অনেক সময় মনে হয়, সৃজনশীল মানুষেরা কিভাবে নতুন নতুন আইডিয়া খুজে পায়? সৃজনশীলতা কি স্কিল নাকি বিশেষ বিশেষ মানুষের মধ্যে লুকিয়ে থাকা সুপ্ত প্রতিভা?
দাভিঞ্চির মোনালিসা ছাড়া অন্য বিখ্যাত কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে উড়োজাহাজ ডিজাইন। তিনি পাখির গড়নের সাথে মিল রেখে নিজস্ব চিন্তার ব্যবহার করে উড়োজাহাজ দেখতে কেমন হতে পারে, চিত্র এঁকেছিলেন। প্রকৃতি থেকে আইডিয়া নিয়ে এমন অনেক কিছু করা হয়েছে।
![]() |
| ক্রিয়েটিভ থিংকিং |
আজকে কথা বলবো "সৃজনশীলতা নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে গড়ে তোলা স্কিল বা দক্ষতা" কথার পক্ষে।
সঙ্গদোষে লোহা ভাসে। বহুল প্রচলিত ও ব্যবহৃত প্রবাদ। আমরা যেমন পরিবেশে যাদের সাথে থাকি, সচেতন মনে যে ধরনের চিন্তা করে সময় কাটাই; আমাদের মস্তিষ্ক ওই সংক্রান্ত চিন্তা অবচেতন মনেও খেলা করতে শুরু করে।
অনেকেই ইউটিউবে ভিডিও দেখেন। চাকুরীজীবি বা অবসরপ্রাপ্ত অনেকেরই পছন্দের টপিক কৃষি বিষয়ক প্রতিবেদন। যেখানে পেয়ারা, মাল্টা, ড্রাগনফ্রুট, বড়ইয়ের মতো উচ্চমূল্যের ফসলের সফল আবাদ দেখানো হয়। থাকে বাড়ির আংগিনায় চৌবাচ্চায় রঙিন মাছ চাষ। কখনো দেখেন নদীতে জালের বাক্স/ঘের তৈরি করে মাছ চাষ করছে। আপনার হয়তো আইডিয়া আসবে পুকুরে রঙিন মাছ চাষ করলে কেমন হবে? নদীতে ভাসমান ঘেরে রঙিন মাছ চাষ করা যাবে না?
ইদের গান হিসেবে প্রচলিত "ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে" গানটির রচয়িতা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। গানটির রচনাকালে "ইসলামিক গান" আইডিয়ার প্রচলন ছিল না। হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন শাস্ত্রীয় সংগীত তুমুল জনপ্রিয় ছিল। শোনা যায় মুসলিম শিল্পীরা হিন্দু নামে ওই সংগীতগুলো করতেন।
আব্বাসউদ্দিন আহমেদ সাহেবের মাথায় আইডিয়া আসে মুসলমানদের জন্য উৎসবের গান রচনার। তিনি কাজী নজরুলকে অনুরোধ করলে কাজী সাহেব এক বসায় লিখে সুরও করে ফেলেন "ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ!" সময়টা ছিল ১৯৩১। এখনও ঈদ মানেই এই গান!
জুস জনপ্রিয় পানীয় গুলোর অন্যতম। বাচ্চা বুড়ো সবার কাছে জুস প্রিয়। অন্যদিকে জেলি সদৃশ কৃত্রিম "লিচু/লিচি" আরেকটি জনপ্রিয় খাবার। একটা পানীয়, আরেকটা চিবিয়ে খেতে হয়। দুটার কম্বিনেশন করে এক কোম্পানি বানিয়ে ফেললো "চাবান পানীয়।" বাজারে আম, লিচিসহ বিভিন্ন ফ্লেভারে পাওয়া যায়। কমার্শিয়াল নাম "ড্রিংকো।"
সঙ্গদোষে লোহা ভাসে। বহুল প্রচলিত ও ব্যবহৃত প্রবাদ। আমরা যেমন পরিবেশে যাদের সাথে থাকি, সচেতন মনে যে ধরনের চিন্তা করে সময় কাটাই; আমাদের মস্তিষ্ক ওই সংক্রান্ত চিন্তা অবচেতন মনেও খেলা করতে শুরু করে।
অনেকেই ইউটিউবে ভিডিও দেখেন। চাকুরীজীবি বা অবসরপ্রাপ্ত অনেকেরই পছন্দের টপিক কৃষি বিষয়ক প্রতিবেদন। যেখানে পেয়ারা, মাল্টা, ড্রাগনফ্রুট, বড়ইয়ের মতো উচ্চমূল্যের ফসলের সফল আবাদ দেখানো হয়। থাকে বাড়ির আংগিনায় চৌবাচ্চায় রঙিন মাছ চাষ। কখনো দেখেন নদীতে জালের বাক্স/ঘের তৈরি করে মাছ চাষ করছে। আপনার হয়তো আইডিয়া আসবে পুকুরে রঙিন মাছ চাষ করলে কেমন হবে? নদীতে ভাসমান ঘেরে রঙিন মাছ চাষ করা যাবে না?
ইদের গান হিসেবে প্রচলিত "ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে" গানটির রচয়িতা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। গানটির রচনাকালে "ইসলামিক গান" আইডিয়ার প্রচলন ছিল না। হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন শাস্ত্রীয় সংগীত তুমুল জনপ্রিয় ছিল। শোনা যায় মুসলিম শিল্পীরা হিন্দু নামে ওই সংগীতগুলো করতেন।
আব্বাসউদ্দিন আহমেদ সাহেবের মাথায় আইডিয়া আসে মুসলমানদের জন্য উৎসবের গান রচনার। তিনি কাজী নজরুলকে অনুরোধ করলে কাজী সাহেব এক বসায় লিখে সুরও করে ফেলেন "ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ!" সময়টা ছিল ১৯৩১। এখনও ঈদ মানেই এই গান!
জুস জনপ্রিয় পানীয় গুলোর অন্যতম। বাচ্চা বুড়ো সবার কাছে জুস প্রিয়। অন্যদিকে জেলি সদৃশ কৃত্রিম "লিচু/লিচি" আরেকটি জনপ্রিয় খাবার। একটা পানীয়, আরেকটা চিবিয়ে খেতে হয়। দুটার কম্বিনেশন করে এক কোম্পানি বানিয়ে ফেললো "চাবান পানীয়।" বাজারে আম, লিচিসহ বিভিন্ন ফ্লেভারে পাওয়া যায়। কমার্শিয়াল নাম "ড্রিংকো।"
![]() |
| জুস (ড্রিংক) আর জেলি (চাবান বস্তু) মিলে ড্রিংকো |
এবার আসি ভারতীয় তামিল ভাষার গান "টাম টাম" প্রসঙ্গে। গতবছর মুক্তি পাওয়া সিনেমা "এনেমি"-র গান এটি। যেখানে নাচের একটা স্টেপ লক্ষ করলে দেখবেন ইউ এফ সি ফাইটার কনর ম্যাকগ্র্যাগরের সিগনেচার স্টাইল " অক্টাগন ওয়াক"-এর সাথে মিলে যায়! বিষয়টি কাকতালীয় হতে পারে অথবা ম্যাকগ্রেগরের থেকে অনুপ্রাণিত হয়েও হতে পারে। কারণ ম্যাকগ্রেগরের হাটার ব্যাপারটা সিনেমা মুক্তির অনেক আগে থেকে করে আসছেন।
১৩ই মে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা বলিউড সিনেমা "জয়েশভাই জোরদার"-এর গান " ফায়ারক্র্যাকার" এর নাচ দেখলেও চোখে পড়বে একইরকম দেখতে স্টেপটি!
১৩ই মে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা বলিউড সিনেমা "জয়েশভাই জোরদার"-এর গান " ফায়ারক্র্যাকার" এর নাচ দেখলেও চোখে পড়বে একইরকম দেখতে স্টেপটি!
একই কথা। অনুপ্রাণিত বা ইচ্ছাকৃত হতে পারে অথবা সম্পূর্ণ কাকতালীয়!
মুভি, ইউ এফ সি ফাইট দেখা শেষে পড়াশোনায় আসা যাক। নিউটনের মাথায় অভিকর্ষ বলের আইডিয়া, ডিফারেন্সিয়েশন, ইন্টিগ্রেশনের সূত্র কিভাবে আসলো?
মুভি, ইউ এফ সি ফাইট দেখা শেষে পড়াশোনায় আসা যাক। নিউটনের মাথায় অভিকর্ষ বলের আইডিয়া, ডিফারেন্সিয়েশন, ইন্টিগ্রেশনের সূত্র কিভাবে আসলো?
তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, নিউটনের মাথায় না আসলে আমাদের মাথায় আসতে পারতো? সম্ভাবনা ছিল?
![]() |
| আমাদেরকে গালি দিতো ক্যালকুলাস পড়ার সময় |
কাকতালীয়, আসতো কি না জানি না। তবে আপনার আমার হাতে অমন সূত্র আবিষ্কার হলে পরবর্তী প্রজন্মের স্কুল কলেজের ছেলেমেয়েগুলো একইরকম ভাবে আমাদেরকে বকুনি দিতো ক্যালকুলাস পড়ার সময়, ব্যাপারটা মোটেও কাকতালীয় না।
Article Series: ALEO (Acting Like Expert's Opinion)
লেখাঃ বদরুল
বিকাল ২ঃ৩৮
৯ মে, ২০২২
(ড্রিংকো স্পন্সর্ড না লিখাটি)



কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন