টেকসই উন্নয়ন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
টেকসই উন্নয়ন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২

Future of Energy: Reuse-Recycle (শক্তির ভবিষ্যত: পুনঃচক্রায়ন, পুনঃব্যবহার) Part 01

বাথরুমের পানি ট্রিটমেন্ট করে কেন খেতে হচ্ছে?

ডিরেক্ট বাথরুমের পানি কে খাবে! জোক্স এপার্ট, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যেতে থাকায় ও বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকটে পানি ট্রিটমেন্ট করে রিইউজ করা হচ্ছে। বিভিন্ন বর্জ্য পানি পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে।

এই ধারাটাই আসতে পারে (খুব সম্ভবত আসবে) এনার্জির ক্ষেত্রে। মানুষ যতই পরিবেশের প্রতি সংবেদনশীল হবে, ততই চেষ্টা করবে পরিবেশ-প্রকৃতি ডিস্টার্ব না করতে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি সীমিত রাখতে চেষ্টা করবে।

আমাদের জীবনযাপনে ব্যয়িত বিভিন্ন শক্তির খাত থেকে ওয়েস্টেড এনার্জি যেমনঃ চায়ের পানি গরম করার সময় কেটলি, পানি উত্তপ্ত হয়। অর্থাৎ পানি গরম করতে চুলার তাপ ব্যয় করা একমুখী ব্যবহার। এর বহুমুখী ব্যবহার আসবে সামনে। 

 চায়ের পানি গরম করার এই ব্যবস্থায় যুক্ত হতে পারে স্টারলিং ইঞ্জিনের মতো ঐতিহাসিকভাবে সিম্পল মেকানিজমে তৈরি কিছু ডিভাইস। স্টারলিং ইঞ্জিনের বেজ হচ্ছে টেম্পারেচার ডিফারেন্স কাজে লাগিয়ে মেকানিক্যাল রোটেশন বের করে আনা।

আসতে পারে ফ্রিজ ও হিটার একসাথে ইন্টিগ্রেটেড হয়ে। কারণ ফ্রিজ থেকে তাপ উৎপন্ন হচ্ছে, এটা নষ্ট করবো কেন?

মজার ব্যাপার হচ্ছে এই ধরনেরই একটা প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছিলেন আমাদের আমাদের কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের অন্তর্গত Department of Farm Power & Machinery বিভাগের শিক্ষক শামীম আহমেদ, তাও ২০১৮ সালে। আমি তখন প্রথমবারের মতো দ্বিতীয় বর্ষে (!!!)। Engineering Mechanics ক্লাস নিতেন তিনি। কোন একটা আইডিয়া নিয়ে (খুব সম্ভবত ফ্রিজ আর হিটার কম্বাইন করলে কেমন হয় প্রশ্নের উত্তর জানতে চেয়েছিলাম) তাঁর কাছে যাওয়ার পর কি নিয়ে কাজ করছেন জিজ্ঞাসার উত্তরে খুব সম্ভবত বলেছিলেন “ওয়েস্টেড হিট রিউজ করার প্রযুক্তি”-টার কথা। এখন কি অগ্রগতি জানা নাই অবশ্য।

যাইহোক, সিমিলার কনসেপ্ট (ওয়েস্ট এনার্জি রিইউজ) এর প্রচলিত ব্যবহার বলতে গেলে আধুনিক রিজেনারেটিভ ব্রেকিং সিস্টেমের কথা বলা যায়। যেটা দেখা যায় কিছু আধুনিক ই-বাইকে। যখন ই-বাইক পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নামে, তখন ঘুরন্ত চাকা থেকে শক্তি/বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।

বিজ্ঞানের অনুরাগী হলে অবাক হয়ে যাবেন না, কারণ বস্তুত মোটর আর জেনারেটর একই। জেনারেটরকে ঘোরালে বিদ্যুৎ দেয়, মোটরকে বিদ্যুৎ দিলে ঘোরে। সেই আধুনিক ই-বাইকগুলোতে সাধারণত থাকে রিজেনারেটিভ হাব মোটর বা চাকার ভেতরে সংযুক্ত মোটর। যেগুলোতে বিদ্যুৎ দিলে ঘোরে, আবার ঘোরালে বিদ্যুৎ দেয়।

খুবই অল্প বিদ্যুৎ পাওয়া যায়, তাও ক্ষেত্রবিশেষ।

কিছুদিন আগে PV Magazine-এর একটা লেখা শেয়ার করেছিলাম। যেখানে দেখা যায়, বিজ্ঞানীরা ট্রান্সপারেন্ট ফটোভোল্টাইক প্যানেল নিয়ে কাজে সাফল্য পাচ্ছেন। যেগুলো ব্যবহার করা যাবে জানালার মতো বহুল ব্যবহৃত জায়াগায়। লক্ষ্য ফ্রি সূর্যশক্তির যতটা শুষে নেয়া যায়। পাশাপাশি ঘরে আলো জ্বলে, সেই আলো থেকে বিচ্ছুরিত শক্তিও পুনঃব্যবহার করা যাবে এই প্রযুক্তি দিয়ে।

তাছাড়া যেসব ক্ষেত্রে গ্লাস ব্যবহার করি, অনেকগুলোতেই এই ট্রান্সপারেন্ট PV Module ব্যবহার করে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। হ্যাঁ, কম হবে। কিন্তু কোটি কোটি ক্ষেত্র থেকে অল্প অল্প বিদ্যুৎ পাওয়া গেলেও অনেক বড় একটা এমাউন্ট হবে।

প্রাথমিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে থাকছে সহজলভ্য কাঁচামাল দিয়ে সেই প্রযুক্তিগুলো ডেভেলপ করা। এবং সেগুলো স্বল্পমূল্যে সবার জন্য এভেইলেবল করতে পারা। যার জন্য এসব খাতগুলোতে গবেষণা, প্রণোদনার প্রচুর প্রচুর দরকার।

অদূরভবিষ্যতে আমাদের এই চিন্তাগুলো আরো বিকশিত হবে। আরো অনেক অনেক ক্ষেত্র বের হবে যেখানে এখন শক্তি, তাপ হারিয়ে যাচ্ছে। যেগুলো আবার পুনঃব্যবহার করা যাবে।

এখনকার তাপীয় ইঞ্জিনগুলোর গড়পড়তা ৩০-৫০% এফিশিয়েন্সি উপরোক্ত রিইউজ, রিসাইকেলের মাধ্যমে হয়তো ৭০-৮০-৯০%+ এফিশিয়েন্ট হয়ে যাবে। কাজ চলছে সেসব লক্ষ্যে, চলবে।

আমরা বরঞ্চ খেলাধুলায় টাকা ঢালি, গেম ডেভেলপমেন্টের চেয়ে গেম খেলার ইন্ডাস্ট্রির দিকে মনযোগ দিই। সোশ্যাল মিডিয়ার মতো সিস্টেম বানিয়ে বাইরে থেকে টাকা আনার চেয়ে টিকটকে কারেন্সি কিনে খ্যামটা নাচুনেদের ভিডিওতে গিফট করি। নড়বড়ে গার্মেন্টসকে মাথায় তুলে রাখি।

শিক্ষা-গবেষনায় অযথা খরচের কি দরকার?

শনিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২২

গ্রীনহাউজ ইফেক্ট ও সুইস ব্যাংকের টাকা

গ্রীনহাউজ বলতে কাগজে কলমে শীতপ্রধান দেশে কাচ ঘেরা ঘর বোঝায়। যেটার বেসিক সাইন্সটা হচ্ছে সূর্যের তাপ তথা স্বল্প দৈর্ঘ্যের তরংগ কাচের ভেতর প্রবেশ করতে পারলেও ভেতরে শোষিত হওয়ার পর বাকি তাপ প্রতিফলিত হয়। কিন্তু সেটার তরংগ দৈর্ঘ্য অপেক্ষাকৃত বেশি হওয়ায় কাচ ভেদ করে বাইরে যেতে পারে না, যার কারনে ভেতরটা উষ্ণ থাকে।

গ্রীনহাউজ ইফেক্টটা মূলত ওই গরম থাকার প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করে যেখানে কাচের কাজ করে গ্রীনহাউজ গ্যাসগুলোর বলয়। যার ভেতরে উষ্ণ থাকে পৃথিবী।

পৃথিবী উষ্ণ থাকারও দরকার আছে, কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত সবকিছুই খারাপ। গ্রীনহাউজ গ্যাসগুলোর অন্যতম হচ্ছে কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন, সি এফ সি প্রভৃতি। এরমধ্যে কার্বন ডাই অক্সাইড উষ্ণতা ধরে রাখে অন্যদিকে সি এফ সি ওজোন স্তরের ক্ষতি করে উষ্ণতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ক্ষতিকর অতিবেগুনী রশ্মির সামনে উন্মুক্ত করে দেয় ভূস্তরকে।

বিশ্ব নেতাদের একাত্ম ও একান্ত প্রচেষ্টায় ওজোন স্তরের জন্য ক্ষতিকর সি এফ সি নির্গমন (শীতাতপ যন্ত্রগুলোতে এর বহুল ব্যবহার ছিল) রোধ করা গেছে বলেই বিশেষজ্ঞগন মত দিয়েছেন।

এখন ভূপৃষ্ঠের উষ্ণতা বৃদ্ধিকারি কার্বন ডাই-অক্সাইড ও মিথেনের মধ্যে দৃশ্যত কার্বন ডাই-অক্সাইডের নিঃসরণ সবচেয়ে বেশি। কিন্তু মিথেনের তাপ ধারণ ক্ষমতা কার্বন ডাই-অক্সাইডের চেয়ে বহুগুনে বেশি। নাম্বার দিয়ে বলতে গেলে পঁচিশ গুন বেশি। এই তথ্যটা মনে রাখবেন, পরবর্তীতে আলোচনায় লাগবে।

সব দেশেই জলবায়ু পরিবর্তন, বিশেষ করে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাব কমানোর জন্য কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণের উপর জোর দেয়া হচ্ছে। ফসিল ফুয়েল তথা কয়লা, তেল, গ্যাস প্রভৃতির উপর নির্ভরতা কমিয়ে সৌর, জল ও বায়ুশক্তির পরিবেশ বান্ধব নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে ঝুকছে বিশ্ব। বিভিন্ন প্রযুক্তি আবিষ্কার হচ্ছে কার্বন ডাইঅক্সাইড ট্র‍্যাপিং এর জন্য। একে বিভিন্ন শক্তির কাচামাল হিসেবেও ব্যবহারের আয়োজন চলছে।

কিন্তু অজনপ্রিয় কিছু গবেষণায় দেখা গেছে গ্যাসফিল্ড, শিল্পকারখানার চিমনী দিয়েও গ্যাস লিকেজ, অপরিশোধিত বায়ু বর্জ্য হিসেবে প্রতিদন বিপুল পরিমানে মিথেন নিঃসরণ হচ্ছে। যেগুলো অনকক্ষেত্রেই বড় বড় কোম্পানিগুলো আড়াল করে রাখছে। এর মধ্যে কিছু কোম্পানির ন্যুনতম মেইনটেনেন্স না থাকার কারনে (যেমনঃ দুটি পাইপের জয়েন্টের নাট ঢিলে হওয়া বা পাইপে ক্ষুদ্র ফুটো) এসব নিঃসরণ হচ্ছে। আবার পাইপের জ্বালামুখেও অতিরিক্ত চাপে আগুন না জ্বলা গ্যাসও মুক্ত হচ্ছে প্রকৃতিতে! অথচ এগুলো যেন দেখার কেও নেই, পঁচিশ গুন বেশি সক্ষমতার উষ্ণকারী গ্যাস বহুল পরিমানে বেড়েই যাচ্ছে।

এমন ব্যবস্থাপনা হীনতা চলতে থাকলে হয়তো দেখা যাবে আমরা একসময় কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমানোর লক্ষমাত্রায় পৌছালেও আদতে তাপমাত্রা কমিয়ে রাখার লক্ষ্যে পৌছাতে পারবো না! কারন সিস্টেমটা হয়ে যাবে তলাবিহীন ঝুড়ি।

এখন আসা যাক সাম্প্রতিক বিতর্কিত ও আলোচিত বিষয় সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশীদের টাকার ব্যাপারে। প্রতিবছর আশংকাজনক হারে বাংলাদেশিদের টাকা বাড়ছে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে। সেসব টাকার উৎস নিয়ে তিন ধরনের মতবাদ শোনা যায়।

-বৈধ

-অবৈধ (প্রধানত হুন্ডির মতো মাধ্যমে পাচার করা, অবৈধ পন্থায় আয় করা)

-উভয়

এরমধ্যে অবৈধ আয় থাকার সম্ভাবনা বেশি, এমনই দাবি বেশিরভাগের। সুইস ব্যাংকগুলো দুনিয়ার অন্য ব্যাংকগুলো থেকে আলাদা বলেই জানি সবাই। সেখানে টাকা রাখলে আয়ের উৎস নিয়ে কোন জিজ্ঞাসা করা হয় না। কয়েক বছর আগেও কার টাকা বা কোন দেশের টাকা এতোটুকুও প্রকাশ করা হতো না। আন্তর্জাতিক মহলের চাপে দেশ ও সঞ্চিত টাকার পরিমানের ব্যাপার ডিসক্লোজ করলেও সঞ্চয়কারীর পরিচয় পাব্লিক করা হয় না।

অনেক বছর ধরেই বিদেশে টাকা পাচার নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন উঠে এসেছে। একেক পক্ষ একেকভাবে ব্যাখা করেছেন। বৈশ্বিক অস্থিতিশীল অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় যখন আমাদের মতো মতো দেশের অর্থনীতি টালমাটাল অবস্থা, ক্ষমতাসীন দলের উপর সব দিক থেকে চাপ আসছে অর্থ পাচারে জড়িতদের বিচারের সম্মুখীন করে পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়ার জন্য।

এমতাবস্থায় কেও বলছেন টাকা পাচার হওয়ার তথ্য ভুল হতে পারে। সুইজারল্যান্ড মিথ্যা বলে থাকতে পারে বা বলেছে তাদের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশীদের টাকার পরিমান নিয়ে।

ওসব নিয়ে গুরুগম্ভীর আলোচনায় না গিয়ে আলোচনা সহজবোধ্য রাখার স্বার্থে ধরে নিন আমির খানের পিকে মুভির বুদ্ধিমান এলিয়েন পিকে তার ফ্লায়িং সসার বাংলাদেশের হালদা নদীর পাশে ল্যান্ড করিয়েছে। সেখানে নেমে নদীর পোনা ধরে জীবিকা নির্বাহ করা এক কিশোরের হাত ধরে বাংলা শিখে নিয়েছে। এরপর নোরা ফাতেহি বাংলাদেশে আসার খবর আগাম দিয়ে তার সাথে সখ্যতা গড়ে। সেই কিশোরের সাথে পিকে হালদার খোলা হাওয়া খাচ্ছিল (পিকে হালদারের কথা বলছি না, এলিয়েন পিকে দেশের হালদা নদীর পাশে বসে হাওয়া খাচ্ছিল বুঝিয়েছি শুধু)। হঠাৎই কিশোর মহিউদ্দিন জানতে চাইলো,

-আচ্ছা পিকে, তুমিতো বুদ্ধিমান। আবার শর্টকাটে অনেক কিছু করে ফেলো। এই যে অত টাকা পাচার করে ধরা খায়, কেনো? টাকার ক্ষমতা দিয়ে বেচে যেতে পারে না?

-হুম। পুকুরে বড়শি দিয়ে মাছ ধরেছো কখনো?

-হ্যাঁ ধরেছি। কিশোর মহিউদ্দিন জবাব দেয়।

-টোপ দিয়ে বড়শি ফেললে কয়টা ধরতে পারো? সবগুলো?

-নাহ।

-বুঝলে কিছু!

মহিউদ্দিন চোখ বড় করে তাকায়। এভাবে ভাবে নি সে কোনদিন। আবার মহিউদ্দিন জানতে চায়।

-দুটো প্রশ্ন করি আপনার কাছে। আপনি টাকা পাচার করলে কিভাবে ম্যানেজ করতেন আর পুকুরের কোন মাছটা রাক্ষুসে যেটা নিয়ন্ত্রণ করা দরকার, কিভাবে করবো নিয়ন্ত্রণ?

-প্রথমত উদাহরণ স্পষ্টই আছে প্রথমটার। দেশে অবৈধ টাকায় কেও নিজের নামে সম্পত্তি করে না। বউয়ের নামে করতো, এখন শ্যালিকা-শ্বশুর-শ্বাশুরির নামেও করে শুনেছি। তার মানে অবৈধ আয় যে করে তার সম্পত্তি না থাকলেও আত্মীয়ের নামে থাকতে পারে। কিছুদিন আগে তোমাদের পুলিশ অফিসার প্রদিপের ক্ষেত্রে যেমনটা হয়েছে। তার স্ত্রীর বৈধ উপার্জনের উৎস না থাকায় তাকেও আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তারা এখন ম্যাচ মেড ইন হেভেন থেকে ম্যাচ মেড ফর জেল! হা হা হা।

মহিউদ্দিন আর পিকে হালদার শীতল বাতাসে অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে কিছুক্ষণের জন্য। পিকে আবার শুরু করে।

দেশে যদি অন্যের নামে সম্পত্তি রাখে বিদেশেও রাখবে এটায় অবাক হওয়ার কিছু নেই। বিদেশে বরঞ্চ বিদেশি পরিচিত বন্ধু বান্ধবীর নামে থাকতে পারে। তাতে পাচারকারীকে ধরা কঠিন আরো।

আর গ্রীনহাউজ গ্যাসগুলোর কথা খেয়াল আছে না? কার্বন ডাইঅক্সাইড আর মিথেন! কিভাবে কার্বন ডাইঅক্সাইডকে ধরার প্ল্যান করতে করতে মিথেনের মতো গ্যাস তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে? সেদিকে কারোর খেয়ালই নেই!

সবাই সুইস ব্যাংক সুইস ব্যাংক করতে করতে যখন সুইস ব্যাংকের হিসেব পাওয়া যাবে (কখনো পাওয়া গেলে) তখন আদতে সেখানে টাকা না থাকলেও যে পাচারই হয় নি এমনটা ভাবাও বোকামি হবে। এতো লম্বা সময় বা অন্য সময়ে নিশ্চয়ি অন্য কোথাও সরিয়ে ফেলবে। সেক্ষেত্রে কারেন্ট ইনফোর চেয়ে ট্রেস ইনফো যেমন আগে কারোর টাকা ছিল কিনা, অন্য কোথাও ট্রান্সফার হয়েছে কি না এমন তথ্য না পেলে কোন লাভ নাও হতে পারে। বুঝলে?

-হুম বুঝেছি।

সায় দিলেও পিকে তাকে ছুয়েই তার মনের কথা বুঝতে পারে, মহিউদ্দিন বোঝেনি। তারপরও তার আগ্রহ আর চেষ্টার জন্য দ্বিতীয় প্রশ্নে এগুলো।

এখন আসি মাছ কোনটা রাক্ষুসে কিভাবে বুঝবে। পুর্নিমার আলোয় স্বচ্ছ নদীর পানিতে তাকিয়ে দেখেছো কখনো?

-হ্যাঁ দেখেছি। একদম পরিষ্কার পানি থাকলে নদীর তলা দেখা যায়। মাছ, পোকামাকড়ের দৌড়াদৌড়িও দেখা যায়।

-একদম ঠিক বলেছ। পানিটা স্বাচ্ছ হলেই রাক্ষুসে মাছ না কি মাছ বোঝা যাবে। এটা পুকুরের ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত না। পুকুরের পানি অমন থাকবে না। তাই, ১)রাক্ষুসে মাছ যাতে পুকুরে না আসতে পারে, ২) কেও যেন রাক্ষুসে মাছ না ছাড়ে, ৩) কখনো অমন মাছ ধরা পড়লে নিধন করতে হবে।

রাক্ষুসে মাছে অন্য সব মাছ, মাছের খাবার খেয়ে ফেলছে এজন্য পুকুরে বিষ ঢেলে সব মাছ মরে যাবে ভাবলেও দেখবে পুকুরের কোটর গলে রাক্ষুসে মাছ বেচে বেড়িয়ে যাবে। মারা পড়বে অবলা সাধারণ মাছগুলো।

গপ্পো করতে করতে রাত দশটা বেজে যায়। মহিউদ্দিন বিদায় নেবে। বাড়ি যেতে হবে। এদিকে বিদায় নিয়ে পিকে হালদার পাড় ধরে অন্ধকারে মিলিয়ে গেলো।


বৃহস্পতিবার, ২১ জুলাই, ২০২২

কেউরালি/কেচইর সম্পর্কে কতটুকু জানেন আপনি?

বদরুল, হোস্ট, DAWN TALES|| কেওরালি বা কেচইর নামের জলজ উদ্ভিদ পাওয়া যায় সিলেট, নেত্রকোনার মতো হাওরাঞ্চলের জলাশয়গুলোতে। স্থানীয় লোকজন এটা সবজি হিসেবে মাছ, চিংড়ির তরকারিতে খান।

কেওরালি যাদের স্মৃতির সাথে জড়িত বিশেষ করে যারা ছোটবেলায় হাওরাঞ্চলে থেকেছেন বা জীবনের একটা সময় সেদিকে থেকেছেন তাদের অনেক আবেগ কাজ করে। কেওরালি নিয়ে ইন্টারনেট ঘেটেও খুব বেশি তথ্য পাওয়া যায় নি। সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট, পোস্টের মন্ত্যব্যের ঘর থেকেই টুকটাক তথ্য পাওয়া গেছে।

কেওরালি স্থানীয় কবি লেখকদেরও লেখার অনুসংগ। বিভিন্ন জায়গায় লেখার মাধ্যমে কেওরালি প্রীতি ফুটিয়ে তুলেছেন। কেওরালির বিভিন্ন রেসিপি শেয়ার করেন কেও কেও।

কেওরালির খাদ্য গুন ছাড়াও ভেষজ গুন আছে বলেও বলছিলেন কেও। পেট ফাপার সময় মুরুব্বিরা কেওরালির তরকারি খাওয়াতেন পথ্য হিসেবে।

দেখতে ছোট শাপলার মতো কেওরালি শাপলার চেয়ে অধিক পানি সহনশীল। গাছ পানিতে সম্পূর্ণ ডুবে গেলেও মারা যায় না। ১-১.৫ মিটারের মতো হতে দেখা যায় সাধারণত। কেওরালির সবজির সিজন মূলত বর্ষাকাল। ফুল ফুটে যখন স্তিমিত হয়ে যায় তখন গর্ভাশয় খাদ্যউপযোগি হয়। কিছুটা কামরাংগার মতো দেখতে গর্ভাশয় চেছে-ছিলে খাঁজগুলো সমান করে রান্না করা হয়। গৃহিণীরা লতার তরকারির মতোই মশলাপাতি ব্যবহার করেন রান্নার ক্ষেত্রে। তরকারি খেতে খুবই সুস্বাদু।

এর কান্ড দেখতে কিছুটা নাইটকুইনের পাতার মতো। পানির উপরে শাপলার মতো গোল পাতাও থাকে।

একইসাথে আশা এবং হতাশার কথা হলো সবজি হিসেবে খাওয়া জলজ উদ্ভিদের পুষ্টিমান নিয়ে কোন তথ্য খুঁজে পাওয়া যায় নি। তাছাড়া এটি চাষের সম্ভাবনা, মিশ্র চাষের উপযোগিতা/সম্ভাবনা, মাছের সাথে চাষ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সম্ভাব্য অবদান, পানির গুনাগুন হ্রাস/বৃদ্ধিতে অবদান ইত্যাদি নিয়ে কাজ হওয়ার দাবি রাখে। তাছাড়া ইন্ডিজেনাস স্পিসিস কি না এই বিষয়েও গবেষনার দাবি রাখে।

কেওরালি চাষ হয় এমন কোন তথ্য না থাকায় হলপ করে বলা যায় এখনো পর্যন্ত যে কেওরালি গুলো দেখি আমরা সবই ১০০% অর্গানিক ও বিষমুক্ত (যদি না উত্তোলনের পরে ভেজাল করা হয়)। এই বুনো সুস্বাদু উদ্ভিদ যেন আমাদের ক্ষুধা মেটাতে গিয়ে অতি আহরিত হয়ে বিলুপ্ত না হয়ে যায় সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। সবাইকে সচেতন থাকতে হবে আমাদের আদি জীববৈচিত্র্যের উপাদানগুলোর সংরক্ষন সম্পর্কে।

হাওর এলাকার স্থানীয় বাজারগুলোতে কেওরালি পাওয়া যায় এখনো। নদীমাতৃক গ্রামবাংলার বিস্ময়কর উদ্ভিদ কেওরালি বেচে থাকুক যুগ যুগ ধরে। দেখতে পারেন আমাদের ভিডিও প্রতিবেদন।


সোমবার, ১৮ জুলাই, ২০২২

গ্রাহক পর্যায়ে ভারতের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনাঃ পর্ব ০২

 ইলেক্ট্রিসিটি ক্রাইসিসের সম্ভাব্য বিকল্প পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুৎঃ পর্ব ০১ এর পরবর্তী আলোচনা।

পুরো বিশ্ব ঢাক-ঢোল পিটিয়ে নবায়নযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব শক্তির দিকে ঝুকছে। ঢাক-ঢোল পিটিয়ে কথাটা ক্ষোভ থেকে বললাম। কারন উন্নত বিশ্ব পরিবেশ ও জলবায়ুর যথেচ্ছ ক্ষতি করার পর নিজেরা অর্থনৈতিকভাবে একটা ভালো অবস্থানে পৌঁছেছে। তাদের জনগনের জীবনমানের উন্নয়ন করেছে।

তার মানে এই না, যে আমাদেরও পরিবেশের ক্ষতি করতেই হবে বাধ্যতামূলক ভাবে। এই দিক দিয়ে দেখলে আমাদের মতো দেশগুলোর অপেক্ষাকৃত অধিক পরিবেশ দূষনকারী প্রকল্পগুলো থেকে তাদের (উন্নত দেশগুলোর) সহযোগিতার আশ্বাস সরিয়ে নেয়া যৌক্তিক।

কিন্তু তাদের অসাধারণ অর্থনৈতিক সামর্থ্য থাকার পরও তারা যখন নিজেদের গাফিলতিতে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব শক্তি উৎপাদন করে বিদ্যুৎ চাহিদা পূরনে ব্যার্থ হয়ে কয়লার মতো পরিবেশ দূষনকারী বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালুর সিদ্ধান্ত নেয়, তা প্রমাণ করে তারা শুধু অন্যের উপর ছড়ি ঘোরাতে পছন্দ করে। ডলারকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় পশ্চিমাদের একরকম হাতের মুঠোয় আমাদের মতো দেশগুলো। নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য বৈশ্বিক সমস্যা বৃদ্ধিতেও তারা দুবার ভাবে না।

আফসোস করে লাভ হলে হয়তো আফসোস করতে থাকতাম আরো। কিন্তু অভ্যন্তরীণভাবে আমরা অনেক কিছুই করতে পারতাম, আমাদের নৈতিক স্খলন ও দূর্নীতির জন্য যেটা হয়ে উঠে না।

সাম্প্রতিক লোড শেডিং ইস্যুতে সরব সবাই। উৎপাদন ও শক্তি খাতের মূল চালিকাশক্তি বা কাঁচামাল হলো জ্বালানী। আমাদের জ্বালানী নীতি নিয়ে নানামুখী আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে, আগুনে ঘি না ঢেলে অবস্থা থেকে কিভাবে উত্তরন করা যায় ও এমন অবস্থায় ভবিষ্যতে না পড়ার জন্য কিরকম ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে তুলে ধরবো অল্প অল্প করে।

সৌরবিদ্যুত নিয়ে ইতোমধ্যে একটা পরিচিতিমূলক আলোচনা করেছি। আজকের মূল প্রসঙ্গ প্রতিবেশী দেশ ভারতে প্রচলিত সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা।

ভারতে সোলার সিস্টেমের তিনটা ধরন দেখা যায়।

০১) অনগ্রিড

০২) অফগ্রিড

০৩) হাইব্রিড

এর মধ্যে, অনগ্রিড সিস্টেম সহজলভ্য, স্বল্পমূল্যের। অনগ্রিড সিস্টেমের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা শব্দ "নেট মিটারিং" মাথায় রাখবেন।

অনগ্রিড সিস্টেম হচ্ছে ন্যাশনাল গ্রিডের সাথে সংযুক্ত ব্যক্তিগত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা। এ ব্যবস্থায় গ্রাহক তার নিজস্ব খরচে সোলার সিস্টেম স্থাপন করে। যাতে, তার বাড়ি বা প্রতিষ্ঠানে স্থাপিত সোলার প্যানেল যে বিদ্যুৎ উতপন্ন করে সেটা তার ইনভার্টার হয়ে AC তে রুপান্তরিত হয়ে মডিফাইড মিটার দিয়ে গ্রিডে যুক্ত হয়।

এক্ষেত্রে, বলে রাখি আমাদের সাধারণ যে মিটারগুলো আছে সেগুলো শুধু আমাদের বিদ্যুৎ খরচ (কত ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যয় হচ্ছে সেটা দেখায়)। কারণ আমরা শুধু বিদ্যুৎ নিই।

কিন্তু অনগ্রিড সিস্টেমে গ্রাহকরা যেমন গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ নেন তেমনি সোলারে উৎপাদিত বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত করেন। এক্ষেত্রে একটা উভমুখী মিটারের প্রয়োজন হয় (ক্ষেত্রবিশেষে দুইটা মিটারও হতে পারে। একটা খরচের হিসাব করবে অন্যটা সোলার থেকে গ্রিডে যাওয়া বিদ্যুতের হিসাব রাখবে)।

এখন প্রশ্ন হলো একজন গ্রাহক কেন ন্যাশনাল গ্রিডে নিজের টাকায় উতপন্ন বিদ্যুৎ দিবে?

এখানেই আসে নেট মিটারিং এর ব্যাপার। সাধারণত অনগ্রিড সিস্টেম স্থাপনের আগে কিছু কাগজপত্র জমা দিতে হয়। বিশেষ করে একবছরের বিদ্যুৎ বিলের কাগজ। যেটা দিয়ে অনগ্রিড সিস্টেম স্থাপনের অনুমতি দেয়ার বিবেচনা করা হয়। সাধারণত গ্রাহকের খরচ করা বিদ্যুতের গড় হিসেব করা হয়। এবং গড় ইউনিটের ৭০% ক্ষমতা পর্যন্ত সোলার পাওয়ার স্থাপনের অনুমতি দেয়া হয় অনগ্রিড সিস্টেমের ক্ষেত্রে।

এক্ষেত্রে প্রশ্ন আসতে পারে কেন ৭০% বা এটা বিবেচনায় আনার দরকারটাই বা কি?

এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ বিপনন কেন্দ্রের যন্ত্রপাতির জটিলতা আছে। সেগুলোর বিদ্যুৎ পরিবহন করার একটা সীমা আছে। সেই সীমার অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদিত হলে গোলযোগ হয়ে বিকল (এমনকি আগুন ধরে যাওয়ার) হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

নেট মিটারিং সিস্টেম যেটা করে, গ্রাহকের চলতি মাসের বিদ্যুৎ খরচ (ইউনিট) থেকে সোলারে উৎপাদিত বিদ্যুৎ (ইউনিট) বিয়োগ করা হয়। সেটা অনুযায়ী ফাইনাল বিল করা হয়।

উদাহরণস্বরুপঃ

বিবাহিত মাসুদ সাহেবের পরিবারের জুলাই মাসের বিদ্যুৎ খরচ ১০০ ইউনিট (কিলোওয়াট/ঘন্টা)। অন্যদিকে তার স্থাপিত সোলার সিস্টেম থেকে গ্রিডে যুক্ত হওয়া বিদ্যুতের পরিমান ৮০ ইউনিট।

তাহলে তার সংশোধিত বিল হবে ১০০-৮০= ২০ ইউনিটের মূল্য। এক্ষেত্রে ১ ইউনিটের মূল্য ১০ টাকা হলে বিল আসবে ২০*১০=২০০ টাকা + অন্যান্য প্রযোজ্য চার্জ।

এখানেও প্রশ্ন আসতে পারে, যদি কোন মাসে খরচের চেয়ে বেশি উতপাদন হয়?

উদাহরণস্বরুপঃ

অবিবাহিত শাওনের পরিবারের সদস্যরা সবাই বাসায় থাকলে বিদ্যুৎ বেশি খরচ হয়৷ না থাকলে কম। এক্ষেত্রে জুলাই মাসে তার বিদ্যুৎ খরচ ৬০ ইউনিট ও তার সোলার থেকে গ্রিডে যুক্ত বিদ্যুৎ ৮০ ইউনিট হলে তার নেট বিল ওইমাসে ০। সাথে কেবল অন্যান্য চার্জ বাবদ খরচ দিতে হবে।

এখানে ৬০-৮০=-২০ অর্থাৎ যে ২০ ইউনিট অতিরিক্ত ছিল এটা পরের মাসের বিলে যেয়ে এডযাস্ট হবে। মানে পরের মাসেও গ্রিডে যদি ৮০ ইউনিট বিদ্যুৎ যোগ করে সোলার সিস্টেম সেটার সাথে অতিরিক্ত ২০ ইউনিট যুক্ত হবে।

অর্থনৈতিক বছর শেষে (জুন মাস শেষে) যদি এই অতিরিক্ত থেকে যায় সেটার একটা নামমাত্র মূল্য নির্ধারন করে পরিশোধ করা হয় (২ থেকে ৩ টাকা ইউনিট)। যেকারণে অতিরিক্ত ক্ষমতার সোলার প্যানেল স্থাপনে নিরুৎসাহিত করা হয় বলে জানা যায় (ইন্ডিয়ায়), কারন গ্রাহকের জন্য লাভজনক হয় না।

একটি হিসাবে দেখা যায়, সোলার সিস্টেম স্থাপনে যে খরচ হয় তা ৪ থেকে ৬ বছরে উঠে আসে নেট মিটারিং সিস্টেমে বিল এডযাস্ট করার মাধ্যমে। সোলার সিস্টেমের জীবনাকালের বাকি সময়টা মূলত গ্রাহকের লাভ হতে থাকে। গড়পড়তা ৩০ বছর প্যানেলের লাইফ সাইকেল হলে সেই লাভের পরিমাণ বিপুল হয়। মূল্যস্ফীতি হিসাবে নিলে আরো বেশি মুনাফা হয়।

এগুলোতো সব অনগ্রিড সিস্টেমের সুবিধা। অসুবিধা?

একটা অসুবিধা হচ্ছে লোডশেডিং এর সময় বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকা। কারণ, গ্রিডে যুক্ত থাকায় যতক্ষন বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু থাকে ততক্ষণই বিদ্যুৎ থাকে সিস্টেমে।

এখানে আসে অফগ্রিড সিস্টেমের মাহাত্ম্য। অফগ্রিড সিস্টেমে গ্রাহকের সোলার সিস্টেম গ্রিডের সাথে যুক্ত থাকে না, যুক্ত থাকে গ্রাহকের অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎ লাইনের সাথে। সাধারণত অফগ্রিড সিস্টেমে ব্যাটারি ব্যাকাপ থাকে। যাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে তো বটেই, রাতেও যেনো সঞ্চিত বিদ্যুৎ শক্তি ব্যবহার করা যায়!

গ্রামীণ সোলার হোম সিস্টেমগুলো মূলত অফগ্রিড। বিশেষত প্রত্যন্ত অঞ্চল, যেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই।

অফগ্রিডের অসুবিধা নেই?

আছে৷ এতে ব্যাটারি লাগায় সিস্টেমের খরচ তূলনামূলক অত্যধিক। সেইসাথে রক্ষনাবেক্ষনও অধিক সময়সাপেক্ষ। আর নেট মিটারিং এর সুবিধা না পাওয়াও একটা অসুবিধা বটে।

লোডশেডিং এর সময় বিদ্যুৎ থাকবে আবার নেট মিটারিং সুবিধা আছে এমন সিস্টেম করা যায় না?

অবশ্যই যায়। যেটাকে হাইব্রিড সিস্টেম বলে। এই সিস্টেমটা পূর্বে আলোচিত দুইটা সিস্টেমের মিশেলে তৈরি। যেখানে ব্যাকাপ সিস্টেমও থাকে, থাকে নেট মিটারিং সিস্টেমের সংযুক্তিও। অসুবিধার যায়গায় এর প্রাথমিক স্থাপনার খরচ আর ঝক্কিঝামেলা।

এই ছিল ভারতের সৌরশক্তি ব্যবহারের একটা দিকের আলোচনা। সোলার প্ল্যান্টও স্থাপিত করতে পারছে তারা প্রচুর পরিমানে। কারণ তাদের যথেষ্ট জায়গা আছে, যেগুলো অব্যবহৃত ও পতিত।

আমার দেশ কি অমন ব্যবস্থায় ভালো করবে? সৌরবিদ্যুতের চ্যালেঞ্জ গুলো কি কি? আমাদের বর্তমান অবস্তা কি? ভবিষ্যতের পরিকল্পনা কেমন হতে পারে? এগুলো নিয়ে ইনশাআল্লাহ আগামী পর্বে কথা বলবো।

(আজকের আলোচনার ক্রেডিট যাবে Labour Law Adviser নামের ইউটিউব চ্যানেলের কাছে। তাদের কন্টেন্ট থেকেই ভারতের সোলার সিস্টেম রিলেটেড খুটিনাটি তথ্যের মূল রসদের যোগান এসেছে। ছবি কৃতিত্ব ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ডটকম)

মঙ্গলবার, ১২ জুলাই, ২০২২

ইলেক্ট্রিসিটি ক্রাইসিসের সম্ভাব্য বিকল্প পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুৎঃ পর্ব ০১

সূর্যালোক শক্তি কাজে লাগিয়ে উৎপাদিত বিদ্যুতই সৌরবিদ্যুৎ নামে চিনি। ফটোভোলটাইক প্লেটে সূর্যরশ্মি পরে কিভাবে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয় সেই সাইন্সে না যেয়ে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কিছু বিষয়ে কথা বলি।

সোলার প্যানেল স্থাপনে কোন বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হয়?

১)স্থান

স্বভাবিকভাবেই যেখানে রোদ পড়ে না বা বেশিরভাগ সময়ে রোদ থাকে না সেখানে সোলার প্যানেল স্থাপনে কাংখিত আউটপুট পাওয়া যাভে না।

২)প্যানেলের দিক

প্যানেল কোন দিকে স্থাপন করা হচ্ছে এটাও গুরুত্বপূর্ণ। যেমন ধরুন শীতকালে সূর্যের দক্ষিনায়ন হয়, এটা চিরন্তন। আপনার বাসার দক্ষিণে বড় গাছ বা স্থাপনা থাকলে প্যানেলের ব্যবস্থাপনা একরকম হবে, না থাকলে অন্য।

৩)প্যানেলের এংগেল

প্যানেলের এংগেলের উপর কার্যকারিতা অনেকাংশে নির্ভর করে।

কার্যকর জীবনকাল

সোলার সিস্টেমগুলোর জীবনকাল সাধারনত ২০ থেকে ৩৫ বছর হয়ে থাকে। প্রতিবছর গড়পড়তা ০.৭% এফিশিয়েন্সি কমে জীবনকালের শেষভাগের দিকে ৭০-৮০% এফিশিয়েন্সি থাকে।

ইনফাস্ট্রাকচার ও ইকুইপমেন্ট

সোলার সিস্টেমের প্রধান পাঁচটি ফিজিক্যাল ইউনিট হচ্ছে ১) সোলার প্যানেল (যেটা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হবে), ২) ইনভার্টার/কন্ট্রোলার (ইনভার্টার দেখা যায় যেই সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে সরাসরি AC সংযোগে চলা এপ্লায়েন্স চালানো হয়। অন্যদিকে কন্ট্রোলার বেশি দেখা যায় গ্রামের সোলার হোম সিস্টেমগুলোতে। সাধারনত সৌরবিদ্যুৎ তথা উৎপন্ন DC শক্তি দিয়ে সরাসরি চলে এমন এপ্লায়েন্স ব্যবহারের ক্ষেত্রে কন্ট্রোলার প্যানেল দেখা যায়। এর আরেকটি সংশ্লিষ্ট বিষয় হচ্ছে ব্যাটারি ব্যাকাপ সিস্টেম থাকে সাধারণত), ৩) ওয়ারিং (সংযোগ তার, যেগুলোর মাধ্যমে প্যানেলের সাথে অন্যান্য সিস্টেম সংযুক্ত থাকে), ৪) প্যানেল সাপোর্টিং স্ট্রাকচার, ৫) ব্যাকাপ ব্যাটারি (দিনের বেলা উৎপন্ন শক্তি সঞ্চয় করে রাখতে ব্যবহার করা হয়। রাতে ব্যাকাপ দেয়)

এরমধ্যে সোলার প্যানেল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলাই বাহুল্য। সোলার প্যানেলের কোয়ালিটির উপর নির্ভর করবে কতটুকু জায়গায় কতটা বিদ্যুৎ পাবেন।

যেমন ধরুনঃ একটা প্যানেল সৌরশক্তিকে ৩০% এফিশিয়েন্টলি বিদ্যুৎ শক্তিতে রুপান্তর করতে পারে অন্যটি ২৫% এ। স্বাভাবিকভাবে প্রথমটার কার্যকারিতা বেশি হওয়ায় প্রথম পছন্দ সেটি হওয়াই স্বাভাবিক। যদিও দামের পার্থ্যক্য একটা ফ্যাক্টর।

আবার এক কোম্পানি প্যানেল গ্যারান্টি দিল ২০ বছর, অন্যটি ৩০ বছর। দুটি কোম্পানিরই বিশ্বস্ততা, বিশ্বাসযোগ্যতা কাছাকাছি হলে অবশ্যই ৩০ বছরের গ্যারান্টির প্যানেল উপযোগী। বিশ্বস্ততা জরুরি কারন একটা কোম্পানি ৩০ বছর গ্যারান্টি দিলো, কিন্তু কোম্পানির অবস্থা যদি ১০ বছর টেকার মতো না হয় তাহলে প্যানেল লাইফটাইমে নষ্ট হলে গ্রাহক কাংখিত বিক্রয়োত্তর সেবা পাবে না।

অপেক্ষাকৃত আধুনিক প্রযুক্তির প্যানেলগুলোর সৌরশক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রুপান্তরের সক্ষমতা অধিক।

ডিগ্রেডেশন রেট জানা থাকলে ভালো। যেই প্যানেলের এফিশিয়েন্সি ডিগ্রেডেশন রেট কম সেটা অধিক উপযোগী।

মেইন্টেনেন্স

নন-ফিজিক্যাল পার্টের মধ্যে আফটার সেলস সার্ভিস গুরুত্বপূর্ণ দিক সৌরবিদ্যুতের ক্ষেত্রে। কেনার আগে, সিস্টেম স্থাপনের আগে এই বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

সৌরবিদ্যুতের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মেইন্টেনেন্স। বলা হয়ে থাকে সোলার প্যানেল যদি ছয় মাস অযত্নে থাকে, তাতে জমা ধুলাবালির কারনেই ৩০% এর মতো কার্যক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে। আবার যথোপযুক্ত ভাবে প্যানেল পরিষ্কারের পদ্ধতি জানা না থাকলেও স্ক্র‍্যাচ পরে বা ভেংগে গিয়ে ক্ষতি সাধনের সম্ভাবনা আছে।

তাছাড়া যেই স্ট্রাকচারের উপর সোলার প্যানেল বসানো হয় সেটা যদি মরিচ রোধী না হয় তাহলে প্যানেলের ক্ষতি হওয়া ছাড়াও স্ট্রাকচার বাবদ ব্যয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকে।

ব্যবহৃত তারের গুনগত মানের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। সোলার পাওয়ার সিস্টেমের লাইফটাইমে যদি সংযোগ তার নিম্নমানের হওয়ায় নষ্ট হয়ে যায় তাহলেও ঝামেলার পাশাপাশি অহেতুক খরচ বৃদ্ধির সম্ভাবনা আছে।

......................................................................................................চলবে

সোমবার, ১৬ মে, ২০২২

সার্কুলার ইকোনমির অ, আ, ক, খ ও কিপ্টার গল্প

সাস্টেইনেবল ডেভেলপমেন্ট বা টেকসই উন্নয়নের সাথে আমরা অল্প বিস্তর সবাই পরিচিত। উন্নয়ন করা যতটা কঠিন, ধরে রাখা তার চেয়ে কঠিন।

প্রচলিত "স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষা কঠিন" কথাটি এক্ষেত্রে যথার্থ। ধরুন কোন এলাকায় অনেক পরিমাণে কর্মক্ষম মানুষ রয়েছে যারা কাজ পাচ্ছে না।

সেখানে একটি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠা করা হলো সরকারি/বেসরকারি উদ্যোগে। স্বাভাবিকভাবেই অর্থনীতিতে প্রানসঞ্চার হবে ওই এলাকায়। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে, জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন হবে। গার্মেন্টস কেন্দ্র করে আরো অনেক ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে, একটা ক্ষুদ্রাকায় অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে উঠবে শ্রমিক, কর্মকর্তা, কর্মচারি, খাবারের দোকান, পরিবহন ব্যবস্থা, কাচামাল সরবরাহকারী সহ বৈচিত্র্যময় পেশার আবির্ভাব হবে।

একমুখী কথা বলে গেলাম। মুদ্রার আরেকটি পিঠ আছে। সেই গার্মেন্টস শিল্প যদি পরিকল্পিত না হয়? সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকে? উৎপন্ন বিষাক্ত বর্জ্য যদি উন্মুক্ত জলাশয়ে ছেড়ে দেয়া হয়! আপাতদৃষ্টিতে প্রথম কয়েক বছর টের পাওয়া না গেলেও ধীরে ধীরে এর প্রকোপ প্রকট হবে।

তুরাগতীরের ট্যানারি শিল্প ছিল এর অন্যতম একটা দৃষ্টান্ত। ট্যানারির বিষাক্ত বর্জ্য কিভাবে একটি নদী ও আশেপাশের পরিবেশ, ইকোলজিতে প্রভাব ফেলতে পারে তা দেখেছি আমরা।

নদীর উপর অনেকের জীবিকা নির্ভর করে। তাছাড়া প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য, ক্ষেত্রবিশেষ পরিবহন, বিনোদন অনেক কিছুই জড়িয়ে থাকে এর সাথে।

তার মানে শুধু উপার্জনের ক্ষেত্র তৈরির দিক চিন্তা করে পার পাওয়া যাবে না। পরিকল্পিত ক্ষেত্র হতে হবে।

আধুনিক গার্মেন্টসগুলো এক্ষেত্রে অনেকটাই সচেতন। রানা প্লাজা ধ্বস, তাজরীন ফ্যাশনে আগুন ইত্যাদির মতো ঘটনায় শ্রমিক নিরাপত্তাও অনেক বড় ইস্যু এখন। পাশাপাশি সচেতন বিদেশি ক্রেতারা এখন প্রোডাক্ট উৎপাদনে গ্রীন ইকোসিস্টেম, পরিবেশ বান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা ইত্যাদি খেয়াল করেন।

আগে "ভার্জিন ম্যাটারিয়েল" ট্যাগের পণ্যগুলো চাহিদায় উপরের দিকে থাকলেও এখন "রিসাইকেল্ড" ট্যাগলাইন অনেকটাই সচেতন হচ্ছে।

এখন আসি সার্কুলার ইকোনমি কি সে প্রসংগে।

সহজ চিত্রে সার্কুলার ইকোনোমি
সহজ চিত্রে সার্কুলার ইকোনোমি

আমরা সাধারণভাবে যে ব্যবস্থার সাথে পরিচিত সেখানে একটা কাচামালের রুপ পরিবর্তন করে উপযোগিতা বাড়ানো হয়। যেমন বনের কাঠ কেটে আসবাব পত্র বানিয়ে কয়েক বছর ব্যাবহার করে সেটা ভাগারে ফেলে দেয়া হয় বা পুড়িয়ে ফেলা হয়। একটা স্মার্টফোনে হরেক যায়গার উপাদান ব্যবহার করে তার জীবনকাল শেষ হলে ফেলে দিই ভেংগে বা ফেলে রাখি। যেটা একটা একমুখী ইকনোমিক ব্যবস্থা।

কিন্তু প্রকৃতির দিকে খেয়াল করলে দেখা যায় প্রকৃতিতে প্রায় সবকিছুই (প্রায় বলে গা বাচালাম, তা নাহলে পদার্থ বিজ্ঞান পড়ে আসা ভাইয়েরা এন্ট্রপির উদাহরণ টেনে আনবেন) একটা চক্র মেনে চলে।

সবচেয়ে সহজ উদাহরণ হচ্ছে পানিচক্র। নদী-নালার পানি শুকিয়ে বাষ্পীভূত হয়ে আকাশে মেঘ জমে, মেঘ থেকে বৃষ্টি হয়, আবার নদীনালায় পানি হয়।

সার্কুলার ইকোনমি ব্যবস্থায় পন্যের জীবনচক্রকেও অমনভাবেই ডিজাইন করা হয়। যাতে কাচামাল হতে পন্য উৎপাদন থেকে শুরু করে গ্রাহকের কাছে ব্যবহৃত হয়ে আবার সবগুলো উপাদান ব্যবহারযোগ্য নতুন কাচামাল, ব্যাবহারযোগ্য পন্য বা পরিবেশ বান্ধব কোন রুপ দেয়া যায়। আদর্শ গ্যাসের মতো শতভাগ সার্কুলার লাইফসাইকেলের পন্য বাস্তবে সম্ভব নাও হতে পারে। কিন্তু চেষ্টা করা হয় পন্য থেকে নিংড়ে সবটুকু উপযোগ নিয়ে নেয়ার।

যেমনঃ একটা ফোনকে পন্য হিসেবে না বেচে সার্ভিস হিসেবে বিক্রি করা। কিভাবে? বাস্তবে ভিত্তি আছে?

হ্যাঁ, আছে। রেন্ট-এ-কার বা বাইসাইকেল ভাড়ার ব্যাপারটা বলা যেতে পারে। আপনি একটা সময়ের জন্য পণ্যের (উক্ত ক্ষেত্রে ফোনের) সেবা ভাড়ায় নিলেন!

ইতোমধ্যে খেয়াল করেছেন নিশ্চয়িই, বিভিন্ন কোম্পানি পুরনো ইলেকট্রনিকস পন্য অদলবদলের সুবিধা রাখে। বা পুরোনো পন্য দিলে একটা ছাড় দেয় নতুন পন্যে! এটা সার্কুলার ইকোনোমির দিকে অগ্রসর হওয়ার একটা ধাপ।

পণ্য এক্সচেঞ্জ সুবিধা দেয় অনেক ব্র্যান্ড
পণ্য এক্সচেঞ্জ সুবিধা দেয় অনেক ব্র্যান্ড

(কোম্পানির নাম ভুলে গেছি) একটা মডিউলার হেডফোন কোম্পানি তাদের হেডফোন গুলো পার্টস আকারে ক্রেতার কাছে পাঠায় যেগুলো সংযোজন করে নিতে হয়। কোন একটা পার্টস নষ্ট হলে সেটা পাল্টাতে পারেন ক্রেতারা। একরকম হেডফোন রেন্টাল বলা যায়। যাতে নতুন নতুন মডেল আসলে পরিবর্তন করতে হয় বিশেষ বিশেষ অংশ। এর ব্যাবসায়ীক সুবিধা হিসেবে উদ্যোক্তারা বলেন, এতে তাদের প্রিমিয়াম সেগমেন্টের (সবচেয়ে দামী) হেডফোন গুলোও সাধারনেরা নিতে পারছেন। কারন একবারে দাম দিয়ে নিতে হয় না। ধরুন এক হাজার দুইশত টাকা দাম হলে প্রতি মাসে এক শত করে দিলেই হচ্ছে! আবার এরই মধ্যে অন্য মডেল পছন্দ হলে সেটাও নেয়ার সুযোগ থাকে। তারা ফেরত নেয়া পণ্যগুলো রিসাইকেল, রিফারবিশ করে পুনরায় বাজারজাত করেন।

সম্প্রতি ইউ এস এ-তে আইফোনের বিরুদ্ধে "রাইট টু রিপেয়ার" আন্দোলনের ডাক দেয়া হয়। আন্দোলনকারীদের দাবী ছিল আইফোনগুলো নষ্ট হলে মেরামতের অযোগ্য হয়ে যাচ্ছে অথবা তাদের (এপলের) বিজনেস মডেলের ফাদে নতুন ফোন কেনায় বাধ্য করা হচ্ছে কাস্টমারদের। অবশ্য আইনের খরগ পরার আগেই এপল আইফোন সেল্ফ রিপেয়ার কিট লঞ্চ করেছে (যেটা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে)।

ইলেকট্রনিকস পন্যগুলোতে অনেক রেয়ার আর্থ মেটাল (মূল্যবান ও দূর্লভ খনিজ ধাতু) ব্যবহৃত হয়। এটা শুনে অবাক হওয়ার কিছুই নেই যে একসময় সেই খনিজগুলোর উত্তোলন ও সরবরাহ শূন্যে নেমে আসবে। তখন?

এর জন্য প্রস্তুতি হিসেবে আমাদের রিসাইকেলিং করতে হবে। তাতে বেশ কয়েকটি চাক্ষুষ উপকার আছে। খনিজের উপর নির্ভরতা কমানো, বর্জ্য পদার্থের সঠিক ব্যবস্থাপনা, দূরদর্শী অর্থনৈতিক চিন্তার সুফল তো থাকবেই!

বাংলাদেশে বিক্রয় ডট কম, সোয়াপ ডটকম 

পণ্য অদল বদল করা যায় এই ই-কমার্স প্লাটফর্মে
পণ্য অদল বদল করা যায় এই ই-কমার্স প্লাটফর্মে

বা ফেসবুকে মিলিয়ন সদস্যের গ্রুপ "রিসাইকেল বিন" পুরনো পন্য কেনাবেচা/আদানপ্রদানের সুযোগ করে দিয়ে বিদ্যমান সম্পদের অধিক উপযোগিতা বের করে আনায় অবদান রাখছে।
ফেসবুক গ্রুপ রিসাইকেল বিন
ফেসবুক গ্রুপ রিসাইকেল বিন

"এলেন ম্যাকার্থার ফাউন্ডেশন" ওয়েবসাইটে ও ইউটিউব চ্যানেলে সার্কুলার ইকোনমি নিয়ে আরো অনেক তথ্য পাবেন।
Ellen MacArthur
Ellen MacArthur


কিপ্টার গল্প শুনেছিলেন কখনো?

এক কিপটা দুইশত টাকায় পাঞ্জাবি কিনে পাঁচ বছর পরার পর সেটা কেটে ফতুয়া বানিয়ে আরো দুই বছর পরে। তারপর সেটাও নষ্ট হতে শুরু করলে সেন্ডো গ্যাঞ্জি বানায় ফতোয়া দিয়ে। আরো এক বছর পরার পর সেটা কেটে রুমাল বানায়। রুমাল ছয় মাস ব্যবহার করে যখন আর ব্যবহার করা যাচ্ছে না রুমাল পুড়ে ছাই দিয়ে দাঁত মাজে পুকুরপাড়ের ঘাটে। দাঁত মাজার সময় বলে, "হায়রে আমার দুইশো টাকাই জলে গেলো!"

গল্পের ওই কিপটা বেচে থাকলে আজকে সার্কুলার ইকোনমির রোল মডেল হতেন নিঃসন্দেহে! শুনতে হাস্যকর মনে হলেও কিপ্টার কাজই ছিল পরিবেশের জন্য সবচেয়ে কম ক্ষতিকর।





NPUC value of food: Affordable nutrient rich foods list (Part 01)

কোন  খাবারে এক টাকায় কতটুকু পুষ্টি উপাদান পাচ্ছেন সেটাকেই বলছি নিউট্রিয়েন্ট পার ইউনিট কস্ট বা Nutrient Per Unit Cost (NPUC value) উদ্দেশ্য ক...