শনিবার, ১৪ মে, ২০২২

ই-কমার্স প্রশিক্ষণের সেকেন্ডারি ইমপ্যাক্ট

১১ অক্টোবর ২০১৮ তে প্রথম “TRANSFORMING BUSINESS TO e-BUSINESS” FOR e-COMMERCE ENTREPRENEURS শিরোনামে অফিশিয়ালি সরকারিভাবে ই-কমার্সের ট্রেনিং শুরু হয় ঢাকায়।

ই-কমার্স ট্রেনিংয়ের ব্যানার
ই-কমার্স ট্রেনিংয়ের ব্যানার


এরপর চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, রাজশাহীর মত গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে ট্রেনিংটি দেয়া হয় “ই বানিজ্য করবো, নিজের ব্যাবসা গড়বো” নামে।

বানিজ্য মন্ত্রণালয়, বাপেক্স, ইক্যাব সহ অনেক পৃষ্ঠপোষকের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় চলে ট্রেনিংটি। কতজন সুবিধাভোগী সরাসরি এর থেকে উপকার পেয়েছেন বা সরাসরি ই-বানিজ্য শুরু করেছেন সে হিসাবে যাবো না।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে আসা পড়ুয়ারাসহ জনসাধারণেরও জানা যে সাবান উৎপাদনের সময় সহ উৎপাদ হিসেবে গ্লিসারিন পাওয়া যায়। যা আরেকটি নিত্য ব্যবহার্য কসমেটিক পণ্য। তেমনিভাবে শুরুতে বলা ট্রেনিংয়ের কিছু সহ উৎপাদ নিয়েই আজকের লেখা।

করোনার সময় ই কমার্স তার বিস্তার বাড়িয়েছে, উপযোগিতা বুঝিয়েছে। তবুও অনেকেই অনলাইনে কেনাকাটায় অভ্যস্ত নন এখনো। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ট্রাস্ট ইস্যু ও পুরনো অভ্যাস থেকে যাওয়াটাই মুখ্য। অবশ্য অনেকক্ষেত্রে অনলাইন কেনাকাটার চেয়ে অফলাইনে দেখেশুনে কেনাকাটা করাটাই উত্তম সেই হিসাবটা তো আছেই।

অবিশ্বাস সৃষ্টির ক্ষেত্রে আরেকটি উপকরণ বৈধ ব্যবসায়িক ভিত্তি। অনলাইনে বৈধ ব্যবসা পরিচালিত হতে পারে এমন ধারণাই অনেকের ছিল না। তাছাড়া মিডিয়ায় বেশিরভাগ খবর অনলাইন প্রতারণা সংক্রান্ত হওয়ায় অথবা ওই খবরগুলোতে আমাদের দৃষ্টিপাত বেশি হওয়ায় অনলাইন ব্যবসা বা ই কমার্সে মানুষের আস্থায় ব্যাপক ঘাটতি থাকে সাধারণত। যেখানে কাস্টমার, সেলারদের ট্রেইন বা শিক্ষিত করাটা অনেক কাজে দিয়েছে।

কিভাবে? বলছি।

ই কমার্স বা অনলাইনে ব্যবসার আইডিয়া অতটাও নতুন না বৈশ্বিক বিবেচনায়। সে হিসেবে এ সংক্রান্ত ট্রেনিং ও শিখন কার্যক্রমও একদম ছিল না বলা যাবে না। কিন্তু বিশ্বাসযোগ্যতায় ঘাটতি ছিল।

মজার ব্যাপার হলো আমরা যতই সরকার বিরোধী বা ক্ষমতায় থাকা সরকারকে অপছন্দ করি না কেন, সরকারি সেবা বা সংগঠনগুলো এখনো আমাদের আস্থার অনেকটা জায়গা জুড়েই আছে। যেমন বিটিভির কথাই ধরুন। যেটাকে আমরা বাতাবী লেবু টিভি নামে বলি বা চলমান অনেক ইস্যুর দিকে দৃষ্টিপাত না করার জন্য সমালোচনা করি। কিন্তু আমাদের পরিবারের কারোর যদি সেখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ হয় তখন?

তখন আমরা খুবই খুশি হই তা আমরা সরকার পক্ষের অনুসারী হই বা বিরোধীপক্ষের। কারণ সেটা সরকারি। একই ঘটনা ঘটে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রেও। এখনো পর্যন্ত বেশীরভাগ চাকরি প্রত্যাশীর প্রথম পছন্দ সরকারি চাকরি। রেলসেবা, ভাতা, টিসিবি ইত্যাদি সরকারি সেবাগুলো একইরকম আরো উদাহরণ।

তার মানে যে কোন কাজে সরকারি সংশ্লিষ্টতা একটা আস্থার জায়গা তৈরি করে (অনেকক্ষেত্রেই। ব্যাতিক্রম আছে, থাকবে)। এই বিবেচনায় ইকমার্সের মতো অনাস্থায় ভোগা সেক্টরে পৃষ্ঠপোষকতায় ট্রেনিং করানোটা আমাদের আস্থায় একটা ইতিবাচক প্রভাব এনেছে। যেটার বাস্তব প্রতিফলন তুলে ধরবো।

ই কমার্সের ট্রেনিংটি ময়মনসিংহে মার্চ ২০২১ এর দিকে শুরু হয় “ই-বাণিজ্য করবো নিজের ব্যবসা গড়বো” শিরোনামে। প্রতি ক্লাসে (ব্যাচে) ২৫ জন করে একাধিক শ্রেণীকক্ষ নিয়ে প্রশিক্ষণ শুরু হয়। নিয়মিত আড্ডায় বসা বন্ধুদের মধ্যে প্রথমদিকেই আমি ট্রেনিংটি করা শুরু করেছিলাম।

ট্রেনিং সংক্রান্ত বিভিন্ন টুকিটাকি তথ্য-উপাত্ত আড্ডায় যোগ করতাম। কিন্তু অনেকের তখনও সেই অনাস্থা থেকে গিয়েছিল। অনলাইন মানেই ভুয়া এমন একটা বিশ্বাস যেন যাচ্ছিলই না।

একসময় ট্রেনিংয়ের সুযোগ সুবিধা ও সম্ভাবনা দেখে তাদের কেও কেও আবেদন করে ও গৃহীত হয় তাদের আবেদন। এরপর দৃশ্যপটে কিছুটা পরিবর্তন আসে।

ধীরে ধীরে আলোচনার বিষয় হতে থাকে ট্রেনিংয়ের বিভিন্ন ঘটনাবলি। বলিউডের সালমান খান শাহরুখ খানের পাশাপাশি আলোচনায় আসতে থাকেন জ্যাক মা, মার্ক জাকারবারগেরা। যেটাও ঘটে অল্প কদিনের মধ্যেই!

এর পরবর্তী ধারাবাহিকতা অনুমেয়। ব্যাবসায়ি তৈরির ট্রেনিং হলেও এর মাধ্যমে ভবিষ্যতের ই কমার্সের ক্রেতাও তৈরি হচ্ছেন। সাধারণ ক্রেতার পাশাপাশি “বিক্রেতা” ক্রেতা। যাকে ব্যাবসায়িক ভাষায় বি টু বি বিজনেসের ক্রেতা বলা যায়।

অনেক বিক্রেতাই জানতেন না তারা অনলাইনে পাইকারি জিনিস ক্রয় করতে পারেন চাইলেই! ব্যাবসায়িক কেন্দ্রর অন্যতম ঢাকা থেকে অনেকেই এখন ফেসবুক গ্রুপ-পেজ, ইমো, হোয়াটসেপ, ইউটিউব, নিজস্ব ওয়েবসাইট ইত্যাদি মাধ্যমের কোন একটি বা একাধিকটির সহায়তায় পণ্য বিকিকিনি করছেন।

এই শুরুটা একটা ডমিনো ইফেক্টের সূচনাকারী বলাই বাহুল্য। ওয়ার্ড অফ মাউথ বা মুখে মুখে যার ব্যাপ্তি ঘটবে।

এরকম সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় আরো যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ দেয়া সময়ের দাবি।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায় স্বনির্ভর অর্থনীতির দিকে উৎসাহিত করা। যাতে একমুখী উৎপাদন ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকে একান্ত বৈদেশিক আমদানি নির্ভর না হয়ে যথেষ্ট পরিমাণে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির প্রবাহ নিশ্চিত করা।

যেমন আমাদের ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতার জন্যে রপ্তানিকারক দেশের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয় বৈশ্বিক বাজারের টালমাটাল অবস্থা চলার সময়। একটু অস্থিতিশীল হলেই বাড়তি দামের চাপ মেটাতে হাত দিতে হয় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে।

ইতোপূর্বে ভারত নির্ভর পেঁয়াজ, গরু ইত্যাদি ক্ষেত্রে সংকট দেখা গিয়েছে। স্থানীয় বা দেশজ উৎপাদন বৃদ্ধি দিয়ে যেগুলো আগেরচেয়ে অনেকটাই স্থিতিশীল এখন।

যাইহোক, ই বানিজ্য করবো নিজের ব্যবসা গড়বো প্রকল্পে প্রশিক্ষণ নেয়া অনেকের একজনের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ হয়। যিনি প্রশিক্ষণের সুবিধাভোগী ও নিজের ব্যবসায় আধুনিক বিপনন ব্যাবস্থা চালু করেছেন। অনলাইনে কচুর চারা বিক্রি দিয়ে শুরু করে তিনি ধীরে ধীরে অন্যান্য মূল্যবান কৃষিজ পণ্য চাষের পরিকল্পনা করছেন।

বিভিন্ন জাতের ও সাইজের চারা বিক্রি করেন তিনি
বিভিন্ন জাতের ও সাইজের চারা বিক্রি করেন তিনি


ময়মনসিংহের সুপরিচিত দাপুনিয়া বাজারের পাশের গ্রামের একজন কৃষি উদ্যোক্তা জুয়েল আহামেদ। দেশের বিভিন্ন জায়গায় কচুর চারা সরবরাহ করছেন অনলাইনে অর্ডার নিয়ে। স্থানীয় কৃষি সেবা কেন্দ্র থেকে আশানুরূপ সেবা ও সুবিধা না পেলেও তিনি নিজ উদ্যোগে শিখছেন ও এগিয়ে চলছেন।

কুরিয়ার ডেলিভারির জন্য প্রস্তত বস্তা ভর্তি কচুর চারা
কুরিয়ার ডেলিভারির জন্য প্রস্তত বস্তা ভর্তি কচুর চারা

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

NPUC value of food: Affordable nutrient rich foods list (Part 01)

কোন  খাবারে এক টাকায় কতটুকু পুষ্টি উপাদান পাচ্ছেন সেটাকেই বলছি নিউট্রিয়েন্ট পার ইউনিট কস্ট বা Nutrient Per Unit Cost (NPUC value) উদ্দেশ্য ক...