![]() |
| রেলগাড়ি |
এই ব্ল্যাকমার্কেটিং বা কালোবাজারি কিভাবে সংঘটিত হয় এগুলো পত্র-পত্রিকায় দেখতে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি আমরা।
তারপরও ছোট্ট করে বলি।
টিকিট কালোবাজারিঃ রেলওয়ের টিকিট এখন ন্যাশনাল আইডি কার্ড ছাড়া দেয়া হয় না। প্রতিটা কার্ডের লিমিট আছে টিকিট ক্রয়ের।
এক্ষেত্রে কালোবাজারিরা নকল যাত্রীর সহায়তা নেয়। সাধারণত ভাসমান মানুষ, যাদের নিয়মিত কোন কাজ থাকে না তাদের অল্প সময়ে স্বল্প শ্রমে টাকা দেয়ার কথা বলে কাজে নেয়।
তাদের কাজ থাকে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটা।
সাধারণত ইদের আগে মানুষ নিজের দেশের বাড়ি যাওয়ার জন্য ব্যাকুল থাকে। যেকোনভাবে তারা টিকিট পেলেই খুশি। যেটার সুযোগ নেয় অসাধুরা। দাম আকাশচুম্বি থাকে কালোবাজারের টিকিটের।
নিয়মের ফাঁক ফোকর দিয়ে কাজ সারেন তারা। ন্যাশনাল আইডি কার্ড দিয়ে টিকিট কাটার নিয়ম লেজিট মনে হলেও বাস্তবে সবাই নিজের আইডি কার্ড আনছে কি না সেটা চেক করা হয় না (ক্ষেত্র বিশেষ সম্ভব হয় না)। তাছাড়া ট্রেনে উঠলে যাত্রীদের টিকিটের সাথে আইডি কার্ড মিলানো হয় না না বলাই বাহুল্য।
বাস্তবতা হলো ট্রেনে ধরে ধরে আইডি কার্ড চেক করে মিলানোও হয়তো বাস্তবসম্মত নয়। তাই প্রযুক্তির সহায়তা নেয়া যেতে পারে।
তার আগে কতিপয় ফ্ল বা ফাঁক-ফোকর দেখা যাক।
-টিকিট করতে এন আই ডি কার্ড লাগে কিন্তু এটা ক্রেতার সাথে ক্রসচেক করা হয় না স্টেশনে। ট্রেনে উঠার পর তো হয়-ই না, বলাইবাহুল্য।
-এন আই ডি কার্ড এর জন্য ১৮ বছর বয়সসীমা। ১৮ বছরের নিচের যাত্রীরা (হাফ টিকিটের বয়সসীমা ৫ বছর) টিকিট কাটতে হলে অন্যের বা অভিভাবকের এন আই ডি কার্ড লাগবে। যেটা অনেক বড় একটা লুপহোল। কারণ কেও টিকিট কেটে অন্যের কাছে দেয়ার যুক্তি হিসেবে বলতে পারবে ছেলেমেয়ে আছে!
সাধারণ মানুষের দরকার টিকিট নামের সোনার হরিণ। অনেক ক্ষেত্রেই বৈধ, অবৈধ, এথিক্স ইত্যাদি ভাবার স্কোপ থাকে না।
এখন ট্রেডিশনাল চেকিংয়ে যেমনটা টিকিট চেক করা হয় তাতে কোন আইডি কার্ডের আন্ডারে টিকিট কাটা হয়েছে এটা বের করলেও ওই লুপহোল থেকে যাচ্ছে ৫ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে।
তার মানে এন আই ডি কার্ডের মতো পার্শিয়াল বা একটা অংশের যাত্রীর (১৮ ঊর্ধ্ব যাত্রীরা টিকিট করতে পারবেন) এক্সেস আছে এমন ব্যবস্থার চেয়ে উপযুক্ত জন্ম নিবন্ধনের মতো সর্বজনের এক্সেস সম্বলিত ব্যাবস্থা। আবার জন্মনিবন্ধনে ছবি থাকে না যেটা একটা সমস্যা।
এখন সমস্যার সম্ভাব্য সমাধানের একটা উপায় বলি। কিউ আর কোডের নাম শুনেছেন নিশ্চয়। খুব সম্ভবত এর ব্যাবহারও জানেন। প্রতিটা টিকিটে কিউ আর কোড দেয়া যেতে পারে। টিটিই-রা যেটা স্ক্যান করে যাত্রীর ভ্যালিডিটি ভ্যারিফাই করতে পারবেন। এখানে অযথা অহেতুক যাত্রীর ব্যাক্তিগত ইনফোসহ আসার দরকার নেই।
একটা সিকিউর্ড কিউ আর কোড থাকতে পারে যেটা টিটিই দের কাছে থাকা ডিভাইসে স্ক্যান করলে আউটপুট দেবে। আউটপুটে থাকতে পারে ভ্যালিডেশন কনফার্মেশন, নাম ও ছবি।
অর্থাৎ এখানে ইন্ডিভিজুয়াল টিকিট এর দরকার পড়বে। এক্ষেত্রে কিছু ব্যাবস্থা হতে পারেঃ
আলাদা টিকিট কার্ড ইস্যু করা সবার জন্য। যেখানে প্রয়োজনীয় ডাটা সিকিউর্ড সার্ভারে থাকবে।
অথবা
ইউনিক টিকিটিং আইডি নাম্বারঃ ১২-১৩ ডিজিটের একটা ইউনিক নাম্বার যা প্রত্যেক যাত্রীকে আলাদাভাবে আইডেন্টিফাই করবে। একবার ইস্যু করে (শিশুদের ক্ষেত্রে রেগুলার আপডেটে দরকার হতে পারে) যাত্রীদের দিয়ে দিলে স্টেশনে যেয়ে নাম্বার বলবে। সেটার আন্ডারে টিকিট কাটবে। টিকিটে ইউনিক কিউ আর কোড প্রিন্টেড থাকবে যা স্ক্যান করে টিটিইরা যাত্রী ভ্যারিফাই করতে পারবে।
অথবা
জন্মনিবন্ধনের সনদে ছবি যুক্ত করে এন আই ডির স্ট্যান্ডার্ডে নেয়া।
সহজ.কম সংশ্লিষ্ট একজন যে প্রতারণা করেছেন সেটারও প্রতিকার হতে পারে এর মাধ্যমে।
তিনটি ক্ষেত্রেই টিটিইদের যাত্রী ভ্যারিফাই এর ব্যাবস্থা করা যাবে। শুরুর দিকের হ্যাসেল বেশি হবে, খুবই স্বাভাবিক। সময় বেশি লাগবে মনে হলেও উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে এটি কমিয়ে আনা যাবে।
মজার ব্যাপার হলো এই এক ইউনিক নাম্বার, একই ধরনের ভ্যারিফিকেশন দিয়ে টিসিবির পন্য, বয়স্ক ভাতা দেয়ার মতো কাজগুলোও করা যেতে পারে।
প্রযুক্তি ব্যাবহারে আমরা অনেক পিছিয়ে। যেটা আরেকটা বড় সংকট। এই সিরিজে অল্প অল্প করে জানানোর চেষ্টা করবো সেগুলোর বিস্তারিত।
উপরের টিকিট সমস্যাটা বাস্তব হলেও সমাধান কাল্পনিক। অযৌক্তিক বা অতিরঞ্জিত মনে হলেও সমাধানের চিন্তা শুরুটা জরুরি। সংশ্লিষ্টরা সমাধান ভাববে ঠিক, আমাদের উচিত সচেতন হওয়ার পাশাপাশি বাস্তব সমস্যার সমাধান চিন্তা করা।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন