সোমবার, ১৮ জুলাই, ২০২২

গ্রাহক পর্যায়ে ভারতের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনাঃ পর্ব ০২

 ইলেক্ট্রিসিটি ক্রাইসিসের সম্ভাব্য বিকল্প পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুৎঃ পর্ব ০১ এর পরবর্তী আলোচনা।

পুরো বিশ্ব ঢাক-ঢোল পিটিয়ে নবায়নযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব শক্তির দিকে ঝুকছে। ঢাক-ঢোল পিটিয়ে কথাটা ক্ষোভ থেকে বললাম। কারন উন্নত বিশ্ব পরিবেশ ও জলবায়ুর যথেচ্ছ ক্ষতি করার পর নিজেরা অর্থনৈতিকভাবে একটা ভালো অবস্থানে পৌঁছেছে। তাদের জনগনের জীবনমানের উন্নয়ন করেছে।

তার মানে এই না, যে আমাদেরও পরিবেশের ক্ষতি করতেই হবে বাধ্যতামূলক ভাবে। এই দিক দিয়ে দেখলে আমাদের মতো দেশগুলোর অপেক্ষাকৃত অধিক পরিবেশ দূষনকারী প্রকল্পগুলো থেকে তাদের (উন্নত দেশগুলোর) সহযোগিতার আশ্বাস সরিয়ে নেয়া যৌক্তিক।

কিন্তু তাদের অসাধারণ অর্থনৈতিক সামর্থ্য থাকার পরও তারা যখন নিজেদের গাফিলতিতে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব শক্তি উৎপাদন করে বিদ্যুৎ চাহিদা পূরনে ব্যার্থ হয়ে কয়লার মতো পরিবেশ দূষনকারী বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালুর সিদ্ধান্ত নেয়, তা প্রমাণ করে তারা শুধু অন্যের উপর ছড়ি ঘোরাতে পছন্দ করে। ডলারকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় পশ্চিমাদের একরকম হাতের মুঠোয় আমাদের মতো দেশগুলো। নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য বৈশ্বিক সমস্যা বৃদ্ধিতেও তারা দুবার ভাবে না।

আফসোস করে লাভ হলে হয়তো আফসোস করতে থাকতাম আরো। কিন্তু অভ্যন্তরীণভাবে আমরা অনেক কিছুই করতে পারতাম, আমাদের নৈতিক স্খলন ও দূর্নীতির জন্য যেটা হয়ে উঠে না।

সাম্প্রতিক লোড শেডিং ইস্যুতে সরব সবাই। উৎপাদন ও শক্তি খাতের মূল চালিকাশক্তি বা কাঁচামাল হলো জ্বালানী। আমাদের জ্বালানী নীতি নিয়ে নানামুখী আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে, আগুনে ঘি না ঢেলে অবস্থা থেকে কিভাবে উত্তরন করা যায় ও এমন অবস্থায় ভবিষ্যতে না পড়ার জন্য কিরকম ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে তুলে ধরবো অল্প অল্প করে।

সৌরবিদ্যুত নিয়ে ইতোমধ্যে একটা পরিচিতিমূলক আলোচনা করেছি। আজকের মূল প্রসঙ্গ প্রতিবেশী দেশ ভারতে প্রচলিত সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা।

ভারতে সোলার সিস্টেমের তিনটা ধরন দেখা যায়।

০১) অনগ্রিড

০২) অফগ্রিড

০৩) হাইব্রিড

এর মধ্যে, অনগ্রিড সিস্টেম সহজলভ্য, স্বল্পমূল্যের। অনগ্রিড সিস্টেমের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা শব্দ "নেট মিটারিং" মাথায় রাখবেন।

অনগ্রিড সিস্টেম হচ্ছে ন্যাশনাল গ্রিডের সাথে সংযুক্ত ব্যক্তিগত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা। এ ব্যবস্থায় গ্রাহক তার নিজস্ব খরচে সোলার সিস্টেম স্থাপন করে। যাতে, তার বাড়ি বা প্রতিষ্ঠানে স্থাপিত সোলার প্যানেল যে বিদ্যুৎ উতপন্ন করে সেটা তার ইনভার্টার হয়ে AC তে রুপান্তরিত হয়ে মডিফাইড মিটার দিয়ে গ্রিডে যুক্ত হয়।

এক্ষেত্রে, বলে রাখি আমাদের সাধারণ যে মিটারগুলো আছে সেগুলো শুধু আমাদের বিদ্যুৎ খরচ (কত ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যয় হচ্ছে সেটা দেখায়)। কারণ আমরা শুধু বিদ্যুৎ নিই।

কিন্তু অনগ্রিড সিস্টেমে গ্রাহকরা যেমন গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ নেন তেমনি সোলারে উৎপাদিত বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত করেন। এক্ষেত্রে একটা উভমুখী মিটারের প্রয়োজন হয় (ক্ষেত্রবিশেষে দুইটা মিটারও হতে পারে। একটা খরচের হিসাব করবে অন্যটা সোলার থেকে গ্রিডে যাওয়া বিদ্যুতের হিসাব রাখবে)।

এখন প্রশ্ন হলো একজন গ্রাহক কেন ন্যাশনাল গ্রিডে নিজের টাকায় উতপন্ন বিদ্যুৎ দিবে?

এখানেই আসে নেট মিটারিং এর ব্যাপার। সাধারণত অনগ্রিড সিস্টেম স্থাপনের আগে কিছু কাগজপত্র জমা দিতে হয়। বিশেষ করে একবছরের বিদ্যুৎ বিলের কাগজ। যেটা দিয়ে অনগ্রিড সিস্টেম স্থাপনের অনুমতি দেয়ার বিবেচনা করা হয়। সাধারণত গ্রাহকের খরচ করা বিদ্যুতের গড় হিসেব করা হয়। এবং গড় ইউনিটের ৭০% ক্ষমতা পর্যন্ত সোলার পাওয়ার স্থাপনের অনুমতি দেয়া হয় অনগ্রিড সিস্টেমের ক্ষেত্রে।

এক্ষেত্রে প্রশ্ন আসতে পারে কেন ৭০% বা এটা বিবেচনায় আনার দরকারটাই বা কি?

এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ বিপনন কেন্দ্রের যন্ত্রপাতির জটিলতা আছে। সেগুলোর বিদ্যুৎ পরিবহন করার একটা সীমা আছে। সেই সীমার অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদিত হলে গোলযোগ হয়ে বিকল (এমনকি আগুন ধরে যাওয়ার) হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

নেট মিটারিং সিস্টেম যেটা করে, গ্রাহকের চলতি মাসের বিদ্যুৎ খরচ (ইউনিট) থেকে সোলারে উৎপাদিত বিদ্যুৎ (ইউনিট) বিয়োগ করা হয়। সেটা অনুযায়ী ফাইনাল বিল করা হয়।

উদাহরণস্বরুপঃ

বিবাহিত মাসুদ সাহেবের পরিবারের জুলাই মাসের বিদ্যুৎ খরচ ১০০ ইউনিট (কিলোওয়াট/ঘন্টা)। অন্যদিকে তার স্থাপিত সোলার সিস্টেম থেকে গ্রিডে যুক্ত হওয়া বিদ্যুতের পরিমান ৮০ ইউনিট।

তাহলে তার সংশোধিত বিল হবে ১০০-৮০= ২০ ইউনিটের মূল্য। এক্ষেত্রে ১ ইউনিটের মূল্য ১০ টাকা হলে বিল আসবে ২০*১০=২০০ টাকা + অন্যান্য প্রযোজ্য চার্জ।

এখানেও প্রশ্ন আসতে পারে, যদি কোন মাসে খরচের চেয়ে বেশি উতপাদন হয়?

উদাহরণস্বরুপঃ

অবিবাহিত শাওনের পরিবারের সদস্যরা সবাই বাসায় থাকলে বিদ্যুৎ বেশি খরচ হয়৷ না থাকলে কম। এক্ষেত্রে জুলাই মাসে তার বিদ্যুৎ খরচ ৬০ ইউনিট ও তার সোলার থেকে গ্রিডে যুক্ত বিদ্যুৎ ৮০ ইউনিট হলে তার নেট বিল ওইমাসে ০। সাথে কেবল অন্যান্য চার্জ বাবদ খরচ দিতে হবে।

এখানে ৬০-৮০=-২০ অর্থাৎ যে ২০ ইউনিট অতিরিক্ত ছিল এটা পরের মাসের বিলে যেয়ে এডযাস্ট হবে। মানে পরের মাসেও গ্রিডে যদি ৮০ ইউনিট বিদ্যুৎ যোগ করে সোলার সিস্টেম সেটার সাথে অতিরিক্ত ২০ ইউনিট যুক্ত হবে।

অর্থনৈতিক বছর শেষে (জুন মাস শেষে) যদি এই অতিরিক্ত থেকে যায় সেটার একটা নামমাত্র মূল্য নির্ধারন করে পরিশোধ করা হয় (২ থেকে ৩ টাকা ইউনিট)। যেকারণে অতিরিক্ত ক্ষমতার সোলার প্যানেল স্থাপনে নিরুৎসাহিত করা হয় বলে জানা যায় (ইন্ডিয়ায়), কারন গ্রাহকের জন্য লাভজনক হয় না।

একটি হিসাবে দেখা যায়, সোলার সিস্টেম স্থাপনে যে খরচ হয় তা ৪ থেকে ৬ বছরে উঠে আসে নেট মিটারিং সিস্টেমে বিল এডযাস্ট করার মাধ্যমে। সোলার সিস্টেমের জীবনাকালের বাকি সময়টা মূলত গ্রাহকের লাভ হতে থাকে। গড়পড়তা ৩০ বছর প্যানেলের লাইফ সাইকেল হলে সেই লাভের পরিমাণ বিপুল হয়। মূল্যস্ফীতি হিসাবে নিলে আরো বেশি মুনাফা হয়।

এগুলোতো সব অনগ্রিড সিস্টেমের সুবিধা। অসুবিধা?

একটা অসুবিধা হচ্ছে লোডশেডিং এর সময় বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকা। কারণ, গ্রিডে যুক্ত থাকায় যতক্ষন বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু থাকে ততক্ষণই বিদ্যুৎ থাকে সিস্টেমে।

এখানে আসে অফগ্রিড সিস্টেমের মাহাত্ম্য। অফগ্রিড সিস্টেমে গ্রাহকের সোলার সিস্টেম গ্রিডের সাথে যুক্ত থাকে না, যুক্ত থাকে গ্রাহকের অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎ লাইনের সাথে। সাধারণত অফগ্রিড সিস্টেমে ব্যাটারি ব্যাকাপ থাকে। যাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে তো বটেই, রাতেও যেনো সঞ্চিত বিদ্যুৎ শক্তি ব্যবহার করা যায়!

গ্রামীণ সোলার হোম সিস্টেমগুলো মূলত অফগ্রিড। বিশেষত প্রত্যন্ত অঞ্চল, যেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই।

অফগ্রিডের অসুবিধা নেই?

আছে৷ এতে ব্যাটারি লাগায় সিস্টেমের খরচ তূলনামূলক অত্যধিক। সেইসাথে রক্ষনাবেক্ষনও অধিক সময়সাপেক্ষ। আর নেট মিটারিং এর সুবিধা না পাওয়াও একটা অসুবিধা বটে।

লোডশেডিং এর সময় বিদ্যুৎ থাকবে আবার নেট মিটারিং সুবিধা আছে এমন সিস্টেম করা যায় না?

অবশ্যই যায়। যেটাকে হাইব্রিড সিস্টেম বলে। এই সিস্টেমটা পূর্বে আলোচিত দুইটা সিস্টেমের মিশেলে তৈরি। যেখানে ব্যাকাপ সিস্টেমও থাকে, থাকে নেট মিটারিং সিস্টেমের সংযুক্তিও। অসুবিধার যায়গায় এর প্রাথমিক স্থাপনার খরচ আর ঝক্কিঝামেলা।

এই ছিল ভারতের সৌরশক্তি ব্যবহারের একটা দিকের আলোচনা। সোলার প্ল্যান্টও স্থাপিত করতে পারছে তারা প্রচুর পরিমানে। কারণ তাদের যথেষ্ট জায়গা আছে, যেগুলো অব্যবহৃত ও পতিত।

আমার দেশ কি অমন ব্যবস্থায় ভালো করবে? সৌরবিদ্যুতের চ্যালেঞ্জ গুলো কি কি? আমাদের বর্তমান অবস্তা কি? ভবিষ্যতের পরিকল্পনা কেমন হতে পারে? এগুলো নিয়ে ইনশাআল্লাহ আগামী পর্বে কথা বলবো।

(আজকের আলোচনার ক্রেডিট যাবে Labour Law Adviser নামের ইউটিউব চ্যানেলের কাছে। তাদের কন্টেন্ট থেকেই ভারতের সোলার সিস্টেম রিলেটেড খুটিনাটি তথ্যের মূল রসদের যোগান এসেছে। ছবি কৃতিত্ব ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ডটকম)

বুধবার, ১৩ জুলাই, ২০২২

ময়মনসিংহের মাদকাসক্তি, ছিনতাই, অটোচালনা ও অপরচুনিটি কস্ট

চোখের সামনে সেদিন টাউনহল মোড়ে এক অটো আরেক অটোকে ওভারটেক করতে গিয়ে বেকায়দায় উলটে যায় ধাক্কা দিতে যাওয়া অটোই! ড্রাইভার তেড়ে যায় নিজের দোষ ভুলে অন্য ড্রাইভারকে মারতে।

উপস্থিত জনতা প্রথম অটোচালকের উপর ক্ষেপে যায়। চোখ আর চালচলন দেখে বোঝা গেলো নেশাগ্রস্ত ছিলেন প্রথম অটোচালক, যিনি মূলত সংঘর্ষের হোতা।

পাব্লিকরে বোকা আর ইরেস্পন্সিভ বলার যে ব্যাপারটা কাজ করতো সেটা একটু কমেছে এই ঘটনা দেখার পর। অবশ্য দোষীর হাতে কোন দেশীয় অস্ত্র বা আগ্নেয়াস্ত্র থাকলে আমি বা অন্য কেও এগিয়ে যেতাম কি না সন্দেহ আছে। নিজের জান আগে।


ছবিটা সেই স্পটের যেখানে ঘটনা ঘটেছিল, গুগল স্ট্রিট ভিউ থেকে নেয়া হলেও ঘটনার সময়ে তোলা না


যাইহোক, আপনার আমার শহর ময়মনসিংহের একটা বদনাম বেশি ছিল ছিনতাইকারী সংশ্লিষ্ট। যত্রতত্র ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা অহরহই শোনা যেতো একসময়। এখন নেই এমন না, অনেকটা কম।

মূল আলোচনার আগে একটা কল্পিত সন্তানপ্রীতির ঘটনা বলি।

শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সন্ধ্যার পর এক নারীর মোবাইল রাখার হাতব্যাগ ছিনতাই করে এক কিশোর। নারীর চিতকারে আশেপাশের লোকের সহযোগিতায় পুলিশের হাতে ধরা পরে সে কিশোর। থানায় নেয়া হয়। অভিভাবকদের ডাকা হয়। মা আসেন। কান্না শুরু করেন,

-আমার পোলাডার কোন দোষ নাই। আমার পোলা এরুম করতোই ফারে না। কেও না কেও ফাসানির লাইজ্ঞা ধরা খাওয়া দিছে।

-আপনার ছেলে ছিনতাই করেছে। সবাই দেখেছে, হাতেনাতে ধরেছে। এমনকি সে নেশাগ্রস্ত ছিল, তার ডোপ টেস্ট করা হয়েছে।

-আমি কইছিলাম না, আমার পোলা এরুম না। এরে কেও নেশার বড়ি খাওয়ায়া এরুম করাইছে। পরে ফাসায়া দিছে।

অযৌক্তিক হাস্যকর হলেও অনেক অপরাধের ক্ষেত্রেই হয় পরিবার জানে না, নাহয় প্রশ্রয় দেয়। জনপ্রিয় উদাহরণ হতে পারে ঘুষের টাকা, সিন্ডিকেট করে মূল্যবৃদ্ধি করে তুলে নেয়া টাকা। কোন সেক্টরে এই ঘটনা ঘটে না! আমি, আপনি, আমাদের আত্মীয় স্বজনেরাই তো কোন না কোন ভাবে এগুলোতে জড়িত।

প্রসংগে ফেরা যাক।

আগের তূলনায় এখন ছিনতাইয়ের কথা শোনা যায় না। বিশেষ করে অটোর বৃদ্ধির সাথে ছিনতাই কমার হারের একটা মিল দেখা যায়।

এর পেছনে যুক্তি হিসেবে দাড় করানো যায় বৈধ উপার্জন থেকে নেশার টাকার যোগান। ব্যাপারটা ইন্টারেস্টিং না!

একসময় নেশার টাকা যোগানোর জন্য মোড়ে-গলিতে ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটতো। ধরা খেলে অপরাধীই স্বীকার করতো এসব কারন (নেশার জন্যে ছিনতাই করেছে) আবার কিছুক্ষেত্রে এলাকার মানুষ সাক্ষ্য দিতো।

খুব সম্ভবত আধুনিক নেশাগ্রস্তদের কিঞ্চিৎ বোধোদয় হয়েছে। আপনি কোন ভাবে নেশারত কারোর সামনে পরে গেলে যদি তাকে জিজ্ঞেস করেন,

-কেন এগুলা করে টাকা নষ্ট করতেছিস বোন?

-নিজের পরিশ্রমের টাকায় নেশা করি। কারোর বাপের টাকায় না।

উদাহরণে "বোন" বলার অন্যতম কারণ পুরুষের পাশাপাশি অথবা পুরুষ থেকে দূরে বিভিন্ন সেক্টরে নারীর উপস্থিতি, বিচরনে সফলতার কথা তুলে ধরা।

মাদক জগতে নারীদের বিচরন বিকৃত নারীবাদের ফসল (বিকৃত নারীবাদ বলতে সেই বিশ্বাসকে বোঝাচ্ছি, যে বিশ্বাসীরা মনে করে পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও সিগারেট, নেশার অধিকার আছে। ছোট কাপড়, অশালীনতা, উশৃংখলতা মানেই স্বাধীনতা বা পুরুষের সমান হওয়ার হাতিয়ার। যারা ভুলেই যায় এইরকম বিষয়গুলোর কোনটিই পুরুষের জন্য বা সমাজের জন্য মঙ্গলজনক হয়নি)। আলোচিত ঐশী কান্ড নিশ্চয়ই ভুলে যাওয়ার মতো না। যেখানে পুলিশের এক কর্মকর্তার মেয়ে ঐশী তার বাবা মাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে তার ছেলেবন্ধুর সহায়তায়। তাদের অবাধ বিচরণ ছিল নেশার জগতে। ওই ছেলের অপরাধ জাস্টিফাই করার কোন যৌক্তিকতা নেই এটা অকাট্য। কিন্তু এমন সমঅধিকার বা এমন বিশৃঙ্খলার দিকে ধাবিত করবে এমন কোন অধিকারই থাকা উচিত না।

পত্রিকায় হরহামেশাই অপরাধী দম্পতি অথবা যুগল (বৈধ দম্পতি না) ধরা পড়ার খবর দেখা যায়।

আমরা মানুষেরা অদ্ভুত মেন্টালিটির! না মানে চিন্তা করুন, একসাথে বিয়ে ছাড়া থাকা যাদের কাছে অবৈধ বা নীতিবিরোধী মনে হয়েছে তাদেরও কেও কেও ছিনতাই, মাদক, খুনের মতো গর্হিত অপরাধে যুক্ত হচ্ছি।

এক্ষেত্রে অবস্থান স্পষ্ট করা জরুরী যে, ব্যক্তি হিসেবে আমি পশ্চিমা অবাধ মেলামেশার বৈধকরণ বিরোধী। বিয়ে করে বৈধ সম্পর্ক স্থাপনের গুরুত্ব সম্পর্কে অবহিত। শুধু অবাক লাগে এটা ভেবে যে একদিকে এমন নৈতিক সচেতন মানুষেরা কিভাবে অন্য ঘৃন্য অপরাধে জড়িয়ে যায়!

সমাজের নিম্ন আয়ের লোকেদের ক্ষেত্রে হালাল আয়ে নেশা করার গর্ব দেখা যায় বেশি। উচ্চস্তরের কিছুক্ষেত্রে এর ভিন্নতা দেখেছি। বিশেষত আপনি যদি কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রর কাছ থেকে শোনেন, যাকে হয়তো নেশাগ্রস্ত বলা উচিত হবে না (তাদের মতে) তাদের কেও কেও বলবে

-আমি আমার লিমিট জানি

অথবা

-আমি অনেক ছোটবেলা থেকেই এগুলায় আছি। আমার কাছে এগুলো নরমাল, কোন ইম্প্যাক্ট পরে না

অথবা

-তুই ক্ষ্যাত, আমি স্মার্ট

অথবা

-টেনশন, ডিপ্রেশন, ফ্যামিলি প্রেশার ইত্যাদি।

আরেক গ্রুপ পাবেন যারা কিছু কিছু নেশাদ্রব্যকে "নেশাদ্রব্য" বলতেই নারাজ। যেমনঃ গাজা খেলে তো নেশা হয় না, পানীয়কে (মদ বা অমন তরল) কেন মানুষ নেশাদ্রব্য বলে বুঝিই না।

সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং ধূমপায়ীদের যুক্তি। ক্লিয়ার করি, ধূমপায়ীদের নেশাখোর বা মাদকসেবির কাতারে ফেলছি না। কারন, টিপিক্যাল নেশাখোর বা মাদকসেবিদের আলাদা একটা চিত্র/ছাচ আমাদের সমাজে চিত্রিত যেখানে অবশ্যই ধূমপায়ীরা পড়েন না। ইয়াবা বা হেরোইনের মতো মাদক সেবনে ঘটা সরাসরি ক্রম মানসিক বিকারের ভয়াবহতার মতো প্রভাব সিগারেটের ক্ষেত্রে দেখা যায় না। সোজা কথায় শুধু সিগারেট খেয়ে মানুষ মাতাল হয়না বলে সিগারেট হচ্ছে কানামামা। শকুনি মামা (মানসিক বিকারে ভূমিকা রাখা মাদক) থেকে কানামামা ভালো (অপরচুনিটি কস্ট হিসেবে)।

তো, ধূমপায়ীরা দেশ সেবা করেন ধূমপানের মাধ্যমে উচ্চহারে ট্যাক্স দিয়ে। দেশের জিডিপি গ্রোথে তাদের অবদান সবচেয়ে বেশি, তারাই সত্যিকারের দেশপ্রেমিক!

অথচ এই পরিমান মনযোগ অন্য জরুরী খাতে দিলে সেগুলোর উন্নয়ন সম্ভব হতে পারতো।

অবশ্য ধূমপায়ীদের দেশ সেবা তথা অর্থনীতির চাকা সচলে ভূমিকা রাখার ব্যাপারটা ইকোনমিক দিক থেকে অগ্রাহ্যও করা যায় না।

প্রথম স্তরের নেশাগ্রস্ত ধূমপায়ীদের উদাহরণ দিয়ে বলি।

তারা দৈনিক ৩০ থেকে ২০০+ টাকা খরচ করে (অনুমানে ধরে নিন)। যেই টাকার বেশির ভাগ অংশ এখন করের মাধ্যমে সরকার পায়। যেই বিক্রেতা বিক্রি করলো সে পেল (সাধারণত খুব অল্প পান পার আইটেম হিসেব করলে, মারাত্নক পরিমানে বিক্রি হওয়ায় লাভের পরিমান বাড়ে। কাস্টমার ধরে রাখার জন্য আর টাকার ফ্লো মেইন্টেইন করার জন্যও কেও কেও দোকানে সিগারেট রাখেন বলেছেন), কোম্পানি পেল, কর্মচারী পেল, শ্রমিক পেল, দেশে উৎপাদিত হলে চাষি পেল। চাষীদের উপকার, এর চেয়ে বড় দেশপ্রেম আর কি হতে পারে!

ওগুলো ডিরেক্ট ইমপ্যাক্ট।

ইন্ডিরেক্ট ইমপ্যাক্ট তো আরো বেশি। লুকিয়ে সিগারেট খাওয়া ব্যাক্তিদের খাত বিবেচনা করা যাক।

মুখের গন্ধ নিবারনের জন্য মাউথ ফ্রেশনার, পান, সেন্টার ফ্রেস ইত্যাদি।

কাপরের গন্ধের জন্য স্প্রে, অতিরিক্ত ডিটারজেন্ট।

মাঝে মাঝে সিগারেটের আগুনে কাপড় বাজেয়াপ্ত হয়ে গেলে সদ্য কেনা কাপর রেখেই নতুন কাপর কিনতে হয় বা ঠিকঠাক করে নিতে হয়।

ম্যাচ ইন্ডাস্ট্রি, লাইটার ইন্ডাস্ট্রি, পায়কেজিং, এস্ট্রে, সিগারেট হোলডার।

সিগারেট খেয়ে ফুসফুসের রোগ বানিয়ে ডাক্তারের কাছে যাওয়ায় ভিজিট, চেকাপ, ঔষধ।

ক্যান্সার হসপিটাল, বক্ষব্যাধী হসপিটাল কাশতে কাশতে মারা যাওয়ার পর কবরস্থান বা শ্মশানের কর্মচারীদের পকেটও ভারী করেন তারা।

সেইসাথে সংসারের একমাত্র উপার্জনকারীর দ্বারা জীবিত অবস্থায় পরোক্ষ ধূমপানে ক্ষতি করে, উপার্জনের একটা অংশ সিগারেটের মতো খাতে ব্যয় করে জীবনাবসানের পর মাঝে মাঝেই পরিবারকে অভাবে ফেলে যান অথবা বেকায়দায় ফেলেন।

সাইকোলজি বর্তমানে যেকোন ব্যবসার সাফল্যের গোপন সূত্র।

এমন নেশা দ্রব্য বা ড্রাগ বানিজ্যের পেছনে বড় বড় মানুষ প্রতিষ্ঠান ও সুক্ষ সাইকোলজির খেলা থাকে। মাদক ব্যবসার টাকাগুলোও কালো টাকা। তাই বৈধতা নাই সে টাকার। দেশের অবৈধ সম্পদ, বাইরের দেশে পাচার হওয়া অর্থের একটা অংশ নিশ্চিতভাবেই এই খাতের কালো টাকা। যেটা জনসাধারণের চোখে ধরা পরে না বা পরেও লাভ নেই।

কোথায় ছিলাম, ছিনতাই।

হ্যাঁ, ছিনতাইয়ের মতো ঘৃণ্য কাজ ছেড়ে অনেক নেশগ্রস্তরাই এখন অটো চালনায় এসেছে।

এক্ষেত্রে একটা ইকোনমিক ফ্যাক্টর মাথায় রাখবেন, অপরচুনিটি কস্ট।

অপরচুনিটি কস্ট হলো দুইটা একই (বা ভিন্ন) ধরনের কাজ একই সময়ে করার অবস্থায় পড়লে একটা কাজ ছেড়ে দেয়ার জন্যে যেই লস বা খরচ গুনতে হয় সেটা।

উদাহরণ হিসেবে প্রচলিত গল্পের কুকুরের কথা বলা যায়। যে মাংস নিয়ে স্বচ্ছ স্রোতস্বিনী জলাধারের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় নিজের প্রতিচ্ছবি পানিতে দেখতে পায়। খুব সম্ভবত কুকুরটি পদার্থ বিজ্ঞান বই পড়েনি যার কারনে সে বুঝতে পারেনি যে জলে যে কুকুরটিকে মাংসের টুকরা মুখে দেখা যাচ্ছে তা আদতে তার প্রতিবিম্ব, সে প্রতিফলক পৃষ্ঠ পানি থেকে দূরে থাকায় তার চেয়ে ছোট (ছোট জন্তুর কাছ থেকে অপেক্ষাকৃত সহজে খাবার ছিনিয়ে নেয়া যায়) মনে হয়েছিল।

মূর্খ কুকুর জলের কুকুরের মুখ থেকে মাংস ছিনিয়ে নেয়ার জন্য যেই কামড় বসায় পানিতে, তার মুখের মাংসের টুকরা পানিতে পরে স্রোতের টানে ভেসে যায়।

মূর্খ কুকুর সাইন্সের ফিজিক্স বই না পড়ে কমার্সের বই পড়লেও অপরচুনিটি কস্ট সম্পর্কে জানতে পারতো। যেটা জানলে সে নিজের ভাগের মাংস থাকার পরও অন্য কুকুরের কাছ থেকে ছিনিয়ে মাংসের ভাগ বড় করা আদতে কতটুকু ইকোনমিক তা কমপেয়ার করতে পারতো।

নেশাকারীরা ছিনতাই ছেড়ে অটোচালনা, বিদেশ গমন, স্ট্রিট বিজনেসের মতো দৃশ্যত গ্রহনযোগ্য কাজে যুক্ত হচ্ছে। ইনকাম সোর্স চয়েস করার মেন্টালিটির এই শিফটিং পজিটিভ।

কিন্তু এখনো অনেকের নেশার রাজ্যে অবাধ বিচরণ, নেশাদ্রব্যের মোটামুটি অবাধ প্রাপ্তির অপরচুনিটি কস্ট কি হিসাব করা হয়েছে?

উল্লেখ্য সব অটোচালক নেশাগ্রস্ত এমনটা বলছি না, সবাই ছিনতাইকারী থেকে অটোচালক হয়েছেন এমনটাও বলছি না। বহু সাধারনের কর্মসংস্থান হয়েছে। পূর্বে রিক্সা পদচালিত রিক্সা চালাতেন এমন অনেকেই ইলেকট্রিক অটোরিকশা চালান, এমন লোকও কম না।

কিন্তু যারা নেশাগ্রস্ত তাদের ক্ষেত্রে? লেখার শুরতে বলা আমার চোখের সামনে ঘটা ঘটনাটাতো একটা উদাহরণ মাত্র। ক্ষেত্রবিশেষ যাত্রী হয়রানি, নারী যাত্রীদের ইভটিজিং, তুচ্ছ কারনে ঝগড়া, কিছু ক্ষেত্রে এখনো ছিনতাই বা ছিনতাইয়ের জন্য খুনের মতো ঘটনাগুলোর দিকে নজর দিলে মাদকের একটা যোগসূত্র পাওয়া যায়।

লিখে উদ্ধার করে ফেলার চেষ্টা বৃথা যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কখনো যদি মনে হয়,

আমি তো সাধারণ যাত্রী। আমার সাথে এমন দূর্ব্যবহার করলো কেন? আমার জানের তোয়াক্কা না করে বাস ট্রাক চলা রাস্তায় অন্য জনের সাথে পাল্লা দিচ্ছে কেন? সাই করে অন্য অটো ঘেষে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে চাচ্ছে কেন?

ইত্যাদি বিভিন্ন ঘটনার পেছনে অন্যতম একটা কারন মাদক। দূর্ঘটনায় পড়ার পর আফসোস যাতে না হয় একথা ভেবে,

"কি কারনে দূর্ঘটনায় পড়লাম বুঝলাম না?"

অথবা

"কি কারনে মরে গেলাম বুঝলাম না!"

অন্যতম কারন স্পষ্টকরনের জন্যেই লেখাটি।

আমি মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে শহীদ হওয়ার পক্ষপাতী না। এমনিতেই একটা গ্লোবাল বা লোকাল প্রব্লেম সলভ করার আগে মরতে যাওয়া বা চাওয়া আমার পেছনে পরিবারের ও দেশের খরচ ও স্যাক্রিফাইসের অপচয়ের শামিল। আমি অমন অপচয়ের পক্ষপাতী না। ওই যুদ্ধের উপযোগী সেনা বা সেনাপতি না। তাছাড়া যুদ্ধের আওয়াজ তোলা অনেকেই মাদকে জড়িত থাকায় তথাকথিত যৌক্তিকতা নিয়ে সন্দিহান এই বিষয়ে যে আমি শহীদ বিপক্ষের হাতে হবো নাকি পক্ষের বিশ্বাসঘাতকের হাতে এই ব্যাপারটা তো আছেই!

আমি ছাপোষা মানুষ কৃষির সাথে থেকে বাকি জীবন কাটাতে চাই। আমাকে নিয়ে মাদকসেবিদের দুশ্চিন্তার কিছু নেই, আক্রোশ থেকে আক্রমনের তালিকা থেকে আমাকে সরিয়ে রাখলে ভবিষ্যতে আপনার নিজের দেশের বহুত উপকার হবে কথা দিলাম।

আরে ধুর, কারে কি বলতেছি! আপনি তো মাদক নেননা বা মাদকের পক্ষের লোকও না, আপনাকে বলে কি হবে!


মঙ্গলবার, ১২ জুলাই, ২০২২

ইলেক্ট্রিসিটি ক্রাইসিসের সম্ভাব্য বিকল্প পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুৎঃ পর্ব ০১

সূর্যালোক শক্তি কাজে লাগিয়ে উৎপাদিত বিদ্যুতই সৌরবিদ্যুৎ নামে চিনি। ফটোভোলটাইক প্লেটে সূর্যরশ্মি পরে কিভাবে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয় সেই সাইন্সে না যেয়ে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কিছু বিষয়ে কথা বলি।

সোলার প্যানেল স্থাপনে কোন বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হয়?

১)স্থান

স্বভাবিকভাবেই যেখানে রোদ পড়ে না বা বেশিরভাগ সময়ে রোদ থাকে না সেখানে সোলার প্যানেল স্থাপনে কাংখিত আউটপুট পাওয়া যাভে না।

২)প্যানেলের দিক

প্যানেল কোন দিকে স্থাপন করা হচ্ছে এটাও গুরুত্বপূর্ণ। যেমন ধরুন শীতকালে সূর্যের দক্ষিনায়ন হয়, এটা চিরন্তন। আপনার বাসার দক্ষিণে বড় গাছ বা স্থাপনা থাকলে প্যানেলের ব্যবস্থাপনা একরকম হবে, না থাকলে অন্য।

৩)প্যানেলের এংগেল

প্যানেলের এংগেলের উপর কার্যকারিতা অনেকাংশে নির্ভর করে।

কার্যকর জীবনকাল

সোলার সিস্টেমগুলোর জীবনকাল সাধারনত ২০ থেকে ৩৫ বছর হয়ে থাকে। প্রতিবছর গড়পড়তা ০.৭% এফিশিয়েন্সি কমে জীবনকালের শেষভাগের দিকে ৭০-৮০% এফিশিয়েন্সি থাকে।

ইনফাস্ট্রাকচার ও ইকুইপমেন্ট

সোলার সিস্টেমের প্রধান পাঁচটি ফিজিক্যাল ইউনিট হচ্ছে ১) সোলার প্যানেল (যেটা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হবে), ২) ইনভার্টার/কন্ট্রোলার (ইনভার্টার দেখা যায় যেই সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে সরাসরি AC সংযোগে চলা এপ্লায়েন্স চালানো হয়। অন্যদিকে কন্ট্রোলার বেশি দেখা যায় গ্রামের সোলার হোম সিস্টেমগুলোতে। সাধারনত সৌরবিদ্যুৎ তথা উৎপন্ন DC শক্তি দিয়ে সরাসরি চলে এমন এপ্লায়েন্স ব্যবহারের ক্ষেত্রে কন্ট্রোলার প্যানেল দেখা যায়। এর আরেকটি সংশ্লিষ্ট বিষয় হচ্ছে ব্যাটারি ব্যাকাপ সিস্টেম থাকে সাধারণত), ৩) ওয়ারিং (সংযোগ তার, যেগুলোর মাধ্যমে প্যানেলের সাথে অন্যান্য সিস্টেম সংযুক্ত থাকে), ৪) প্যানেল সাপোর্টিং স্ট্রাকচার, ৫) ব্যাকাপ ব্যাটারি (দিনের বেলা উৎপন্ন শক্তি সঞ্চয় করে রাখতে ব্যবহার করা হয়। রাতে ব্যাকাপ দেয়)

এরমধ্যে সোলার প্যানেল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলাই বাহুল্য। সোলার প্যানেলের কোয়ালিটির উপর নির্ভর করবে কতটুকু জায়গায় কতটা বিদ্যুৎ পাবেন।

যেমন ধরুনঃ একটা প্যানেল সৌরশক্তিকে ৩০% এফিশিয়েন্টলি বিদ্যুৎ শক্তিতে রুপান্তর করতে পারে অন্যটি ২৫% এ। স্বাভাবিকভাবে প্রথমটার কার্যকারিতা বেশি হওয়ায় প্রথম পছন্দ সেটি হওয়াই স্বাভাবিক। যদিও দামের পার্থ্যক্য একটা ফ্যাক্টর।

আবার এক কোম্পানি প্যানেল গ্যারান্টি দিল ২০ বছর, অন্যটি ৩০ বছর। দুটি কোম্পানিরই বিশ্বস্ততা, বিশ্বাসযোগ্যতা কাছাকাছি হলে অবশ্যই ৩০ বছরের গ্যারান্টির প্যানেল উপযোগী। বিশ্বস্ততা জরুরি কারন একটা কোম্পানি ৩০ বছর গ্যারান্টি দিলো, কিন্তু কোম্পানির অবস্থা যদি ১০ বছর টেকার মতো না হয় তাহলে প্যানেল লাইফটাইমে নষ্ট হলে গ্রাহক কাংখিত বিক্রয়োত্তর সেবা পাবে না।

অপেক্ষাকৃত আধুনিক প্রযুক্তির প্যানেলগুলোর সৌরশক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রুপান্তরের সক্ষমতা অধিক।

ডিগ্রেডেশন রেট জানা থাকলে ভালো। যেই প্যানেলের এফিশিয়েন্সি ডিগ্রেডেশন রেট কম সেটা অধিক উপযোগী।

মেইন্টেনেন্স

নন-ফিজিক্যাল পার্টের মধ্যে আফটার সেলস সার্ভিস গুরুত্বপূর্ণ দিক সৌরবিদ্যুতের ক্ষেত্রে। কেনার আগে, সিস্টেম স্থাপনের আগে এই বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

সৌরবিদ্যুতের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মেইন্টেনেন্স। বলা হয়ে থাকে সোলার প্যানেল যদি ছয় মাস অযত্নে থাকে, তাতে জমা ধুলাবালির কারনেই ৩০% এর মতো কার্যক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে। আবার যথোপযুক্ত ভাবে প্যানেল পরিষ্কারের পদ্ধতি জানা না থাকলেও স্ক্র‍্যাচ পরে বা ভেংগে গিয়ে ক্ষতি সাধনের সম্ভাবনা আছে।

তাছাড়া যেই স্ট্রাকচারের উপর সোলার প্যানেল বসানো হয় সেটা যদি মরিচ রোধী না হয় তাহলে প্যানেলের ক্ষতি হওয়া ছাড়াও স্ট্রাকচার বাবদ ব্যয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকে।

ব্যবহৃত তারের গুনগত মানের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। সোলার পাওয়ার সিস্টেমের লাইফটাইমে যদি সংযোগ তার নিম্নমানের হওয়ায় নষ্ট হয়ে যায় তাহলেও ঝামেলার পাশাপাশি অহেতুক খরচ বৃদ্ধির সম্ভাবনা আছে।

......................................................................................................চলবে

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন, ২০২২

অপ্রচলিত ও বুনো কিন্তু সম্ভাবনাময় ফল

বঁইচি নামে পরিচিত যে ফলটা, বহুদিন ধরে খুজতেছি। "পেলা গুডা" নামে পরিচিত আমাদের গ্রামে।

পক্ব শক্ত "পেলা গুডা" বা বঁইচি ফল ছোটবেলায় দুই হাতের তালুতে বুলি আউরে কচলাতে কচলাতে নরম করতাম।

"আম পাকে জাম পাকে,

মামার বাড়ির পেলা পাকে"

শহরে এক জায়গায় খেলতে যেয়ে বঁইচি সদৃশ একটা গাছ দেখতে পেয়ে বাসায় এনে লাগিয়েছিলাম ৮-৯ বছর হলো। ফল, ফুল কিছুই আসে না। আমার হতাশাও কমে না গাছটাকে নিয়ে।

বেতফল এবছর দক্ষিনাঞ্চলে যাওয়ার আগে কোথাও দেখেছি মনে পরে না। বন্ধুরা সাজেক থেকে কিনেছিল যতদুর মনে পড়ে। এতো সুন্দর দেখতে! একদম মেয়েদের গয়নার ডিজাইন করা গোল গোল পুতির মতো।

সত্য বলতে খেতে সুস্বাদু মনে হয়নি আমার কাছে। আপনার নস্টালজিয়া হলে, আশেপাশে খাওয়ার কিসসু না থাকলে, টাইম পাসের ইচ্ছা হলে, অতিরিক্ত সুস্বাদু খাবার খাওয়ার পর মুখের স্বাদ স্বাভাবিক করতে চাইলে খেতে চাইবেন এমন মনে হয়েছে। বন্ধুদের কেও কেও পছন্দ করেছে।

যাইহোক, ইদানীং "চাম কাঠাল" বা চাপালিশ গাছের কাঠাল সদৃশ  ফল চোখে পড়ে শহড়ে। একটা ছোটখাটো প্রতিবেদন দাড় করানোর চেষ্টায় আছি।

চাপালিশ নিয়ে সম্ভাবনার বিষয় হলো, এটা বেশ পরিচিত একটা কাঠ। মধুপুরের বনে পাওয়া যায় বললেন চাপালিশ ফল তথা চাম কাঠাল বিক্রেতারা।

ধরুন, আপনি গাছ লাগিয়ে রাখবেন। কাষ্ঠল গাছ। চাপালিশ সেই চাহিদা পূরনের পাশাপাশি পুষ্টিও দেবে (চাম কাঠালের পুষ্টিমান পাই নাই কোথাও, কেন কোথাও নাই এটা একটা প্রশ্ন হতে পারে)। বেশ কয়েক জাতের ভিটামিন পাওয়া যাবে এটুকু নিশ্চিত। যেহেতু গাছগুলো অপ্রতুল, ফলের চাহিদা ভালোই থাকবে।

আরেকটা ক্ষেত্র হতে পারে গ্রাফটিং!

এই চাপালিশ আমাদের জাতীয় ফল কাঠাল পরিবারের সদস্য। চাম কাঠালের শেকড়ের বিশেষত্ব, বুনো পরিবেশে বেচে থাকার বৈশিষ্ট্য ইত্যাদি বিভিন্ন দিক বিবেচনায় চাপালিশে কাঠালের গ্রাফটিং করে কাঠালের বিস্তৃতি বাড়ানো যেতে পারে।

এমন আরেকটি উদাহরণ হচ্ছে ডেওয়া। যেটা কাঠালের চেয়ে অধিক লবনাক্ততা সহিষ্ণু। যেকারণে ডেওয়া গাছে কাঠালের গ্রাফটিং করে উপকুলীয় অঞ্চলে কাঠাল চাষ বা ভবিষ্যতের লবনাক্ততার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা যেতে পারে বলে পড়েছিলাম কোথাও।

থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়ার দিকে পাওয়া ডুরিয়ানের গন্ধ নাকি বিকট তীব্র! কিন্তু কি দাম বাপ্রে বাপ! তারপরও আন্তর্জাতিক বাজার, পর্যটকদের কাছে ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে।

আমাদের দেশের অপ্রচলিত অনেক ফল আছে যেগুলো আমাদের নজর পাওয়ার দাবি রাখে।

লোকাল ব্র‍্যান্ডিং এর পাশাপাশি কান্ট্রি ব্র‍্যান্ডিং করে (বলতে লজ্জা লাগতেছে, মাধ্যম হতে পারে টিকটকও! যতদিন আছে, ভালো কিছুতে কাজে লাগুক) এগুলোকে সামনে আনা যায়। পাঠ্যবইয়ে, গবেষনায় অল্প অল্প করে এগুলোকে ফুটিয়ে তোলা যায়। কে জানে বঙ্গের ডুরিয়ান হয়ে যাবে হয়তো বঁইচি, কাগজি লেবু, ডেউয়ার মতো কোন ফল!

টেপা রুটি, অভ্যাস-আসক্তি পরিবর্তনে দূরত্বের গুরুত্বঃ ০২

টেপা রুটি নাম শুনেছেন কখনো?

হাতে টিপে টিপে যে রুটি বানায়, সেটাই টেপা রুটি।

ছোটবেলায় একবার আত্মীয়ের নতুন বাসায় যেয়ে প্রথম খাওয়া হয়েছিল। সেটা উদ্ভুত পরিস্থিতির কারনে ছিল। নতুন বাসায় খুবেকটা তৈজসপত্র আনেননি সেই আত্মীয়। তাছাড়া কয়েকমাস থাকার প্ল্যান করে তিনি বাসা নেয়ায় বাসায় জিনিসপত্র রাখেননি সবধরনের। যেকারণে রুটি বানানোর বেলন-পিড়িও ছিল না। তাওয়াও ছিল না রুটি স্যাকার।

কিন্তু রুটি বেশ সহজে খাওয়া যায়। ঝুট ঝামেলা কম। তার উপর ছোট বেলার বায়না রুটিই খাবো!

"প্রয়োজন উদ্ভাবনের জননী"

ছোট পাত্রে আটা গুলে হাতে টিপে তৈরি করে ফেলা হলো রুটি! অবশ্যই গোল হয় নি। কিন্তু, অনেক কষ্টে বানানো সে রুটি খুব তৃপ্তি সহকারে খেয়েছিলাম আমরা।

টেপা রুটির ইতিহাস ঘাটলে হয়তো বহুকাল আগে চলে যেতে হবে। ওদিকে না যাই।

সাম্প্রতিক ঘটনায় ফিরি।

রাত জেগে থাকার পর যখন ক্ষুধা চাপে, ঘরে খাওয়ার মতো চাবি-চুবি (চর্বনযোগ্য খাবার) না থাকে তখন খুব অসহায় অসহায় লাগে মাঝে মাঝে। মাঝে মাঝেই অমন পরিস্থিতিতে পড়ে বিভিন্ন ধরনের খাবার তৈরি করা হয়।

একদিনের তালিকায় এই "টেপা রুটি" ছিল। এমন না যে বেলন পিড়ি ছিল না! সেগুলো নামিয়ে ধুয়ে ব্যাবহার করে আবার পরিষ্কার করে রাখা খুবই ঝামেলা জনক ঠাহর হচ্ছিল সেদিন। তাই টেপা রুটি।

যারা রুটি নিয়ে একদমই জানেন না তাদের জন্য বলছি, গরম পানিতে আটা গুলিয়ে যে রুটি হয় সেটা নরম হয় ও নরম থাকে। অন্যদিকে, ঠান্ডা পানি দিয়ে গোলানো রুটি শক্ত হয় একটু আর নামানোর সাথে সাথে না খেয়ে ঠান্ডা হতে দিলে রাবারের মতো হয়ে যায়।

কিন্তু, ঠান্ডা পানির রুটি মুচমুচে করা সহজ। ঠান্ডা পানির রুটিই করি সেদিন, পানি গরম করার ঝামেলা থেকেও বাচা যায় তাতে।

বানানোর পর কি দিয়ে খাবো?

রান্নাঘর, ফ্রিজ খুজে তেমন কিছুই পাই না। ফ্রিজের কোনায় ঘি-এর কৌটায় চোখ যায়।

ঘি দিয়ে রুটি! কেন নয়!

সাথে একটু চিনি নিয়ে গরম গরম রুটি দিয়ে সেই রাতে ক্ষুধা নিবারন করি।

ঘি দিয়ে রুটি! কেন নয়!

যাইহোক, সে রাতে যদি ঘরে কৌটায় বিস্কুট থাকতো তাহলে কি রুটি বানাতাম? খুব সম্ভবত না।

এখান থেকে তিনটি উপলব্ধি পাওয়া যায়।

এক.

কোন বস্তু (বৃহদার্থে ব্যাক্তি) অপ্রতিস্থাপনযোগ্য নয়, কথাটি অনেকাংশে সত্য। উপোরোক্ত ক্ষেত্রে কৌটায় নিয়মিত থাকা বিস্কুট যদি মনে মনে ভাবে যে, আমি না থাকলে তোমার কি হবে ক্ষুধার্ত মানব! ক্ষুধা মিটাবে কি করে। বহু উত্তরের একটি হচ্ছে টেপা রুটির সাথে ঘি-চিনি।

দুই.

সৃজনশীলতার সাথে অভাবের একটা যোগসূত্র আছে, বলাই যায়। প্রয়োজন উদ্ভাবনের জননী কথাটিই এক্ষেত্রে বেশ মানানসই।

তিন.

পদার্থ বিজ্ঞান বলে একই সাথে একই সময়ে একই স্থানে দুটি বস্ত থাকতে পারে না। পদার্থবিজ্ঞানে দৌড় কম থাকায় অন্য দৃষ্টিকোণ থেকে এই ধারনা ব্যাখা করবো। বিস্কুটের প্রসংগে আসি…

যতদিন বিস্কুট বা অন্য খাবার ছিল কৌটায় ততদিন কি আমি টেপা রুটির কথা ভাবতাম! হয়তোবা না।

একটা শুন্যস্থান তৈরি হয়েছিল কৌটায়। যেটার অভাব পূরণ করতে টেপা রুটির দ্বারস্থ হতে হয়েছিল।

একই জিনিস যদি আমাদের দিনের ২৪ ঘন্টা সময়ের দিকে তাকাই! ২৪ ঘন্টাই আমরা কিছু না কিছুতে ব্যাস্ত। একসময় আমরা অলস সময় কাটাতে অভ্যস্ত থাকলেও এখন অনেকেই (অন্তত একটা বয়স পর্যন্ত) সারাদিন ব্যস্ত থাকি কিছুতে। ব্যস্ততাটা যে কাগুজে কাজকর্ম, তা নয়।

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটা সোশ্যাল মিডিয়া বা গেমস বা ইন্টারনেট ব্রাউজিং।

এই আধুনিক ভার্চুয়াল জগতগুলোর বেশিরভাগের এক্সেস আপাতদৃষ্টিতে ফ্রি মনে হলেও এগুলোতে আপনি আমি আমাদের এটেনশনের বিনিময়ে এগুলোকে এক্সেস করি। আমাদের এটেনশন তথা এনগেজমেন্ট যত বেশি, সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলোরও সেগুলো ব্যবহার করে লাভ করার সম্ভাবনা তত বেশি।

আমরা কিভাবে কোম্পানিগুলোর ফাদে পড়ে সময় ব্যয় করে ফেলি?

মানবশরীরের বিস্ময়কর কেমিক্যাল ডোপামিন নিঃসরণের কারনে। ডোপামিনকে রিওয়ার্ড হরমোনও বলা হয়। আমাদের সুখ পাওয়ার সাথে এই হরমোন নিঃসরণের যোগসূত্র আছে। সেটা শারীরিক চাহিদা থেকে লব্ধও হতে পারে, প্রতিযোগিতা জয়ের আনন্দেও হতে পারে।

কিন্তু, সাইকোলজির উপর ভিত্তি করে পরিচালিত সোশ্যাল মিডিয়াগুলো আরো সহজে এই ভালোলাগা, পুরষ্কার প্রাপ্তির ঘটনা তৈরি করে ফেলে মনের মধ্যে।

যেমনঃ আমার ভিডিওতে লাভ রিয়েক্ট আসলো পরিচিতজনের কাছ থেকে, আমি খুশি। স্বল্প পরিচিত জনের লাভ রিয়েক্ট, আরো খুশি!

আমরা যতক্ষন ব্যাবহার করতে থাকবো, বিভিন্নভাবে এই কৃত্রিম সুখ দিয়ে আমাদের ভুলিয়ে রাখবে।

এখন আমরা এই ডোপামিনের নিঃসরণ ছাড়া কোন কিছুতে যুক্ত থাকতে পারি না। পড়াশোনাতে আমাদের বিনোদন দরকার হচ্ছে (বিরোধিতা করছি না), চাকরিতে বিনোদন দরকার হচ্ছে, রাজনীতিতে বিনোদন দরকার হচ্ছে, দক্ষিনের বহু আকাঙ্ক্ষার ফসল অতিসাম্প্রতিক পদ্মা সেতুতেও বিনোদন দরকার হচ্ছে!

আমরা যেন বিরতই থাকি না কখনো! ক্লাসে গেম খেলা, ক্লাস শেষে রুমে ফেরার পথে ফেসবুক ব্রাউজ করা, বাসে চড়ার সময় গান শোনা, খাওয়ার সময় গান শোনা! আমাদের যেভাবে কোম্পানি গুলো গ্রাস করতে চাচ্ছে আমরাও সেভাবে গ্রাস হয়ে যাচ্ছি।

এতো লম্বা বিবরনের কারণ, আমরা যেই সময়টা স্ক্রলিং করে অপচয় করি সেই সময়টার মধ্যে কিছুটা হলেও সময় এসব ডোপামিন বুস্ট থেকে দূরে থাকা উচিত। এর ফাঁকে, সময় চিপে বের করে সৃজনশীল কাজ বা অর্থবহ কাজে ব্যয় করা উচিত।

নিজের উপর এক্সপেরিমেন্ট করেছেন কখনো?

সচেতন ভাবে আমি করেছি।

একবার আধা কিলোমিটার রাস্তা ছোট একটা কাজ করার জন্যে বের হই। পকেটে যাতায়ত ভাড়া বাদেও টাকা ছিল। কিন্তু ফিচারফোন, স্মার্টফোন কিচ্ছু নিই নি।

সেই জায়গায় যাওয়ার পর যার কাছে কাজের জন্য গিয়েছিলাম উনাকে না পাওয়ায় দশ মিনিট এদিক সেদিক করে কাটানোর সিদ্ধান্ত নিই। কিন্তু বিধি বাম!

কি যেন নেই? আমি কি করবো! আমার হাত তো খালি!

এতো অসহায় শেষ কবে মনে হয়েছিল নিজেকে মনে পড়ে না। দম আটকে আসছিল সাধারণ মোবাইলফোন ছাড়া সময় কাটানোর কথা ভাবতে ভাবতেই!

এই সময়টাকে আবার ডাইভার্ট করে কাজেও লাগানো যায়। বিভিন্ন বক্তারা অনলাইন আসক্তি, ফোন টেপার অভ্যাস কাটাতে এমন অবস্থা তৈরির পরামর্শ দিয়ে থাকেন। পুরনো অভ্যাসের সাথে দূরত্ব সৃষ্টি করে অভ্যাস পরিবর্তন করার কথা বলেন তারা।

লক্ষ করবেন, আপনার কাছে যখন প্রথম অডিও মিউজিক সাপোর্টেড ডিভাইস এসেছিল তখন সেটাই এক্সাইটিং ছিল!

একইরকম ভাবে আপনার কাছে যদি এখন অডিও মিউজিক সাপোর্ট করা ফোন ছাড়া অন্য কোন ডিভাইস না থাকে তখন?

আপনি রগচটা না হলে খুব সম্ভবত এই ফোনেই থাকা গান বাজিয়ে শুনবেন। বাস্তবসম্মত করার জন্য ধরে নিন আপনি একটা নির্জন দ্বীপে গেছেন। সেখানে যাওয়ার পর আপনার স্মার্টফোন নষ্ট হয়ে যায়, নতুন স্মার্টফোন বা অমন ডিভাইস আনার সুযোগ নেই। অগত্যা আপনি আপনার ফিচার ফোনের সর্বাত্মক ব্যবহার করবেন। সেই ফোনের গানগুলোই আপনার নিত্যসঙ্গী হয়ে যাবে। হয়তোবা আপনি গান শুনতে শুনতে বিরক্ত হয়ে নিজেই পছন্দের গান গলা ছেড়ে গেয়ে রেকর্ড করে আবার শুনবেন!

অতএব, মাঝে মাঝে ঘরের বিস্কুটের কৌটায় বিস্কুট না থাকা ভাল। তখন টেপা রুটির মতো জৌলুশহীন কিন্তু কার্যকর খাদ্যের দ্বারস্থ হবো আমরা।

শনিবার, ২১ মে, ২০২২

রিয়েল লাইফ লটারি, প্রস্তুত ভাইরালিটি ও অপ্রস্তুত ভাইরালিটি

সোশ্যাল মিডিয়ার সুবাদে ভাইরাল কথাটার সাথে আমরা পরিচিত। অল্প সময়ে কোন একটা তথ্য, লেখা, ছবি, ভিডিও ইত্যাদি দিয়ে কারোর (বা কোন বিষয়, বস্তু) রাতারাতি পরিচিতি পাওয়াটাকেই ভাইরাল হওয়া বলা যায়।


লটারি অন্যদিকে একটা টোকেন যেটা খুবই অল্প দামের হলেও সাধারণত এর পুরস্কার অনেক মূল্যবান হয়। দেশের জনসাধারণের কাছে লটারি জিনিসটা খুবই পরিচিত। অনেকেই লটারি কিনে আশায় বসে থাকেন, যদি লাইগা যায়!


নাহ অপরাধবোধ জাগাইতে চাইতেছি না। আজকে বরঞ্চ কিছু মানুষের বাস্তব জীবনের লটারির মতো ঘটনা, সেগুলো জিতে তাদের কি প্রাপ্তি হয়েছে সেটা বলবো। আর লটারি জেতার সম্ভাবনা কিভাবে বাড়ানো যায় তা বলবো।


ঘটনা ০১ঃ

ভারতের জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো “কৌন বনেগা কারোরপাতি” বা কে হবে কোটিপতির ২০১১ সিজনে সুশিল কুমার নামের একজন সাধারণ লোক ৫ কোটি রুপি জিতে। সেই সময়ে তুমুল জনপ্রিয় ও আলোচিত হয়। মিডিয়া, সামাজিক অনুষ্ঠান (সোশ্যাল মিডিয়া তখনো সেভাবে এভেইলেবল ছিল না সবার কাছে) ও অন্যান্য শোতে ডাক পেতে থাকেন। যা থেকে ট্যাক্স ও আনুসাংগিকতা চুকিয়ে সাড়ে তিন কোটি টাকার মতো হাতে পায়! কি ভাবছেন? লাইফ সেট?


হ্যাঁ, কোটি টাকা পেলে আর কি লাগে জীবনে। উড়িয়েও তো শেষ করা যাবে না। তাই আমরা অনেকেই যেমন করতাম, তিনিও করেছিলেন। টাকা লাগামহীনভাবে খরচ করতে থাকলেন। অবশ্য অনেক দানও করেছিলেন।


এদিকে তার পড়াশোনায়ও সময় দিতে পারছিলেন না বাইরের জীবনের জনপ্রিয়তায় সময় দিতে দিতে। “খ্যাতির বিড়ম্বনা” কবিতা যারা পরেছেন, তারা সহজেই যোগসূত্র করে ফেলতে পারবেন দুটো ঘটনা। একসময় খ্যাতি তার বিড়ম্বনা হয়ে দাঁড়ালো। এদিকে আকাশসম মনে হওয়া কোটি টাকাও শেষ হয়ে আসতে থাকলো। অবশ্য তিনি ক্যাব ব্যাবসা, সিমেয়ও ইনভেস্ট করেছিলেন। কিন্তু সবই ফেল হয়। এমনকি শোনা যায় যে দানগুলো করেছিলেন সেগুলোও ভুল যায়গায় গিয়েছিল। মানে কিছু সুবিধাবাদীরা সেগুলো নিয়ে নিয়েছিল। অতঃপর তার সব টাকাই এক একে শেষ হয়ে যায়।


ঘটনা ০২ঃ

রানু মণ্ডলের নাম শোনেননি কেউ আছেন! সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল জনপ্রিয়তা পাওয়া রানু মন্ডল রাতারাতি ভাইরাল হয়ে গিয়েছিলেন ২০১৯ সালে। স্টেশনে গাওয়া একটি গান সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হলে তারকা খ্যাতি পেয়ে যান। রিয়্যালিটি শোতে ডাক পান অতিথি হিসেবে, হিমেশ রেশমিয়ার সাথে ডুয়েট গান করেন। একদম জিরো থেকে হিরো যাকে বলে হয়ে যান।


কিন্তু তার জনপ্রিয়তা কমতে থাকে ভক্তদের সাথে তার নাক সিটকানো আচরণের জন্য। যেই নেটজেনরা মাথায় তুলেছিল, তারাই ধীক্কার জানাতে থাকে। যেভাবে প্রশংসা করেছিল “ষ্টেশনে গান গেয়ে টাকা কামানো কারোর গলা এতো সুমধুর!” সেই নেটিজেনদেরই অনেকে একইভাবে ধিক্কার দিতে থাকেন “ষ্টেশনের ভিখারির কাছে এর চেয়ে বেশি কি আশা করা যায়! একটু জনপ্রিয়তা পেতেই অহংকার চেপেছে!”


ঘটনা ০৩ঃ

গত বছর শ্রীলঙ্কান ভাষার একটি গান তুমুল জনপ্রিয়তা পায়। গানটির নাম ছিল “মানিকে মাগে হিতে।” প্রথমে টিকটকে ভাইরাল হলেও আস্তে আস্তে অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল জনপ্রিয়তা পায় গানটি ও গানটির গায়েন “ইয়োহানি দিলোকা ডি’সিলভা” ডাকনাম ইয়োহানি। স্বাভাবিকভাবেই দেশ বিদেশের বহু ইন্টার্ভিউ, শো তে ডাক পেতে থাকেন ইয়োহানি।


তারপর? তারপর আরকি। কদিন যেতেই ফিকে হয়ে যায় সব! এমন ভাবছিলেন? তা হয়নি। আদতে এখনো তার জনপ্রিয়তা বিদ্যমান। সম্প্রতি শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে ইয়োহানি ভারতে এসে কনসার্ট করে তার দেশের জন্য সহযোগিতা চেয়েছিল। শ্রীলঙ্কার অবস্থা ভাল না হলেও অনুমান করা যাচ্ছে তার জনপ্রিয়তা বিদ্যমান এখনো।


প্রথম ঘটনায় টাকা আর জনপ্রিয়তা একসাথে ধরা দিয়েছিল সুশিল কুমারের কাছে। মনে মনে হয়তো তিনিও ভেবেছেন কোটি টাকা জেতার কথা। কিন্তু অনুমান করা যায় এই জনপ্রিয়তা আর টাকা একসাথে সামলানোর মতো দক্ষতা, বা নতুন এই জনপ্রিয় অবস্থায় সামলিয়ে নেয়ার অবস্থায় তিনি ছিলেন না। যার কারণে সেগুলো তিনি ধরে রাখতে পারেননি। অবশ্য পরে তিনি পড়ালেখা চালিয়ে যান। খুব সম্ভবত তিনি এরপর আঠারো হাজার টাকা (রুপির) চাকরি শুরু করেন। সাধারণ জীবন যাপন করছেন।


দ্বিতীয় ঘটনায় রানু মণ্ডলের কাছে জনপ্রিয়তা ধরা দিয়েছিল ভাইরালিটির মাধ্যমে। এই সময়ে যেটাকে একরকম টাকাই বলা যায়। যে যত জনপ্রিয় সে তার ফেসভ্যালু তত বেশি। তার পেছনে টাকা খরচ করতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠান ও বিজ্ঞাপন দাতারা। কিন্তু রানু মণ্ডলের সেই শিক্ষা, অভিজ্ঞতা বা গ্রুমিং কিছুই ছিল না। যার কারণে আমিও অবশ্য তাকে দোষারোপ করতে রাজি না। আদতে তার পরিবেশ বা পরিজন কেউই অমন ছিল না যাতে নতুন জনপ্রিয় অবস্থার সাথে মানিয়ে নিতে পারতেন তিনি। তার এটা বোঝার সক্ষমতা ছিল না যে দর্শক বা ভক্তরাই তাঁকে জনপ্রিয়তা দিয়েছিল যাদের প্রতি তাদের আন্তরিক হওয়া উচিৎ ছিল।


তৃতীয় ঘটনায় ইয়োহানিকে দেখতে শিশুসুলভ মনে হলেও আদতে সে মাস্টার্স করা শিক্ষিত এক তরুণী। এই গানের পূর্বেই তার ক্যারিয়ারে সংগীত সংক্রান্ত অর্জন ছিল। এমনকি তার স্থানীয় বাদ্যযন্ত্র এক্সপোর্টের বিজনেসও রয়েছে। মোদ্দাকথা জনপ্রিয়তা তার কাছে বাড়তি চাপ বা অভিশাপ হিসেবে না এসে তার ক্যারিয়ারে নতুন পালকের মতো কাজ করেছে।


ইয়োহানি একটা দৃষ্টান্ত যে লটারি বাস্তব জীবনে লটারি পাওয়ার সুযোগ কিভাবে তৈরি করে রাখতে পারেন। এক্ষেত্রে “মানিকে মাগে হিতে” তার লটারি ছিল। কিন্তু সে প্রস্তুত ছিল। জনপ্রিয়তা পেয়ে ধরে রাখতে পারার কাতারে দেশের জনপ্রিয় ইউটিউবার “কিটো ভাই” এর কথা বলা যায় অথবা “ভাইসাব” এর কথা। যাদের জনপ্রিয়তা পরবর্তী কার্যকলাপে তাদের যথেষ্ট উপযুক্ত মনে হয়। এছাড়াও তাদের ব্যাকাপ ক্যারিয়ার আছে। জনপ্রিয়তা দুর্ঘটনাবসত জনরোষ না হলে ওই জনপ্রিয়তা ছাড়াই তাদের জীবন চালিয়ে নিতে পারবেন তারা।


আপনার আমার অনেকের সেই গায়কী বা অভিনয় প্রতিভা হয়তো নেই! আমরা কি তাহলে বাস্তব জীবনে লটারি জিততে পারবো না?


আসলে বেশীরভাগ ক্ষেত্রে জেতার দরকারও হয় না। কারণ লক্ষ্য করলে দেখবেন কতজন মানুষ জনপ্রিয়? বেশীরভাগ মানুষই সাধারণ। অনেকক্ষেত্রেই জনপ্রিয়দের থেকেও তারাই ভালো থাকেন, সুখে থাকেন।


তারপরও আপনার সুযোগ আছে এমনি এমনি ভাইরাল হয়ে যাওয়ার বা এখনকার ফেসভ্যালুর যুগের লটারি লেগে যাওয়ার। এর বাইরেও সম্ভাবনা বাড়াতে চাইলে আপনি বিনিয়োগ করতে পারেন। এখন শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করবেন না ব্যাবসায় বিনিয়োগ করবেন সেটা আমি বলে দিচ্ছি না।


আদতে আঙ্গুল দিয়ে উপযুক্ত বিনিয়োগের ক্ষেত্র দেখিয়ে দেয়ার মতো ফাইন্যান্স এক্সপারটিজও আমার নেই। বা হলেও আমার কথাই শুনতে হবে তাও জরুরি না।


এক্ষেত্রে আরো কম ঝুঁকির ক্ষেত্র হতে পারে মিউচুয়াল ফান্ডের মতো ক্ষেত্রে সঞ্চয়, এক্ষেত্রে অবশ্যই বিশ্বস্ত ব্যাংকে জেনেবুঝে কাজটি করতে হবে। অনেক টাকা একসাথে থাকলে নির্ভেজাল জমি একটা ভালো ক্ষেত্র। আপনার জমি থাকলে সেখানে আপনি কৃষি বাণিজ্য করতে পারেন। গাছ লাগিয়ে রাখতে পারেন।


বিনিয়োগ ও সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে একটি সহজ হিসাব হচ্ছে অল্প বয়সে শুরু করে দেয়া। যেমন আপনি বিশ বছর বয়সে প্রতিমাসে দুই হাজার টাকা সঞ্চয় করলেন ( একরকম বলতে গেলে প্রতিমাসে দুই হাজার টাকার লটারির টিকেট কেনেন, যেই টিকিটে প্রায় নিশ্চিত আপনি একটা পুরস্কার পাবেন), আমি ত্রিশ বছর বয়সে প্রতিমাসে দুই হাজার টাকা সঞ্চয় করতে থাকলাম। আমারা উভয়েই পঞ্চাশ বছর পর্যন্ত বাঁচলেও একই বয়সে আপনার প্রাপ্ত নিশ্চিত পুরস্কার গিয়ে দাঁড়াবে অন্তত ৭ লক্ষ বিশ হাজার টাকায়, আমার হবে ৪ লক্ষ আশি হাজার টাকা। অন্তত বললাম কারণ হিসেবটায় কোনরকম ইন্টারেস্ট নেই (টাকাপয়সা সংক্রান্ত ইন্টারেস্ট)। প্রফিট ও ইন্টারেস্টের অনেক ক্ষেত্র আছে, যেগুলোর কোনটি আধুনিক সমাজে আইনত বৈধ হলেও ধর্মীয় অনুভূতি জড়িত। এই লেখায় জটিল সেই বিষয়গুলোতে আর আলোকপাত করলাম না।


ইন্টারেস্ট বা প্রফিটেবল কোন জায়গায় না রেখে টাকার নোট জমাতে থাকলে অবশ্য টাকার মুল্যমান কমবে ইনফ্লেশনের কারণে। ইন্টারেস্ট বা গ্রাম্য ভাষায় সুদ নেয়ায় অনাগ্রহীদের জন্য বিনিয়োগের ক্ষেত্র রয়েছে।


ইন্টারেস্ট, ইনভেস্টমেন্ট রিটার্ন, পয়সা বাচানো, ব্যাবসায়ীক স্কোপ, প্রতারণা থেকে বাচার সম্ভাব্য উপায় এসব বিষয়গুলো অবশ্য DAWN TALES এ ধীরে ধীরে তুলে ধরবো। অনলাইনে যাতে এমনি এমনি সময় নষ্ট না হয়, আপনাদের সময়ের ভ্যালু এড করতে এই ধরনের বিষয়ের উপর কন্টেন্ট পাবেন। আপনাদের সহযোগিতা পেলে অনুপ্রেরণা পাবো এমন ভ্যালু এডিং কন্টেন্ট তৈরি করতে। কমেন্টে চ্যানেল লিংক দেয়া থাকবে, সাবস্ক্রাইব করলে মিউচুয়াল বেনিফট হবে কথা দিলাম। শেয়ার করতে পারেন পছন্দ হলে। Hope you create scopes and win a lottery in real life!

বৃহস্পতিবার, ১৯ মে, ২০২২

অপরিণত ডিজিটালাইজেশনঃ বয়স্ক ভাতায় ডিজিটাল সমস্যা (পর্ব ০২)

 ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছর থেকে ৬৫ উর্ধ্ব পুরুষ ও ৬২ উর্ধ্ব মহিলাদের যারা কর্ম অক্ষম, অর্ধ কর্মক্ষম তাদের সামাজিক নিরাপত্তা, আত্মসম্মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতি ইউনিয়নে ৫ জন পুরুষ ও ৫ জন মহিলাকে মাসিক ১০০ টাকা হারে বয়স্ক ভাতার দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়। মাসিক ভাতার পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি করে সর্বশেষ ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৫০০ টাকায় আনা হয়।

ইতোপূর্বে অফলাইন সিস্টেম থাকলেও ২০২১ সাল থেকে এটা অনলাইন মোবাইল ব্যাংকিং নগদের আওতায় আনা হয়।

মফস্বলের বাসিন্দা হওয়ায় এলাকার কয়েকজন ভাতা ভোগীর সাথে কথা বলার সুযোগ হয়। সমস্যা কথাটা লিখতে বাধতো যদি সরাসরি ঘটনাগুলো প্রত্যক্ষ না করতাম।

তো নিয়মানুযায়ী বয়সসীমা পার করা একজন নারী প্রথমে স্থানীয় কাউন্সিলরের কাছ থেকে আবেদনপত্র এনে পূরন করে জমা দেন। এবং একটা সময় পর পাস হয়ে আসে।

যাদের পূর্বের কোন মোবাইল নাম্বার থাকে না তাদের নতুন সিম কিনিয়ে সেখানে নগদ একাউন্ট চালু করে দেয়া হয়।

সাধারণত তিনমাস অন্তর টাকা আসে। ইদে খুব সম্ভবত একটা বোনাসও আসে।

এখন সমস্যা হয় নগদ একাউন্ট পরিচালনায়। যারা ইতোপূর্বে কোন মোবাইলফোন ব্যাবহার করেনি তাদের ক্ষেত্রেই সমস্যা হওয়ার সুযোগ থাকে।

এই সময়ে মোবাইল চালাতে কে না পারে?

এমন মনে হলেও ষাটোর্ধ প্রান্তিক মানুষের ক্ষেত্রে বিষয়টি ধোপে টেকে না। এক্ষেত্রে শুরুর দিকে প্রাথমিক ইন্সট্রাকশন দেয়া হলেও একবারে কেউই সিস্টেম বুঝে উঠার কাজটা করতে পারেন না।

যেমনঃ মোবাইল ব্যাংকিং সিস্টেমের ক্ষেত্রে একাউন্টের পাসওয়ার্ড সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যেটা তারা ম্যানেজ করতে পারেন না। দেখা যায় তারা একটা কাগজে করে লিখে রাখেন কোন একটা যায়গায় অথবা যার মাধ্যমে কাগজপত্র ঠিক করেন একাউন্টের তার কাছেই পাসওয়ার্ড জমা থাকে।

সামনে ঘটা ঘটনা ছদ্মনাম দিয়ে ব্যাখ্যা করছি।

ধরুন আলম নামের ভদ্রলোকের কাজ ভাতাভোগীদের লিস্ট করা ও মেইন্টেইন করা। খুব সম্ভবত অফিশিয়ালি নিয়োগপ্রাপ্তও নন তিনি। কাগজে কলমে দায়বদ্ধতা আসে না এক্ষেত্রে।

থার্ড পার্টি আলম সাহেবের কাছে অসহায় বৃদ্ধরা একরকম জিম্মি। তাদের যেকোন কিছু বুঝিয়ে দিতে পারেন তিনি। যেমন তিনমাস আগে ইস্যু হওয়া সিমকার্ডে টাকা আসছে না কেনো?

লিস্টের কাগজ ঘেটে দেখা গেলো বৃদ্ধর নামের সাথে দেয়া নগদ নাম্বারের গরমিল। তখন আলম সাহেব বলবেন,

-ওহ। অফিস থেকে নাম্বার ভুল করে ফেলেছে। আপনি এক কাজ করেন। আবার এই আবেদনপত্রে সই করেন আপনার নাম্বার ঠিক করার জন্য। আর প্রসেসিং এর জন্য কিছু টাকা লাগবে।

-আমার ছয়মাসের টাকা?

-এটা কোথায় চলে গেছে কে জানে। ওইটা আর পাবেন না মনে হয়।

-ওই টাকাটা পেলে নাহয় দিতাম। এতো টাকা কিভাবে দিবো?

-তাও ঠিক। আপনার একাউন্টে ১৫০০ টাকা আসছে তিনমাসের। এখান থেকে দুইশ টাকা আমি রাখলাম। আর এই কাগজটা জমা দিয়ে দিচ্ছি সব ঠিক হয়ে যাবে।

খোঁজ নিয়ে জানলাম উনার বাড়তি টাকা নেয়ার কথা ছিল না। তাছাড়া উনি যে কাগজে সই নিলেন এটাও আসলে যুক্তিযুক্ত না।

কারণ, গরবরটা যা হওয়ার আগেই হয়েছে। বৃদ্ধর আগের ছয়মাসের টাকা অন্য কোথাও (অনুমান করা যায় সংশ্লিষ্ট কারোর মদদে উধাও করা হয়েছে) চলে গেছে। তারপর উনার নাম্বারেই গত তিনমাসের ভাতা আসছে। তার মানে অলরেডি ঠিক হয়ে গেছে। উনার ফোনেই টাকা আসবে এখন থেকে, আবেদনপত্র একরকম লোক দেখানো কারনে নিয়েছেন পরবর্তীতে।

ভাতা ব্যাবস্থায় ত্রুটি তৃতীয়পক্ষের লোক দিয়ে ভাতার বিষয়গুলো দেখাশোনা করা। এতে তাদের দায়বদ্ধতার জায়গায় ঘাটতি থাকে। দায় সারা কাজ, টাকা আত্মসাতের ধান্দায় থাকে তারা।

এছাড়াও কিছু দৃশ্যমান ত্রুটি আছে। যেমনঃ ২০১৬-১৭ সালের পর ভাতার বৃদ্ধি না হওয়া (দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতি কারোরই অজানা নয়)।

উপরের ঘটনাটা তাও বিশ্বাসযোগ্য, বৃদ্ধ বয়সের লোক যারা প্রযুক্তিগত বিকাশের স্কোপ পাননি তাদের সাথে প্রতারণা হয়েছে। শুনলে অবাক হয়ে যাবেন বিকাশ, নগদের এজেন্টের কাছে এমনো তরুন-মধ্য বয়সীরা যান যারা তাদের একাউন্টের পিন নাম্বার বলে দেন। সেটা দিয়ে এজেন্টরা ক্যাশ আউট করে দেন তাদের মোবাইল থেকে!

এই হচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশে আমাদের সচেতনতার অবস্থা। আমরা এখনো পাসওয়ার্ডের গুরুত্ব বুঝতে শিখিনি তাও গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংকিং সিস্টেমের।

জালিয়াতি আমাদের সাথে না হয়ে কাদের সাথে হবে তাহলে! এরকম অনেক জনদূর্বলতা চাক্ষুষ করি। বললে খুব বেশিজন জানবে না, আবার যদি অসাধুদের কেও আগে জানে এই দূর্বলতা গুলো সুযোগ নিয়ে নেবে। প্রযুক্তি সংক্রান্ত যে প্রতারণাগুলো হয় এর বেশিরভাগই এই কারনে। জনসাধারণের আগে জনদূর্বলতাগুলো অসাধুরা জেনে যায়। এক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরো জটিল করে তোলে অপরাধীদের প্রশ্রয়দাতা ভাইগন এবং বিচারের দীর্ঘসূত্রীতা (ক্ষেত্রবিশেষে বিচারহীনতা)।

NPUC value of food: Affordable nutrient rich foods list (Part 01)

কোন  খাবারে এক টাকায় কতটুকু পুষ্টি উপাদান পাচ্ছেন সেটাকেই বলছি নিউট্রিয়েন্ট পার ইউনিট কস্ট বা Nutrient Per Unit Cost (NPUC value) উদ্দেশ্য ক...