বদরুল, হোস্ট, DAWN TALES|| কেওরালি বা কেচইর নামের জলজ উদ্ভিদ পাওয়া যায় সিলেট, নেত্রকোনার মতো হাওরাঞ্চলের জলাশয়গুলোতে। স্থানীয় লোকজন এটা সবজি হিসেবে মাছ, চিংড়ির তরকারিতে খান।
কেওরালি যাদের স্মৃতির সাথে জড়িত বিশেষ করে যারা ছোটবেলায় হাওরাঞ্চলে থেকেছেন বা জীবনের একটা সময় সেদিকে থেকেছেন তাদের অনেক আবেগ কাজ করে। কেওরালি নিয়ে ইন্টারনেট ঘেটেও খুব বেশি তথ্য পাওয়া যায় নি। সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট, পোস্টের মন্ত্যব্যের ঘর থেকেই টুকটাক তথ্য পাওয়া গেছে।
কেওরালি স্থানীয় কবি লেখকদেরও লেখার অনুসংগ। বিভিন্ন জায়গায় লেখার মাধ্যমে কেওরালি প্রীতি ফুটিয়ে তুলেছেন। কেওরালির বিভিন্ন রেসিপি শেয়ার করেন কেও কেও।
কেওরালির খাদ্য গুন ছাড়াও ভেষজ গুন আছে বলেও বলছিলেন কেও। পেট ফাপার সময় মুরুব্বিরা কেওরালির তরকারি খাওয়াতেন পথ্য হিসেবে।
দেখতে ছোট শাপলার মতো কেওরালি শাপলার চেয়ে অধিক পানি সহনশীল। গাছ পানিতে সম্পূর্ণ ডুবে গেলেও মারা যায় না। ১-১.৫ মিটারের মতো হতে দেখা যায় সাধারণত। কেওরালির সবজির সিজন মূলত বর্ষাকাল। ফুল ফুটে যখন স্তিমিত হয়ে যায় তখন গর্ভাশয় খাদ্যউপযোগি হয়। কিছুটা কামরাংগার মতো দেখতে গর্ভাশয় চেছে-ছিলে খাঁজগুলো সমান করে রান্না করা হয়। গৃহিণীরা লতার তরকারির মতোই মশলাপাতি ব্যবহার করেন রান্নার ক্ষেত্রে। তরকারি খেতে খুবই সুস্বাদু।
এর কান্ড দেখতে কিছুটা নাইটকুইনের পাতার মতো। পানির উপরে শাপলার মতো গোল পাতাও থাকে।
একইসাথে আশা এবং হতাশার কথা হলো সবজি হিসেবে খাওয়া জলজ উদ্ভিদের পুষ্টিমান নিয়ে কোন তথ্য খুঁজে পাওয়া যায় নি। তাছাড়া এটি চাষের সম্ভাবনা, মিশ্র চাষের উপযোগিতা/সম্ভাবনা, মাছের সাথে চাষ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সম্ভাব্য অবদান, পানির গুনাগুন হ্রাস/বৃদ্ধিতে অবদান ইত্যাদি নিয়ে কাজ হওয়ার দাবি রাখে। তাছাড়া ইন্ডিজেনাস স্পিসিস কি না এই বিষয়েও গবেষনার দাবি রাখে।
কেওরালি চাষ হয় এমন কোন তথ্য না থাকায় হলপ করে বলা যায় এখনো পর্যন্ত যে কেওরালি গুলো দেখি আমরা সবই ১০০% অর্গানিক ও বিষমুক্ত (যদি না উত্তোলনের পরে ভেজাল করা হয়)। এই বুনো সুস্বাদু উদ্ভিদ যেন আমাদের ক্ষুধা মেটাতে গিয়ে অতি আহরিত হয়ে বিলুপ্ত না হয়ে যায় সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। সবাইকে সচেতন থাকতে হবে আমাদের আদি জীববৈচিত্র্যের উপাদানগুলোর সংরক্ষন সম্পর্কে।
হাওর এলাকার স্থানীয় বাজারগুলোতে কেওরালি পাওয়া যায় এখনো। নদীমাতৃক গ্রামবাংলার বিস্ময়কর উদ্ভিদ কেওরালি বেচে থাকুক যুগ যুগ ধরে। দেখতে পারেন আমাদের ভিডিও প্রতিবেদন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন