বুধবার, ১৩ জুলাই, ২০২২

ময়মনসিংহের মাদকাসক্তি, ছিনতাই, অটোচালনা ও অপরচুনিটি কস্ট

চোখের সামনে সেদিন টাউনহল মোড়ে এক অটো আরেক অটোকে ওভারটেক করতে গিয়ে বেকায়দায় উলটে যায় ধাক্কা দিতে যাওয়া অটোই! ড্রাইভার তেড়ে যায় নিজের দোষ ভুলে অন্য ড্রাইভারকে মারতে।

উপস্থিত জনতা প্রথম অটোচালকের উপর ক্ষেপে যায়। চোখ আর চালচলন দেখে বোঝা গেলো নেশাগ্রস্ত ছিলেন প্রথম অটোচালক, যিনি মূলত সংঘর্ষের হোতা।

পাব্লিকরে বোকা আর ইরেস্পন্সিভ বলার যে ব্যাপারটা কাজ করতো সেটা একটু কমেছে এই ঘটনা দেখার পর। অবশ্য দোষীর হাতে কোন দেশীয় অস্ত্র বা আগ্নেয়াস্ত্র থাকলে আমি বা অন্য কেও এগিয়ে যেতাম কি না সন্দেহ আছে। নিজের জান আগে।


ছবিটা সেই স্পটের যেখানে ঘটনা ঘটেছিল, গুগল স্ট্রিট ভিউ থেকে নেয়া হলেও ঘটনার সময়ে তোলা না


যাইহোক, আপনার আমার শহর ময়মনসিংহের একটা বদনাম বেশি ছিল ছিনতাইকারী সংশ্লিষ্ট। যত্রতত্র ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা অহরহই শোনা যেতো একসময়। এখন নেই এমন না, অনেকটা কম।

মূল আলোচনার আগে একটা কল্পিত সন্তানপ্রীতির ঘটনা বলি।

শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সন্ধ্যার পর এক নারীর মোবাইল রাখার হাতব্যাগ ছিনতাই করে এক কিশোর। নারীর চিতকারে আশেপাশের লোকের সহযোগিতায় পুলিশের হাতে ধরা পরে সে কিশোর। থানায় নেয়া হয়। অভিভাবকদের ডাকা হয়। মা আসেন। কান্না শুরু করেন,

-আমার পোলাডার কোন দোষ নাই। আমার পোলা এরুম করতোই ফারে না। কেও না কেও ফাসানির লাইজ্ঞা ধরা খাওয়া দিছে।

-আপনার ছেলে ছিনতাই করেছে। সবাই দেখেছে, হাতেনাতে ধরেছে। এমনকি সে নেশাগ্রস্ত ছিল, তার ডোপ টেস্ট করা হয়েছে।

-আমি কইছিলাম না, আমার পোলা এরুম না। এরে কেও নেশার বড়ি খাওয়ায়া এরুম করাইছে। পরে ফাসায়া দিছে।

অযৌক্তিক হাস্যকর হলেও অনেক অপরাধের ক্ষেত্রেই হয় পরিবার জানে না, নাহয় প্রশ্রয় দেয়। জনপ্রিয় উদাহরণ হতে পারে ঘুষের টাকা, সিন্ডিকেট করে মূল্যবৃদ্ধি করে তুলে নেয়া টাকা। কোন সেক্টরে এই ঘটনা ঘটে না! আমি, আপনি, আমাদের আত্মীয় স্বজনেরাই তো কোন না কোন ভাবে এগুলোতে জড়িত।

প্রসংগে ফেরা যাক।

আগের তূলনায় এখন ছিনতাইয়ের কথা শোনা যায় না। বিশেষ করে অটোর বৃদ্ধির সাথে ছিনতাই কমার হারের একটা মিল দেখা যায়।

এর পেছনে যুক্তি হিসেবে দাড় করানো যায় বৈধ উপার্জন থেকে নেশার টাকার যোগান। ব্যাপারটা ইন্টারেস্টিং না!

একসময় নেশার টাকা যোগানোর জন্য মোড়ে-গলিতে ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটতো। ধরা খেলে অপরাধীই স্বীকার করতো এসব কারন (নেশার জন্যে ছিনতাই করেছে) আবার কিছুক্ষেত্রে এলাকার মানুষ সাক্ষ্য দিতো।

খুব সম্ভবত আধুনিক নেশাগ্রস্তদের কিঞ্চিৎ বোধোদয় হয়েছে। আপনি কোন ভাবে নেশারত কারোর সামনে পরে গেলে যদি তাকে জিজ্ঞেস করেন,

-কেন এগুলা করে টাকা নষ্ট করতেছিস বোন?

-নিজের পরিশ্রমের টাকায় নেশা করি। কারোর বাপের টাকায় না।

উদাহরণে "বোন" বলার অন্যতম কারণ পুরুষের পাশাপাশি অথবা পুরুষ থেকে দূরে বিভিন্ন সেক্টরে নারীর উপস্থিতি, বিচরনে সফলতার কথা তুলে ধরা।

মাদক জগতে নারীদের বিচরন বিকৃত নারীবাদের ফসল (বিকৃত নারীবাদ বলতে সেই বিশ্বাসকে বোঝাচ্ছি, যে বিশ্বাসীরা মনে করে পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও সিগারেট, নেশার অধিকার আছে। ছোট কাপড়, অশালীনতা, উশৃংখলতা মানেই স্বাধীনতা বা পুরুষের সমান হওয়ার হাতিয়ার। যারা ভুলেই যায় এইরকম বিষয়গুলোর কোনটিই পুরুষের জন্য বা সমাজের জন্য মঙ্গলজনক হয়নি)। আলোচিত ঐশী কান্ড নিশ্চয়ই ভুলে যাওয়ার মতো না। যেখানে পুলিশের এক কর্মকর্তার মেয়ে ঐশী তার বাবা মাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে তার ছেলেবন্ধুর সহায়তায়। তাদের অবাধ বিচরণ ছিল নেশার জগতে। ওই ছেলের অপরাধ জাস্টিফাই করার কোন যৌক্তিকতা নেই এটা অকাট্য। কিন্তু এমন সমঅধিকার বা এমন বিশৃঙ্খলার দিকে ধাবিত করবে এমন কোন অধিকারই থাকা উচিত না।

পত্রিকায় হরহামেশাই অপরাধী দম্পতি অথবা যুগল (বৈধ দম্পতি না) ধরা পড়ার খবর দেখা যায়।

আমরা মানুষেরা অদ্ভুত মেন্টালিটির! না মানে চিন্তা করুন, একসাথে বিয়ে ছাড়া থাকা যাদের কাছে অবৈধ বা নীতিবিরোধী মনে হয়েছে তাদেরও কেও কেও ছিনতাই, মাদক, খুনের মতো গর্হিত অপরাধে যুক্ত হচ্ছি।

এক্ষেত্রে অবস্থান স্পষ্ট করা জরুরী যে, ব্যক্তি হিসেবে আমি পশ্চিমা অবাধ মেলামেশার বৈধকরণ বিরোধী। বিয়ে করে বৈধ সম্পর্ক স্থাপনের গুরুত্ব সম্পর্কে অবহিত। শুধু অবাক লাগে এটা ভেবে যে একদিকে এমন নৈতিক সচেতন মানুষেরা কিভাবে অন্য ঘৃন্য অপরাধে জড়িয়ে যায়!

সমাজের নিম্ন আয়ের লোকেদের ক্ষেত্রে হালাল আয়ে নেশা করার গর্ব দেখা যায় বেশি। উচ্চস্তরের কিছুক্ষেত্রে এর ভিন্নতা দেখেছি। বিশেষত আপনি যদি কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রর কাছ থেকে শোনেন, যাকে হয়তো নেশাগ্রস্ত বলা উচিত হবে না (তাদের মতে) তাদের কেও কেও বলবে

-আমি আমার লিমিট জানি

অথবা

-আমি অনেক ছোটবেলা থেকেই এগুলায় আছি। আমার কাছে এগুলো নরমাল, কোন ইম্প্যাক্ট পরে না

অথবা

-তুই ক্ষ্যাত, আমি স্মার্ট

অথবা

-টেনশন, ডিপ্রেশন, ফ্যামিলি প্রেশার ইত্যাদি।

আরেক গ্রুপ পাবেন যারা কিছু কিছু নেশাদ্রব্যকে "নেশাদ্রব্য" বলতেই নারাজ। যেমনঃ গাজা খেলে তো নেশা হয় না, পানীয়কে (মদ বা অমন তরল) কেন মানুষ নেশাদ্রব্য বলে বুঝিই না।

সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং ধূমপায়ীদের যুক্তি। ক্লিয়ার করি, ধূমপায়ীদের নেশাখোর বা মাদকসেবির কাতারে ফেলছি না। কারন, টিপিক্যাল নেশাখোর বা মাদকসেবিদের আলাদা একটা চিত্র/ছাচ আমাদের সমাজে চিত্রিত যেখানে অবশ্যই ধূমপায়ীরা পড়েন না। ইয়াবা বা হেরোইনের মতো মাদক সেবনে ঘটা সরাসরি ক্রম মানসিক বিকারের ভয়াবহতার মতো প্রভাব সিগারেটের ক্ষেত্রে দেখা যায় না। সোজা কথায় শুধু সিগারেট খেয়ে মানুষ মাতাল হয়না বলে সিগারেট হচ্ছে কানামামা। শকুনি মামা (মানসিক বিকারে ভূমিকা রাখা মাদক) থেকে কানামামা ভালো (অপরচুনিটি কস্ট হিসেবে)।

তো, ধূমপায়ীরা দেশ সেবা করেন ধূমপানের মাধ্যমে উচ্চহারে ট্যাক্স দিয়ে। দেশের জিডিপি গ্রোথে তাদের অবদান সবচেয়ে বেশি, তারাই সত্যিকারের দেশপ্রেমিক!

অথচ এই পরিমান মনযোগ অন্য জরুরী খাতে দিলে সেগুলোর উন্নয়ন সম্ভব হতে পারতো।

অবশ্য ধূমপায়ীদের দেশ সেবা তথা অর্থনীতির চাকা সচলে ভূমিকা রাখার ব্যাপারটা ইকোনমিক দিক থেকে অগ্রাহ্যও করা যায় না।

প্রথম স্তরের নেশাগ্রস্ত ধূমপায়ীদের উদাহরণ দিয়ে বলি।

তারা দৈনিক ৩০ থেকে ২০০+ টাকা খরচ করে (অনুমানে ধরে নিন)। যেই টাকার বেশির ভাগ অংশ এখন করের মাধ্যমে সরকার পায়। যেই বিক্রেতা বিক্রি করলো সে পেল (সাধারণত খুব অল্প পান পার আইটেম হিসেব করলে, মারাত্নক পরিমানে বিক্রি হওয়ায় লাভের পরিমান বাড়ে। কাস্টমার ধরে রাখার জন্য আর টাকার ফ্লো মেইন্টেইন করার জন্যও কেও কেও দোকানে সিগারেট রাখেন বলেছেন), কোম্পানি পেল, কর্মচারী পেল, শ্রমিক পেল, দেশে উৎপাদিত হলে চাষি পেল। চাষীদের উপকার, এর চেয়ে বড় দেশপ্রেম আর কি হতে পারে!

ওগুলো ডিরেক্ট ইমপ্যাক্ট।

ইন্ডিরেক্ট ইমপ্যাক্ট তো আরো বেশি। লুকিয়ে সিগারেট খাওয়া ব্যাক্তিদের খাত বিবেচনা করা যাক।

মুখের গন্ধ নিবারনের জন্য মাউথ ফ্রেশনার, পান, সেন্টার ফ্রেস ইত্যাদি।

কাপরের গন্ধের জন্য স্প্রে, অতিরিক্ত ডিটারজেন্ট।

মাঝে মাঝে সিগারেটের আগুনে কাপড় বাজেয়াপ্ত হয়ে গেলে সদ্য কেনা কাপর রেখেই নতুন কাপর কিনতে হয় বা ঠিকঠাক করে নিতে হয়।

ম্যাচ ইন্ডাস্ট্রি, লাইটার ইন্ডাস্ট্রি, পায়কেজিং, এস্ট্রে, সিগারেট হোলডার।

সিগারেট খেয়ে ফুসফুসের রোগ বানিয়ে ডাক্তারের কাছে যাওয়ায় ভিজিট, চেকাপ, ঔষধ।

ক্যান্সার হসপিটাল, বক্ষব্যাধী হসপিটাল কাশতে কাশতে মারা যাওয়ার পর কবরস্থান বা শ্মশানের কর্মচারীদের পকেটও ভারী করেন তারা।

সেইসাথে সংসারের একমাত্র উপার্জনকারীর দ্বারা জীবিত অবস্থায় পরোক্ষ ধূমপানে ক্ষতি করে, উপার্জনের একটা অংশ সিগারেটের মতো খাতে ব্যয় করে জীবনাবসানের পর মাঝে মাঝেই পরিবারকে অভাবে ফেলে যান অথবা বেকায়দায় ফেলেন।

সাইকোলজি বর্তমানে যেকোন ব্যবসার সাফল্যের গোপন সূত্র।

এমন নেশা দ্রব্য বা ড্রাগ বানিজ্যের পেছনে বড় বড় মানুষ প্রতিষ্ঠান ও সুক্ষ সাইকোলজির খেলা থাকে। মাদক ব্যবসার টাকাগুলোও কালো টাকা। তাই বৈধতা নাই সে টাকার। দেশের অবৈধ সম্পদ, বাইরের দেশে পাচার হওয়া অর্থের একটা অংশ নিশ্চিতভাবেই এই খাতের কালো টাকা। যেটা জনসাধারণের চোখে ধরা পরে না বা পরেও লাভ নেই।

কোথায় ছিলাম, ছিনতাই।

হ্যাঁ, ছিনতাইয়ের মতো ঘৃণ্য কাজ ছেড়ে অনেক নেশগ্রস্তরাই এখন অটো চালনায় এসেছে।

এক্ষেত্রে একটা ইকোনমিক ফ্যাক্টর মাথায় রাখবেন, অপরচুনিটি কস্ট।

অপরচুনিটি কস্ট হলো দুইটা একই (বা ভিন্ন) ধরনের কাজ একই সময়ে করার অবস্থায় পড়লে একটা কাজ ছেড়ে দেয়ার জন্যে যেই লস বা খরচ গুনতে হয় সেটা।

উদাহরণ হিসেবে প্রচলিত গল্পের কুকুরের কথা বলা যায়। যে মাংস নিয়ে স্বচ্ছ স্রোতস্বিনী জলাধারের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় নিজের প্রতিচ্ছবি পানিতে দেখতে পায়। খুব সম্ভবত কুকুরটি পদার্থ বিজ্ঞান বই পড়েনি যার কারনে সে বুঝতে পারেনি যে জলে যে কুকুরটিকে মাংসের টুকরা মুখে দেখা যাচ্ছে তা আদতে তার প্রতিবিম্ব, সে প্রতিফলক পৃষ্ঠ পানি থেকে দূরে থাকায় তার চেয়ে ছোট (ছোট জন্তুর কাছ থেকে অপেক্ষাকৃত সহজে খাবার ছিনিয়ে নেয়া যায়) মনে হয়েছিল।

মূর্খ কুকুর জলের কুকুরের মুখ থেকে মাংস ছিনিয়ে নেয়ার জন্য যেই কামড় বসায় পানিতে, তার মুখের মাংসের টুকরা পানিতে পরে স্রোতের টানে ভেসে যায়।

মূর্খ কুকুর সাইন্সের ফিজিক্স বই না পড়ে কমার্সের বই পড়লেও অপরচুনিটি কস্ট সম্পর্কে জানতে পারতো। যেটা জানলে সে নিজের ভাগের মাংস থাকার পরও অন্য কুকুরের কাছ থেকে ছিনিয়ে মাংসের ভাগ বড় করা আদতে কতটুকু ইকোনমিক তা কমপেয়ার করতে পারতো।

নেশাকারীরা ছিনতাই ছেড়ে অটোচালনা, বিদেশ গমন, স্ট্রিট বিজনেসের মতো দৃশ্যত গ্রহনযোগ্য কাজে যুক্ত হচ্ছে। ইনকাম সোর্স চয়েস করার মেন্টালিটির এই শিফটিং পজিটিভ।

কিন্তু এখনো অনেকের নেশার রাজ্যে অবাধ বিচরণ, নেশাদ্রব্যের মোটামুটি অবাধ প্রাপ্তির অপরচুনিটি কস্ট কি হিসাব করা হয়েছে?

উল্লেখ্য সব অটোচালক নেশাগ্রস্ত এমনটা বলছি না, সবাই ছিনতাইকারী থেকে অটোচালক হয়েছেন এমনটাও বলছি না। বহু সাধারনের কর্মসংস্থান হয়েছে। পূর্বে রিক্সা পদচালিত রিক্সা চালাতেন এমন অনেকেই ইলেকট্রিক অটোরিকশা চালান, এমন লোকও কম না।

কিন্তু যারা নেশাগ্রস্ত তাদের ক্ষেত্রে? লেখার শুরতে বলা আমার চোখের সামনে ঘটা ঘটনাটাতো একটা উদাহরণ মাত্র। ক্ষেত্রবিশেষ যাত্রী হয়রানি, নারী যাত্রীদের ইভটিজিং, তুচ্ছ কারনে ঝগড়া, কিছু ক্ষেত্রে এখনো ছিনতাই বা ছিনতাইয়ের জন্য খুনের মতো ঘটনাগুলোর দিকে নজর দিলে মাদকের একটা যোগসূত্র পাওয়া যায়।

লিখে উদ্ধার করে ফেলার চেষ্টা বৃথা যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কখনো যদি মনে হয়,

আমি তো সাধারণ যাত্রী। আমার সাথে এমন দূর্ব্যবহার করলো কেন? আমার জানের তোয়াক্কা না করে বাস ট্রাক চলা রাস্তায় অন্য জনের সাথে পাল্লা দিচ্ছে কেন? সাই করে অন্য অটো ঘেষে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে চাচ্ছে কেন?

ইত্যাদি বিভিন্ন ঘটনার পেছনে অন্যতম একটা কারন মাদক। দূর্ঘটনায় পড়ার পর আফসোস যাতে না হয় একথা ভেবে,

"কি কারনে দূর্ঘটনায় পড়লাম বুঝলাম না?"

অথবা

"কি কারনে মরে গেলাম বুঝলাম না!"

অন্যতম কারন স্পষ্টকরনের জন্যেই লেখাটি।

আমি মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে শহীদ হওয়ার পক্ষপাতী না। এমনিতেই একটা গ্লোবাল বা লোকাল প্রব্লেম সলভ করার আগে মরতে যাওয়া বা চাওয়া আমার পেছনে পরিবারের ও দেশের খরচ ও স্যাক্রিফাইসের অপচয়ের শামিল। আমি অমন অপচয়ের পক্ষপাতী না। ওই যুদ্ধের উপযোগী সেনা বা সেনাপতি না। তাছাড়া যুদ্ধের আওয়াজ তোলা অনেকেই মাদকে জড়িত থাকায় তথাকথিত যৌক্তিকতা নিয়ে সন্দিহান এই বিষয়ে যে আমি শহীদ বিপক্ষের হাতে হবো নাকি পক্ষের বিশ্বাসঘাতকের হাতে এই ব্যাপারটা তো আছেই!

আমি ছাপোষা মানুষ কৃষির সাথে থেকে বাকি জীবন কাটাতে চাই। আমাকে নিয়ে মাদকসেবিদের দুশ্চিন্তার কিছু নেই, আক্রোশ থেকে আক্রমনের তালিকা থেকে আমাকে সরিয়ে রাখলে ভবিষ্যতে আপনার নিজের দেশের বহুত উপকার হবে কথা দিলাম।

আরে ধুর, কারে কি বলতেছি! আপনি তো মাদক নেননা বা মাদকের পক্ষের লোকও না, আপনাকে বলে কি হবে!


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

NPUC value of food: Affordable nutrient rich foods list (Part 01)

কোন  খাবারে এক টাকায় কতটুকু পুষ্টি উপাদান পাচ্ছেন সেটাকেই বলছি নিউট্রিয়েন্ট পার ইউনিট কস্ট বা Nutrient Per Unit Cost (NPUC value) উদ্দেশ্য ক...