মঙ্গলবার, ১২ জুলাই, ২০২২

ইলেক্ট্রিসিটি ক্রাইসিসের সম্ভাব্য বিকল্প পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুৎঃ পর্ব ০১

সূর্যালোক শক্তি কাজে লাগিয়ে উৎপাদিত বিদ্যুতই সৌরবিদ্যুৎ নামে চিনি। ফটোভোলটাইক প্লেটে সূর্যরশ্মি পরে কিভাবে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয় সেই সাইন্সে না যেয়ে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কিছু বিষয়ে কথা বলি।

সোলার প্যানেল স্থাপনে কোন বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হয়?

১)স্থান

স্বভাবিকভাবেই যেখানে রোদ পড়ে না বা বেশিরভাগ সময়ে রোদ থাকে না সেখানে সোলার প্যানেল স্থাপনে কাংখিত আউটপুট পাওয়া যাভে না।

২)প্যানেলের দিক

প্যানেল কোন দিকে স্থাপন করা হচ্ছে এটাও গুরুত্বপূর্ণ। যেমন ধরুন শীতকালে সূর্যের দক্ষিনায়ন হয়, এটা চিরন্তন। আপনার বাসার দক্ষিণে বড় গাছ বা স্থাপনা থাকলে প্যানেলের ব্যবস্থাপনা একরকম হবে, না থাকলে অন্য।

৩)প্যানেলের এংগেল

প্যানেলের এংগেলের উপর কার্যকারিতা অনেকাংশে নির্ভর করে।

কার্যকর জীবনকাল

সোলার সিস্টেমগুলোর জীবনকাল সাধারনত ২০ থেকে ৩৫ বছর হয়ে থাকে। প্রতিবছর গড়পড়তা ০.৭% এফিশিয়েন্সি কমে জীবনকালের শেষভাগের দিকে ৭০-৮০% এফিশিয়েন্সি থাকে।

ইনফাস্ট্রাকচার ও ইকুইপমেন্ট

সোলার সিস্টেমের প্রধান পাঁচটি ফিজিক্যাল ইউনিট হচ্ছে ১) সোলার প্যানেল (যেটা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হবে), ২) ইনভার্টার/কন্ট্রোলার (ইনভার্টার দেখা যায় যেই সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে সরাসরি AC সংযোগে চলা এপ্লায়েন্স চালানো হয়। অন্যদিকে কন্ট্রোলার বেশি দেখা যায় গ্রামের সোলার হোম সিস্টেমগুলোতে। সাধারনত সৌরবিদ্যুৎ তথা উৎপন্ন DC শক্তি দিয়ে সরাসরি চলে এমন এপ্লায়েন্স ব্যবহারের ক্ষেত্রে কন্ট্রোলার প্যানেল দেখা যায়। এর আরেকটি সংশ্লিষ্ট বিষয় হচ্ছে ব্যাটারি ব্যাকাপ সিস্টেম থাকে সাধারণত), ৩) ওয়ারিং (সংযোগ তার, যেগুলোর মাধ্যমে প্যানেলের সাথে অন্যান্য সিস্টেম সংযুক্ত থাকে), ৪) প্যানেল সাপোর্টিং স্ট্রাকচার, ৫) ব্যাকাপ ব্যাটারি (দিনের বেলা উৎপন্ন শক্তি সঞ্চয় করে রাখতে ব্যবহার করা হয়। রাতে ব্যাকাপ দেয়)

এরমধ্যে সোলার প্যানেল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলাই বাহুল্য। সোলার প্যানেলের কোয়ালিটির উপর নির্ভর করবে কতটুকু জায়গায় কতটা বিদ্যুৎ পাবেন।

যেমন ধরুনঃ একটা প্যানেল সৌরশক্তিকে ৩০% এফিশিয়েন্টলি বিদ্যুৎ শক্তিতে রুপান্তর করতে পারে অন্যটি ২৫% এ। স্বাভাবিকভাবে প্রথমটার কার্যকারিতা বেশি হওয়ায় প্রথম পছন্দ সেটি হওয়াই স্বাভাবিক। যদিও দামের পার্থ্যক্য একটা ফ্যাক্টর।

আবার এক কোম্পানি প্যানেল গ্যারান্টি দিল ২০ বছর, অন্যটি ৩০ বছর। দুটি কোম্পানিরই বিশ্বস্ততা, বিশ্বাসযোগ্যতা কাছাকাছি হলে অবশ্যই ৩০ বছরের গ্যারান্টির প্যানেল উপযোগী। বিশ্বস্ততা জরুরি কারন একটা কোম্পানি ৩০ বছর গ্যারান্টি দিলো, কিন্তু কোম্পানির অবস্থা যদি ১০ বছর টেকার মতো না হয় তাহলে প্যানেল লাইফটাইমে নষ্ট হলে গ্রাহক কাংখিত বিক্রয়োত্তর সেবা পাবে না।

অপেক্ষাকৃত আধুনিক প্রযুক্তির প্যানেলগুলোর সৌরশক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রুপান্তরের সক্ষমতা অধিক।

ডিগ্রেডেশন রেট জানা থাকলে ভালো। যেই প্যানেলের এফিশিয়েন্সি ডিগ্রেডেশন রেট কম সেটা অধিক উপযোগী।

মেইন্টেনেন্স

নন-ফিজিক্যাল পার্টের মধ্যে আফটার সেলস সার্ভিস গুরুত্বপূর্ণ দিক সৌরবিদ্যুতের ক্ষেত্রে। কেনার আগে, সিস্টেম স্থাপনের আগে এই বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

সৌরবিদ্যুতের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মেইন্টেনেন্স। বলা হয়ে থাকে সোলার প্যানেল যদি ছয় মাস অযত্নে থাকে, তাতে জমা ধুলাবালির কারনেই ৩০% এর মতো কার্যক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে। আবার যথোপযুক্ত ভাবে প্যানেল পরিষ্কারের পদ্ধতি জানা না থাকলেও স্ক্র‍্যাচ পরে বা ভেংগে গিয়ে ক্ষতি সাধনের সম্ভাবনা আছে।

তাছাড়া যেই স্ট্রাকচারের উপর সোলার প্যানেল বসানো হয় সেটা যদি মরিচ রোধী না হয় তাহলে প্যানেলের ক্ষতি হওয়া ছাড়াও স্ট্রাকচার বাবদ ব্যয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকে।

ব্যবহৃত তারের গুনগত মানের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। সোলার পাওয়ার সিস্টেমের লাইফটাইমে যদি সংযোগ তার নিম্নমানের হওয়ায় নষ্ট হয়ে যায় তাহলেও ঝামেলার পাশাপাশি অহেতুক খরচ বৃদ্ধির সম্ভাবনা আছে।

......................................................................................................চলবে

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

NPUC value of food: Affordable nutrient rich foods list (Part 01)

কোন  খাবারে এক টাকায় কতটুকু পুষ্টি উপাদান পাচ্ছেন সেটাকেই বলছি নিউট্রিয়েন্ট পার ইউনিট কস্ট বা Nutrient Per Unit Cost (NPUC value) উদ্দেশ্য ক...