বুধবার, ১১ মে, ২০২২

রুম নাম্বার ৪৬৩ ও কাকতালীয় ঘটনার ব্যাখ্যা

কাকতালীয় ঘটনাগুলোর কয়েকটির ব্যাখ্যা দাড় করানো যায় বায়াস দিয়ে। যেমনঃ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হলের ডিজাইনটা এমন যাতে প্রতিটা তলায় দুইপাশেই একইরকম গোসলখানা ও শৌচাগার আছে। কাগজে কলমে একইরকম সুবিধা দুই পাশেই।

দুইপাশেই একইরকম গোসলখানা ও শৌচাগার
দুইপাশেই একইরকম গোসলখানা ও শৌচাগার


স্বাভাবিকভাবেই যেই রুমগুলো থেকে যেদিকের গোসলখানা ও শৌচাগার কাছে, রুমের সব বাসিন্দা সেদিকেরটাই ব্যাবহার করেন। ফাউ খাটা খাটনি করে দূরেরটা কেও ব্যাবহার করবে কেন?


সব রুম দেখেই বলে দেয়া যাবে রুমের বাসিন্দারা কোনদিকের শৌচাগার ব্যবহার করে।


কিন্তু একটু জটিল হয় আরেকটি ক্ষেত্রে। প্রতিটি তলার মাঝামাঝি সিড়ি অবস্থিত। যেখান থেকে দুটি শৌচাগার প্রায় সমান দূরে (দু তিন ফিট পার্থ্যক্য থাকতে পারে)। এক্ষেত্রে কেউ যদি সিড়ি দিয়ে উঠে তাড়াহুড়ো করে হাতমুখ ধুতে যায় বা শৌচকার্য সম্পন্ন করতে চায় তাহলে কোন দিকেরটায় যাবে?


এক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবে ব্যাক্তিটি ওই তলার বাসিন্দা হলে রুম থেকে যেটা কাছে হয় সেটাতেই যাবেন বলাই বাহুল্য। যদি অন্য তালার বাসিন্দা বা বাইরের কেও হয় তাহলে ইতোপূর্বে এসে কোন দিকেরটায় গিয়ে থাকলে সেদিকে আজকেও যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কারন পরিচিত জায়গায় আমরা কমফোর্ট ফিল করি।


যদি একদমই নতুন হন কোন কারণে তখন কি হবে? কয়েকটা সম্ভাবনা বলি।

-ডানহাতি হয়ে থাকলে ডান দিকেরটায় যেতে পারেন

-কোন এক দিকে মানুষ দাঁড়িয়ে থাকলে অন্যদিকেরটায় যেতে পারেন


এখন আরেকটা ঘটনা বলি। ওই হলে প্রতিটি সিড়ির সামনেই একটা করে রুম আছে যেটা একদম মাঝামাঝি দূরত্বে অবস্থিত। যেমনঃ চারতলার ৪৬৩ নাম্বার রুম। সেক্ষেত্রে সাধারণ সম্ভাবনা কি হতে পারে?

রুম নাম্বার ৪৬৩
রুম নাম্বার ৪৬৩

-পূর্বধারাঃ রুমের আগের বাসিন্দারা যেদিকেরটা যেতেন সেদিকেই যেতে পারেন

-ডান হাতি হলে ডানদিকেরটাতেই যাওয়া

-বন্ধুর রুমঃ যদি কোন দিকে বন্ধুর রুম থাকে সেক্ষেত্রে ওই দিকেরটায় যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে


এক্ষেত্রে খুব সম্ভবত মানুষের সামাজিক বৈশিষ্ট্যটা প্রকট হয়। রুমের পূর্বেকার বাসিন্দারা যেদিকেরটায় যায় সেদিকেই অন্যরাও যান একে একে। তাত্ত্বিকভাবে কি বলে মনে পড়ছে না, একধরনের বায়াস ধরে নিতে পারেন এটাকে।


তার মানে ওই চার তলা ওই হলের প্রতিটি সিড়ির সামনের রুমের বাসিন্দারা গড়পড়তা ডানদিকের গোসলখানা ও শৌচাগার ব্যাবহার করবে এটা কাকতালীয় নয়।


এইরকম সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে খেলা দেখান অনেক ম্যাজিশিয়ানরা। বিজনেসের মার্কেটিং, সেলসেও আমাদের বিভিন্ন বায়াস কাজে লাগায় বলাই বাহুল্য।


যেমনঃ "চায় সুট্টা বার" নামের ভারতের একটা উদ্যোগের কথা বলা যায়। কয়েক বন্ধু মিলে ওই নামে একটা দোকান খুলে। মার্কেটিংয়ের এর অনেক স্ট্র‍্যাটেজির মধ্যে একটা ছিল ভিড়ের মধ্যে যেয়ে নিজেদের দোকানের চায়ের প্রশংসা করা! তাও আড্ডার ছলে।


"দৃশ্যম" সিনেমার কথা নিশ্চয়িই মনে আছে! কিভাবে বার বার এক কথা বলে অনেক মানুষের মনে গেঁথে দিয়েছিল মিথ্যাকে!


মনে পড়েছে। "সোশ্যাল এপ্রুভাল" বলে ঘটনাটাকে। বহু মানুষ যেটা করে, মনের অজান্তেই আমরা সেটাকে ঠিক ধরে নিই। এটা আদি মানুষের টিকে থাকার লড়াইয়ে, বর্তমানের ব্যাস্ততার সময়ে সময় বাচানোয়, সামাজিক বন্ধন টিকিয়ে রাখায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ।


কিন্তু এটাকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে অনেকেই অসাধু কাজ করে আত্মস্বার্থ হাসিল করেন। এর বড় একটা বাজে রুপ গুজব। না জেনে কোন তথ্য ছড়িয়ে দেয়া, কোন ঘটনায় কেও দোষী প্রমাণিত হওয়ার আগেই সামাজিক ও গণমাধ্যমে শাস্তির দাবী তোলা (মিডিয়া ট্রায়াল)। এক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ অনেকটাই অসচেতন ও মূলধারার গনমাধ্যম যার দায় এড়াতে পারে না। এখন সত্য খবরের বদলে মানুষ ক্লিক করে দেখবে এমন খবর (ভূয়া খবর বললেও ভুল হবে না) দেখা যায় হারহামেশাই!


ক্রসচেকিং এক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ সত্যি তথ্য জানার ক্ষেত্রে। কিছু ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ তথ্য (ভিডিও, লেখা) না জেনে লিখার মাধ্যমে আমরা ভুল তথ্য ছড়িয়ে দিই।


মূলধারার গণমাধ্যমও কিছু ক্ষেত্রে সোর্স যাচাই না করে আগে আগে খবর দেখানোর প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণ হয়ে সাধারণ মানুষদের বিভ্রান্ত করে। যেগুলো নিয়ে আমাদের আরও সচেতন হওয়া দরকার।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

NPUC value of food: Affordable nutrient rich foods list (Part 01)

কোন  খাবারে এক টাকায় কতটুকু পুষ্টি উপাদান পাচ্ছেন সেটাকেই বলছি নিউট্রিয়েন্ট পার ইউনিট কস্ট বা Nutrient Per Unit Cost (NPUC value) উদ্দেশ্য ক...