৫ কোটি রুপি জিতে। সেই সময়ে তুমুল জনপ্রিয় ও আলোচিত হয়। মিডিয়া, সামাজিক অনুষ্ঠান (সোশ্যাল মিডিয়া তখনো সেভাবে এভেইলেবল ছিল না সবার কাছে) ও অন্যান্য শোতে ডাক পেতে থাকেন। যা থেকে ট্যাক্স ও আনুসাংগিকতা চুকিয়ে সাড়ে তিন কোটি টাকার মতো হাতে পায়! কি ভাবছেন? লাইফ সেট?


হ্যাঁ, কোটি টাকা পেলে আর কি লাগে জীবনে। উড়িয়েও তো শেষ করা যাবে না। তাই আমরা অনেকেই যেমন করতাম, তিনিও করেছিলেন। টাকা লাগামহীনভাবে খরচ করতে থাকলেন। অবশ্য অনেক দানও করেছিলেন।


এদিকে তার পড়াশোনায়ও সময় দিতে পারছিলেন না বাইরের জীবনের জনপ্রিয়তায় সময় দিতে দিতে। “খ্যাতির বিড়ম্বনা” কবিতা যারা পরেছেন, তারা সহজেই যোগসূত্র করে ফেলতে পারবেন দুটো ঘটনা। একসময় খ্যাতি তার বিড়ম্বনা হয়ে দাঁড়ালো। এদিকে আকাশসম মনে হওয়া কোটি টাকাও শেষ হয়ে আসতে থাকলো। অবশ্য তিনি ক্যাব ব্যাবসা, সিমেয়ও ইনভেস্ট করেছিলেন। কিন্তু সবই ফেল হয়। এমনকি শোনা যায় যে দানগুলো করেছিলেন সেগুলোও ভুল যায়গায় গিয়েছিল। মানে কিছু সুবিধাবাদীরা সেগুলো নিয়ে নিয়েছিল। অতঃপর তার সব টাকাই এক একে শেষ হয়ে যায়।


ঘটনা ০২ঃ

রানু মণ্ডলের নাম শোনেননি কেউ আছেন! সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল জনপ্রিয়তা পাওয়া রানু মন্ডল রাতারাতি ভাইরাল হয়ে গিয়েছিলেন ২০১৯ সালে। স্টেশনে গাওয়া একটি গান সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হলে তারকা খ্যাতি পেয়ে যান। রিয়্যালিটি শোতে ডাক পান অতিথি হিসেবে, হিমেশ রেশমিয়ার সাথে ডুয়েট গান করেন। একদম জিরো থেকে হিরো যাকে বলে হয়ে যান।


কিন্তু তার জনপ্রিয়তা কমতে থাকে ভক্তদের সাথে তার নাক সিটকানো আচরণের জন্য। যেই নেটজেনরা মাথায় তুলেছিল, তারাই ধীক্কার জানাতে থাকে। যেভাবে প্রশংসা করেছিল “ষ্টেশনে গান গেয়ে টাকা কামানো কারোর গলা এতো সুমধুর!” সেই নেটিজেনদেরই অনেকে একইভাবে ধিক্কার দিতে থাকেন “ষ্টেশনের ভিখারির কাছে এর চেয়ে বেশি কি আশা করা যায়! একটু জনপ্রিয়তা পেতেই অহংকার চেপেছে!”


ঘটনা ০৩ঃ

গত বছর শ্রীলঙ্কান ভাষার একটি গান তুমুল জনপ্রিয়তা পায়। গানটির নাম ছিল “মানিকে মাগে হিতে।” প্রথমে টিকটকে ভাইরাল হলেও আস্তে আস্তে অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল জনপ্রিয়তা পায় গানটি ও গানটির গায়েন “ইয়োহানি দিলোকা ডি’সিলভা” ডাকনাম ইয়োহানি। স্বাভাবিকভাবেই দেশ বিদেশের বহু ইন্টার্ভিউ, শো তে ডাক পেতে থাকেন ইয়োহানি।


তারপর? তারপর আরকি। কদিন যেতেই ফিকে হয়ে যায় সব! এমন ভাবছিলেন? তা হয়নি। আদতে এখনো তার জনপ্রিয়তা বিদ্যমান। সম্প্রতি শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে ইয়োহানি ভারতে এসে কনসার্ট করে তার দেশের জন্য সহযোগিতা চেয়েছিল। শ্রীলঙ্কার অবস্থা ভাল না হলেও অনুমান করা যাচ্ছে তার জনপ্রিয়তা বিদ্যমান এখনো।


প্রথম ঘটনায় টাকা আর জনপ্রিয়তা একসাথে ধরা দিয়েছিল সুশিল কুমারের কাছে। মনে মনে হয়তো তিনিও ভেবেছেন কোটি টাকা জেতার কথা। কিন্তু অনুমান করা যায় এই জনপ্রিয়তা আর টাকা একসাথে সামলানোর মতো দক্ষতা, বা নতুন এই জনপ্রিয় অবস্থায় সামলিয়ে নেয়ার অবস্থায় তিনি ছিলেন না। যার কারণে সেগুলো তিনি ধরে রাখতে পারেননি। অবশ্য পরে তিনি পড়ালেখা চালিয়ে যান। খুব সম্ভবত তিনি এরপর আঠারো হাজার টাকা (রুপির) চাকরি শুরু করেন। সাধারণ জীবন যাপন করছেন।


দ্বিতীয় ঘটনায় রানু মণ্ডলের কাছে জনপ্রিয়তা ধরা দিয়েছিল ভাইরালিটির মাধ্যমে। এই সময়ে যেটাকে একরকম টাকাই বলা যায়। যে যত জনপ্রিয় সে তার ফেসভ্যালু তত বেশি। তার পেছনে টাকা খরচ করতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠান ও বিজ্ঞাপন দাতারা। কিন্তু রানু মণ্ডলের সেই শিক্ষা, অভিজ্ঞতা বা গ্রুমিং কিছুই ছিল না। যার কারণে আমিও অবশ্য তাকে দোষারোপ করতে রাজি না। আদতে তার পরিবেশ বা পরিজন কেউই অমন ছিল না যাতে নতুন জনপ্রিয় অবস্থার সাথে মানিয়ে নিতে পারতেন তিনি। তার এটা বোঝার সক্ষমতা ছিল না যে দর্শক বা ভক্তরাই তাঁকে জনপ্রিয়তা দিয়েছিল যাদের প্রতি তাদের আন্তরিক হওয়া উচিৎ ছিল।


তৃতীয় ঘটনায় ইয়োহানিকে দেখতে শিশুসুলভ মনে হলেও আদতে সে মাস্টার্স করা শিক্ষিত এক তরুণী। এই গানের পূর্বেই তার ক্যারিয়ারে সংগীত সংক্রান্ত অর্জন ছিল। এমনকি তার স্থানীয় বাদ্যযন্ত্র এক্সপোর্টের বিজনেসও রয়েছে। মোদ্দাকথা জনপ্রিয়তা তার কাছে বাড়তি চাপ বা অভিশাপ হিসেবে না এসে তার ক্যারিয়ারে নতুন পালকের মতো কাজ করেছে।


ইয়োহানি একটা দৃষ্টান্ত যে লটারি বাস্তব জীবনে লটারি পাওয়ার সুযোগ কিভাবে তৈরি করে রাখতে পারেন। এক্ষেত্রে “মানিকে মাগে হিতে” তার লটারি ছিল। কিন্তু সে প্রস্তুত ছিল। জনপ্রিয়তা পেয়ে ধরে রাখতে পারার কাতারে দেশের জনপ্রিয় ইউটিউবার “কিটো ভাই” এর কথা বলা যায় অথবা “ভাইসাব” এর কথা। যাদের জনপ্রিয়তা পরবর্তী কার্যকলাপে তাদের যথেষ্ট উপযুক্ত মনে হয়। এছাড়াও তাদের ব্যাকাপ ক্যারিয়ার আছে। জনপ্রিয়তা দুর্ঘটনাবসত জনরোষ না হলে ওই জনপ্রিয়তা ছাড়াই তাদের জীবন চালিয়ে নিতে পারবেন তারা।


আপনার আমার অনেকের সেই গায়কী বা অভিনয় প্রতিভা হয়তো নেই! আমরা কি তাহলে বাস্তব জীবনে লটারি জিততে পারবো না?


আসলে বেশীরভাগ ক্ষেত্রে জেতার দরকারও হয় না। কারণ লক্ষ্য করলে দেখবেন কতজন মানুষ জনপ্রিয়? বেশীরভাগ মানুষই সাধারণ। অনেকক্ষেত্রেই জনপ্রিয়দের থেকেও তারাই ভালো থাকেন, সুখে থাকেন।


তারপরও আপনার সুযোগ আছে এমনি এমনি ভাইরাল হয়ে যাওয়ার বা এখনকার ফেসভ্যালুর যুগের লটারি লেগে যাওয়ার। এর বাইরেও সম্ভাবনা বাড়াতে চাইলে আপনি বিনিয়োগ করতে পারেন। এখন শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করবেন না ব্যাবসায় বিনিয়োগ করবেন সেটা আমি বলে দিচ্ছি না।


আদতে আঙ্গুল দিয়ে উপযুক্ত বিনিয়োগের ক্ষেত্র দেখিয়ে দেয়ার মতো ফাইন্যান্স এক্সপারটিজও আমার নেই। বা হলেও আমার কথাই শুনতে হবে তাও জরুরি না।


এক্ষেত্রে আরো কম ঝুঁকির ক্ষেত্র হতে পারে মিউচুয়াল ফান্ডের মতো ক্ষেত্রে সঞ্চয়, এক্ষেত্রে অবশ্যই বিশ্বস্ত ব্যাংকে জেনেবুঝে কাজটি করতে হবে। অনেক টাকা একসাথে থাকলে নির্ভেজাল জমি একটা ভালো ক্ষেত্র। আপনার জমি থাকলে সেখানে আপনি কৃষি বাণিজ্য করতে পারেন। গাছ লাগিয়ে রাখতে পারেন।


বিনিয়োগ ও সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে একটি সহজ হিসাব হচ্ছে অল্প বয়সে শুরু করে দেয়া। যেমন আপনি বিশ বছর বয়সে প্রতিমাসে দুই হাজার টাকা সঞ্চয় করলেন ( একরকম বলতে গেলে প্রতিমাসে দুই হাজার টাকার লটারির টিকেট কেনেন, যেই টিকিটে প্রায় নিশ্চিত আপনি একটা পুরস্কার পাবেন), আমি ত্রিশ বছর বয়সে প্রতিমাসে দুই হাজার টাকা সঞ্চয় করতে থাকলাম। আমারা উভয়েই পঞ্চাশ বছর পর্যন্ত বাঁচলেও একই বয়সে আপনার প্রাপ্ত নিশ্চিত পুরস্কার গিয়ে দাঁড়াবে অন্তত ৭ লক্ষ বিশ হাজার টাকায়, আমার হবে ৪ লক্ষ আশি হাজার টাকা। অন্তত বললাম কারণ হিসেবটায় কোনরকম ইন্টারেস্ট নেই (টাকাপয়সা সংক্রান্ত ইন্টারেস্ট)। প্রফিট ও ইন্টারেস্টের অনেক ক্ষেত্র আছে, যেগুলোর কোনটি আধুনিক সমাজে আইনত বৈধ হলেও ধর্মীয় অনুভূতি জড়িত। এই লেখায় জটিল সেই বিষয়গুলোতে আর আলোকপাত করলাম না।


ইন্টারেস্ট বা প্রফিটেবল কোন জায়গায় না রেখে টাকার নোট জমাতে থাকলে অবশ্য টাকার মুল্যমান কমবে ইনফ্লেশনের কারণে। ইন্টারেস্ট বা গ্রাম্য ভাষায় সুদ নেয়ায় অনাগ্রহীদের জন্য বিনিয়োগের ক্ষেত্র রয়েছে।


ইন্টারেস্ট, ইনভেস্টমেন্ট রিটার্ন, পয়সা বাচানো, ব্যাবসায়ীক স্কোপ, প্রতারণা থেকে বাচার সম্ভাব্য উপায় এসব বিষয়গুলো অবশ্য DAWN TALES এ ধীরে ধীরে তুলে ধরবো। অনলাইনে যাতে এমনি এমনি সময় নষ্ট না হয়, আপনাদের সময়ের ভ্যালু এড করতে এই ধরনের বিষয়ের উপর কন্টেন্ট পাবেন। আপনাদের সহযোগিতা পেলে অনুপ্রেরণা পাবো এমন ভ্যালু এডিং কন্টেন্ট তৈরি করতে। কমেন্টে চ্যানেল লিংক দেয়া থাকবে, সাবস্ক্রাইব করলে মিউচুয়াল বেনিফট হবে কথা দিলাম। শেয়ার করতে পারেন পছন্দ হলে। Hope you create scopes and win a lottery in real life!

শনিবার, ৭ মে, ২০২২

আখের রস বিক্রি করে মাসে আয় ৪০০০০ টাকা! DAWN TALES

ময়মনসিংহের বড় মসজিদ গেটের সামনে দিয়ে হেঁটে যেতেই হঠাৎ চোখ পরলো ইঞ্জিন চালিত মেশিনে আখের রস তৈরী করছেন এক অর্ধ বয়স্ক মুরব্বি লোক। ওনাকে দেখে মনে মনে একটি লাইন উচ্চারিত হলো- 
বয়সের ধার ধারে না জীবন, বেঁচে থাকার তাগিদেই জীবন বেছে নেয় যেকোনো জীবিকা।

খুব একটা ব্যস্ততা না থাকায় মনের কৌতূহল বশত এগিয়ে গেলাম অর্ধবয়স্ক লোকটির সামনে। 
ছোট্ট এই ইঞ্জিন চালিত মেশিনে চার-পাঁচটি গ্লাস, একটি জগ, একটি পানি ভর্তি বালতি আর অনেকগুলো আখ ( কুইশর) নিয়ে মানুষের তৃষ্ণা মেটাচ্ছেন এই লোকটি।
আখের রস করছেন দুলাল মিয়া


হুট করে কথা বলা যায় না বিধায় এক গ্লাস আখের রস দিতে বললাম মুরব্বি কে। দুটো আখ চাপকলে ঢুকিয়ে দিলেন, মেশিনের চাপে আখের রস নিংড়ে পরছে। 
গ্লাসে চুমুক দিতে দিতে মুরব্বিকে তার নাম জিজ্ঞেস করলাম, উত্তরে তিনি বললেন দুলাল মিঞা। লোকটির ব্যবহার ভালো।

কিছুটা বন্ধুত্ব পারায়ণ হয়ে মুরব্বির কাছে কিছু প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলাম ;
 উত্তরে তিনি বলেন- গ্রামের বাড়ি, ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া। পরিবার ফুলবাড়িয়া থাকলেও তিনি ব্যবসার কারণে এখানেই থাকেন, কেওয়াট খালি রেল ব্রীজের নিচে।

দুই ছেলে এক মেয়ে। বড় ছেলে বিবাহিত, পেশায় ইঞ্জিন মেকানিক। ছোট মেয়ে ক্লাস নাইনে পড়ে।
এই পেশায় কেমন করে এসেছেন জানতে চাইলে দুলাল মিঞা বলেন - ১৯৯৩ সালে মেট্রিকুলেশন পাশ করেছিলেন তিনি। এর পর জীবিকার তাগিদে চলে যান ঢাকা শহরে। সেখানে আট বছর এই আখের রসের ব্যবসা করে ময়মনসিংহ চলে আসেন।

১২ বছর যাবত বড় মসজিদের সামনে আখের রস বিক্রি করছেন। সকাল ১০ টায় ভ্যান নিয়ে চলে আসেন এখানে, ব্যবসার পাট চুকিয়ে রাত ১১ টায় চলে যান। 

ব্যবসার প্রথম দিকে ২০ হাজার টাকা দিয়ে ডিজেল চালিত আখের রস বের করার জন্য পুরাতন একটি মেশিন কিনেছিলেন। সে মেশিনটি ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন। পরবর্তী তে ৭২ হাজার টাকা খরচে ভ্যান সহ ব্যাটারি চালিত একটি মেশিন কিনেন।
ব্যাটারিচালিত মেশিন


কোন জায়গা থেকে আখ সংগ্রহ করেন তা জানতে চাইলে দুলাল মিঞা বলেন- 
ফুলবাড়িয়ার বিভিন্ন আখ চাষীদের কাছ থেকে মৌসুমে মৌসুমে সরাসরি আখের ক্ষেত কিনে নেন। সেখান থেকে আখ কেটে পাঠানোর ব্যবস্থা আছে। সংগ্রহকৃত আখ নিজেই চেঁছে-ছিলে প্রস্তুত করেন।
প্রতিদিন কেমন বিক্রি হয় জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন- 
শীতের তিনমাস পৌষ-মাঘ-ফাল্গুন বিক্রি কম হয়। দিনে ১২০০-১৫০০ টাকা। খরচ বাদে ৫০০ টাকার মতো থাকে।

বাকি নয়মাস গরমের সময় দিনে প্রায় ৩-৪ হাজার টাকা বিক্রি হয়। যেখানে বিক্রির প্রায় অর্ধেক লাভ থাকে সাধারণত। এভাবেই দুলাল মিঞা ২০ বছর যাবত চালাচ্ছে জীবন-জীবিকা এবং একটি সংসার।

গ্লাসে আখের রস অনেক আগেই শেষ, মুরব্বি কে জিজ্ঞেস করলাম চাচা এক গ্লাস কত? 
মুচকি হেসে তিনি উত্তর দিলেন - বাবা প্রতি গ্লাস ১০ টাকা...
লেখাঃ শোভন
সাক্ষাৎকারঃ বদরুল

NPUC value of food: Affordable nutrient rich foods list (Part 01)

কোন  খাবারে এক টাকায় কতটুকু পুষ্টি উপাদান পাচ্ছেন সেটাকেই বলছি নিউট্রিয়েন্ট পার ইউনিট কস্ট বা Nutrient Per Unit Cost (NPUC value) উদ্দেশ্য ক...