ময়মনসিংহ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ময়মনসিংহ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ২০ আগস্ট, ২০২২

স্বদেশী বাজারের রাজু ঘোষের লাড্ডু

ময়মনসিংহ শহরে সিংগারা নিমকির নাম নিলে প্রথমেই যে নামটি মাথায় আসে সেটা রাজু ঘোষ। স্বদেশী বাজারের রাজু ঘোষ আলাদা একটা জায়গা করে নিয়েছে হালকা নাস্তায়।

যখন জন্মদিনের মতো অনুষ্ঠান গুলো ঘরোয়াভাবে আয়োজন করা হতো সাদামাটাভাবে, এই রাজু ঘোষের সিংগারা নিমকি মেহমান আপ্যায়নের নাস্তার তালিকায় উপরের দিকে থাকতো। এখন অনেকেই রেস্টুরেন্টে ঝকঝকে ক্যামেরায় ছবি ভালো আসা উচ্চমূল্যের ফরেইন ফুডস প্রেফার করেন। তবুও ভাজাপোড়ার আবদার কমে গেছে অমনটা বলা যাবে না।

স্বদেশী বাজারে কাছাকাছি দুইটা রাজু ঘোষ পাবেন। রাজু ঘোষ আর আদি রাজু ঘোষ। পার্সোনালি আদি রাজু ঘোষ প্রেফার করি আমি, কিন্তু আদি রাজু ঘোষের ভেতরের বসার এরেঞ্জমেন্টটা জরাজীর্ণ। যেটা অনেকেই অপছন্দ করবেন। কিন্তু খাবারের স্বাদ অসাধারণ, সুযোগ করে আরেকদিন বলবো।

রাজু ঘোষ-এ সিংগারা নিমকির সাথে একটা ঝোল ঝোল চাটনির মতো টক দেয়। পাওয়া যায় দই আর লাড্ডুও।

লাড্ডু জিনিসটা খুবই কাছের লাগে, গরিবের ডেজার্ট। সাধারণ মিষ্টির মূল উপকরণ দুধের ছানা হলেও এই লাড্ডুতে বেসন বা ছোলার গুড়া ব্যবহার করা হয়। চিনি তো কমন। তো যারা দুধের তৈরি খাবার খেতে পারেননা তাদের যদি চিনিতে সমস্যা না থাকে, লাড্ডু ইজ অ্যা গুড চয়েজ অ্যাজ ডেজার্ট।

রাজু ঘোষের লাড্ডু
রাজু ঘোষের লাড্ডু

লাড্ডু জাস্টিফাই করা কঠিন লাগে। তবে কিছু লাড্ডুতে রঙ দেয় যেগুলো আমার অপছন্দ। রঙ বিহীন লাড্ডুর মধ্যে ভাগ করলে কতক লাড্ডুতে শুকনো ফল, মোরব্বা থাকে। ফল টল ছাড়া বা সহ লাড্ডুগুলোকে আরো ভাগ করলে কিছু লাড্ডু একটু ভেজা ভেজা, আবার কিছু শুকনো। একেকটার একেক আবেদন। তবে শুকনো লাড্ডু ওজনের হিসেবে লাভজনক, টেকে ভালো। সেজন্য আমার প্রেফারেন্স শুকনোটাই, যদিও একটু ভেজাটা খেতে বেশি মজা। শুকনো লাড্ডুর মধ্যে কিছুতে চিনির আধিক্য থাকে, অন্যটায় কম। এই পর্যায়ে শেষ কথা বললে সাদামাটা শুকনো লাড্ডু যেটায় চিনি কম সেটার দাম হাতের নাগালে থাকায় ও টেকসই হওয়ায় আমার পছন্দের তালিকায় এটা থাকে।

আদি রাজু ঘোষের লাড্ডু আকারে ছোট। আদি রাজু ঘোষ নিয়ে আরেকদিন বলবো। তবে এটা নিশ্চিত থাকুন আপনি স্বদেশী বাজারের রাজু ঘোষ বা আদি রাজু ঘোষ যেটাতেই যান স্বাদে মানে হতাশ হবেন না। ভালো ও তকতকে বসার জায়গা চাইলে রাজু ঘোষ। বসার জায়গা কেয়ার না করে কেবল টেস্ট প্রেফার করলে আদি রাজু ঘোষের পুরনো চেয়ার আপনার পশ্চাতদেশের ছোয়া পাওয়ার দাবি রাখে।

রাজু ঘোষের লাড্ডু সাইজে বড়, চিনি একেবারে কম না, শুকনো। কেজি ২০০ টাকা। পিস খুব সম্ভবত ১০ টাকা। নিচের ছবি দেখে স্বাদ বোঝা না গেলেও টেক্সচার আর আকার সম্পর্কে আইডিয়া পাবেন একটা। বেশি চিনি আর কম চিনির লাড্ডু পাশাপাশি রাখলে ক্লিয়ার আইডিয়া পেতেন উচ্চ মধ্যম পরিমাণে চিনিওয়ালা লাড্ডু কেন বলছি।

লাড্ডু
এই লাড্ডুটা শুকনো


বুধবার, ৩ আগস্ট, ২০২২

ময়মনসিংহের দানাদার মিষ্টি

ময়মনসিংহের অন্যতম সাদামাটা মিষ্টির একটা দানাদার। কোন বাড়তি চাকচিক্য বা রংচংয়ের জৌলুশ নেই। কিন্তু খেতে ভালো।

সিলেটে একবার চকচকে এক মিষ্টির দোকানে গিয়ে ফুলের মতো সুন্দর, কয়েক জাতের রঙিন মিষ্টি চেখেছিলাম। এককথায় অখাদ্য না হলেও মিষ্টি নামের কলংক। তখনি উপলব্ধি হয়েছিল ময়মনসিংহের মিষ্টি ওইসব মিষ্টির সাথে তুলনা করলে ঐশ্বরিক।

আগে “দর্শনদারি” কথাটা খুব সম্ভবত মিষ্টির জন্য নয়। যেমন এই দানাদার মিষ্টি। খাওয়ার সময় মুখে দানা দানা (ভাজা ছানা) লাগে, দানাদার নাম এজন্যেই খুব সম্ভবত। রসের আধিক্য নাই রসগোল্লার মতো। উপরে মাওয়া দেয়া হয়। আকারে মোটামুটি ছোট হওয়ায় কেজিতে অনেকগুলো ধরে।

স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী সব মিষ্টির দোকানেই সুস্বাদু ও ভালমানের "দানাদার" মিষ্টি পাওয়া যায়। যেমনঃ কৃষ্ণা কেবিন, সুধীর ঘোষ, দয়াময়, মিষ্টি কানন ইত্যাদি।

কৃষ্ণা কেবিনের "দানাদার" মিষ্টি

বুধবার, ১৩ জুলাই, ২০২২

ময়মনসিংহের মাদকাসক্তি, ছিনতাই, অটোচালনা ও অপরচুনিটি কস্ট

চোখের সামনে সেদিন টাউনহল মোড়ে এক অটো আরেক অটোকে ওভারটেক করতে গিয়ে বেকায়দায় উলটে যায় ধাক্কা দিতে যাওয়া অটোই! ড্রাইভার তেড়ে যায় নিজের দোষ ভুলে অন্য ড্রাইভারকে মারতে।

উপস্থিত জনতা প্রথম অটোচালকের উপর ক্ষেপে যায়। চোখ আর চালচলন দেখে বোঝা গেলো নেশাগ্রস্ত ছিলেন প্রথম অটোচালক, যিনি মূলত সংঘর্ষের হোতা।

পাব্লিকরে বোকা আর ইরেস্পন্সিভ বলার যে ব্যাপারটা কাজ করতো সেটা একটু কমেছে এই ঘটনা দেখার পর। অবশ্য দোষীর হাতে কোন দেশীয় অস্ত্র বা আগ্নেয়াস্ত্র থাকলে আমি বা অন্য কেও এগিয়ে যেতাম কি না সন্দেহ আছে। নিজের জান আগে।


ছবিটা সেই স্পটের যেখানে ঘটনা ঘটেছিল, গুগল স্ট্রিট ভিউ থেকে নেয়া হলেও ঘটনার সময়ে তোলা না


যাইহোক, আপনার আমার শহর ময়মনসিংহের একটা বদনাম বেশি ছিল ছিনতাইকারী সংশ্লিষ্ট। যত্রতত্র ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা অহরহই শোনা যেতো একসময়। এখন নেই এমন না, অনেকটা কম।

মূল আলোচনার আগে একটা কল্পিত সন্তানপ্রীতির ঘটনা বলি।

শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সন্ধ্যার পর এক নারীর মোবাইল রাখার হাতব্যাগ ছিনতাই করে এক কিশোর। নারীর চিতকারে আশেপাশের লোকের সহযোগিতায় পুলিশের হাতে ধরা পরে সে কিশোর। থানায় নেয়া হয়। অভিভাবকদের ডাকা হয়। মা আসেন। কান্না শুরু করেন,

-আমার পোলাডার কোন দোষ নাই। আমার পোলা এরুম করতোই ফারে না। কেও না কেও ফাসানির লাইজ্ঞা ধরা খাওয়া দিছে।

-আপনার ছেলে ছিনতাই করেছে। সবাই দেখেছে, হাতেনাতে ধরেছে। এমনকি সে নেশাগ্রস্ত ছিল, তার ডোপ টেস্ট করা হয়েছে।

-আমি কইছিলাম না, আমার পোলা এরুম না। এরে কেও নেশার বড়ি খাওয়ায়া এরুম করাইছে। পরে ফাসায়া দিছে।

অযৌক্তিক হাস্যকর হলেও অনেক অপরাধের ক্ষেত্রেই হয় পরিবার জানে না, নাহয় প্রশ্রয় দেয়। জনপ্রিয় উদাহরণ হতে পারে ঘুষের টাকা, সিন্ডিকেট করে মূল্যবৃদ্ধি করে তুলে নেয়া টাকা। কোন সেক্টরে এই ঘটনা ঘটে না! আমি, আপনি, আমাদের আত্মীয় স্বজনেরাই তো কোন না কোন ভাবে এগুলোতে জড়িত।

প্রসংগে ফেরা যাক।

আগের তূলনায় এখন ছিনতাইয়ের কথা শোনা যায় না। বিশেষ করে অটোর বৃদ্ধির সাথে ছিনতাই কমার হারের একটা মিল দেখা যায়।

এর পেছনে যুক্তি হিসেবে দাড় করানো যায় বৈধ উপার্জন থেকে নেশার টাকার যোগান। ব্যাপারটা ইন্টারেস্টিং না!

একসময় নেশার টাকা যোগানোর জন্য মোড়ে-গলিতে ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটতো। ধরা খেলে অপরাধীই স্বীকার করতো এসব কারন (নেশার জন্যে ছিনতাই করেছে) আবার কিছুক্ষেত্রে এলাকার মানুষ সাক্ষ্য দিতো।

খুব সম্ভবত আধুনিক নেশাগ্রস্তদের কিঞ্চিৎ বোধোদয় হয়েছে। আপনি কোন ভাবে নেশারত কারোর সামনে পরে গেলে যদি তাকে জিজ্ঞেস করেন,

-কেন এগুলা করে টাকা নষ্ট করতেছিস বোন?

-নিজের পরিশ্রমের টাকায় নেশা করি। কারোর বাপের টাকায় না।

উদাহরণে "বোন" বলার অন্যতম কারণ পুরুষের পাশাপাশি অথবা পুরুষ থেকে দূরে বিভিন্ন সেক্টরে নারীর উপস্থিতি, বিচরনে সফলতার কথা তুলে ধরা।

মাদক জগতে নারীদের বিচরন বিকৃত নারীবাদের ফসল (বিকৃত নারীবাদ বলতে সেই বিশ্বাসকে বোঝাচ্ছি, যে বিশ্বাসীরা মনে করে পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও সিগারেট, নেশার অধিকার আছে। ছোট কাপড়, অশালীনতা, উশৃংখলতা মানেই স্বাধীনতা বা পুরুষের সমান হওয়ার হাতিয়ার। যারা ভুলেই যায় এইরকম বিষয়গুলোর কোনটিই পুরুষের জন্য বা সমাজের জন্য মঙ্গলজনক হয়নি)। আলোচিত ঐশী কান্ড নিশ্চয়ই ভুলে যাওয়ার মতো না। যেখানে পুলিশের এক কর্মকর্তার মেয়ে ঐশী তার বাবা মাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে তার ছেলেবন্ধুর সহায়তায়। তাদের অবাধ বিচরণ ছিল নেশার জগতে। ওই ছেলের অপরাধ জাস্টিফাই করার কোন যৌক্তিকতা নেই এটা অকাট্য। কিন্তু এমন সমঅধিকার বা এমন বিশৃঙ্খলার দিকে ধাবিত করবে এমন কোন অধিকারই থাকা উচিত না।

পত্রিকায় হরহামেশাই অপরাধী দম্পতি অথবা যুগল (বৈধ দম্পতি না) ধরা পড়ার খবর দেখা যায়।

আমরা মানুষেরা অদ্ভুত মেন্টালিটির! না মানে চিন্তা করুন, একসাথে বিয়ে ছাড়া থাকা যাদের কাছে অবৈধ বা নীতিবিরোধী মনে হয়েছে তাদেরও কেও কেও ছিনতাই, মাদক, খুনের মতো গর্হিত অপরাধে যুক্ত হচ্ছি।

এক্ষেত্রে অবস্থান স্পষ্ট করা জরুরী যে, ব্যক্তি হিসেবে আমি পশ্চিমা অবাধ মেলামেশার বৈধকরণ বিরোধী। বিয়ে করে বৈধ সম্পর্ক স্থাপনের গুরুত্ব সম্পর্কে অবহিত। শুধু অবাক লাগে এটা ভেবে যে একদিকে এমন নৈতিক সচেতন মানুষেরা কিভাবে অন্য ঘৃন্য অপরাধে জড়িয়ে যায়!

সমাজের নিম্ন আয়ের লোকেদের ক্ষেত্রে হালাল আয়ে নেশা করার গর্ব দেখা যায় বেশি। উচ্চস্তরের কিছুক্ষেত্রে এর ভিন্নতা দেখেছি। বিশেষত আপনি যদি কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রর কাছ থেকে শোনেন, যাকে হয়তো নেশাগ্রস্ত বলা উচিত হবে না (তাদের মতে) তাদের কেও কেও বলবে

-আমি আমার লিমিট জানি

অথবা

-আমি অনেক ছোটবেলা থেকেই এগুলায় আছি। আমার কাছে এগুলো নরমাল, কোন ইম্প্যাক্ট পরে না

অথবা

-তুই ক্ষ্যাত, আমি স্মার্ট

অথবা

-টেনশন, ডিপ্রেশন, ফ্যামিলি প্রেশার ইত্যাদি।

আরেক গ্রুপ পাবেন যারা কিছু কিছু নেশাদ্রব্যকে "নেশাদ্রব্য" বলতেই নারাজ। যেমনঃ গাজা খেলে তো নেশা হয় না, পানীয়কে (মদ বা অমন তরল) কেন মানুষ নেশাদ্রব্য বলে বুঝিই না।

সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং ধূমপায়ীদের যুক্তি। ক্লিয়ার করি, ধূমপায়ীদের নেশাখোর বা মাদকসেবির কাতারে ফেলছি না। কারন, টিপিক্যাল নেশাখোর বা মাদকসেবিদের আলাদা একটা চিত্র/ছাচ আমাদের সমাজে চিত্রিত যেখানে অবশ্যই ধূমপায়ীরা পড়েন না। ইয়াবা বা হেরোইনের মতো মাদক সেবনে ঘটা সরাসরি ক্রম মানসিক বিকারের ভয়াবহতার মতো প্রভাব সিগারেটের ক্ষেত্রে দেখা যায় না। সোজা কথায় শুধু সিগারেট খেয়ে মানুষ মাতাল হয়না বলে সিগারেট হচ্ছে কানামামা। শকুনি মামা (মানসিক বিকারে ভূমিকা রাখা মাদক) থেকে কানামামা ভালো (অপরচুনিটি কস্ট হিসেবে)।

তো, ধূমপায়ীরা দেশ সেবা করেন ধূমপানের মাধ্যমে উচ্চহারে ট্যাক্স দিয়ে। দেশের জিডিপি গ্রোথে তাদের অবদান সবচেয়ে বেশি, তারাই সত্যিকারের দেশপ্রেমিক!

অথচ এই পরিমান মনযোগ অন্য জরুরী খাতে দিলে সেগুলোর উন্নয়ন সম্ভব হতে পারতো।

অবশ্য ধূমপায়ীদের দেশ সেবা তথা অর্থনীতির চাকা সচলে ভূমিকা রাখার ব্যাপারটা ইকোনমিক দিক থেকে অগ্রাহ্যও করা যায় না।

প্রথম স্তরের নেশাগ্রস্ত ধূমপায়ীদের উদাহরণ দিয়ে বলি।

তারা দৈনিক ৩০ থেকে ২০০+ টাকা খরচ করে (অনুমানে ধরে নিন)। যেই টাকার বেশির ভাগ অংশ এখন করের মাধ্যমে সরকার পায়। যেই বিক্রেতা বিক্রি করলো সে পেল (সাধারণত খুব অল্প পান পার আইটেম হিসেব করলে, মারাত্নক পরিমানে বিক্রি হওয়ায় লাভের পরিমান বাড়ে। কাস্টমার ধরে রাখার জন্য আর টাকার ফ্লো মেইন্টেইন করার জন্যও কেও কেও দোকানে সিগারেট রাখেন বলেছেন), কোম্পানি পেল, কর্মচারী পেল, শ্রমিক পেল, দেশে উৎপাদিত হলে চাষি পেল। চাষীদের উপকার, এর চেয়ে বড় দেশপ্রেম আর কি হতে পারে!

ওগুলো ডিরেক্ট ইমপ্যাক্ট।

ইন্ডিরেক্ট ইমপ্যাক্ট তো আরো বেশি। লুকিয়ে সিগারেট খাওয়া ব্যাক্তিদের খাত বিবেচনা করা যাক।

মুখের গন্ধ নিবারনের জন্য মাউথ ফ্রেশনার, পান, সেন্টার ফ্রেস ইত্যাদি।

কাপরের গন্ধের জন্য স্প্রে, অতিরিক্ত ডিটারজেন্ট।

মাঝে মাঝে সিগারেটের আগুনে কাপড় বাজেয়াপ্ত হয়ে গেলে সদ্য কেনা কাপর রেখেই নতুন কাপর কিনতে হয় বা ঠিকঠাক করে নিতে হয়।

ম্যাচ ইন্ডাস্ট্রি, লাইটার ইন্ডাস্ট্রি, পায়কেজিং, এস্ট্রে, সিগারেট হোলডার।

সিগারেট খেয়ে ফুসফুসের রোগ বানিয়ে ডাক্তারের কাছে যাওয়ায় ভিজিট, চেকাপ, ঔষধ।

ক্যান্সার হসপিটাল, বক্ষব্যাধী হসপিটাল কাশতে কাশতে মারা যাওয়ার পর কবরস্থান বা শ্মশানের কর্মচারীদের পকেটও ভারী করেন তারা।

সেইসাথে সংসারের একমাত্র উপার্জনকারীর দ্বারা জীবিত অবস্থায় পরোক্ষ ধূমপানে ক্ষতি করে, উপার্জনের একটা অংশ সিগারেটের মতো খাতে ব্যয় করে জীবনাবসানের পর মাঝে মাঝেই পরিবারকে অভাবে ফেলে যান অথবা বেকায়দায় ফেলেন।

সাইকোলজি বর্তমানে যেকোন ব্যবসার সাফল্যের গোপন সূত্র।

এমন নেশা দ্রব্য বা ড্রাগ বানিজ্যের পেছনে বড় বড় মানুষ প্রতিষ্ঠান ও সুক্ষ সাইকোলজির খেলা থাকে। মাদক ব্যবসার টাকাগুলোও কালো টাকা। তাই বৈধতা নাই সে টাকার। দেশের অবৈধ সম্পদ, বাইরের দেশে পাচার হওয়া অর্থের একটা অংশ নিশ্চিতভাবেই এই খাতের কালো টাকা। যেটা জনসাধারণের চোখে ধরা পরে না বা পরেও লাভ নেই।

কোথায় ছিলাম, ছিনতাই।

হ্যাঁ, ছিনতাইয়ের মতো ঘৃণ্য কাজ ছেড়ে অনেক নেশগ্রস্তরাই এখন অটো চালনায় এসেছে।

এক্ষেত্রে একটা ইকোনমিক ফ্যাক্টর মাথায় রাখবেন, অপরচুনিটি কস্ট।

অপরচুনিটি কস্ট হলো দুইটা একই (বা ভিন্ন) ধরনের কাজ একই সময়ে করার অবস্থায় পড়লে একটা কাজ ছেড়ে দেয়ার জন্যে যেই লস বা খরচ গুনতে হয় সেটা।

উদাহরণ হিসেবে প্রচলিত গল্পের কুকুরের কথা বলা যায়। যে মাংস নিয়ে স্বচ্ছ স্রোতস্বিনী জলাধারের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় নিজের প্রতিচ্ছবি পানিতে দেখতে পায়। খুব সম্ভবত কুকুরটি পদার্থ বিজ্ঞান বই পড়েনি যার কারনে সে বুঝতে পারেনি যে জলে যে কুকুরটিকে মাংসের টুকরা মুখে দেখা যাচ্ছে তা আদতে তার প্রতিবিম্ব, সে প্রতিফলক পৃষ্ঠ পানি থেকে দূরে থাকায় তার চেয়ে ছোট (ছোট জন্তুর কাছ থেকে অপেক্ষাকৃত সহজে খাবার ছিনিয়ে নেয়া যায়) মনে হয়েছিল।

মূর্খ কুকুর জলের কুকুরের মুখ থেকে মাংস ছিনিয়ে নেয়ার জন্য যেই কামড় বসায় পানিতে, তার মুখের মাংসের টুকরা পানিতে পরে স্রোতের টানে ভেসে যায়।

মূর্খ কুকুর সাইন্সের ফিজিক্স বই না পড়ে কমার্সের বই পড়লেও অপরচুনিটি কস্ট সম্পর্কে জানতে পারতো। যেটা জানলে সে নিজের ভাগের মাংস থাকার পরও অন্য কুকুরের কাছ থেকে ছিনিয়ে মাংসের ভাগ বড় করা আদতে কতটুকু ইকোনমিক তা কমপেয়ার করতে পারতো।

নেশাকারীরা ছিনতাই ছেড়ে অটোচালনা, বিদেশ গমন, স্ট্রিট বিজনেসের মতো দৃশ্যত গ্রহনযোগ্য কাজে যুক্ত হচ্ছে। ইনকাম সোর্স চয়েস করার মেন্টালিটির এই শিফটিং পজিটিভ।

কিন্তু এখনো অনেকের নেশার রাজ্যে অবাধ বিচরণ, নেশাদ্রব্যের মোটামুটি অবাধ প্রাপ্তির অপরচুনিটি কস্ট কি হিসাব করা হয়েছে?

উল্লেখ্য সব অটোচালক নেশাগ্রস্ত এমনটা বলছি না, সবাই ছিনতাইকারী থেকে অটোচালক হয়েছেন এমনটাও বলছি না। বহু সাধারনের কর্মসংস্থান হয়েছে। পূর্বে রিক্সা পদচালিত রিক্সা চালাতেন এমন অনেকেই ইলেকট্রিক অটোরিকশা চালান, এমন লোকও কম না।

কিন্তু যারা নেশাগ্রস্ত তাদের ক্ষেত্রে? লেখার শুরতে বলা আমার চোখের সামনে ঘটা ঘটনাটাতো একটা উদাহরণ মাত্র। ক্ষেত্রবিশেষ যাত্রী হয়রানি, নারী যাত্রীদের ইভটিজিং, তুচ্ছ কারনে ঝগড়া, কিছু ক্ষেত্রে এখনো ছিনতাই বা ছিনতাইয়ের জন্য খুনের মতো ঘটনাগুলোর দিকে নজর দিলে মাদকের একটা যোগসূত্র পাওয়া যায়।

লিখে উদ্ধার করে ফেলার চেষ্টা বৃথা যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কখনো যদি মনে হয়,

আমি তো সাধারণ যাত্রী। আমার সাথে এমন দূর্ব্যবহার করলো কেন? আমার জানের তোয়াক্কা না করে বাস ট্রাক চলা রাস্তায় অন্য জনের সাথে পাল্লা দিচ্ছে কেন? সাই করে অন্য অটো ঘেষে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে চাচ্ছে কেন?

ইত্যাদি বিভিন্ন ঘটনার পেছনে অন্যতম একটা কারন মাদক। দূর্ঘটনায় পড়ার পর আফসোস যাতে না হয় একথা ভেবে,

"কি কারনে দূর্ঘটনায় পড়লাম বুঝলাম না?"

অথবা

"কি কারনে মরে গেলাম বুঝলাম না!"

অন্যতম কারন স্পষ্টকরনের জন্যেই লেখাটি।

আমি মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে শহীদ হওয়ার পক্ষপাতী না। এমনিতেই একটা গ্লোবাল বা লোকাল প্রব্লেম সলভ করার আগে মরতে যাওয়া বা চাওয়া আমার পেছনে পরিবারের ও দেশের খরচ ও স্যাক্রিফাইসের অপচয়ের শামিল। আমি অমন অপচয়ের পক্ষপাতী না। ওই যুদ্ধের উপযোগী সেনা বা সেনাপতি না। তাছাড়া যুদ্ধের আওয়াজ তোলা অনেকেই মাদকে জড়িত থাকায় তথাকথিত যৌক্তিকতা নিয়ে সন্দিহান এই বিষয়ে যে আমি শহীদ বিপক্ষের হাতে হবো নাকি পক্ষের বিশ্বাসঘাতকের হাতে এই ব্যাপারটা তো আছেই!

আমি ছাপোষা মানুষ কৃষির সাথে থেকে বাকি জীবন কাটাতে চাই। আমাকে নিয়ে মাদকসেবিদের দুশ্চিন্তার কিছু নেই, আক্রোশ থেকে আক্রমনের তালিকা থেকে আমাকে সরিয়ে রাখলে ভবিষ্যতে আপনার নিজের দেশের বহুত উপকার হবে কথা দিলাম।

আরে ধুর, কারে কি বলতেছি! আপনি তো মাদক নেননা বা মাদকের পক্ষের লোকও না, আপনাকে বলে কি হবে!


শনিবার, ১৪ মে, ২০২২

ই-কমার্স প্রশিক্ষণের সেকেন্ডারি ইমপ্যাক্ট

১১ অক্টোবর ২০১৮ তে প্রথম “TRANSFORMING BUSINESS TO e-BUSINESS” FOR e-COMMERCE ENTREPRENEURS শিরোনামে অফিশিয়ালি সরকারিভাবে ই-কমার্সের ট্রেনিং শুরু হয় ঢাকায়।

ই-কমার্স ট্রেনিংয়ের ব্যানার
ই-কমার্স ট্রেনিংয়ের ব্যানার


এরপর চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, রাজশাহীর মত গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে ট্রেনিংটি দেয়া হয় “ই বানিজ্য করবো, নিজের ব্যাবসা গড়বো” নামে।

বানিজ্য মন্ত্রণালয়, বাপেক্স, ইক্যাব সহ অনেক পৃষ্ঠপোষকের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় চলে ট্রেনিংটি। কতজন সুবিধাভোগী সরাসরি এর থেকে উপকার পেয়েছেন বা সরাসরি ই-বানিজ্য শুরু করেছেন সে হিসাবে যাবো না।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে আসা পড়ুয়ারাসহ জনসাধারণেরও জানা যে সাবান উৎপাদনের সময় সহ উৎপাদ হিসেবে গ্লিসারিন পাওয়া যায়। যা আরেকটি নিত্য ব্যবহার্য কসমেটিক পণ্য। তেমনিভাবে শুরুতে বলা ট্রেনিংয়ের কিছু সহ উৎপাদ নিয়েই আজকের লেখা।

করোনার সময় ই কমার্স তার বিস্তার বাড়িয়েছে, উপযোগিতা বুঝিয়েছে। তবুও অনেকেই অনলাইনে কেনাকাটায় অভ্যস্ত নন এখনো। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ট্রাস্ট ইস্যু ও পুরনো অভ্যাস থেকে যাওয়াটাই মুখ্য। অবশ্য অনেকক্ষেত্রে অনলাইন কেনাকাটার চেয়ে অফলাইনে দেখেশুনে কেনাকাটা করাটাই উত্তম সেই হিসাবটা তো আছেই।

অবিশ্বাস সৃষ্টির ক্ষেত্রে আরেকটি উপকরণ বৈধ ব্যবসায়িক ভিত্তি। অনলাইনে বৈধ ব্যবসা পরিচালিত হতে পারে এমন ধারণাই অনেকের ছিল না। তাছাড়া মিডিয়ায় বেশিরভাগ খবর অনলাইন প্রতারণা সংক্রান্ত হওয়ায় অথবা ওই খবরগুলোতে আমাদের দৃষ্টিপাত বেশি হওয়ায় অনলাইন ব্যবসা বা ই কমার্সে মানুষের আস্থায় ব্যাপক ঘাটতি থাকে সাধারণত। যেখানে কাস্টমার, সেলারদের ট্রেইন বা শিক্ষিত করাটা অনেক কাজে দিয়েছে।

কিভাবে? বলছি।

ই কমার্স বা অনলাইনে ব্যবসার আইডিয়া অতটাও নতুন না বৈশ্বিক বিবেচনায়। সে হিসেবে এ সংক্রান্ত ট্রেনিং ও শিখন কার্যক্রমও একদম ছিল না বলা যাবে না। কিন্তু বিশ্বাসযোগ্যতায় ঘাটতি ছিল।

মজার ব্যাপার হলো আমরা যতই সরকার বিরোধী বা ক্ষমতায় থাকা সরকারকে অপছন্দ করি না কেন, সরকারি সেবা বা সংগঠনগুলো এখনো আমাদের আস্থার অনেকটা জায়গা জুড়েই আছে। যেমন বিটিভির কথাই ধরুন। যেটাকে আমরা বাতাবী লেবু টিভি নামে বলি বা চলমান অনেক ইস্যুর দিকে দৃষ্টিপাত না করার জন্য সমালোচনা করি। কিন্তু আমাদের পরিবারের কারোর যদি সেখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ হয় তখন?

তখন আমরা খুবই খুশি হই তা আমরা সরকার পক্ষের অনুসারী হই বা বিরোধীপক্ষের। কারণ সেটা সরকারি। একই ঘটনা ঘটে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রেও। এখনো পর্যন্ত বেশীরভাগ চাকরি প্রত্যাশীর প্রথম পছন্দ সরকারি চাকরি। রেলসেবা, ভাতা, টিসিবি ইত্যাদি সরকারি সেবাগুলো একইরকম আরো উদাহরণ।

তার মানে যে কোন কাজে সরকারি সংশ্লিষ্টতা একটা আস্থার জায়গা তৈরি করে (অনেকক্ষেত্রেই। ব্যাতিক্রম আছে, থাকবে)। এই বিবেচনায় ইকমার্সের মতো অনাস্থায় ভোগা সেক্টরে পৃষ্ঠপোষকতায় ট্রেনিং করানোটা আমাদের আস্থায় একটা ইতিবাচক প্রভাব এনেছে। যেটার বাস্তব প্রতিফলন তুলে ধরবো।

ই কমার্সের ট্রেনিংটি ময়মনসিংহে মার্চ ২০২১ এর দিকে শুরু হয় “ই-বাণিজ্য করবো নিজের ব্যবসা গড়বো” শিরোনামে। প্রতি ক্লাসে (ব্যাচে) ২৫ জন করে একাধিক শ্রেণীকক্ষ নিয়ে প্রশিক্ষণ শুরু হয়। নিয়মিত আড্ডায় বসা বন্ধুদের মধ্যে প্রথমদিকেই আমি ট্রেনিংটি করা শুরু করেছিলাম।

ট্রেনিং সংক্রান্ত বিভিন্ন টুকিটাকি তথ্য-উপাত্ত আড্ডায় যোগ করতাম। কিন্তু অনেকের তখনও সেই অনাস্থা থেকে গিয়েছিল। অনলাইন মানেই ভুয়া এমন একটা বিশ্বাস যেন যাচ্ছিলই না।

একসময় ট্রেনিংয়ের সুযোগ সুবিধা ও সম্ভাবনা দেখে তাদের কেও কেও আবেদন করে ও গৃহীত হয় তাদের আবেদন। এরপর দৃশ্যপটে কিছুটা পরিবর্তন আসে।

ধীরে ধীরে আলোচনার বিষয় হতে থাকে ট্রেনিংয়ের বিভিন্ন ঘটনাবলি। বলিউডের সালমান খান শাহরুখ খানের পাশাপাশি আলোচনায় আসতে থাকেন জ্যাক মা, মার্ক জাকারবারগেরা। যেটাও ঘটে অল্প কদিনের মধ্যেই!

এর পরবর্তী ধারাবাহিকতা অনুমেয়। ব্যাবসায়ি তৈরির ট্রেনিং হলেও এর মাধ্যমে ভবিষ্যতের ই কমার্সের ক্রেতাও তৈরি হচ্ছেন। সাধারণ ক্রেতার পাশাপাশি “বিক্রেতা” ক্রেতা। যাকে ব্যাবসায়িক ভাষায় বি টু বি বিজনেসের ক্রেতা বলা যায়।

অনেক বিক্রেতাই জানতেন না তারা অনলাইনে পাইকারি জিনিস ক্রয় করতে পারেন চাইলেই! ব্যাবসায়িক কেন্দ্রর অন্যতম ঢাকা থেকে অনেকেই এখন ফেসবুক গ্রুপ-পেজ, ইমো, হোয়াটসেপ, ইউটিউব, নিজস্ব ওয়েবসাইট ইত্যাদি মাধ্যমের কোন একটি বা একাধিকটির সহায়তায় পণ্য বিকিকিনি করছেন।

এই শুরুটা একটা ডমিনো ইফেক্টের সূচনাকারী বলাই বাহুল্য। ওয়ার্ড অফ মাউথ বা মুখে মুখে যার ব্যাপ্তি ঘটবে।

এরকম সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় আরো যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ দেয়া সময়ের দাবি।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায় স্বনির্ভর অর্থনীতির দিকে উৎসাহিত করা। যাতে একমুখী উৎপাদন ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকে একান্ত বৈদেশিক আমদানি নির্ভর না হয়ে যথেষ্ট পরিমাণে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির প্রবাহ নিশ্চিত করা।

যেমন আমাদের ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতার জন্যে রপ্তানিকারক দেশের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয় বৈশ্বিক বাজারের টালমাটাল অবস্থা চলার সময়। একটু অস্থিতিশীল হলেই বাড়তি দামের চাপ মেটাতে হাত দিতে হয় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে।

ইতোপূর্বে ভারত নির্ভর পেঁয়াজ, গরু ইত্যাদি ক্ষেত্রে সংকট দেখা গিয়েছে। স্থানীয় বা দেশজ উৎপাদন বৃদ্ধি দিয়ে যেগুলো আগেরচেয়ে অনেকটাই স্থিতিশীল এখন।

যাইহোক, ই বানিজ্য করবো নিজের ব্যবসা গড়বো প্রকল্পে প্রশিক্ষণ নেয়া অনেকের একজনের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ হয়। যিনি প্রশিক্ষণের সুবিধাভোগী ও নিজের ব্যবসায় আধুনিক বিপনন ব্যাবস্থা চালু করেছেন। অনলাইনে কচুর চারা বিক্রি দিয়ে শুরু করে তিনি ধীরে ধীরে অন্যান্য মূল্যবান কৃষিজ পণ্য চাষের পরিকল্পনা করছেন।

বিভিন্ন জাতের ও সাইজের চারা বিক্রি করেন তিনি
বিভিন্ন জাতের ও সাইজের চারা বিক্রি করেন তিনি


ময়মনসিংহের সুপরিচিত দাপুনিয়া বাজারের পাশের গ্রামের একজন কৃষি উদ্যোক্তা জুয়েল আহামেদ। দেশের বিভিন্ন জায়গায় কচুর চারা সরবরাহ করছেন অনলাইনে অর্ডার নিয়ে। স্থানীয় কৃষি সেবা কেন্দ্র থেকে আশানুরূপ সেবা ও সুবিধা না পেলেও তিনি নিজ উদ্যোগে শিখছেন ও এগিয়ে চলছেন।

কুরিয়ার ডেলিভারির জন্য প্রস্তত বস্তা ভর্তি কচুর চারা
কুরিয়ার ডেলিভারির জন্য প্রস্তত বস্তা ভর্তি কচুর চারা

শনিবার, ৭ মে, ২০২২

আখের রস বিক্রি করে মাসে আয় ৪০০০০ টাকা! DAWN TALES

ময়মনসিংহের বড় মসজিদ গেটের সামনে দিয়ে হেঁটে যেতেই হঠাৎ চোখ পরলো ইঞ্জিন চালিত মেশিনে আখের রস তৈরী করছেন এক অর্ধ বয়স্ক মুরব্বি লোক। ওনাকে দেখে মনে মনে একটি লাইন উচ্চারিত হলো- 
বয়সের ধার ধারে না জীবন, বেঁচে থাকার তাগিদেই জীবন বেছে নেয় যেকোনো জীবিকা।

খুব একটা ব্যস্ততা না থাকায় মনের কৌতূহল বশত এগিয়ে গেলাম অর্ধবয়স্ক লোকটির সামনে। 
ছোট্ট এই ইঞ্জিন চালিত মেশিনে চার-পাঁচটি গ্লাস, একটি জগ, একটি পানি ভর্তি বালতি আর অনেকগুলো আখ ( কুইশর) নিয়ে মানুষের তৃষ্ণা মেটাচ্ছেন এই লোকটি।
আখের রস করছেন দুলাল মিয়া


হুট করে কথা বলা যায় না বিধায় এক গ্লাস আখের রস দিতে বললাম মুরব্বি কে। দুটো আখ চাপকলে ঢুকিয়ে দিলেন, মেশিনের চাপে আখের রস নিংড়ে পরছে। 
গ্লাসে চুমুক দিতে দিতে মুরব্বিকে তার নাম জিজ্ঞেস করলাম, উত্তরে তিনি বললেন দুলাল মিঞা। লোকটির ব্যবহার ভালো।

কিছুটা বন্ধুত্ব পারায়ণ হয়ে মুরব্বির কাছে কিছু প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলাম ;
 উত্তরে তিনি বলেন- গ্রামের বাড়ি, ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া। পরিবার ফুলবাড়িয়া থাকলেও তিনি ব্যবসার কারণে এখানেই থাকেন, কেওয়াট খালি রেল ব্রীজের নিচে।

দুই ছেলে এক মেয়ে। বড় ছেলে বিবাহিত, পেশায় ইঞ্জিন মেকানিক। ছোট মেয়ে ক্লাস নাইনে পড়ে।
এই পেশায় কেমন করে এসেছেন জানতে চাইলে দুলাল মিঞা বলেন - ১৯৯৩ সালে মেট্রিকুলেশন পাশ করেছিলেন তিনি। এর পর জীবিকার তাগিদে চলে যান ঢাকা শহরে। সেখানে আট বছর এই আখের রসের ব্যবসা করে ময়মনসিংহ চলে আসেন।

১২ বছর যাবত বড় মসজিদের সামনে আখের রস বিক্রি করছেন। সকাল ১০ টায় ভ্যান নিয়ে চলে আসেন এখানে, ব্যবসার পাট চুকিয়ে রাত ১১ টায় চলে যান। 

ব্যবসার প্রথম দিকে ২০ হাজার টাকা দিয়ে ডিজেল চালিত আখের রস বের করার জন্য পুরাতন একটি মেশিন কিনেছিলেন। সে মেশিনটি ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন। পরবর্তী তে ৭২ হাজার টাকা খরচে ভ্যান সহ ব্যাটারি চালিত একটি মেশিন কিনেন।
ব্যাটারিচালিত মেশিন


কোন জায়গা থেকে আখ সংগ্রহ করেন তা জানতে চাইলে দুলাল মিঞা বলেন- 
ফুলবাড়িয়ার বিভিন্ন আখ চাষীদের কাছ থেকে মৌসুমে মৌসুমে সরাসরি আখের ক্ষেত কিনে নেন। সেখান থেকে আখ কেটে পাঠানোর ব্যবস্থা আছে। সংগ্রহকৃত আখ নিজেই চেঁছে-ছিলে প্রস্তুত করেন।
প্রতিদিন কেমন বিক্রি হয় জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন- 
শীতের তিনমাস পৌষ-মাঘ-ফাল্গুন বিক্রি কম হয়। দিনে ১২০০-১৫০০ টাকা। খরচ বাদে ৫০০ টাকার মতো থাকে।

বাকি নয়মাস গরমের সময় দিনে প্রায় ৩-৪ হাজার টাকা বিক্রি হয়। যেখানে বিক্রির প্রায় অর্ধেক লাভ থাকে সাধারণত। এভাবেই দুলাল মিঞা ২০ বছর যাবত চালাচ্ছে জীবন-জীবিকা এবং একটি সংসার।

গ্লাসে আখের রস অনেক আগেই শেষ, মুরব্বি কে জিজ্ঞেস করলাম চাচা এক গ্লাস কত? 
মুচকি হেসে তিনি উত্তর দিলেন - বাবা প্রতি গ্লাস ১০ টাকা...
লেখাঃ শোভন
সাক্ষাৎকারঃ বদরুল

NPUC value of food: Affordable nutrient rich foods list (Part 01)

কোন  খাবারে এক টাকায় কতটুকু পুষ্টি উপাদান পাচ্ছেন সেটাকেই বলছি নিউট্রিয়েন্ট পার ইউনিট কস্ট বা Nutrient Per Unit Cost (NPUC value) উদ্দেশ্য ক...