বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন, ২০২২

অপ্রচলিত ও বুনো কিন্তু সম্ভাবনাময় ফল

বঁইচি নামে পরিচিত যে ফলটা, বহুদিন ধরে খুজতেছি। "পেলা গুডা" নামে পরিচিত আমাদের গ্রামে।

পক্ব শক্ত "পেলা গুডা" বা বঁইচি ফল ছোটবেলায় দুই হাতের তালুতে বুলি আউরে কচলাতে কচলাতে নরম করতাম।

"আম পাকে জাম পাকে,

মামার বাড়ির পেলা পাকে"

শহরে এক জায়গায় খেলতে যেয়ে বঁইচি সদৃশ একটা গাছ দেখতে পেয়ে বাসায় এনে লাগিয়েছিলাম ৮-৯ বছর হলো। ফল, ফুল কিছুই আসে না। আমার হতাশাও কমে না গাছটাকে নিয়ে।

বেতফল এবছর দক্ষিনাঞ্চলে যাওয়ার আগে কোথাও দেখেছি মনে পরে না। বন্ধুরা সাজেক থেকে কিনেছিল যতদুর মনে পড়ে। এতো সুন্দর দেখতে! একদম মেয়েদের গয়নার ডিজাইন করা গোল গোল পুতির মতো।

সত্য বলতে খেতে সুস্বাদু মনে হয়নি আমার কাছে। আপনার নস্টালজিয়া হলে, আশেপাশে খাওয়ার কিসসু না থাকলে, টাইম পাসের ইচ্ছা হলে, অতিরিক্ত সুস্বাদু খাবার খাওয়ার পর মুখের স্বাদ স্বাভাবিক করতে চাইলে খেতে চাইবেন এমন মনে হয়েছে। বন্ধুদের কেও কেও পছন্দ করেছে।

যাইহোক, ইদানীং "চাম কাঠাল" বা চাপালিশ গাছের কাঠাল সদৃশ  ফল চোখে পড়ে শহড়ে। একটা ছোটখাটো প্রতিবেদন দাড় করানোর চেষ্টায় আছি।

চাপালিশ নিয়ে সম্ভাবনার বিষয় হলো, এটা বেশ পরিচিত একটা কাঠ। মধুপুরের বনে পাওয়া যায় বললেন চাপালিশ ফল তথা চাম কাঠাল বিক্রেতারা।

ধরুন, আপনি গাছ লাগিয়ে রাখবেন। কাষ্ঠল গাছ। চাপালিশ সেই চাহিদা পূরনের পাশাপাশি পুষ্টিও দেবে (চাম কাঠালের পুষ্টিমান পাই নাই কোথাও, কেন কোথাও নাই এটা একটা প্রশ্ন হতে পারে)। বেশ কয়েক জাতের ভিটামিন পাওয়া যাবে এটুকু নিশ্চিত। যেহেতু গাছগুলো অপ্রতুল, ফলের চাহিদা ভালোই থাকবে।

আরেকটা ক্ষেত্র হতে পারে গ্রাফটিং!

এই চাপালিশ আমাদের জাতীয় ফল কাঠাল পরিবারের সদস্য। চাম কাঠালের শেকড়ের বিশেষত্ব, বুনো পরিবেশে বেচে থাকার বৈশিষ্ট্য ইত্যাদি বিভিন্ন দিক বিবেচনায় চাপালিশে কাঠালের গ্রাফটিং করে কাঠালের বিস্তৃতি বাড়ানো যেতে পারে।

এমন আরেকটি উদাহরণ হচ্ছে ডেওয়া। যেটা কাঠালের চেয়ে অধিক লবনাক্ততা সহিষ্ণু। যেকারণে ডেওয়া গাছে কাঠালের গ্রাফটিং করে উপকুলীয় অঞ্চলে কাঠাল চাষ বা ভবিষ্যতের লবনাক্ততার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা যেতে পারে বলে পড়েছিলাম কোথাও।

থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়ার দিকে পাওয়া ডুরিয়ানের গন্ধ নাকি বিকট তীব্র! কিন্তু কি দাম বাপ্রে বাপ! তারপরও আন্তর্জাতিক বাজার, পর্যটকদের কাছে ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে।

আমাদের দেশের অপ্রচলিত অনেক ফল আছে যেগুলো আমাদের নজর পাওয়ার দাবি রাখে।

লোকাল ব্র‍্যান্ডিং এর পাশাপাশি কান্ট্রি ব্র‍্যান্ডিং করে (বলতে লজ্জা লাগতেছে, মাধ্যম হতে পারে টিকটকও! যতদিন আছে, ভালো কিছুতে কাজে লাগুক) এগুলোকে সামনে আনা যায়। পাঠ্যবইয়ে, গবেষনায় অল্প অল্প করে এগুলোকে ফুটিয়ে তোলা যায়। কে জানে বঙ্গের ডুরিয়ান হয়ে যাবে হয়তো বঁইচি, কাগজি লেবু, ডেউয়ার মতো কোন ফল!

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

NPUC value of food: Affordable nutrient rich foods list (Part 01)

কোন  খাবারে এক টাকায় কতটুকু পুষ্টি উপাদান পাচ্ছেন সেটাকেই বলছি নিউট্রিয়েন্ট পার ইউনিট কস্ট বা Nutrient Per Unit Cost (NPUC value) উদ্দেশ্য ক...