বৃহস্পতিবার, ১৯ মে, ২০২২

অপরিণত ডিজিটালাইজেশনঃ বয়স্ক ভাতায় ডিজিটাল সমস্যা (পর্ব ০২)

 ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছর থেকে ৬৫ উর্ধ্ব পুরুষ ও ৬২ উর্ধ্ব মহিলাদের যারা কর্ম অক্ষম, অর্ধ কর্মক্ষম তাদের সামাজিক নিরাপত্তা, আত্মসম্মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতি ইউনিয়নে ৫ জন পুরুষ ও ৫ জন মহিলাকে মাসিক ১০০ টাকা হারে বয়স্ক ভাতার দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়। মাসিক ভাতার পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি করে সর্বশেষ ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৫০০ টাকায় আনা হয়।

ইতোপূর্বে অফলাইন সিস্টেম থাকলেও ২০২১ সাল থেকে এটা অনলাইন মোবাইল ব্যাংকিং নগদের আওতায় আনা হয়।

মফস্বলের বাসিন্দা হওয়ায় এলাকার কয়েকজন ভাতা ভোগীর সাথে কথা বলার সুযোগ হয়। সমস্যা কথাটা লিখতে বাধতো যদি সরাসরি ঘটনাগুলো প্রত্যক্ষ না করতাম।

তো নিয়মানুযায়ী বয়সসীমা পার করা একজন নারী প্রথমে স্থানীয় কাউন্সিলরের কাছ থেকে আবেদনপত্র এনে পূরন করে জমা দেন। এবং একটা সময় পর পাস হয়ে আসে।

যাদের পূর্বের কোন মোবাইল নাম্বার থাকে না তাদের নতুন সিম কিনিয়ে সেখানে নগদ একাউন্ট চালু করে দেয়া হয়।

সাধারণত তিনমাস অন্তর টাকা আসে। ইদে খুব সম্ভবত একটা বোনাসও আসে।

এখন সমস্যা হয় নগদ একাউন্ট পরিচালনায়। যারা ইতোপূর্বে কোন মোবাইলফোন ব্যাবহার করেনি তাদের ক্ষেত্রেই সমস্যা হওয়ার সুযোগ থাকে।

এই সময়ে মোবাইল চালাতে কে না পারে?

এমন মনে হলেও ষাটোর্ধ প্রান্তিক মানুষের ক্ষেত্রে বিষয়টি ধোপে টেকে না। এক্ষেত্রে শুরুর দিকে প্রাথমিক ইন্সট্রাকশন দেয়া হলেও একবারে কেউই সিস্টেম বুঝে উঠার কাজটা করতে পারেন না।

যেমনঃ মোবাইল ব্যাংকিং সিস্টেমের ক্ষেত্রে একাউন্টের পাসওয়ার্ড সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যেটা তারা ম্যানেজ করতে পারেন না। দেখা যায় তারা একটা কাগজে করে লিখে রাখেন কোন একটা যায়গায় অথবা যার মাধ্যমে কাগজপত্র ঠিক করেন একাউন্টের তার কাছেই পাসওয়ার্ড জমা থাকে।

সামনে ঘটা ঘটনা ছদ্মনাম দিয়ে ব্যাখ্যা করছি।

ধরুন আলম নামের ভদ্রলোকের কাজ ভাতাভোগীদের লিস্ট করা ও মেইন্টেইন করা। খুব সম্ভবত অফিশিয়ালি নিয়োগপ্রাপ্তও নন তিনি। কাগজে কলমে দায়বদ্ধতা আসে না এক্ষেত্রে।

থার্ড পার্টি আলম সাহেবের কাছে অসহায় বৃদ্ধরা একরকম জিম্মি। তাদের যেকোন কিছু বুঝিয়ে দিতে পারেন তিনি। যেমন তিনমাস আগে ইস্যু হওয়া সিমকার্ডে টাকা আসছে না কেনো?

লিস্টের কাগজ ঘেটে দেখা গেলো বৃদ্ধর নামের সাথে দেয়া নগদ নাম্বারের গরমিল। তখন আলম সাহেব বলবেন,

-ওহ। অফিস থেকে নাম্বার ভুল করে ফেলেছে। আপনি এক কাজ করেন। আবার এই আবেদনপত্রে সই করেন আপনার নাম্বার ঠিক করার জন্য। আর প্রসেসিং এর জন্য কিছু টাকা লাগবে।

-আমার ছয়মাসের টাকা?

-এটা কোথায় চলে গেছে কে জানে। ওইটা আর পাবেন না মনে হয়।

-ওই টাকাটা পেলে নাহয় দিতাম। এতো টাকা কিভাবে দিবো?

-তাও ঠিক। আপনার একাউন্টে ১৫০০ টাকা আসছে তিনমাসের। এখান থেকে দুইশ টাকা আমি রাখলাম। আর এই কাগজটা জমা দিয়ে দিচ্ছি সব ঠিক হয়ে যাবে।

খোঁজ নিয়ে জানলাম উনার বাড়তি টাকা নেয়ার কথা ছিল না। তাছাড়া উনি যে কাগজে সই নিলেন এটাও আসলে যুক্তিযুক্ত না।

কারণ, গরবরটা যা হওয়ার আগেই হয়েছে। বৃদ্ধর আগের ছয়মাসের টাকা অন্য কোথাও (অনুমান করা যায় সংশ্লিষ্ট কারোর মদদে উধাও করা হয়েছে) চলে গেছে। তারপর উনার নাম্বারেই গত তিনমাসের ভাতা আসছে। তার মানে অলরেডি ঠিক হয়ে গেছে। উনার ফোনেই টাকা আসবে এখন থেকে, আবেদনপত্র একরকম লোক দেখানো কারনে নিয়েছেন পরবর্তীতে।

ভাতা ব্যাবস্থায় ত্রুটি তৃতীয়পক্ষের লোক দিয়ে ভাতার বিষয়গুলো দেখাশোনা করা। এতে তাদের দায়বদ্ধতার জায়গায় ঘাটতি থাকে। দায় সারা কাজ, টাকা আত্মসাতের ধান্দায় থাকে তারা।

এছাড়াও কিছু দৃশ্যমান ত্রুটি আছে। যেমনঃ ২০১৬-১৭ সালের পর ভাতার বৃদ্ধি না হওয়া (দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতি কারোরই অজানা নয়)।

উপরের ঘটনাটা তাও বিশ্বাসযোগ্য, বৃদ্ধ বয়সের লোক যারা প্রযুক্তিগত বিকাশের স্কোপ পাননি তাদের সাথে প্রতারণা হয়েছে। শুনলে অবাক হয়ে যাবেন বিকাশ, নগদের এজেন্টের কাছে এমনো তরুন-মধ্য বয়সীরা যান যারা তাদের একাউন্টের পিন নাম্বার বলে দেন। সেটা দিয়ে এজেন্টরা ক্যাশ আউট করে দেন তাদের মোবাইল থেকে!

এই হচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশে আমাদের সচেতনতার অবস্থা। আমরা এখনো পাসওয়ার্ডের গুরুত্ব বুঝতে শিখিনি তাও গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংকিং সিস্টেমের।

জালিয়াতি আমাদের সাথে না হয়ে কাদের সাথে হবে তাহলে! এরকম অনেক জনদূর্বলতা চাক্ষুষ করি। বললে খুব বেশিজন জানবে না, আবার যদি অসাধুদের কেও আগে জানে এই দূর্বলতা গুলো সুযোগ নিয়ে নেবে। প্রযুক্তি সংক্রান্ত যে প্রতারণাগুলো হয় এর বেশিরভাগই এই কারনে। জনসাধারণের আগে জনদূর্বলতাগুলো অসাধুরা জেনে যায়। এক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরো জটিল করে তোলে অপরাধীদের প্রশ্রয়দাতা ভাইগন এবং বিচারের দীর্ঘসূত্রীতা (ক্ষেত্রবিশেষে বিচারহীনতা)।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

NPUC value of food: Affordable nutrient rich foods list (Part 01)

কোন  খাবারে এক টাকায় কতটুকু পুষ্টি উপাদান পাচ্ছেন সেটাকেই বলছি নিউট্রিয়েন্ট পার ইউনিট কস্ট বা Nutrient Per Unit Cost (NPUC value) উদ্দেশ্য ক...