গ্রীনহাউজ বলতে কাগজে কলমে শীতপ্রধান দেশে কাচ ঘেরা ঘর বোঝায়। যেটার বেসিক সাইন্সটা হচ্ছে সূর্যের তাপ তথা স্বল্প দৈর্ঘ্যের তরংগ কাচের ভেতর প্রবেশ করতে পারলেও ভেতরে শোষিত হওয়ার পর বাকি তাপ প্রতিফলিত হয়। কিন্তু সেটার তরংগ দৈর্ঘ্য অপেক্ষাকৃত বেশি হওয়ায় কাচ ভেদ করে বাইরে যেতে পারে না, যার কারনে ভেতরটা উষ্ণ থাকে।
গ্রীনহাউজ ইফেক্টটা মূলত ওই গরম থাকার প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করে যেখানে কাচের কাজ করে গ্রীনহাউজ গ্যাসগুলোর বলয়। যার ভেতরে উষ্ণ থাকে পৃথিবী।
পৃথিবী উষ্ণ থাকারও দরকার আছে, কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত সবকিছুই খারাপ। গ্রীনহাউজ গ্যাসগুলোর অন্যতম হচ্ছে কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন, সি এফ সি প্রভৃতি। এরমধ্যে কার্বন ডাই অক্সাইড উষ্ণতা ধরে রাখে অন্যদিকে সি এফ সি ওজোন স্তরের ক্ষতি করে উষ্ণতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ক্ষতিকর অতিবেগুনী রশ্মির সামনে উন্মুক্ত করে দেয় ভূস্তরকে।
বিশ্ব নেতাদের একাত্ম ও একান্ত প্রচেষ্টায় ওজোন স্তরের জন্য ক্ষতিকর সি এফ সি নির্গমন (শীতাতপ যন্ত্রগুলোতে এর বহুল ব্যবহার ছিল) রোধ করা গেছে বলেই বিশেষজ্ঞগন মত দিয়েছেন।
এখন ভূপৃষ্ঠের উষ্ণতা বৃদ্ধিকারি কার্বন ডাই-অক্সাইড ও মিথেনের মধ্যে দৃশ্যত কার্বন ডাই-অক্সাইডের নিঃসরণ সবচেয়ে বেশি। কিন্তু মিথেনের তাপ ধারণ ক্ষমতা কার্বন ডাই-অক্সাইডের চেয়ে বহুগুনে বেশি। নাম্বার দিয়ে বলতে গেলে পঁচিশ গুন বেশি। এই তথ্যটা মনে রাখবেন, পরবর্তীতে আলোচনায় লাগবে।
সব দেশেই জলবায়ু পরিবর্তন, বিশেষ করে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাব কমানোর জন্য কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণের উপর জোর দেয়া হচ্ছে। ফসিল ফুয়েল তথা কয়লা, তেল, গ্যাস প্রভৃতির উপর নির্ভরতা কমিয়ে সৌর, জল ও বায়ুশক্তির পরিবেশ বান্ধব নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে ঝুকছে বিশ্ব। বিভিন্ন প্রযুক্তি আবিষ্কার হচ্ছে কার্বন ডাইঅক্সাইড ট্র্যাপিং এর জন্য। একে বিভিন্ন শক্তির কাচামাল হিসেবেও ব্যবহারের আয়োজন চলছে।
কিন্তু অজনপ্রিয় কিছু গবেষণায় দেখা গেছে গ্যাসফিল্ড, শিল্পকারখানার চিমনী দিয়েও গ্যাস লিকেজ, অপরিশোধিত বায়ু বর্জ্য হিসেবে প্রতিদন বিপুল পরিমানে মিথেন নিঃসরণ হচ্ছে। যেগুলো অনকক্ষেত্রেই বড় বড় কোম্পানিগুলো আড়াল করে রাখছে। এর মধ্যে কিছু কোম্পানির ন্যুনতম মেইনটেনেন্স না থাকার কারনে (যেমনঃ দুটি পাইপের জয়েন্টের নাট ঢিলে হওয়া বা পাইপে ক্ষুদ্র ফুটো) এসব নিঃসরণ হচ্ছে। আবার পাইপের জ্বালামুখেও অতিরিক্ত চাপে আগুন না জ্বলা গ্যাসও মুক্ত হচ্ছে প্রকৃতিতে! অথচ এগুলো যেন দেখার কেও নেই, পঁচিশ গুন বেশি সক্ষমতার উষ্ণকারী গ্যাস বহুল পরিমানে বেড়েই যাচ্ছে।
এমন ব্যবস্থাপনা হীনতা চলতে থাকলে হয়তো দেখা যাবে আমরা একসময় কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমানোর লক্ষমাত্রায় পৌছালেও আদতে তাপমাত্রা কমিয়ে রাখার লক্ষ্যে পৌছাতে পারবো না! কারন সিস্টেমটা হয়ে যাবে তলাবিহীন ঝুড়ি।
এখন আসা যাক সাম্প্রতিক বিতর্কিত ও আলোচিত বিষয় সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশীদের টাকার ব্যাপারে। প্রতিবছর আশংকাজনক হারে বাংলাদেশিদের টাকা বাড়ছে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে। সেসব টাকার উৎস নিয়ে তিন ধরনের মতবাদ শোনা যায়।
-বৈধ
-অবৈধ (প্রধানত হুন্ডির মতো মাধ্যমে পাচার করা, অবৈধ পন্থায় আয় করা)
-উভয়
এরমধ্যে অবৈধ আয় থাকার সম্ভাবনা বেশি, এমনই দাবি বেশিরভাগের। সুইস ব্যাংকগুলো দুনিয়ার অন্য ব্যাংকগুলো থেকে আলাদা বলেই জানি সবাই। সেখানে টাকা রাখলে আয়ের উৎস নিয়ে কোন জিজ্ঞাসা করা হয় না। কয়েক বছর আগেও কার টাকা বা কোন দেশের টাকা এতোটুকুও প্রকাশ করা হতো না। আন্তর্জাতিক মহলের চাপে দেশ ও সঞ্চিত টাকার পরিমানের ব্যাপার ডিসক্লোজ করলেও সঞ্চয়কারীর পরিচয় পাব্লিক করা হয় না।
অনেক বছর ধরেই বিদেশে টাকা পাচার নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন উঠে এসেছে। একেক পক্ষ একেকভাবে ব্যাখা করেছেন। বৈশ্বিক অস্থিতিশীল অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় যখন আমাদের মতো মতো দেশের অর্থনীতি টালমাটাল অবস্থা, ক্ষমতাসীন দলের উপর সব দিক থেকে চাপ আসছে অর্থ পাচারে জড়িতদের বিচারের সম্মুখীন করে পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়ার জন্য।
এমতাবস্থায় কেও বলছেন টাকা পাচার হওয়ার তথ্য ভুল হতে পারে। সুইজারল্যান্ড মিথ্যা বলে থাকতে পারে বা বলেছে তাদের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশীদের টাকার পরিমান নিয়ে।
ওসব নিয়ে গুরুগম্ভীর আলোচনায় না গিয়ে আলোচনা সহজবোধ্য রাখার স্বার্থে ধরে নিন আমির খানের পিকে মুভির বুদ্ধিমান এলিয়েন পিকে তার ফ্লায়িং সসার বাংলাদেশের হালদা নদীর পাশে ল্যান্ড করিয়েছে। সেখানে নেমে নদীর পোনা ধরে জীবিকা নির্বাহ করা এক কিশোরের হাত ধরে বাংলা শিখে নিয়েছে। এরপর নোরা ফাতেহি বাংলাদেশে আসার খবর আগাম দিয়ে তার সাথে সখ্যতা গড়ে। সেই কিশোরের সাথে পিকে হালদার খোলা হাওয়া খাচ্ছিল (পিকে হালদারের কথা বলছি না, এলিয়েন পিকে দেশের হালদা নদীর পাশে বসে হাওয়া খাচ্ছিল বুঝিয়েছি শুধু)। হঠাৎই কিশোর মহিউদ্দিন জানতে চাইলো,
-আচ্ছা পিকে, তুমিতো বুদ্ধিমান। আবার শর্টকাটে অনেক কিছু করে ফেলো। এই যে অত টাকা পাচার করে ধরা খায়, কেনো? টাকার ক্ষমতা দিয়ে বেচে যেতে পারে না?
-হুম। পুকুরে বড়শি দিয়ে মাছ ধরেছো কখনো?
-হ্যাঁ ধরেছি। কিশোর মহিউদ্দিন জবাব দেয়।
-টোপ দিয়ে বড়শি ফেললে কয়টা ধরতে পারো? সবগুলো?
-নাহ।
-বুঝলে কিছু!
মহিউদ্দিন চোখ বড় করে তাকায়। এভাবে ভাবে নি সে কোনদিন। আবার মহিউদ্দিন জানতে চায়।
-দুটো প্রশ্ন করি আপনার কাছে। আপনি টাকা পাচার করলে কিভাবে ম্যানেজ করতেন আর পুকুরের কোন মাছটা রাক্ষুসে যেটা নিয়ন্ত্রণ করা দরকার, কিভাবে করবো নিয়ন্ত্রণ?
-প্রথমত উদাহরণ স্পষ্টই আছে প্রথমটার। দেশে অবৈধ টাকায় কেও নিজের নামে সম্পত্তি করে না। বউয়ের নামে করতো, এখন শ্যালিকা-শ্বশুর-শ্বাশুরির নামেও করে শুনেছি। তার মানে অবৈধ আয় যে করে তার সম্পত্তি না থাকলেও আত্মীয়ের নামে থাকতে পারে। কিছুদিন আগে তোমাদের পুলিশ অফিসার প্রদিপের ক্ষেত্রে যেমনটা হয়েছে। তার স্ত্রীর বৈধ উপার্জনের উৎস না থাকায় তাকেও আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তারা এখন ম্যাচ মেড ইন হেভেন থেকে ম্যাচ মেড ফর জেল! হা হা হা।
মহিউদ্দিন আর পিকে হালদার শীতল বাতাসে অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে কিছুক্ষণের জন্য। পিকে আবার শুরু করে।
দেশে যদি অন্যের নামে সম্পত্তি রাখে বিদেশেও রাখবে এটায় অবাক হওয়ার কিছু নেই। বিদেশে বরঞ্চ বিদেশি পরিচিত বন্ধু বান্ধবীর নামে থাকতে পারে। তাতে পাচারকারীকে ধরা কঠিন আরো।
আর গ্রীনহাউজ গ্যাসগুলোর কথা খেয়াল আছে না? কার্বন ডাইঅক্সাইড আর মিথেন! কিভাবে কার্বন ডাইঅক্সাইডকে ধরার প্ল্যান করতে করতে মিথেনের মতো গ্যাস তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে? সেদিকে কারোর খেয়ালই নেই!
সবাই সুইস ব্যাংক সুইস ব্যাংক করতে করতে যখন সুইস ব্যাংকের হিসেব পাওয়া যাবে (কখনো পাওয়া গেলে) তখন আদতে সেখানে টাকা না থাকলেও যে পাচারই হয় নি এমনটা ভাবাও বোকামি হবে। এতো লম্বা সময় বা অন্য সময়ে নিশ্চয়ি অন্য কোথাও সরিয়ে ফেলবে। সেক্ষেত্রে কারেন্ট ইনফোর চেয়ে ট্রেস ইনফো যেমন আগে কারোর টাকা ছিল কিনা, অন্য কোথাও ট্রান্সফার হয়েছে কি না এমন তথ্য না পেলে কোন লাভ নাও হতে পারে। বুঝলে?
-হুম বুঝেছি।
সায় দিলেও পিকে তাকে ছুয়েই তার মনের কথা বুঝতে পারে, মহিউদ্দিন বোঝেনি। তারপরও তার আগ্রহ আর চেষ্টার জন্য দ্বিতীয় প্রশ্নে এগুলো।
এখন আসি মাছ কোনটা রাক্ষুসে কিভাবে বুঝবে। পুর্নিমার আলোয় স্বচ্ছ নদীর পানিতে তাকিয়ে দেখেছো কখনো?
-হ্যাঁ দেখেছি। একদম পরিষ্কার পানি থাকলে নদীর তলা দেখা যায়। মাছ, পোকামাকড়ের দৌড়াদৌড়িও দেখা যায়।
-একদম ঠিক বলেছ। পানিটা স্বাচ্ছ হলেই রাক্ষুসে মাছ না কি মাছ বোঝা যাবে। এটা পুকুরের ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত না। পুকুরের পানি অমন থাকবে না। তাই, ১)রাক্ষুসে মাছ যাতে পুকুরে না আসতে পারে, ২) কেও যেন রাক্ষুসে মাছ না ছাড়ে, ৩) কখনো অমন মাছ ধরা পড়লে নিধন করতে হবে।
রাক্ষুসে মাছে অন্য সব মাছ, মাছের খাবার খেয়ে ফেলছে এজন্য পুকুরে বিষ ঢেলে সব মাছ মরে যাবে ভাবলেও দেখবে পুকুরের কোটর গলে রাক্ষুসে মাছ বেচে বেড়িয়ে যাবে। মারা পড়বে অবলা সাধারণ মাছগুলো।
গপ্পো করতে করতে রাত দশটা বেজে যায়। মহিউদ্দিন বিদায় নেবে। বাড়ি যেতে হবে। এদিকে বিদায় নিয়ে পিকে হালদার পাড় ধরে অন্ধকারে মিলিয়ে গেলো।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন