ময়মনসিংহ শহরে সিংগারা নিমকির নাম নিলে প্রথমেই যে নামটি মাথায় আসে সেটা রাজু ঘোষ। স্বদেশী বাজারের রাজু ঘোষ আলাদা একটা জায়গা করে নিয়েছে হালকা নাস্তায়।
যখন জন্মদিনের মতো অনুষ্ঠান গুলো ঘরোয়াভাবে আয়োজন করা হতো সাদামাটাভাবে, এই রাজু ঘোষের সিংগারা নিমকি মেহমান আপ্যায়নের নাস্তার তালিকায় উপরের দিকে থাকতো। এখন অনেকেই রেস্টুরেন্টে ঝকঝকে ক্যামেরায় ছবি ভালো আসা উচ্চমূল্যের ফরেইন ফুডস প্রেফার করেন। তবুও ভাজাপোড়ার আবদার কমে গেছে অমনটা বলা যাবে না।
স্বদেশী বাজারে কাছাকাছি দুইটা রাজু ঘোষ পাবেন। রাজু ঘোষ আর আদি রাজু ঘোষ। পার্সোনালি আদি রাজু ঘোষ প্রেফার করি আমি, কিন্তু আদি রাজু ঘোষের ভেতরের বসার এরেঞ্জমেন্টটা জরাজীর্ণ। যেটা অনেকেই অপছন্দ করবেন। কিন্তু খাবারের স্বাদ অসাধারণ, সুযোগ করে আরেকদিন বলবো।
রাজু ঘোষ-এ সিংগারা নিমকির সাথে একটা ঝোল ঝোল চাটনির মতো টক দেয়। পাওয়া যায় দই আর লাড্ডুও।
লাড্ডু জিনিসটা খুবই কাছের লাগে, গরিবের ডেজার্ট। সাধারণ মিষ্টির মূল উপকরণ দুধের ছানা হলেও এই লাড্ডুতে বেসন বা ছোলার গুড়া ব্যবহার করা হয়। চিনি তো কমন। তো যারা দুধের তৈরি খাবার খেতে পারেননা তাদের যদি চিনিতে সমস্যা না থাকে, লাড্ডু ইজ অ্যা গুড চয়েজ অ্যাজ ডেজার্ট।
![]() |
| রাজু ঘোষের লাড্ডু |
লাড্ডু জাস্টিফাই করা কঠিন লাগে। তবে কিছু লাড্ডুতে রঙ দেয় যেগুলো আমার অপছন্দ। রঙ বিহীন লাড্ডুর মধ্যে ভাগ করলে কতক লাড্ডুতে শুকনো ফল, মোরব্বা থাকে। ফল টল ছাড়া বা সহ লাড্ডুগুলোকে আরো ভাগ করলে কিছু লাড্ডু একটু ভেজা ভেজা, আবার কিছু শুকনো। একেকটার একেক আবেদন। তবে শুকনো লাড্ডু ওজনের হিসেবে লাভজনক, টেকে ভালো। সেজন্য আমার প্রেফারেন্স শুকনোটাই, যদিও একটু ভেজাটা খেতে বেশি মজা। শুকনো লাড্ডুর মধ্যে কিছুতে চিনির আধিক্য থাকে, অন্যটায় কম। এই পর্যায়ে শেষ কথা বললে সাদামাটা শুকনো লাড্ডু যেটায় চিনি কম সেটার দাম হাতের নাগালে থাকায় ও টেকসই হওয়ায় আমার পছন্দের তালিকায় এটা থাকে।
আদি রাজু ঘোষের লাড্ডু আকারে ছোট। আদি রাজু ঘোষ নিয়ে আরেকদিন বলবো। তবে এটা নিশ্চিত থাকুন আপনি স্বদেশী বাজারের রাজু ঘোষ বা আদি রাজু ঘোষ যেটাতেই যান স্বাদে মানে হতাশ হবেন না। ভালো ও তকতকে বসার জায়গা চাইলে রাজু ঘোষ। বসার জায়গা কেয়ার না করে কেবল টেস্ট প্রেফার করলে আদি রাজু ঘোষের পুরনো চেয়ার আপনার পশ্চাতদেশের ছোয়া পাওয়ার দাবি রাখে।
রাজু ঘোষের লাড্ডু সাইজে বড়, চিনি একেবারে কম না, শুকনো। কেজি ২০০ টাকা। পিস খুব সম্ভবত ১০ টাকা। নিচের ছবি দেখে স্বাদ বোঝা না গেলেও টেক্সচার আর আকার সম্পর্কে আইডিয়া পাবেন একটা। বেশি চিনি আর কম চিনির লাড্ডু পাশাপাশি রাখলে ক্লিয়ার আইডিয়া পেতেন উচ্চ মধ্যম পরিমাণে চিনিওয়ালা লাড্ডু কেন বলছি।
![]() |
| এই লাড্ডুটা শুকনো |


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন