বাথরুমের পানি ট্রিটমেন্ট করে কেন খেতে হচ্ছে?
ডিরেক্ট বাথরুমের পানি কে খাবে! জোক্স এপার্ট, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যেতে থাকায় ও বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকটে পানি ট্রিটমেন্ট করে রিইউজ করা হচ্ছে। বিভিন্ন বর্জ্য পানি পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে।
এই ধারাটাই আসতে পারে (খুব সম্ভবত আসবে) এনার্জির ক্ষেত্রে। মানুষ যতই পরিবেশের প্রতি সংবেদনশীল হবে, ততই চেষ্টা করবে পরিবেশ-প্রকৃতি ডিস্টার্ব না করতে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি সীমিত রাখতে চেষ্টা করবে।
আমাদের জীবনযাপনে ব্যয়িত বিভিন্ন শক্তির খাত থেকে ওয়েস্টেড এনার্জি যেমনঃ চায়ের পানি গরম করার সময় কেটলি, পানি উত্তপ্ত হয়। অর্থাৎ পানি গরম করতে চুলার তাপ ব্যয় করা একমুখী ব্যবহার। এর বহুমুখী ব্যবহার আসবে সামনে।
চায়ের পানি গরম করার এই ব্যবস্থায় যুক্ত হতে পারে স্টারলিং ইঞ্জিনের মতো ঐতিহাসিকভাবে সিম্পল মেকানিজমে তৈরি কিছু ডিভাইস। স্টারলিং ইঞ্জিনের বেজ হচ্ছে টেম্পারেচার ডিফারেন্স কাজে লাগিয়ে মেকানিক্যাল রোটেশন বের করে আনা।
আসতে পারে ফ্রিজ ও হিটার একসাথে ইন্টিগ্রেটেড হয়ে। কারণ ফ্রিজ থেকে তাপ উৎপন্ন হচ্ছে, এটা নষ্ট করবো কেন?
মজার ব্যাপার হচ্ছে এই ধরনেরই একটা প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছিলেন আমাদের আমাদের কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের অন্তর্গত Department of Farm Power & Machinery বিভাগের শিক্ষক শামীম আহমেদ, তাও ২০১৮ সালে। আমি তখন প্রথমবারের মতো দ্বিতীয় বর্ষে (!!!)। Engineering Mechanics ক্লাস নিতেন তিনি। কোন একটা আইডিয়া নিয়ে (খুব সম্ভবত ফ্রিজ আর হিটার কম্বাইন করলে কেমন হয় প্রশ্নের উত্তর জানতে চেয়েছিলাম) তাঁর কাছে যাওয়ার পর কি নিয়ে কাজ করছেন জিজ্ঞাসার উত্তরে খুব সম্ভবত বলেছিলেন “ওয়েস্টেড হিট রিউজ করার প্রযুক্তি”-টার কথা। এখন কি অগ্রগতি জানা নাই অবশ্য।
যাইহোক, সিমিলার কনসেপ্ট (ওয়েস্ট এনার্জি রিইউজ) এর প্রচলিত ব্যবহার বলতে গেলে আধুনিক রিজেনারেটিভ ব্রেকিং সিস্টেমের কথা বলা যায়। যেটা দেখা যায় কিছু আধুনিক ই-বাইকে। যখন ই-বাইক পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নামে, তখন ঘুরন্ত চাকা থেকে শক্তি/বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।
বিজ্ঞানের অনুরাগী হলে অবাক হয়ে যাবেন না, কারণ বস্তুত মোটর আর জেনারেটর একই। জেনারেটরকে ঘোরালে বিদ্যুৎ দেয়, মোটরকে বিদ্যুৎ দিলে ঘোরে। সেই আধুনিক ই-বাইকগুলোতে সাধারণত থাকে রিজেনারেটিভ হাব মোটর বা চাকার ভেতরে সংযুক্ত মোটর। যেগুলোতে বিদ্যুৎ দিলে ঘোরে, আবার ঘোরালে বিদ্যুৎ দেয়।
খুবই অল্প বিদ্যুৎ পাওয়া যায়, তাও ক্ষেত্রবিশেষ।
কিছুদিন আগে PV Magazine-এর একটা লেখা শেয়ার করেছিলাম। যেখানে দেখা যায়, বিজ্ঞানীরা ট্রান্সপারেন্ট ফটোভোল্টাইক প্যানেল নিয়ে কাজে সাফল্য পাচ্ছেন। যেগুলো ব্যবহার করা যাবে জানালার মতো বহুল ব্যবহৃত জায়াগায়। লক্ষ্য ফ্রি সূর্যশক্তির যতটা শুষে নেয়া যায়। পাশাপাশি ঘরে আলো জ্বলে, সেই আলো থেকে বিচ্ছুরিত শক্তিও পুনঃব্যবহার করা যাবে এই প্রযুক্তি দিয়ে।
তাছাড়া যেসব ক্ষেত্রে গ্লাস ব্যবহার করি, অনেকগুলোতেই এই ট্রান্সপারেন্ট PV Module ব্যবহার করে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। হ্যাঁ, কম হবে। কিন্তু কোটি কোটি ক্ষেত্র থেকে অল্প অল্প বিদ্যুৎ পাওয়া গেলেও অনেক বড় একটা এমাউন্ট হবে।
প্রাথমিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে থাকছে সহজলভ্য কাঁচামাল দিয়ে সেই প্রযুক্তিগুলো ডেভেলপ করা। এবং সেগুলো স্বল্পমূল্যে সবার জন্য এভেইলেবল করতে পারা। যার জন্য এসব খাতগুলোতে গবেষণা, প্রণোদনার প্রচুর প্রচুর দরকার।
অদূরভবিষ্যতে আমাদের এই চিন্তাগুলো আরো বিকশিত হবে। আরো অনেক অনেক ক্ষেত্র বের হবে যেখানে এখন শক্তি, তাপ হারিয়ে যাচ্ছে। যেগুলো আবার পুনঃব্যবহার করা যাবে।
এখনকার তাপীয় ইঞ্জিনগুলোর গড়পড়তা ৩০-৫০% এফিশিয়েন্সি উপরোক্ত রিইউজ, রিসাইকেলের মাধ্যমে হয়তো ৭০-৮০-৯০%+ এফিশিয়েন্ট হয়ে যাবে। কাজ চলছে সেসব লক্ষ্যে, চলবে।
আমরা বরঞ্চ খেলাধুলায় টাকা ঢালি, গেম ডেভেলপমেন্টের চেয়ে গেম খেলার ইন্ডাস্ট্রির দিকে মনযোগ দিই। সোশ্যাল মিডিয়ার মতো সিস্টেম বানিয়ে বাইরে থেকে টাকা আনার চেয়ে টিকটকে কারেন্সি কিনে খ্যামটা নাচুনেদের ভিডিওতে গিফট করি। নড়বড়ে গার্মেন্টসকে মাথায় তুলে রাখি।
শিক্ষা-গবেষনায় অযথা খরচের কি দরকার?
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন